বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০৬)

এইবার আমরা আলোচনা করবো বৌদ্ধশাস্ত্রের ৫৪৫ নম্বর জাতক যার নাম বিদূরপণ্ডিত জাতক। বিদূরপণ্ডিত জাতকের মূল চরিত্রে আছেন মহাপণ্ডিত বিদূর। এই মহাপণ্ডিত মহাপুরুষ বিদূরের ছিল মাত্র এক সহস্র ভার্যা এবং শপ্তশত গণিকা। যৌন সম্পর্কে অত্যাধিক অভিজ্ঞ পণ্ডিত বিদূরের কাছে আমরা জানতে পারবো যৌন বিজ্ঞান সম্পর্কে। পণ্ডিত বিদূরের মতে অত্যাধিক নারীর সহিত মিলনে পুরুষের বীর্যক্ষয় হয়। যেহেতু একজন বীর্যবান পুরুষের কাছে সব থেকে মূল্যবান বস্তু হল তার বীর্য তাই যে কোন প্রকারেই হোক এই মহামূল্যবান বীর্যকে সংরক্ষণ করতেই হবে। আর পুরুষের অবশ্যই মনে রাখা উচিত যে এই বীর্য সংরক্ষণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল নারী। খালেদা জিয়া যেমন শ্লোগান দিয়েছিলেন “ হাসিনা হটাও, দেশ বাঁচাও, মাটি বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” ঠিক তেমনি মহাপণ্ডিত বিদূরের শ্লোগান ছিল “নারী হটাও, পুরুষ বাঁচাও, বীর্য বাঁচাও, পুরুষত্ব বাঁচাও, ।”

আসুন এখন কথা না বাড়িয়ে আমরা মহাপণ্ডিত বিদূরের কাছ থেকে নারী সম্পর্কিত নীতিগাঁথা গুলো শুনিঃ

“অত্যধিক স্ত্রী সংসর্গে হয় বীর্যঃক্ষয়
কাস, শ্বাস, দুর্বলতা, সর্বাঙ্গে বেদনা
বুদ্ধির বিলোপ আর এসব কুফল
দেখি স্ত্রী সংসর্গে সদা হয় মিতাচার।
ধনরত্নে পরিপূর্ণ বসুন্ধরা যদি
দেয় কেহ রমণীকে ভাবি ইহা মনে
আমিই ইহার প্রিয় অন্য কেহ নয়,
অবকাশ পেলে কিন্তু সেই নারী আবার
করিবে সে পুরুষকে তৃণবৎ জ্ঞান।
নারীর চরিত্রে হেন কলুষতা হেরি
অসতীর সঙ্গ ত্যাগ করে ধর্মবিদ।”

নারীরক্ষা পুরুষতন্ত্রের জন্য অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ। নারীদের যে কখনোই বিশ্বাস করতে হয়না তার দৃষ্টান্ত আমরা পাই বৌদ্ধশাস্ত্রের ৩৯ নম্বর জাতকে যার নাম নন্দ জাতক। এই জাতকের অতীত বস্তুতে দেখা যায়, বৃদ্ধের তরুণী স্ত্রীর গর্ভে একটা পুত্র সন্তান জন্মায় আর এনিয়ে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তার মতো বৃদ্ধের পক্ষে আসলেই উৎপাদন করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে মনে মনে সংশয় প্রকাশ করে। এছাড়া বৃদ্ধ বলে “আমার স্ত্রী যুবতী, আমার মৃত্যু হলে না জানি অন্য কোন পুরুষকে আশ্রয় করবে।” এভাবেই স্ত্রীকে সন্দেহ করে যাচ্ছে পুরুষ যদিও পুরুষকে সন্দেহ করার অধিকার পুরুষতন্ত্র দেয়নি নারীকে।

শত্তুভস্ত্রা জাতক নামক ৪০২ নম্বর জাতকের অতীত বস্তুতে দেখা যায়, এক ব্রাহ্মণ তার ভিক্ষালব্ধ জিনিষ অন্য এক ব্রাহ্মণের হেফাজতে রাখে কিন্তু দ্বিতীয় ব্রাহ্মণ তা খরচ করে ফেলায় আপন কন্যার সাথে প্রথম ব্রাহ্মণের বিয়ে দিয়ে শেষপর্যন্ত ঋণমুক্ত হয়। এখানে নারীকে বিক্রয় করা হয়েছে বললে অত্যুক্তি হবেনা। পিতা দায়মুক্ত হল ঠিকই কিন্তু কন্যার কথা চিন্তা করলেন না। যুবতী কন্যা বাবার বয়সী বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ সহবাসে তৃপ্ত না হওয়ায় এক তরুন ব্রাহ্মণের প্রতি প্রনয়াসক্ত হয়। আর এর মাধ্যমেই তরুণী যে কতো বড় বেশ্যা(!!!) তা ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝানো হয়েছে এই জাতকটিতে।

(সিরিজ আকারে লেখা হচ্ছে, চলতে থাকবে)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০৫)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০৪)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০৩)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০২)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০১)

৪ thoughts on “বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০৬)

  1. হাসিনা হটাও, দেশ বাঁচাও, মাটি

    হাসিনা হটাও, দেশ বাঁচাও, মাটি বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” ঠিক তেমনি মহাপণ্ডিত বিদূরের শ্লোগান ছিল “নারী হটাও, পুরুষ বাঁচাও, বীর্য বাঁচাও, পুরুষত্ব বাঁচাও, ।”

    আন্দলনের কি সুন্দর মিল,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *