প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ

শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের শহীদ বস্নগার রাজিব হায়দারকে মুরতাদ আখ্যাদানকারী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচার করে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। আজ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার, ডাঃ সৈয়দ শাফিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা জামায়াতের ঘাতকদের হাতে নিহত বস্নগার রাজিব হায়দারকে ‘মুরতাদ’ আখ্যায়িত করে বিচারপতিদের মাঝে তার বক্তব্য বিতরণ করেছেন। (আমাদের সময়, ১৯ ফেব্রম্নয়ারি ২০১৩)।

‘সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির এ হেন অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড শুধু উচ্চতর আদালতের বিচারপতিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেনি, একই সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের মহাজাগরণের নায়কদের বিরম্নদ্ধে ‘৭১-এর ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বিষোদগারের অন্ত্মর্গত। এই চরম নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড আমাদের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এই বিচারপতি জামায়াতের একজন গভীর অনুরাগী ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পরিচিত।

‘শান্তির ধর্ম ইসলামকে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদি যে সব বই লিখে হত্যা ও সন্ত্রাসের ধর্মে পরিণত করতে চেয়েছেন তার একটি হচ্ছে ‘মুরতাদের সাজা’। শহীদজননী জাহানারা ইমাম যখন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের জন্য গণআদালতের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তখন জামায়াত তাঁকে সহ কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, কর্ণেল (অবঃ) কাজী নূরউজ্জামান প্রমুখ বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মুরতাদ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের বিভিন্ন ব্লগ ও প্রচার মাধ্যমে শাহবাগের চলমান মহাসমাবেশের নায়কদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করে তাদের ইসলামবিরোধী ও মুরতাদ আখ্যা দিয়ে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করছে। এমনকি হত্যার পরও তাদের রেহাই দিচ্ছে না, যার প্রমাণ জামায়াতপ্রেমী বিচারপতি মিজানুরের বিবৃতি।

আমরা সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে জামায়াতি বিচারপতি মিজানুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী এবং উচ্চতর আদালতের মর্যাদা হানিকর কদর্য কর্মকাণ্ডের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে শাস্ত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় জামায়াতিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উৎসাহিত হবে এবং সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ম্লান হবে।

১ thought on “প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *