ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) : ৪র্থ পর্ব – শাহ্‌ পরাণ হল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

আমার বন্ধুদের মাঝে সবথেকে বেশি সংখ্যক চান্স পেয়েছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমিও চান্স পেয়েছিলাম কিন্তু সাবজেক্ট পছন্দ না হওয়াতে ভর্তি হইনি। বন্ধুরা সবসময়ই বলত সিলেটে ঘুরতে যাবার জন্যে। বিভিন্ন কারনে সময় হচ্ছিল না। থার্ড ইয়ার পরীক্ষা শেষ হবার পর সিদ্ধান্ত নিলাম এইবার যাবই যাব।


আমার বন্ধুদের মাঝে সবথেকে বেশি সংখ্যক চান্স পেয়েছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমিও চান্স পেয়েছিলাম কিন্তু সাবজেক্ট পছন্দ না হওয়াতে ভর্তি হইনি। বন্ধুরা সবসময়ই বলত সিলেটে ঘুরতে যাবার জন্যে। বিভিন্ন কারনে সময় হচ্ছিল না। থার্ড ইয়ার পরীক্ষা শেষ হবার পর সিদ্ধান্ত নিলাম এইবার যাবই যাব।

তিন দিন ছিলাম শাহ্‌ পরাণ হলে। ঘটনাটা ২য় দিন রাতের। তখন শীতের সময়। যারা সিলেট থাকেন তারা জানের শীতের সময় সিলেটে ভালই শীত পড়ে। এম্নিতেই ঠান্ডা তার উপর যদি কেউ গোসল করতে চায় তবে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা অনেক কষ্টদায়ক হয়ে যায়। তাই নিতান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ রাতে গোসল করে না, আর যদিও করে তবে পানি গরম তারপর গোসল করে।

আমি আমার বন্ধুর সাথে যেই রুমে ছিলাম তার পাশের রুমেই এক বড় ভাই থাকতেন যার সাথে আমার বন্ধুর এক রুমমেটের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। ওই বড় ভাই তাকে খুব জ্বালাতন করতেন। কারন বড় ভাই পলিটিক্স করতেন আর আমার বন্ধুর রুমমেট বিপক্ষ দলের সমর্থক ছিল। এই জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হল ছেড়ে দিবেন এবং সুযোগ পেলে ওই বড় ভাইকে একটু সাইজ করবেন। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই রাতে যখন তিনি হল ছেড়ে মেসে উঠার জন্য জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন তখনি সুযোগ চলে আসল।

বড় ভাই সেদিন বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন। রাতে ফিরলেন এবং প্রস্তুতি নিলেন গোসল করার। এই সময় বিদ্যুৎ চলে গেল। শীতের সময় খুব কমই বিদ্যুৎ যায়। বড় ভাই তখন আমাদের রুমে এসে বললেন-
“এই আরিফ (যন্ত্রনায় কাতর রুমমেট এর ছদ্মনাম), তুমি তো চলে যাচ্ছ। যাবার আগে শেষবারের মত আমার একটু সেবা করে দিয়ে যাও। ডাইনিং থেকে আমার কথা বলে গরম পানি নিয়ে তিন নাম্বার বাথরুমে দিয়ে এসো। আমি ওইখানে গোসল করতে ঢুকছি।“

আরিফের মুখটা ম্লান হয়ে গেল। সে প্রথমে তার লাগেজগুলো রিকশায় করে মেসে পাঠিয়ে দিয়ে ডাইনিং এ গেল গরম পানি আনতে। পানি নিয়ে বাথরুমে দিয়ে রুমে এসে আমদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসল হঠাত আমরা চিৎকার শুনতে পেলাম। বুঝলাম বাথরুম থেকে আওয়াজ আসছে। দৌড়ে গেলাম। গিয়ে দেখি বড় ভাই চোখে হাত দিয়ে চিৎকার করছে। তার বালতিতে তাকিয়ে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। সেখানে পানির বদলে ছিল ডাল।

আসলে আরিফ এই ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাবার সুযোগটা পুরোপুরি নিয়েছিল। গরম পানির বদলে সে ভার্সিটির বিখ্যাত পানসে ডাল নিয়ে এসেছিল। যেহেতু বিদ্যুৎ ছিল না তাই বড় ভাই সেটা ধরতে পারেন নি। এটাকেই সম্ভবত বলে প্রকৃতির প্রতিশোধ। নাহলে শীতকালে যখন বিদ্যুৎ যায় না তখন সেদিন ই কেন বিদ্যুৎ চলে যাবে। সৃষ্টিকর্তা সম্ভবত আরিফের ক্ষোভ মেটাবার একটা বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। বেচারা আরিফ। কম জ্বালাতন তাকে সহ্য করতে হয় নি। এই ঘটনার পরে কার কি অবস্থা হয়েছিল তা জানি না। তবে মাঝে মাঝে জানতে খুব ইচ্ছে হয়।

১ম পর্ব – শাহ্‌ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

২য় পর্ব – শহীদ শামসুজ্জোহা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

৩য় পর্ব – মাওলানা ভাসানী হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

১৮ thoughts on “ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) : ৪র্থ পর্ব – শাহ্‌ পরাণ হল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

    1. আপনাদের ফজলে রাব্বি হলের ডাইল
      আপনাদের ফজলে রাব্বি হলের ডাইল যে আসলেও বিখ্যাত ছিল সেইটা আগে থেকেই জানা আছে :চোখমারা: । (এই ডাইল কিন্তু ডাল নয়, আসল ডাইল :শয়তান: )।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *