কেড়ে খাওয়া পাউরুটি

বেলা তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে, ছোট ছোট দুইটি ছেলে-মেয়ে বাড়ির পাশে পালানে সেই সকাল থেকে ডাঙ্গুলি খেলছে, ওরা পিঠাপিঠি ভাই-বোন। হঠাৎ খেলা থামিয়ে আলের দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করে, “ভাইয়া- দেখ, দেখ” বলে চিৎকার করে উঠে মেয়েটি। ছেলেটি তাকিয়ে দেখে সাদা বিড়ালটি মুখের একপাশে পাউরুটির প্যাকেটের কোণা কামড়ে ধরে চোরের মত এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে গম ক্ষেতের দিকে চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে হাতের লাঠিটাকে উঁচিয়ে ধরে তারা বিড়ালটির পিছনে লাগালো এক ছুট। ছোটার মাঝেই মাটির ডেলা দিয়ে বিড়ালটির দিকে ঢিলও ছুড়তে শুরু করল।


বেলা তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে, ছোট ছোট দুইটি ছেলে-মেয়ে বাড়ির পাশে পালানে সেই সকাল থেকে ডাঙ্গুলি খেলছে, ওরা পিঠাপিঠি ভাই-বোন। হঠাৎ খেলা থামিয়ে আলের দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করে, “ভাইয়া- দেখ, দেখ” বলে চিৎকার করে উঠে মেয়েটি। ছেলেটি তাকিয়ে দেখে সাদা বিড়ালটি মুখের একপাশে পাউরুটির প্যাকেটের কোণা কামড়ে ধরে চোরের মত এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে গম ক্ষেতের দিকে চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে হাতের লাঠিটাকে উঁচিয়ে ধরে তারা বিড়ালটির পিছনে লাগালো এক ছুট। ছোটার মাঝেই মাটির ডেলা দিয়ে বিড়ালটির দিকে ঢিলও ছুড়তে শুরু করল।

বিড়ালটি সহজেই বুঝে ফেলল, মুখে ধরা পাউরুটির জন্যই সে এই অযাচিত আক্রমনের শিকার, তাই প্রাণে বাঁচতে মুখের খাবার তৎক্ষণাৎ ফেলে দিয়ে সে এক দৌড়ে গম ক্ষেতের ভেতর ঢুকে গেল। জয়ের আনন্দে উল্লসিত ছেলে-মেয়ে দুটি পাড়াপাড়ি, কাড়াকাড়ি, হুড়োহুড়ি করতে করতে অবশেষে পাউরুটি শেষ করল। খাওয়ার দিকে যতটুকু না নজর তাদের ছিল তার চেয়ে বেশী ছিল অধিকার করার দিকে। যার ফলে খুব বেশী একটা খেতে পারল না, বেশীর ভাগটুকুই টুকরো টুকরো হয়ে মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল।
আবার তারা নতুন উদ্যমে খেলাধুলায় মনযোগ দেয়। খেলতে খেলতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে তারা উভয়ে ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত হয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়। মা তাদেরকে দেখার সাথে সাথেই মা ক্ষেপে উঠে বললঃ “এতক্ষন ছিলি কোথায়? নাওয়া নেই খাওয়া নেই, সারাদিন শুধু টো টো করে ঘুরে বেড়ানো।” তারা উভয়ে সমস্বরে বলে উঠল, “খেতেই তো এলাম।” উঠান ঝাড় দিতে থাকা মা একটু নরম হয়েঃ “তোদের ভাত কুকুরে খেয়ে গেছে, তাকের উপর পাউরুটি রাখা আছে, তাই খেয়ে নে, রাতের আগে আর খেতে পাবি না।” ছেলে-মেয়ে দুটি একদৌড়ে ঘরে এসে দেখে সেলফের উপর পাউরুটি নেই, সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও পাউরুটির সন্ধান পেল না।

মেয়েটির মনে হতে থাকে, তাদের জন্য রেখে দেওয়া পাউরুটি সম্ভবত তারা বেশ আগেই বিড়ালের মুখ থেকে কেড়ে নিয়ে মনের আনন্দে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খেয়ে নিয়েছে। ছেলেটির মনেও একই সন্দেহ ঘনীভূত হয়ে উঠে। এখন তারা ক্ষুধায় কাতরাচ্ছে। মায়ের মেজাজও গরম!

এখনও ঢের দেরী, রাতের আগে তারা আর কিছুই খেতে পাবেনা।

৮ thoughts on “কেড়ে খাওয়া পাউরুটি

  1. মেহেদী ভাই, গল্পটা বেশ ভাল
    মেহেদী ভাই, গল্পটা বেশ ভাল লাগল; :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    এবং একটা অন্তর্নিহিত বার্তাও আছে বলে মনে হল।

  2. ধন্যবাদ- ফাউস্ট। হ্যাঁ একটি
    ধন্যবাদ- ফাউস্ট। হ্যাঁ একটি অন্তর্নিহিত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিল, কতটা সফল হয়েছি বলতে পারব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *