শুরু হলো ‘ইস্টিশন’র মহাযাত্রা…….

রাষ্ট্র কার? জনগণের? নাকি মালিকদের? জনতার রাষ্ট্র গড়ার লড়াইটা চলে আসছে যুগ যুগান্তর থেকে। আমরা ব্লগার। এই লড়াইয়েরই একটা অংশ আমরা। কিন্তু লড়াইয়ে নেমে আমরা দেখি, ব্লগিংও সেই একই বৃত্তে আটকা পড়ে আছে। ব্লগ কি ব্লগারদের প্ল্যাটফরম? নাকি ব্লগ মালিকদের? আমরা দেখেছি যখন কোনো সঙ্কট ঘনীভূত হয় তখনই ব্লগ মালিকরা তাদের ক্ষমতা নিয়ে আবির্ভূত হন। প্রমাণ করে দেয়, ব্লগ আসলে ব্লগারদের কোনো প্ল্যাটফরম না। এটাও মালিকের ক্ষমতাচর্চ্চার একটা কেন্দ্র। এই যন্ত্রণা আমাদের ধাবিত করেছে একটি মুক্ত মাধ্যম গড়ে তোলার দিকে। যেখানে কারো ক্ষমতা-পেশিচর্চ্চার কোনো সুযোগই থাকবে না। তাই ‘ব্লগ হবে ব্লগারদের’ এটাই ইস্টিশন ব্লগের প্রধান নীতি।

হাঁটি হাঁটি পা করে সভ্যতা অনেক পথ হেঁটে এসেছে। যদিও সভ্যতার সংজ্ঞা, রূপ নিয়েই আছে অনেক মতভেদ। সভ্য সমাজে কথা বলতে গেলে জীবন দিতে হয় মানুষকে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় তাই সভ্যতা খুঁজে ফিরতে হয় আতশ কাঁচ দিয়ে। নগরের কানাগলি-ঘুঁপচি-রাজপথ, গাঁয়ের শষ্যক্ষেত-মেঠোপথ পেরিয়ে আমরা মানুষ ছুটে চলেছি সভ্য সমাজের খোঁজে। আমাদের ভেতরেই আবার আছে সেই মানুষ, যারা অসভ্যতার মাঝেই আটকে রাখতে চায় সবকিছুকে। শুধু হীন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের জন্য। মানুষ লড়ে চলেছে তারই অংশ অমানুষদের বিরুদ্ধে। দুই পক্ষই শান দিচ্ছে নিজ নিজ হাতিয়ার। দুর্ভাগ্য, আজো সর্বত্র অমানুষদেরই জয়জয়কার।

আমরা ব্লগার। আমরাও খুঁজে ফিরছি মানুষের সেই প্রত্যাশিত সমাজ। ইস্টিশন একটি ব্লগ প্ল্যাটফরম। হাজার বছরের পথ চলার ফাঁকে মাঝে মাঝেই এখানে কিছুক্ষণ। তারপর চলে যাব নিজ নিজ গন্তব্যে। আবারও ফিরে আসতে হতে পারে। মাঝের এই স্বল্প সময়ে প্ল্যাটফরমে জমে ওঠা আড্ডায়, আলোচনায় খুঁজে ফিরব সেই ঠিকানা। হয়তো চড়তে হবে আলাদা ট্রেন, আলাদা বগিতে। তবু আমরা একে অপরকে দিক নির্দেশনা দেব, সহযোগীতা দেব। দিন শেষে পরিচয় একটাই- আমরা সবাই যাত্রী। একটাই সূর তুলি তাই আমরা সবাই- প্রাণে প্রাণ মেলাবই…

মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার এক অনন্য ক্ষেত্র হবে ইস্টিশন। আমরা বলব না আমরা নিরপেক্ষ, আমরা গণমানুষের পক্ষে কথা বলব। আমরা উন্মোচন করব রাজনীতির কালো বিড়ালের মুখোশ। আমরা কথা বলব আমাদের জাতীয় সম্পদের স্বার্থ নিয়ে। ডান-বাম-উত্তম-মাধ্যম আমরা বুঝিনা। দলীয় লেজুড়বৃত্তিকে আমরা ঘৃণার সাথে প্রত্যাখান করব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে। ইস্টিশনের এই মহকাল যাত্রায় আসুন সবাই….. প্রাণে প্রাণ মেলাই।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক।
বাঙালী দীর্ঘজীবি হোক।

১৩ thoughts on “শুরু হলো ‘ইস্টিশন’র মহাযাত্রা…….

  1. আমরা সকলেই জানি রাষ্ট্র
    আমরা সকলেই জানি রাষ্ট্র জনগনের,এমনকি ঐ মালিকেরাও বলে।কিন্তু দিনশেষে হিসাব মেলালে দেখা যাবে অনেক কিছুর কারণেই ঘুরে ফিরে চলে যায় ঐ মালিকদের হাতেই।
    কোন কোন সময় বিপ্লব হয়,বিপ্লবে শোষিতদেরই একটা শ্রেণী উঠে আসে আবার তারাই সেই শোষকের আসনে বসে পড়ে।
    তবুও আমরা মানুষ,আশায় বুক বাঁধি।স্বপ্নের ভেলা ভাসাই আমরা অচিনপুরের উদ্দেশ্যে।জানিনা আদৌ সেই অচিনপুরে পৌছুবে কিনা আমাদের ভেলা তবুও আশায় বুক বাঁধি।

    পেশিশক্তি প্রয়োগ হবেই,না হলে যে দাবী বা লক্ষ্যে পৌছুনো যাবে না। তবে সেই পেশিশক্তি হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে,সেই পেশিশক্তি হোক কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে, সেই পেশি শক্তি হোক ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে, সেই পেশিশক্তি হোক মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে।

    তবে আমার মতে গণমানুষের পক্ষে না গিয়ে সেই একাত্তরের চেতনায় সেই বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে থাকাই ভালো,কেননা গণমানুষের মধ্যেও সেই অপশক্তির একটা বিশাল অংশ থেকে যায়।

    জয় হোক বাঙ্গালীর

    জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।

    1. আমার মতে গণমানুষের পক্ষে না

      আমার মতে গণমানুষের পক্ষে না গিয়ে সেই একাত্তরের চেতনায় সেই বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে থাকাই ভালো,কেননা গণমানুষের মধ্যেও সেই অপশক্তির একটা বিশাল অংশ থেকে যায়।

      হা হা হা হা। ডিসকোর্সটা না বুঝতে পারার ফলেই এই উলটা পালটা বকতেছো। ৭২ এর সংবিধান বা ৭১ কোনো ঐশী বাণী না। এটাও মানুষেরই সংগ্রামের ফল। মানুষ যদি নতুন সমাজের দিকে বা অন্য কোনো চেতনার দিকে ধাবিত হয় তাহলে কি রুখে দাঁড়াবা? গণমানুষ, জনগণ, মানুষ- সব ইতিবাচকতার সমষ্টি।

    2. তবে আমার মতে গণমানুষের পক্ষে

      তবে আমার মতে গণমানুষের পক্ষে না গিয়ে সেই একাত্তরের চেতনায় সেই বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে থাকাই ভালো,কেননা গণমানুষের মধ্যেও সেই অপশক্তির একটা বিশাল অংশ থেকে যায়।

      গণমানুষ শব্দটাতে তোমার এলার্জির কারণ খুঁজে পেলাম না। আমি এটাকে রাজনৈতিক দৈন্যতা ও রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব ছাড়া অন্য কিছু বলব না। শরীরটা খারাপ, রেস্টে আছি। তাই বেশী কিছু না বলে শুধু এতটুকুই বলব- আজকে শাহবাগ থেকে নতুন আন্দোলনের যে ঘোষনাপত্র দেওয়া হয়েছে, যেটা আবার ইমরাণ এইচ চৌধুরী পড়েছে, সেই ঘোষনাপত্রে কতবার ‘গণমানুষ’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে একবার দেখে নিও। রাজনৈতিক অন্ধত্বে ও দৈন্যতা রোগে ভোগা নেতাদের কথা শুনে না চলে রাজনীতির উপর পড়ালেখা কর। সেটা কাজে আসবে। তোমার এই মন্তব্যটা পড়ে “জয়বাংলা”র এলার্জিতে ভোগা ভামদের সাথে তোমার কোন পার্থক্য পাইলাম না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *