ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) # ১ম পর্ব – শাহ্‌ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বাণী চিরন্তনি
যেই ছেলে বা মেয়ে ভার্সিটি তে পড়াশোনা করেছে কিন্তু ভার্সিটির আবাসিক হলের ডাল খায় নি তার ক্যাম্পাস জীবন অপূর্ণই থেকে গেল, ঠিক যেমন মাঝি ছাড়া নৌকা অপূর্ণ থেকে যায় – “জনৈক ক্যাম্পাস মনীষী”

সময়টা ২০০২ সাল। সবেমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হয়েছি (৩ মাসের বেশি অবশ্য থাকিনি, মাইগ্রেশন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ চলে গিয়েছিলাম)। উঠেছিলাম হাসান কটেজে যেটা শাহ্‌ আমানত হলের পাশেই। খাওয়া-দাওয়া করতাম আমানত হলের ডাইনিং এ। সেই সময় বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল। আমাদের প্রতিদিনকার রুটিন ছিল রাতে খাবার খেয়ে দ্রুত চলে যেতাম হলের টিভিরুমে।



বাণী চিরন্তনি
যেই ছেলে বা মেয়ে ভার্সিটি তে পড়াশোনা করেছে কিন্তু ভার্সিটির আবাসিক হলের ডাল খায় নি তার ক্যাম্পাস জীবন অপূর্ণই থেকে গেল, ঠিক যেমন মাঝি ছাড়া নৌকা অপূর্ণ থেকে যায় – “জনৈক ক্যাম্পাস মনীষী”

সময়টা ২০০২ সাল। সবেমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হয়েছি (৩ মাসের বেশি অবশ্য থাকিনি, মাইগ্রেশন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ চলে গিয়েছিলাম)। উঠেছিলাম হাসান কটেজে যেটা শাহ্‌ আমানত হলের পাশেই। খাওয়া-দাওয়া করতাম আমানত হলের ডাইনিং এ। সেই সময় বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল। আমাদের প্রতিদিনকার রুটিন ছিল রাতে খাবার খেয়ে দ্রুত চলে যেতাম হলের টিভিরুমে। তা না হলে বসার জায়গা পেতাম না। যদিও বেশিরভাগ ছাত্রদেরকেই দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে হত।

যে দিনের ঘটনা লিখছি সেদিন ছিল আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের প্রথম রাউন্ডের খেলা। স্বাভাবিকভাবেই সেদিন ছিল প্রচণ্ড ভিড়। ডাইনিং এ গিয়ে কোনভাবে একটা সিট দখল করে বসলাম। হলের ডাইনিং এ যাদের খাবার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন যে একটা বড় গামলা তে করে ডাল দেওয়া হয়। আর ভার্সিটির ডালের একটা সুখ্যাতি আছে যে সেটা এমন পাতলা হয় সাধারন কেউ ধরতেই পারবে না যে ডালের মাঝে পানি দেওয়া হয়েছে নাকি পানির মাঝে ডাল দেওয়া হয়েছে। যখন আশেপাশে পানি থাকে না তখন পানির তৃষ্ণা আমাদেরকে ডাল দিয়েই মেটাতে হয়েছে।

যা বলছিলাম। আমানত হলের ডাইনিং এ একটা গামলায় থাকত ডাল আর আরেকটা গামলা থাকত যেটাতে খাবার পর আমরা হাত ধুয়ে পানিটা রেখে দিতাম, সোজা বাংলায় হাত ধোওয়া পানি। যেহেতু মশলা জাতীয় খাবার বেশি দিত তাই হাত ধোওয়ার পর সেই পানিটার রঙ হয়ে যেত হালকা হলুদ যা কিনা অতি পাতলা ডালের রঙ এর সাথে মিলে যেত।

খেলা দেখার জন্য সেদিন সবাই খুব তাড়াহুড়ো করছিল। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে খাবার শেষে হাত ধুতে গিয়ে খেয়াল করলাম ময়লা পানির গামলায় হাত না ধুয়ে আমি হাত ধুয়েছি ডালের গামলায়। জায়গায় জমে গেলাম। কারন কেউ দেখে থাকলে খবর আছে। চারপাশে আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম কেউ খেয়াল করে নি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। দ্রুত টেবিল থেকে উঠে পড়লাম। ডাইনিং রুম থেকে বের হবার আগে পেছনে তাকিয়ে দেখলাম অন্যরা সেই ডালের গামলা থেকে অবলীলায় ডাল খাচ্ছে। আমি দ্রুতগতিতে পা চালালাম টিভি রুমের উদ্দেশ্যে।

৩০ thoughts on “ভার্সিটির ডাল (ডাইল নয়) # ১ম পর্ব – শাহ্‌ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  1. মজা পাইলাম;

    যেই
    মজা পাইলাম; :হাসি: :হাসি: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    যেই ছেলে বা মেয়ে ভার্সিটি তে পড়াশোনা করেছে কিন্তু ভার্সিটির আবাসিক হলের ডাল খায় নি তার ক্যাম্পাস জীবন অপূর্ণই থেকে গেল, ঠিক যেমন মাঝি ছাড়া নৌকা অপূর্ণ থেকে যায় – “জনৈক ক্যাম্পাস মনীষী”

    হাছা কতা। :থাম্বসআপ: 😛

    1. হুম, কথা ঠিক ধরছেন আতিক ভাই
      হুম, কথা ঠিক ধরছেন আতিক ভাই :ভাবতেছি: … ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করতেছি… :ভেংচি: 😀

    2. উল্টা ঘটব কিল্লাই। আপনে আসলেও
      উল্টা ঘটব কিল্লাই। আপনে আসলেও খ্রাপ। আপনেরে ১০০টা মাইনাচ :ক্ষেপছি: :মাথাঠুকি:

      1. তবে যাই হোক ওই ডাল থেকে আপনার
        তবে যাই হোক ওই ডাল থেকে আপনার ঝুটা পানি অনেক ভাল ছিল।ডালটা রান্না করতে দেখলে আপনিও ওই ডাল মুখে দিতেন না। আমি একবার দেখেছিলাম কিভাবে নাকের শিরা আর শরীরের ঘাম মিশ্রিত হলের ডাল রান্না হয়।

          1. দাদা, আপনারা তো সব ভিতরের খবর
            দাদা, আপনারা তো সব ভিতরের খবর পাচার কইরা দিতেছেন! আপনারা তো আর হলে থাকবেন না, কিন্তু আমরা তো আর ডালই খাইতে পারুম না!! :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

          2. ব্যাপার না রে ভাই, মাঝে মাঝে
            ব্যাপার না রে ভাই, মাঝে মাঝে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য হলেও হোস্টেলের ডাল খেয়ে দেখতে পারেন। লাইফে সবকিছুই জানা থাকা দরকার।

  2. খাইছে , আইজ এই লেখা ঐ সময়ের
    খাইছে , আইজ এই লেখা ঐ সময়ের কেউ পড়লে আপনের নামে মামলা করে দিতে পারে :ভেংচি: :ভেংচি:

    হলে বেশি থাকা হয়নি । তাই অনেক মজার অভিজ্ঞতা মিস করি । তবে মাঝে মধ্যে থাকা হয় । দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো

    1. না রে ভাই, এত কাঁচা কাজ আমি
      না রে ভাই, এত কাঁচা কাজ আমি করি না। ওইটা ডালই ছিল। হাত ধোয়ার গামলা ছিল আলাদা। :ভেংচি: :চশমুদ্দিন:

  3. এরকম একটু আধটু হয়ে থাকে আরকি।
    এরকম একটু আধটু হয়ে থাকে আরকি। আপনি কারো হাত ধোঁয়া পানি খায় কেউ আবার আপনার হাত ধোঁয়া পানি খান। চিন্তা কইরেন না আপনি হাত হয়ত ধুইছেন একবার আর খায়ছেন যে কয়বার! :ভাবতেছি: :-B :চোখমারা:

  4. হা হা হা! হলে যারা থাকে তারা
    হা হা হা! হলে যারা থাকে তারা শুধু আপনার হাত ধোয়া পানি না, জেনে শুনেই অনেক কিছু খেয়ে ফেলে। হলে থেকে এতো মাইন্ড করা যায় না। এটাই নিয়ম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *