প্রবাসের প্রবাসী

২০০৬ সাল। তখন সিডনী অস্ট্রেলিয়াতে থাকি। কলেজ জীবনে শুরু করা প্রেমখানা তখন বেশ কয়েক মহাসাগর পেরিয়ে “লং-ডিসট্যান্ট” প্রেমে পরিনত হয়েছে। সেসময় মোবাইল দুস্প্রাপ্য না হলেও সবার হাতে হাতে যে ছিল তাও না। তবে ডিজুস জেনারেশনের কর্নধার হওয়াতে ও বস্তু ছিল আমাদের দুজনেরই! সমস্যা হলো আমি প্রবাসী হবার পর। ভীন দেশ থেকে মোবাইলে কল করা বিরাট খরচ। বাসায় যে ল্যান্ড ফোন নেব, তাতেও বেশ খরচ! বাসা থেকে কিছু দুরে একটা টেলিফোন বুথ ছিল। কত কত মাস গিয়েছে সেই বুথ থেকে দেশে ফোন করতে হয়েছে! প্রেমের বিরহ তো আর ৫ মিনিটে কাটে না! ঘন্টার পর ঘন্টা সেই বুথ থেকে কল দিতাম! মাঝে মধ্যে আমি রুমমেটের ফোনে মিসকল দিতাম, কারন এবার আমার পালা বা ও দিতো আমাকে! ডিসেম্বরের ক্ষর দাবদাহে গরম থেকে বাঁচার জন্য বুথের দরজা খুলে কথা বলতাম। আবার মে-জুনের প্রচন্ড শীতে গ্লাভস, গরম কাপড় পরে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে কথা বলেছি! প্রবাসী ছাত্রকালীন সময়ের সে কত কত স্মৃতি! বেশীরভাগই তা সুখের নয়! প্রবাসী ছাত্রদের আনন্দের, সুখের স্মৃতি খুব কম! বেশিরভাগেরই সুখের স্মৃতি বলতে কোনও রকম পাওয়া একটি ছুটির দিনে কয়েকঘন্টা বেশী ঘুম, তারপর বন্ধুবান্ধব বাসায় ডেকে দেশী খাবার রান্না করে খাওয়া!
ডলার কামানোর নামে ক্লাস শেষ করে, তারপর কাজ করে, ১৬-১৭ ঘন্টা পর বাসায় ফিরে, মুখে দুমুঠো দিয়ে বিছানাকে মনে হয় স্বর্গ! নিজের জন্যে বরাদ্দ সেই সময়ের মাঝে প্রিয়জনের মুখের শব্দ কানে বাজে মধুর ঝংকার হয়ে। টিভিতে দেশাত্মবোধক গান শুনে কি এক যাতনায় চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে দুফোটা জল। আরব কিম্বা আফ্রিকা বা মালয়েশিয়ার মত দেশে শুনেছি আরও করুন অবস্থা! ছাত্র-শ্রমিকদের অশ্রু-ঘাম-রক্তে ভেজা টাকায় বাংলাদেশের যে কত কত উপকার হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। কিন্তু সেই দেশে যখন ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার লোভ দেখিয়ে ভাঙ্গচুর, হরতাল, খুন করা হয় তখন সেইসব ছাত্র-শ্রমিকের যে কি ভয়াবহ কষ্ট লাগে তা হয়তো বুঝবেন না কেউ। প্রতি মুহুর্ত কাটে শংকায়, আর হতাশা ক্রমাগত বেড়ে চলে দিগুন মাত্রায়।
বাঙালি, আর কতকাল অন্ধ হয়ে থাকবে তোমরা? এইসমস্ত দাড়িটুপিওয়ালা জানোয়ার যে তোমাদের শান্তির নামে শুষে খাচ্ছে তা কি বুঝোনা? শান্তির নামে হাজারো কোরআন পুড়িয়ে দিলেও তোমাদের মনে আঘাত লাগে না, অথচ পাকিস্তানের কোন শিশু একটা আরবি হরফ লেখা কাগজ পুড়িয়ে দিলো, তাতেও তোমাদের বুক ফেঁটে যায় ক্রোধে?
এদেশে কি ইসলাম ধ্বংস হয়ে গেছে যে হেফাজতের জন্য একদল সন্ত্রাসী তোমাদের লাগবেই লাগবে?
জাতির পতাকা না শুধু, হৃৎপিন্ড আজ খামচে ধরেছে শকুনের দল। এই শকুনের দলের সাইজ তোমাদের, আমাদেরই করতে হবে।
কষ্ট লাগে যখন দেখি শুয়োরের বাচ্চা গু-আযম এসির বাতাস খায় বয়সের অযুহাতে, আর সেক্টর কমান্ডার মৃত্যুবরন করেন চিকিৎসার অভাবে! থু দেব? জাতির সন্তান হিসেবে সে তো আমার গায়েই পড়বে!

২ thoughts on “প্রবাসের প্রবাসী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *