ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) # ২য় পর্ব – শহীদ শামসুজ্জোহা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ট্র্যাডিশন হচ্ছে রাতের খাবার অনেক আগেই খেয়ে নিতে হয়। সাধারনত এশার নামাজের আগেই খাওয়া শেষ হয়ে যায়। এর পর খেতে গেলে ভাল কোন আইটেম আর অবশিষ্ট থাকে না। অনেকেই যেহেতু নামাজ পড়ে তাই খাবার আগে ডাইনিং হলে প্রচুর ভিড় হয়।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ট্র্যাডিশন হচ্ছে রাতের খাবার অনেক আগেই খেয়ে নিতে হয়। সাধারনত এশার নামাজের আগেই খাওয়া শেষ হয়ে যায়। এর পর খেতে গেলে ভাল কোন আইটেম আর অবশিষ্ট থাকে না। অনেকেই যেহেতু নামাজ পড়ে তাই খাবার আগে ডাইনিং হলে প্রচুর ভিড় হয়।

যেদিনের কথা বলছি সেদিনও প্রচুর ভিড় ছিল। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি খুব বেশিদিন হয় নি। ফার্স্ট ইয়ারে সাধারণত হোস্টেলে সীট পাওয়া যায় না। তবে এক বড় ভাই এর সাথে আমি ডাবলিং করে থাকতাম। আমরা ভর্তি হবার মাস ছয়েক আগে পাশের মাদার বখশ হলে শেয়ালের মাংস খাওয়ানো নিয়ে তুলকালাম ঘটে গিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ তখনো কেটে যায় নি। খাবারের মান নিয়ে প্রায়ই ডাইনিং ম্যানেজারের সাথে ছাত্রদের কথা কাটাকাটি হত। যারা ভার্সিটির আবাসিক হলে থেকেছেন তারা এই ব্যপারটা আশা করি ভালভাবেই বুঝতে পারছেন।

খাওয়া শুরু করার কিছুক্ষণ পর পাশের টেবিলে শোরগোল শুনতে পেলাম। খাওয়া শেষ না করেই উঠে পড়লাম। গিয়ে দেখি ডালের একটা বড় গামলার পাশে দাঁড়িয়ে লিকলিকে একটা ছেলে তার শরীরের চেয়ে তিনগুন বেশি আওয়াজে চিৎকার করছে। চিৎকারের কারণটা ডালের গামলার দিকে তাকিয়েই বুঝলাম। বেশ বড় আকারের একটা টিকটিকি ডালের উপর মরে উল্টো হয়ে ভেসে আছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি বাংলাদেশের সব থেকে বড় আকারের টিকটিকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দেখা যায়।

এরপর যা হবার তাই হল। প্রথমে চিৎকার, তারপরে ম্যানেজারকে কিঞ্চিৎ উত্তম-মধ্যম এবং সবশেষে কাঁচের থালাগুলোর উপর আক্রোশ মেটানো হল। সবকিছু ঘটে যাবার পর প্রভোস্ট স্যার খোঁজ নিতে আসলেন। এটাই স্বাভাবিক, আগে আসলে তাকেও কথা শুনতে হত। অবশ্য এর ফল আমাদেরকে পরবর্তীকালে ভোগ করতে হয়েছে। কাঁচের থালা ভাঙার অপরাধে আমাদেরকে অনেকদিন পর্যন্ত মেলামাইনের থালা আর টিনের বাটিতে ভাত খেতে হয়েছে। টিকটিকি মিশ্রিত ডাল খাওয়ার থেকে সেটা অবশ্যই ভাল; কি বলেন?

বিঃদ্রঃ আপনাদের জন্য ধাঁধা। বলেন তো সেই রাতে আমি খাওয়া শেষ করতে পেরেছিলাম কি না? :চোখমারা:

১ম পর্ব – শাহ্‌ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

২৪ thoughts on “ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) # ২য় পর্ব – শহীদ শামসুজ্জোহা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  1. সেদিন আপনি আর খাওয়া শেষ করতে
    সেদিন আপনি আর খাওয়া শেষ করতে পারেন নাই॥
    হলগুলোতে তাও টিকটিকি পাওয়া যায়। শিয়ালের মাংস খাওয়ানো হয়। কিন্তু রাস্তার হোটেল গুলোতে মরা মুরগির মাংস খাওয়ানো হয়। একবার চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাটের এক হোটেল থেকে কুত্তার মাংস পাইছিলো॥

  2. এর পরের কাহিনী আরো করুণ হতে
    এর পরের কাহিনী আরো করুণ হতে পারে।ভেসে উঠা টিকটিকির সাইজ নিয়ে গবেষনা করা যায় যেমন,টিকটিকির সাইজ কত?টিকটিকিটি কোন প্রজাতির?অথবা টিকটিকিটি ছেলে ছিল না মেয়ে? কিন্তু রাগে,দুঃখে,ক্ষোভে কেউ যদি প্রতিদিন ডালে টিকটিকিটি শীলপাটায় পিষে ঘুটা দিয়ে থাকে সেই ঘুটাদেয়া টিকটিকি নিয়ে আর গবেষণার অবকাশ থাকেনা। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. জয়দা,সমস্যাকি? টিকটিকি কিন্তু
      জয়দা,সমস্যাকি? টিকটিকি কিন্তু স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য হিসেবে অনেক দেশেই খাওয়া হয়ে থাকে। :হাসি: :হাসি: :হাসি:

    2. ব্যাপার না। এইসব যদি না পারেন
      ব্যাপার না। এইসব যদি না পারেন তাহলে ভার্সিটিতে পড়ার মজাই পাবেন না। ভয় থেকে মজাটাই কিন্তু বেশি। :ভেংচি:

    3. জয়দা, ডানা ভাই ঠিক বলেছেন।আর
      জয়দা, ডানা ভাই ঠিক বলেছেন।আর টিকটিকি নিয়ে চিন্তার কিছু নাই।এরকম বাসাতেও মাঝে মাঝে হয়ে থাকে।আন্টি আপনাকে বলেনাই তাই আপনি হয়ত জানেননা।একবার কি হয়েছিল বলি,লাল টুকটুকে লাল শাক ভাজি আমার পাতে দেয়া হল,লাল শাক যেই হাত দিয়ে নাড়া দিলাম ওমনি সিদ্ধ হওয়া বিছাটাকে দেখতে পেলাম।বিছাটা হাত দিয়ে টেবিলের এক কোনায় রেখে ভাত খাওয়া শেষ করলাম।আপনার ভাবীকে বল্লাম,আজকের লাল শাকটায় অনেক পুস্টি ছিল।আপনার ভাবী বল্ল,মানে?আমি টেবিলের কোনায় রাখা সিদ্ধ বিছাটাকে দেখিয়ে দিলাম।ততক্ষনে সবার খাওয়া শেষ।

  3. আমাদের হলের জলিলের ক্যান্টিনে
    আমাদের হলের জলিলের ক্যান্টিনে টিকটিকি পাওয়ার পর পোলাপান ব্যাপক ধাওয়া দেয় এরপর থেকে তার ব্যবসাও উঠে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *