আর কতকাল হিপটোনাইজড হয়ে থাকবে, সুলগ্না?

মনে পড়ে সুলগ্না?
বাইরে সেদিন উথাল পাতাল বৃষ্টি হচ্ছিল…

তুমি নীচতলার সিঁড়ির নীচের অন্ধকারে
চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিলে।
বল্লে-“ভয় করছে আমার, খুব!”
আমি তোমাকে টেনে এনে মোমবাতির আলোয় বসালাম।
আমার হাতের মুঠোতে তোমার কব্জি রেখে
ফিসফিস করে বল্লাম-“ভয় নেই, এই যে দেখো আমি আছি!”
তুমিও ফিসফিস করে বল্লে-“তবুও ভয় করছে!”

তোমার ভয় কাটাতে আমি গল্প বলা শুরু করলাম। তুমি শক্ত হয়ে বসেছিলে। মনে পড়ছে এখন?

মনে পড়ে সুলগ্না?
সে রাতে বৃষ্টি থামার পর,
আমরা দুজন খুব নিরিবিলি একটা পিচঢালা রাস্তায়
একাকী হাত ধরাধরি করে পাশাপাশি হেটেঁ চলেছিলাম।
বাতাসে ছিলো ভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধ।


মনে পড়ে সুলগ্না?
বাইরে সেদিন উথাল পাতাল বৃষ্টি হচ্ছিল…

তুমি নীচতলার সিঁড়ির নীচের অন্ধকারে
চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিলে।
বল্লে-“ভয় করছে আমার, খুব!”
আমি তোমাকে টেনে এনে মোমবাতির আলোয় বসালাম।
আমার হাতের মুঠোতে তোমার কব্জি রেখে
ফিসফিস করে বল্লাম-“ভয় নেই, এই যে দেখো আমি আছি!”
তুমিও ফিসফিস করে বল্লে-“তবুও ভয় করছে!”

তোমার ভয় কাটাতে আমি গল্প বলা শুরু করলাম। তুমি শক্ত হয়ে বসেছিলে। মনে পড়ছে এখন?

মনে পড়ে সুলগ্না?
সে রাতে বৃষ্টি থামার পর,
আমরা দুজন খুব নিরিবিলি একটা পিচঢালা রাস্তায়
একাকী হাত ধরাধরি করে পাশাপাশি হেটেঁ চলেছিলাম।
বাতাসে ছিলো ভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধ।

তুমি বল্লে “এ্যাই, শীত করছে আমার!”
আমি মুচকি হেসে বল্লাম-“শালটা নিয়ে এলেই পারতে!”
তুমি প্রায় ফিসফিস করে অভিমানী স্বরে বল্লে- “তাই বলে কি জড়িয়ে ধরবে না আমায়?”

আমার অট্টহাসি ক্ষনিকের জন্য সে রাতের নীরবতাকে ভেঙ্গে খানখান করে দিয়েছিলো।
এরপর আমি আমার শরীরের সমস্ত উষ্ণতা দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম তোমায়।
সুলগ্না, এখনও মনে পড়ছে না তোমার?

আমরা হাটঁতে হাঁটতে রমলাদের বাগানে এসে হাজির হলাম।
তুমি হাস্নাহেনা আর গন্ধরাজের সম্মিলিত একটা অদ্ভুত ঘ্রান
বুক ভরে নিলে। আমাকে জিগেস করলে, আকাশে চাদঁ নেই কেন?
আমি বল্লাম – আছে তবে দেখা যাচ্ছে না। মেঘের পেছনে আড়াল হয়ে গেছে।

আমি তোমাকে ওদের সিঁড়ি বারান্দায়
আমার দু হাঁটুর মাঝে বসিয়ে বল্লাম
লগন, জীবনটা কতই না সুন্দর, তাই না?
তোমার নিরবতায় চেয়ে দেখি
তোমার দু চোখে জল টলমল করছে!
আমি তাকাতেই আমার দিকে চেয়ে হাসলে তুমি!
তোমাকে মসৃন গালে একটা মৃদু ঢেউ ওঠলো,
তার ধাক্কায় তোমার বামচোখের পানির একটা ফোটাঁ
গড়িয়ে তোমার টোলের গর্তটায় গিয়ে পড়ল!

আবারও খুব হাসি পেলো আমার,
কিন্তু হাসলাম না, তুমি কাদঁছ, আমি হাসি কি করে বল লগন?
তখন তুমি আমার হাত দুটোকে দুপাশ থেকে বুকে জড়িয়ে ধরলে!
এবার মনে পড়েছে তোমার?

এখনও কি সেসব তোমার কাছে শুধুই হিপনোটিজমই হয়ে থাকবে?

আমি তো আমার কল্পনাকে বাস্তব করতে চেষ্ট করি কিন্তু তোমার জলজ্যান্ত একটা বাস্তবতাকে কল্পনাতে রুপ দেবার আশা আমার সে চেষ্টাকে নিমিষেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়।

সুলগ্না, ঘোরের জগত থেকে একটিবার বাইরে এসে দেখোনা!

দেখো যে, তোমার জন্য সেই মোমের আলো..সেই বৃষ্টিভেজা রাত…রমলাদের সেই আজব বাগান…সেই আমি…. এখনও তোমার পথ চেয়ে বসে আছি।

আজ সেখানে শুধু তুমিই নেই!

‘আর কতকাল হিপটোনাইজড হয়ে থাকবে, সুলগ্না?’
/ প্রলয় হাসান
৭ ই জুলাই, ২০০৮ ইং।

৩ thoughts on “আর কতকাল হিপটোনাইজড হয়ে থাকবে, সুলগ্না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *