শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন, প্রেরণার মুখ

আজ থেকে ২৩ বছর আগে বাংলাদেশ জেগে উঠেছিল স্বৈর শাসক লেজেহোমো এরশাদের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনে। দীর্ঘ আট বছর বাংলাদেশের উপরে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে সারা বাংলাদেশ। সেদিন ছিল ২৭ নভেম্বর ১৯৯০। দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ পালন করছে তিন জোট ও সর্ব দলীয় ছাত্র ঐক্য। এদিকে চতুর্থ দিনের মতো এরশাদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী অভি নীরু গ্রুপ ক্যাম্পাসে ছাত্র ঐক্যের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। সেদিনই ডিএমসি থেকে বিএমএ’র সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে রিক্সায় করে পিজি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ডাঃ মিলন, ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। তাদের রিক্সা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশের সড়কে পৌছলে রিক্সায় বসা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ডাঃ মিলন।

অসম সাহসী কয়েকজন সহযোদ্ধা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রিক্সায় বসা অবস্থাতেই ইন্তেকাল করেন ডঃ মিলন। এই হত্যাকাণ্ড যেন এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনের বারুদের স্তূপে অগ্নি শলাকার কাজ করেছিল। মূলত ডাঃ মিলনের শহীদ হওয়া স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে এক দফার গণ আন্দোলন ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং মাত্র সাত দিনের মাথায় স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। নিশ্চিত হয় গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার পথ।

১৯৫৭ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্ম গ্রহণ করেন ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন। তিনি ১৯৭৩ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এর পর ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে (ব্যাচ কে-৩৪) এমবিবিএস ডিগ্রী লাভ করেন।

তিনি ১৯৮০-৮১ মেয়াদকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ১৯৮২ সালে জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এরশাদের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজের আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা লগ্নে জাসদ ছাত্রলীগের ডিএমসি সভাপতি হিসেবে তিনি ছিলেন সক্রিয়। মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডাঃ মিলন ১৯৮০ সালের ১১ মার্চ মাহমুদা শিকদার কবিতার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৮’র ৫ ডিসেম্বর এই দম্পতির এক মাত্র সন্তান শামা বিজয়া আলম জন্ম গ্রহণ করে।


(মৃত্যুর পাঁচ মিনিট আগের ছবি)

অনেক গুণে গুণান্বিত এই প্রাণবন্ত নবীন চিকিৎসক ছিলেন একজন শিল্পী, সব কিছুকে যিনি সুন্দর করে তুলতে চাইতেন। ডায়েরি লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন, অভ্যাস ছিল প্রবন্ধ লেখার। ভালোবাসতেন বই পড়তে, সব রকমের বই। কবিতা আবৃত্তি করতেন। উৎসাহ ছিল খেলাধুলায় : ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল সব খেলতেন। মেডিক্যাল কলেজে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অত্যন্ত ঈর্ষণীয় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। গান ভালোবাসতেন, খুশি হতেন বন্ধু পেলে, প্রেমিক ছিলেন কৃষ্ণচূড়ার, খুব পছন্দ করতেন সাইকেলে ঘুরে বেড়াতে। শিল্পের সঙ্গে পরিবেশের একটা দ্বন্দ্ব অনিবার্য। কেননা পরিবেশ হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, বিকৃত, অবয়বহীন; ওদিকে শিল্প চায় শৃঙ্খলা, চায় সৌন্দর্য, চায় সুগঠন। শিল্পীকে তাই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় বিরূপ পরিবেশের বিরুদ্ধে। ডা. মিলনকেও তা করতে হয়েছে । পদে পদে। কিন্তু তিনি কোনো অবস্থাতেই আপস করেননি। আত্মসমর্পণ তো প্রশ্নাতীত।

একজন মেধাবী চিকিৎসক ডাঃ মিলন পেশাজীবী আন্দোলনের একজন সংগঠক ছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু নিজের চিকিৎসা পেশাই নয় সেবা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ ডাঃ মিলন পেশাজীবীদের দাবী আদায়ে সব সময়ই ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকায়। এ দেশের চিকিৎসকদের একমাত্র জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনকে এবং পেশাজীবীদের সংগঠন (প্রকৃচি) আন্দোলনকে ডাঃ মিলন তার জীবনের বিনিময়ে দেশবাসীর সামনে গৌরবান্বিত করে গিয়েছেন । তিনি ছিলেন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রিয়জন ও প্রিয় মুখ ।

১৯৮৪ সালে সরকার কর্তৃক গঠিত হেলথ ম্যান পাওয়ার প্লানিং কমিটির একজন সদস্য এবং ১৯৮৫ সালে দেশের ৩ পেশাজীবী আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্যর দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর এরশাদ সরকারের অবৈধ অধ্যাদেশ MLR-9 অনুযায়ী চাকরীচ্যুত হয়ে বায়ো কেমিস্ট্রিতে এমফিল এ ভর্তি হন। ৮৫ সালেই সরকার কর্তৃক অন্যায়ভাবে তাঁর পাঁচ মাসের ডেপুটেশন বাতিল করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি IGPMR থেকে বায়ো কেমিস্ট্রিতে এমফিল ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফিজিওলজি বিভাগে প্রভাষক নিযুক্ত হন।


(একটা স্ট্যাম্প প্রকাশ করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ!)

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের গণ বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর স্বাস্থ্য নীতির বিরুদ্ধে বিএমএ পরিচালিত আন্দোলনে সাংগঠনিক দক্ষতায় সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । তিনি তৎকালীন বিএমএ’র নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকদের ২৩ দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। অন্যায়ভাবে তাঁকে বদলী করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজে। রংপুর মেডিকেলেও তিনি চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের দাবীতে সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সক্রিয় ছিলেন। ৯০ সালে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ প্যাথলজিষ্ট এর নির্বাহী কমিটির সদস্য।

১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এরশাদ ছাত্র ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য কারান্তরীন ছাত্রদলের সন্ত্রাসী ক্যাডার সানাউল হক নীরু, গোলাম ফারুক অভিকে মুক্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে পাঠায়। ক্যাম্পাসে নীরু অভির হাতে লাঞ্ছিত হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। ছাত্র ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্যই যে এই দুই ছাত্রদল নেতাকে কারামুক্তি দেয়া হয়েছে তা বুঝতে পারেন বিএনপি নেতারা। ২৩ নভেম্বর সানাউল হক নীরু সহ ৫ ছাত্রদল নেতা কর্মীকে বহিষ্কার করা হয় ছাত্রদল থেকে। নীরুর বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানায় অভি এবং তার সমর্থকরা। ২৪ নভেম্বর নীরুর সমর্থক ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা অভির নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং ডাকসু ভবনে হামলা করে। দিনভর ক্যাম্পাসে এবং বিভিন্ন ছাত্র হলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। দুই পক্ষ সেদিন অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পরদিন সকালে আবারও অভি-নীরু বাহিনী তাদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে এম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাসে লড়াইয়ে নামে। ছাত্র ঐক্যের একটি মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে রুখে দাঁড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা। হাজারো শিক্ষার্থীর খালি হাতের সাহসী প্রতিরোধে মাধ্যমে যে হল থেকে অভি-নীরু তাদের সব সন্ত্রাসী কাজ পরিচালনা করছিল সেই সূর্য সেন হল থেকে তাদের উৎখাত করে সাধারণ ছাত্ররা। ঐ দিন রাতে গোলাম ফারুক অভি সহ ৫ জন ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হয়। ২৬ নভেম্বর অভি-নীরু গ্রুপ আবারও এ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং ছাত্র ঐক্যের উপরে হামলা করে। এই দিন রাস্তার পাশের এক দোকানী (নাম মনে করতে পারছি না, সম্ভবত নিমাই) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। শহীদুল্লাহ হল এবং এফ এইচ হলে অবস্থান নেয়া অভি নীরু গ্রুপ বাংলা একাডেমী-টিএসসি’র দিকে অগ্রসর হয়। এই সময় ছাত্র ঐক্যের একটি মিছিল জিরো পয়েন্টের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমী থেকে একটি মিনিবাস বের হয়ে ঐ মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। দুই পক্ষই আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে। অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী আহত হয় এদিন।

২৭ নভেম্বর ৯০। দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ পালন করছে তিন জোট। চতুর্থ দিনের মতো অভি নীরু গ্রুপ ক্যাম্পাসে ছাত্র ঐক্যের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলো। এদিকে ডিএমসি থেকে বিএমএ’র সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে পিজি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ডাঃ মিলন, ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। তাদের রিক্সা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশের সড়কে পৌছলে রিক্সায় বসা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ডাঃ মিলন। অসম সাহসী যোদ্ধা কয়েকজন বুলেট বিদ্ধ মিলনকে রিক্সায় করে মেডিকেলে নেয়ার পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর নিহত হবার খবরে বাতাসের মতো মুহূর্তেই ছড়িয়ে গেলো চারিদিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ায় জরুরী অবস্থা জারী করলো সরকার। কিন্তু ততদিনে ছাত্রীহলের মেয়েরাও জরুরী আইন ভঙ্গ করে রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশ করে। এক কথায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়য় এলাকা ছাত্র ঐক্যের দখল প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত ডাঃ মিলনের শহীদ হওয়া স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে এক দফার গণ আন্দোলন ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। নিশ্চিত হয় গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার পথ।

কিন্তু সত্যিই কি তাই হয়েছে? গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ পাওয়া গেলেও তা কাজে লাগানো হলো না। তারপরের ঘটনা সবাই জানি। দেখছি অবাক বিস্ময়ে; যার রক্তের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন গণ অভ্যুত্থানে রূপ নিলো, দেশের এত বড় পরিবর্তন হলো, সেই ডাঃ শামসুল আলম খান মিলনের ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমরা কি দেখছি? যে জন্য রক্ত দিয়েছেন ডাঃ মিলন সেই গণতন্ত্র আজও শৈশবেই রয়ে গেলো মুমুর্ষ রোগী হয়ে। ডাঃ মিলনদের স্বপ্নের গণমুখী স্বাস্থ্য নীতি প্রণীত হয়নি আজও। ৯০’র সেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমি লজ্জিত হই যখন দেখি পতিত স্বৈরাচার আজ বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটা বড় ফ্যাক্টর। লজ্জা পাই যখন দেখি শুধুমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার জন্য আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পতিত স্বৈরাচারকে নিয়ে রশি টানা খেলায় মাঠে নামে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপরে বিতৃষ্ণা আরও চরম আকার লাভ করছে অতি সম্প্রতি এরশাদকে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ন্যক্কারজনক খেলা দেখতে দেখতে।

কি বিচিত্র এই দেশ! মৃত্যুর ২৩ বছরেও ডাঃ মিলনের হত্যাকারীদের কোন বিচার হলো না। আজকের এই দিনে শুধু শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলাম সেই বীর সৈনিককে। ডাঃ মিলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্যে নিজের জীবন দান করেছেন সেই গণতন্ত্র কতিপয় ক্ষমতা লিপ্সু রাজনৈতিক নেতৃত্ব , দুর্নীতিবাজ, অসাধু ব্যবসায়ী, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে বন্দী থাকতে পারে না। মানুষের সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করে জন কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হোক ডাঃ মিলন দিবসের অঙ্গীকার।

# বুলেটবিদ্ধ ডাঃ মিলনকে রিক্সায় করে নিয়ে যাওয়া ঐ ক’জন অসম সাহসী যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগের সূর্য সেন হলের সভাপতি মাহাবুব ভাই (ছবিতে হলুদ-কালো ছাপ শার্ট) মাত্র সাড়ে ৬ মাসের মধ্যে সন্ত্রাসীর ছোঁড়া বুলেট বিদ্ধ হয়ে মারা যান ঢাবি ক্যাম্পাসের মহসীন হল সংলগ্ন রাস্তায় ১৯৯১ সালের ২০ জুন। আর দুর্ভাগ্য মাহবুব ভাইয়ের যে, সেই প্রতিপক্ষের সাথেই ঐক্য গড়ে আজ পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নে বিভোর শহীদ মাহাবুব ভাইয়ের দল। সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ। কি বিচিত্র এই দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদগণ।

# তিনি ১৯৭৩ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করে এসএসসি —- এটা নিয়ে আমি নিজেই একটু বিভ্রান্ত। কেননা শিল্পকলা বিভাগ থেকে ২য় স্থান, তাও আবার সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে! কিন্তু ডাঃ মিলন সম্পর্কে বিএমএ, জাসদ প্রকাশিত স্মরণীকাতে এভাবেই বলা আছে।

১৭ thoughts on “শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন, প্রেরণার মুখ

    1. এটা জানা উচিৎ ছিল ভাইয়া।
      এটা জানা উচিৎ ছিল ভাইয়া। অবশ্য চর্চা না থাকলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে না, এটাও স্বাভাবিক। তাই আপনার না জানাটা আপনার ব্যর্থতা নয়, পূর্বসূরিদের ব্যর্থতা। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  1. আশ্চর্য!! ওনার কথা আমি
    আশ্চর্য!! ওনার কথা আমি জানতামই না; :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
    শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। :salute: :salute: :salute:

  2. আর ধন্যবাদ, উত্তর বাংলা ভাই;
    আর ধন্যবাদ, উত্তর বাংলা ভাই; আপনার সুন্দর উপস্থাপনের জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. শহীদ বীর ডাক্তার মিলনের
    শহীদ বীর ডাক্তার মিলনের বিদেহী আত্মা আমাদের সেই পুরনো প্রশ্নটির সামনে আবারও দাড় করিয়ে দেয়… ন্যায়বিচার, তুমি কত দূর??? :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :অপেক্ষায়আছি:

    শহীদ মিলন, আপনাকে হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে :salute: :salute: :salute: :salute:

    এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বরাবরের মতো চমৎকার লেখনীতে তুলে আনার জন্য উত্তর বাংলা ভাইকে অশেষ :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. এ্যাবসলিউটলি ক্লোজ চ্যাপ্টার।
      এ্যাবসলিউটলি ক্লোজ চ্যাপ্টার। রাজনীতিতে তো বটেই, এমন কি ইষ্টিশন ব্লগেও। ধারণা করেছিলাম অন্তত ইষ্টিশণ ব্লগের কভার ফটোতে একদিনের জন্য ডাক্তার মিলনের জায়গা হবে। হয়নি। তিনি তো জাফর ইকবালের মতো জগদ্বিখ্যাত কেউ ছিলেন না। ছিলেন বিশ্বজিত বা আগুনে দগ্ধ মনিরের মতো একজন হুদাই জীবন দেয়া আমজনতা। আর এরশাদ এখন ওপেন মানে? বলেন কি? দুলাল ভাইয়ের কমেন্টে রিপ্লাইটা দেখেন। তিনি ও তাঁর দল জাতীয় পার্টি
      এখন গণতান্ত্রিক ধারায়!! :কানতেছি: :কানতেছি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :তালিয়া: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  4. আহ! গণতন্ত্রের জন্য যেই ডাঃ
    আহ! গণতন্ত্রের জন্য যেই ডাঃ মিলন বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের ঋণী করেছেন, সেই মিলনকে আমরা কত অনায়াসে ভুলে গেছি। দুই দল এখন আছে ক্ষমতার কামড়া-কামড়িতে। মিলনকে স্মরণ করার মত সময় কই তাদের হাতে?

    1. দুলাল ভাই, এটা নিশ্চয় চোখে
      দুলাল ভাই, এটা নিশ্চয় চোখে পড়েছে আজকের বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোরে আছে। মিলন দিবসের আলোচনা সভায়। ইনুর ভাষায়, জাতীয় পার্টি এখন গণতান্ত্রিক ধারায় !! আর কি বলার আছে!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *