“চিরচেনা বরষায়”

কলেজ থেকে এসে সবেমাত্র ফেসবুকে লগিন করেছে অর্ক । অচিরেই সন্ধ্যার টেক্সট ।
–কই রে তুই ?
–এই তো বাসায় 😐
–ফোন বন্ধ কেন ? আমার ফোন ধরিস না কেন ?
–কই খোলা তো । তোর কল তো পাইনি !
–ভালোমত দেখ । আমি কি মিথ্যা বলছি ?
সন্ধ্যা ফোন দিল অর্ককে । এবার খোলা পেয়েছে । প্রথমেই ঝাড়ি ।
–‘তোর কাহিনী কি রে ?’
–‘কিসের কাহিনী ?’
–‘কাল রাত থেকে কল দিচ্ছি ধরিস না কেন ?’



কলেজ থেকে এসে সবেমাত্র ফেসবুকে লগিন করেছে অর্ক । অচিরেই সন্ধ্যার টেক্সট ।
–কই রে তুই ?
–এই তো বাসায় 😐
–ফোন বন্ধ কেন ? আমার ফোন ধরিস না কেন ?
–কই খোলা তো । তোর কল তো পাইনি !
–ভালোমত দেখ । আমি কি মিথ্যা বলছি ?
সন্ধ্যা ফোন দিল অর্ককে । এবার খোলা পেয়েছে । প্রথমেই ঝাড়ি ।
–‘তোর কাহিনী কি রে ?’
–‘কিসের কাহিনী ?’
–‘কাল রাত থেকে কল দিচ্ছি ধরিস না কেন ?’
–‘খেয়াল করিনি । সরি ।’
–‘মন খারাপ !’ এবার একটু নরম হল সন্ধ্যা । ‘কি হয়েছে ?’
–‘কিছু না । কি জন্যে কল দিয়েছিলি ?’
–‘বিকেলে একটু দেখা করতে পারবি ?’
–‘কখন ? কোথায় ?’
–‘ধানমন্ডি লেক । পাঁচটায় ।’
–‘আচ্ছা ঠিক আছে । ফোন দিব । রেডি থাকিস ।’
–‘আচ্ছা । লেট করবি না কিন্তু ।’

সন্ধ্যা আর অর্কের এই রাগ অভিমানী বন্ধুত্বের পিছনে হালকা পাতলা একটা কাহিনী আছে । স্কুল জীবন থেকে ওদের বন্ধুত্ব । খুব বেশিদিন না হলেও তাও চার পাঁচ বছর । খুব ভালোই বন্ধুত্ব । গোলাম আযম আর যুদ্ধাপরাধের যেমন বন্ধুত্ব,তেমন । তবে বন্ধুত্বের পিছনে আরো একটা কাহিনী আছে । সন্ধ্যা অর্ককে পছন্দ করে । প্রেম ভালোবাসা টাইপ । কিন্তু অর্ক অন্য একটা মেয়েকে পছন্দ করে । মেয়েটার নাম তিতলি । তবে এখনও ওদের সম্পর্ক শুরু হয়নি । ব্যাপারটা সন্ধ্যাকে ব্যাথা দিলেও ওর কাছে বন্ধুত্বটাই আগে । বিপরীত মেরুর হলেও ওদের বন্ধুত্বে এসব নিয়ে কোন চিড় ধরেনি । তবে তিতলিকে সন্ধ্যার ভাল লাগে না । মেয়েটা তেমন সুবিধার না । ব্যাপারটা ও অর্ককে বলেছে কিন্তু ওর সেসব নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই । কি আর করা ! তবু সন্ধ্যা প্রিয় বন্ধুকে সাপোর্ট দিয়ে যায় ।

—————————————–

অর্ক বিকেলে ঠিক সময়েই বের হল কিন্তু পৌছাতে দেরি হয়ে গেল । সন্ধ্যা সময় মতই এসেছে ।
–কিরে কেমন আছিস ?’-বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে অর্ক ।
সন্ধ্যা তাকিয়ে আছে । তাকানোর মধ্যে একটু রাগ বা অভিমানী ভাব ।
–‘আরেকটু পরে আসতি । বস ।’ চশমাটা ঠিক করে দার্শনিক ভঙ্গিতে বললো সন্ধ্যা ।
পকেট থেকে একটা কেটবেরি সিল্ক বের করে সন্ধ্যাকে দিয়ে পাশে বসলো ।
–‘কেন ডেকেছিস ?’
–‘এমনি । চল না ওই ছেলে মেয়ে দুটোর মত হাত ধরে হাঁটি !’
–‘যা ভাগ মশকরা করিস না । মন ভাল নেই ।’
–‘তোর মন ভাল থাকে কখন ? একটু মজাও করতে পারবো না ! কি হইসে তোর বলতো ?’
সন্ধ্যা এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো । অর্কের মন খারাপে কারণ জানার জন্যই এখানে আসা । পাশ দিয়ে একটা হকার যাচ্ছে দেখে অর্ক ডাকলো,
–‘অই পিচ্চি একটা গল্লিপ দে ।’
–‘আমার সাথে বসেও তোকে সিগারেট খেতে হবে !’ অর্কের সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারটা ও জানে । ‘সিগারেট ফেল বলতেসি ।’
–‘থাম না একটা খাই । অনেক্ষণ থেকে খাই নাই ।’
–‘যা তুই বিড়ি খা । আমার সাথে কথা বলবি না ।’
–‘আচ্ছা বাপ নে,ফেরে দিলাম । এবার বল কেন ডেকেছিস ?’
–‘মন খারাপ কেন তোর ?’
–‘এমনি রে । তিনদিন থেকে তিতলিকে দেহি না ।’
সন্ধ্যা এমনটাই ভেবেছিল । একটু খারাপ লাগলো কিন্তু তা বিন্দুমাত্র প্রকাশ করলো না ।
–‘অ…ওরে প্রপোজ করছিস না কেন ? পাখি তো উড়াল দিব !’
–‘নাহ উড়বে না । ভয় লাগে,যদি accept না করে ।’
–‘আরে বেটা করবে । জলদি কইরা ফেলা । তোর এই আজাইরা কথা শোনার টাইম নাই । চল উঠ । ক্ষিধা লাগসে ।’
–‘তোর ক্ষিধা লাগে না কখন ! চল ।’
–‘দেখ অর্ক আশে পাশে অনেক মানুষ । এখানে তোকে মারতে চাচ্ছিনা । হুহ…’
–‘আচ্ছা আপা সরি । আমার ভুল হইসে । এইবার চলেন ।’
ওরা দুজন লেকের পাশে পানসিতে গিয়ে বসলো । সন্ধ্যার মনটা একটু খারাপ । ‘অর্করে….’

——————————————-

কিছুদিন পর বিকেল বেলা ।
তিতলি প্রাইভেটে । বাড়ি যাওয়ার রাস্তায় অর্ক দাঁড়িয়ে । হাতে গন্ধহীন লাল গোলাপ । অর্কের ব্যাপারটা বন্ধু মারফত মোটামুটি জানে ।
হঠাৎ রাস্তা দিয়ে তিতলিকে আসতে দেখলো । আজ একা । আকাশি রঙের একটা জামা পড়েছে । তিতলি যখন কাছে ফুলগুলো পিছনে লুকিয়ে অর্ক ডাকলো,
–তিতলি…..

দুদিন পর । একটা গল্পের বই হাতে নিয়ে সন্ধ্যার শুয়ে আছে বিছানায় । রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা । হঠাৎ মুঠোফোনে মৃদু গুঞ্জণ । অর্ক,’শয়তানটা তাহলে মনে করলো শেষ পর্যন্ত’,
–ওই হারামি কই ছিলি দুদিন !
–দোস্তরে আসিস কেমন ?
–ভাল । ব্যাপার কি খুব ফূর্তিতে আছিস মনে হচ্ছে ।
–হে হে কাহিনী আসে তো
–কি কাহিনী ! বল না
–তিতলি…
–কি মইরা গেসে । ইয়ে…
–ওই শয়তান চুপ…
অর্ক সব খুলে বললো । কথাগুলো শুনে সন্ধ্যা আস্তে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো…তবুও প্রকাশ করলো না,
–এত কিছু ঘটে গেছে আর আমাকে এখন বলতেসিস !
–আরে সরি । মাইন্ড করিস না দোস্ত ।
–যাক বেটা তুই সফল । পার্টি কখন দিবি দোস্ত ?
–আরে হবে হবে ।
–দেখিস আমার জন্য যেন কোন সমস্যা না হয় ।
–নাহ হবে না । হাজার হলেও তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ।
–আচ্ছা থাক তাহলে । পরে কথা হবে । গুড লাক ।

ফোনটা রেখে সন্ধ্যা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো । মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল । “অর্ক তাহলে…” চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে ওর । চোখ দিয়ে পানি পড়ছে । অর্ককে সত্যি ও অনেক পছন্দ করে । ‘হাহ… কি আর করা ।’
সেলফোনটা হাতে নিয়ে রিনিকে কল করলো । রিনি জেগেই ছিল,
–কি রে কি খবর ? এত রাতে হঠাৎ !
–হুম । তুই ভালো আছিস ?
–হ্যাঁ । তুই কাঁদছিস নাকি রে ! কি হইসে ?
রিনি আর কিসু বলতে পারলো না । অঝরে কাঁদছে । ওপাশে রিনি হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে ।
–কিছু না । তুই ঘুমা । ভাল থাকিস ।
ফোনটা রেখে দিল সন্ধ্যা । কান্না করছে এখনও । কিছু ভাল লাগছে না । রাতটা যে কখন শেষ হবে ! ড্রয়ার খুলে কয়েকটা ঘুমের ওষুধ বের করলো….

—————————————

বেশ কয়েকদিন কেটে গেল । সন্ধ্যা নিজেকে মোটামুটি মানিয়ে নিয়ছে । অর্ক তিতলির জুটি চলছে ভালই । অর্কের সাথে সন্ধ্যার বন্ধুত্ব আগের মতই আছে । তবে সন্ধ্যা একটু কম কথা বলে । অর্ক তিতলির সাথে সন্ধ্যার কথা বলিয়ে দিতে চেয়েছে । কিন্তু সন্ধ্যা রাজি হয়নি । ওর ইচ্ছে নেই ।
সেদিন বিকেলে প্রাইভেট শেষে সন্ধ্যা আর রিনি একসাথে বাসায় আসছে । হঠাৎ রাস্তার ওপাশে দুটো ছেলে মেয়ের দিকে চোখ পড়লো সন্ধ্যার । অর্ক আর তিতলি । হাত ধরে হাঁটছে । ওদের দেখে সন্ধ্যা দাঁড়িয়ে পড়লো । তিতলি আরো সুন্দর হয়েছে ।
–‘কিরে দাঁড়ালি কেন ?’ রিনি ওদের দেখেনি । সন্ধ্যা যেদিকে তাকিয়ে আছে সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পেল ।
–‘ধুর চলতো তুই । ওদের কি দেখিস । ওর হয়তো তিতলিকেই পারফেক্ট মনে হয়েছে । কি আর করবি !’
–‘হুম… চল ।’
–‘দেখ মন খারাপ করিসনা রে…’

বাসায় এসে সন্ধ্যা রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে কান্নাকাটি শুরু করলো । হঠাৎ কেন যে ওদের দেখে এত খারাপ লাগলো বুঝতে পারছে না । চুপচাপ রুমেই বসে থাকলো । সন্ধ্যার ছোট বোন এসে কতবার ‘দিদি দিদি’ বলে দরজা ধাক্কালো তবুও খুললো না । রাতে খাবার টেবিলে আসছে না দেখে এবার মা এসে দরজায় নক করলো । সন্ধ্যা দরজা খুলে দিল ।
–‘কি রে মা তোর কি হয়েছে ! কখন থেকে দরজা লাগিয়ে বসে আছিস ! হায় কাঁদছিস নাকি !’
সন্ধ্যা ফোঁশ করে একটা নিশ্বাস ফেলে বললো,’কিছু না মা ।’
–‘রাতে খাবি না ?’
–না
–‘আমি খাইয়ে দিই ? ‘
–‘উহু না ।’
–‘কি হয়েছে বল আমাকে । অর্কের সাথে ঝগড়া !’
–‘না’
–‘তাহলে কি ? চোখ মুখ কেমন হয়েছে আয়নায় দেখতো একবার ।’
–‘কিছু না । তুমি যাও তো মা । কিছু ভালো লাগছে না ।’
–‘আচ্ছা যাচ্ছি । ফ্রিজে খাবার রাখছি পরে খেয়ে নিস ।’
মা যাওয়ার পর সন্ধ্যা উঠে গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিল । সন্ধ্যার মা সেলফোনটা হাতে নিলেন । রিনিকে ফোন দিবেন…

——————————-

সেদিন রাতে সন্ধ্যাকে অর্ক ফোন দিয়েছিল । কিন্তু সন্ধ্যা ধরেনি । সেলফোনটা বন্ধ করে রেখেছিল । অর্কের সাথে পরেরদিন কথা হল । স্বাভাবিক ভাবেই কথা হইলো । ওদের সেই চিরচেনা ঠাট্টা ফাজলামি । ওদিনের ব্যাপারে সন্ধ্যা কিছু বলেনি । ওর যে মন খারাপ তাও বুঝতে দেয়নি । থাক না । নিজের কষ্ট ওকে শুনিয়ে কি হবে ।
এর মধ্যে ওদের দেখাও হয়েছে । একদিন হাতিরঝিল ঘুরতেও গেল । সাথে অবশ্য রিনি ছিল । সন্ধ্যা কিছু বলেনি । ওরই তো প্রিয় বন্ধু । বন্ধু ভালো থাকুক ।
কিন্তু এদিকে অর্কও ভাল অবস্থায় নেই । তিতলির সাথে সময়গুলো ভাল যাচ্ছে না । তিতলি কেন জানি ওকে সন্দেহ করছে । সন্ধ্যাকে ও কিছু বলতেও পারছে না ।
সন্ধ্যার বাবা কিছুদিন হল দেশে এসেছে । অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন । বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকুরি । সন্ধ্যাকে এবার তিনি অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যেতে চাইলেন । তারওপর মেয়ের অবস্থা ভাল দেখলেন না । সন্ধ্যা প্রথমে রাজি হল না । ওর বাবাও অবশ্য বেশি জোর করলো না । কিন্তু পরে ও নিজেকে থেকেই যেতে চাইলো । দেশে থেকে কি করবে ! যদি অর্ক থাকত ওর সাথে তাহলে নাহয়….
প্রায় মাসখানেকের বেশি কেটে গেছে । সন্ধ্যার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত । তবে ও তখনও অর্ককে কিছু বলেনি । হঠাৎ বললে হয়তো ও মন খারাপ করবে তবু সন্ধ্যা ভেবে রেখেছে করেছে যাওয়ার ঠিক আগে বলবে । “অর্ক কি একটু কষ্ট পাবে না ! আচ্ছা ও কি আমাকে ভুলে যাবে !”-বারবার শুধু এসবই মাথায় আসছে ।
তিনদিন পর সন্ধ্যার ফ্লাইট….

———————————-

সন্ধ্যা যেদিন চলে যাবে তার আগের দিন,রাত ।
অর্ক ছাদে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছে । মন খারাপ । যা হবার তা শেষ পর্যন্ত ঘটেছে । তিতলি সাথে ছাড়াছাড়িটা শেষ পর্যন্ত হয়েই গেল । সন্ধ্যার ভাষায়,”পাখি অন্য জায়গায় বাসা বেঁধেছে ।” ব্যাপারটা ভাবতে খুব খারাপ লাগছে । ‘কিন্তু তিতলি মেয়েটা আসলেই… সন্ধ্যার কথা আগেই শোনা উচিৎ ছিল ।’ তবে এ মুহূর্ত্বে ও সেটা নিয়ে চিন্তা করছে না । ও ভাবছে সন্ধ্যাকে নিয়ে । “সন্ধ্যা না হয় আমাকে পছন্দ করে । কিন্তু আমি কি…? ও অনেক ভাল একটা মেয়ে । দেখতেও সুন্দর । শুধু সুন্দর না অনেক সুন্দর । ও কোন কিছুতেই অন্য কারো থেকে কোন অংশে কম নয় ।”
চিন্তা করলো কাল সন্ধ্যাকে তিতলির সাথে ওর ছাড়াছাড়ির ব্যাপারটা বলে দিবে । কেমন জানি একটা সংকোচ বোধ হচ্ছে । সিগারেটের আঁচ ঠোটে লাগতেই অর্ক বাস্তবে ফিরে এল । আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে শুধু সেলফোনটা পকেট থেকে বের করেছে সন্ধ্যাকে ফোন দিবে,আর তখনই ওর ফোন,
–কিরে ! কেমন আছিস ? তোর কথাই ভাবছিলাম ।
–ওহ তাই নাকি ! ভালো । আচ্ছা কাল সন্ধ্যায় তোর কোন কাছ আছে ?
–উম…নাহ । কেন ? কোথাও যাবি নাকি ?
–উহু । আমার সাথে তাহলে কাল সন্ধ্যায় এয়ারপোর্টে দেখা করতে পারবি ?
–এয়ারপোর্ট কেন !
–পারবি কিনা বল ! ছ’টায় ?
–হুম পারবো । কিন্তু ওখানে কেন ?
–ওখানেই দেখবি । কি করিস ?
–চাঁদ দেখি আর বিড়ি খাই ।
–ওহ…ভালো । ভালো করে বিড়ি খা হারামি । থাক । টা টা
–আচ্ছা বাই ।
–শুন,লেট করবি না কিন্তু । আর কেটবেবি নিয়ে আসবি….

—————————————

পরদিন,এয়ারপোর্ট ।
৬টা ৪০ এ ফ্লাইট । সন্ধ্যা রিনির সাথে একপাশে বসে আছে । চুপচাপ ।
সময় বেশি নেই । অথচ অর্ক আসছে না এখনও । এমন সময় অর্ক এল । ও ঠিক করেছে আজ সন্ধ্যকে তিতলির ব্যাপারটা বলবে ।
সন্ধ্যা দূর থেকেই অর্ককে দেখলো । একটু সামনে এগিয়ে গেল ।
–কিরে এসব কি ? কই যাচ্ছিস ?
সন্ধ্যা কাঁদছে ।
–কিরে কাঁদছিস কেন ? কোথায় যাচ্ছিস ?
সন্ধ্যা এবার কাছে গিয়ে অর্ককে জড়িয়ে ধরলো । অঝরে কাঁদছে । অর্ক কিছু বুঝতে পারছে না ।
–অর্ক আমি অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছি । বাবার সাথে ।
–মানে ! কেন যাচ্ছিস ? কবে আসবি ?
–আসবো না ।
–আমাকে আগে কিছু বলিসনি কেন ?
–“তুই ভাল থাকিস বন্ধু ।” সন্ধ্যা তখনও অর্ককে জড়িয়ে কাঁদছে । “আমি তোকে খুব ভালবাসি । ভাল থাকিস ।”
আর কিছু না বলে সন্ধ্যা ওকে ছেড়ে দৌড়ে চলে গেল । অর্ক শুধু অবাক হয়ে ওর চলে যাওয়া দেখলো । রিনি ওকে একটা চিঠি দিয়ে গেল । সন্ধ্যার লেখা ।

অর্ক চিঠিটা খুললো । খুলতেই কয়েকটা গোলাপ পাপড়ি নিচে পড়ে গেল । ও বসে সব তুলে নিল । সত্যিই মেয়েটা ওকে অনেক পছন্দ করত । চিঠিটার শেষটা ছিল এমন–
“….তিতলির সাথে তোকে দারুণ মানাবে । সত্যিই বলছি । শুন তোর বিয়েতে কিন্তু সবার আগে আমাকে বলবি । বলে দিলাম ।
আর…কি বলবো…
তোকে আমি সত্যি অন্নেক পছন্দ করতাম । কিন্তু…
হাহ…তুই ভাল থাকিস বন্ধু ।
ভালোবাসি ভালোবাসি
তোর সন্ধ্যা”

এবার অর্কের চোখেও পানি । ‘সন্ধ্যা….’ মুখ দিয়ে একটা অস্পষ্ট শব্দ বের হল ।
সময়মত সন্ধ্যার ফ্লাইট জোনাকির মত উড়ে গেল ।

চিঠিটা পকেটে রেখে অর্ক রাস্তায় বের হল । বাইরে বৃষ্টি পড়ছে বিষন্ন হয়ে । চোখের দৃষ্টি এলোমেলো । সদ্য জ্বালানো নিয়ন আলোগুলোও বিষন্নতা ছড়িয়ে কাঁপছে যেন । বৃষ্টিতে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে দৌড়াচ্ছে । আর ও হাঁটছে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ।
সেই চিরচেনা বরষায় ।

আসলে আমাদের জীবনে সন্ধ্যাগুলো খুব অল্প সময় স্থায়ী হয় । সন্ধ্যাগুলো খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায় ।

৬ thoughts on ““চিরচেনা বরষায়”

  1. গোলাম আযম আর যুদ্ধাপরাধের

    গোলাম আযম আর যুদ্ধাপরাধের যেমন বন্ধুত্ব,তেমন,

    এর চেয়ে ভালো উদাহরন আর হতে পারে না।

Leave a Reply to জলের গান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *