অ্যাঙ্গোলায় ইসলাম নিষিদ্ধ প্রসঙ্গ

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ এঙ্গোলার ৯৫ ভাগেরও বেশী মানুষ খ্রিস্টান আর এই খ্রিস্টানদের মধ্যে ৫৫ ভাগ ক্যাথোলিক, ১০ ভাগ প্রটেস্টাণ্ট, ২৫ ভাগ আফ্রিকান ট্র্যাডিশনাল খ্রিস্টানিজম পালন করে। ইতিমধ্যেই অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোশে ইডুরাডো ডস সান্টস ইসলামিক প্রভাবকে হ্রাস করে ইসলামকে একটি আচার অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার আহবান জানিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী রোজা ক্রুজ এ সিলভা এক নোটিশে বলেন, “ মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা অনুযায়ী ইসলামের মতো অমানবিক ধর্মের কোন বৈধতা নেই।


দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ এঙ্গোলার ৯৫ ভাগেরও বেশী মানুষ খ্রিস্টান আর এই খ্রিস্টানদের মধ্যে ৫৫ ভাগ ক্যাথোলিক, ১০ ভাগ প্রটেস্টাণ্ট, ২৫ ভাগ আফ্রিকান ট্র্যাডিশনাল খ্রিস্টানিজম পালন করে। ইতিমধ্যেই অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোশে ইডুরাডো ডস সান্টস ইসলামিক প্রভাবকে হ্রাস করে ইসলামকে একটি আচার অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার আহবান জানিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী রোজা ক্রুজ এ সিলভা এক নোটিশে বলেন, “ মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা অনুযায়ী ইসলামের মতো অমানবিক ধর্মের কোন বৈধতা নেই।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন ২০০৩ অনুসারে এঙ্গোলার মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩ ভাগ মুসলিম হলেও গুরুত্বপূর্ণ শহরে মসজিদ মাদ্রাসার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছিলো। এঙ্গোলিয়ান বেসরকারী সংস্থা দ্বারা পরিচালিত সম্প্রতি এক জরীপে দেখা গেছে ৮৬ ভাগ এঙ্গোলিয়ান জনগণ ইসলাম নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত প্রকাশ করে। আর ৬ ভাগ মানুষ ইসলাম নিষিদ্ধ না করে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত প্রকাশ করে। দেশটিতে সেপ্টেম্বরে ১১ টি সহিংসতা এবং অক্টোবরে ২৬ টি সহিংসতার প্রতিটির পিছনে ইসলামী মৌলবাদের সম্পৃক্ততা ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে বলে দাবী কড়া হয় এঙ্গোলার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

কিন্তু অফিশিয়ালি এখন পর্যন্ত ইসলাম নিষিদ্ধ করার কোন খবর তো আসেই নি বরং রিপাবলিক অফ এঙ্গোলা ইতিমধ্যেই তা অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে এঙ্গোলিয়ান এমব্যাসি থেকে বলা হয়েছে “The Republic of Angola … it’s a country that does not interfere in religion. We have a lot of religions there. It is freedom of religion. We have Catholic, Protestants, Baptists, Muslims and evangelical people.” তবে এঙ্গোলার সরকার গত ৩ অক্টোবর লোন্ডা শহরে একটি মসজিদ ভাঙ্গে এবং গত ১ সপ্তাহে বেশ কিছু শহরে মসজিদ ভাঙ্গার খবর আসছে। এই বিষয়ে হুমায়ুন আজাদের একটি কথা মনে পড়েছে তা হল, “মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই যারা তারা অধার্মিক।” তবে মসজিদ বা মন্দির ভাঙ্গার সময় আসলে উপলব্ধি হয় যে আল্লাহ বা ঈশ্বর মানুষের মস্তিষ্কের বাইরে কতোটা অকার্যকর।

শমীন্দ্র ঘোষের ভাষায় বলতে হয়, খ্রিস্টান অধ্যূষিত 1.6 লক্ষ জনসংখ্যার আংগোলায় পরিস্থিতি ভয়ংকর উদ্বেগজনক, বর্বর, নিয়ন্ত্রনহীন পর্যায়ে গেছিলো। তাই কঠোর পদক্ষেপ করতে হলো প্রশাসনকে। কিন্তু নিষেধ’ মানেই না বাচক। এটা দিয়ে কিছু গড়া যায় না। এটা হলো অবরূদ্ধের। ‘নিষেধ’ অবরোধ তৈরি করে চিন্তায়; মন থেকে বিষয়টিকে ‘উপড়ে’ ফেলে না। চিন্তায় মুক্তি আনে না। ব্যপারটা সেই ধর্মীয় ‘ফতোয়া’ ধারীদের মতোই। রাজনৈতিক “রক্ত চক্ষু”র মতোই। মানুষ আপাতভাবে ‘ভয়ে’ মেনে নেয়। কিন্তু, মনের গভীরে প্রোথিত বিশ্বাসটা শিকড় সমেত উপড়ে যায় না, ওটা থেকে যায়। কখনও অনুকূল পরিবেশের ‘সারের’ প্রভাবে ডালপালা মেলে। ঘন্টা-ভাবসঙ্গীত-আজানের হাওয়ায় ফিরে ফিরে আসে। ওটাকে উপড়াতে হয় নিজেকে। নিজের ইচ্ছায়, স্বাবলম্বিত হতে হতে।

এগিয়ে থাকা চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা, যুক্তিবাদী কাজকর্মের দ্বারা যুক্তিবাদী পরিবেশ গড়তে হবে। ধীরে ধীরে মনের গভীরে প্রোথিত ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস বিলীন হতে থাকবে। এটা নিজেকেই করতে হবে। নিজের গড়া ধর্মীয় অনুভূতি-আবেগকে, নিজের গড়া ঈশ্বরকে, মনের গভীরের অমূলক ভীতিকে নিজেকেই ভাঙ্গতে হবে, উপড়াতে হবে। এখন, আংগোলা আপাতত বনের বাঘকে তাড়ানোর উদ্যোগ নিলো, খুব ভালো উদ্যোগ। তবে মনের বাঘকে তাড়াবে কোন এঙ্গলো সেটাই দেখার। কারণ,

“বনের বাঘকে তাড়ানো যায়,
মনের বাঘকে তাড়ানো দায়।”

৪ thoughts on “অ্যাঙ্গোলায় ইসলাম নিষিদ্ধ প্রসঙ্গ

    1. আমি ইতিমধ্যেই এটা উল্লেখ
      আমি ইতিমধ্যেই এটা উল্লেখ করেছি –

      কিন্তু অফিশিয়ালি এখন পর্যন্ত ইসলাম নিষিদ্ধ করার কোন খবর তো আসেই নি বরং রিপাবলিক অফ এঙ্গোলা ইতিমধ্যেই তা অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে এঙ্গোলিয়ান এমব্যাসি থেকে বলা হয়েছে “The Republic of Angola … it’s a country that does not interfere in religion. We have a lot of religions there. It is freedom of religion. We have Catholic, Protestants, Baptists, Muslims and evangelical people.”

      তবে কাজ কিছু করেছে এঙ্গোলা আর এখন তা অস্বীকার করছে বলেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইট ঘেঁটে আমার মনে হচ্ছে।

  1. যদি নিষিদ্ধ হয়, সফির কাছে
    যদি নিষিদ্ধ হয়, সফির কাছে গিয়ে তার অনুভুতির কথা জানা দরকার। এর বিরুদ্ধে সে কি ব্যবস্থা নিবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *