আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে. . .

আগামাসি লেনের ছোট্ট একটা বাসায় থাকে আহসান ।

পুরোনো বাড়ি । দেয়ালে মাকড়সার ঝুল । প্লাস্টার খসে পড়েছে কোথাও । কাঁচা হাতে জনৈক হাশমত নিজের নাম লিখেছে দেয়ালে । হাশমতের ম হয়ে গেছে স । হাশসত ।

তিন বছর অনেক দীর্ঘ সময় । তিনটা বছর ধরে এই পুরোনো ঘরের বাসিন্দা সে । একটা মসজিদের সাথে লাগানো দেয়ালের ঘর । স্যাতস্যাতে গন্ধটা তিন বছর ধরেই পাচ্ছে সে । তিন বছরে হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই । তিনবছর অনেক দীর্ঘ সময় ।

একটা হোটেলে কাজ করে আহসান । হোটেল ম্যানেজার ডাকে আছান । ইচ্ছা হয় তাকে বলে , ‘দেখুন আপনার নাম ছামছু হতে পারে , আমার নাম আছান না । আহসান ।’ বলা হয়ে ওঠে না কেনো জানি ।


আগামাসি লেনের ছোট্ট একটা বাসায় থাকে আহসান ।

পুরোনো বাড়ি । দেয়ালে মাকড়সার ঝুল । প্লাস্টার খসে পড়েছে কোথাও । কাঁচা হাতে জনৈক হাশমত নিজের নাম লিখেছে দেয়ালে । হাশমতের ম হয়ে গেছে স । হাশসত ।

তিন বছর অনেক দীর্ঘ সময় । তিনটা বছর ধরে এই পুরোনো ঘরের বাসিন্দা সে । একটা মসজিদের সাথে লাগানো দেয়ালের ঘর । স্যাতস্যাতে গন্ধটা তিন বছর ধরেই পাচ্ছে সে । তিন বছরে হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই । তিনবছর অনেক দীর্ঘ সময় ।

একটা হোটেলে কাজ করে আহসান । হোটেল ম্যানেজার ডাকে আছান । ইচ্ছা হয় তাকে বলে , ‘দেখুন আপনার নাম ছামছু হতে পারে , আমার নাম আছান না । আহসান ।’ বলা হয়ে ওঠে না কেনো জানি ।

তিন বছর ধরে পলাতক আহসান । সবাই জানে সে ইন্ডিয়া চলে গেছে । অবশ্য জামালপুরের মতো ছোট্ট শহর থেকে কেউ তাকে খুজতে আসবে না । তাদের কাছে যা ইন্ডিয়া তাই আগামাসি লেন ।

তিন বছরে বদলে গেছে অনেক কিছুই । ছোট বোনটার বিয়ে হয়ে গেছে । বড় মামা হঠাত্‍ মারা গেছে স্ট্রোক করে । মারা গেছে আনোয়ারও । রোড একসিডেন্ট এ । মারা যাওয়ার আগে নাকি সে বলেছে ‘আহসান কই ? আমায় বন্ধু আহসান ?’

টাকাটা খুব দরকার ছিলো তার । বোনটার ফর্ম ফিলআপের টাকা । মালেক মিয়ার কাজটা তাই হাতে নিয়েছিলো ।
মালেক মিয়া কথা রাখেন নাই । বোনটা একটা শব্দও করলো না ।

জোবায়ের নামের ছেলেটা খুব সমস্যা করছিলো মালেক মিয়ার । জায়গা জমি নিয়ে গ্যান্জাম । মালেক মিয়া ক্ষমতাবান মানুষ । তিনবারের চেয়ারম্যান । তার বাপ পাকিস্তান আমলে চেয়ারম্যান ছিলো ।
পুলিশ দিয়ে ঝামেলা মিটাইতে চাইছিলো । টাকাও দিতে চাইছিলো ছেলেটাকে । জোবায়ের মানলো না । উল্টো কোর্টে সবার সামনে অপমান করলো । মালেক সাহেব আর তার স্বর্গীয় পিতা অপমানে লাল হয়ে গেলো ।

সেদিন রাতেই পিলু ভাই ডেকে পাঠালো আহসানকে । মালেক মিয়া নিজে তার হাত ধরে বললো , এই কামটা কইরা দে । তোর ট্যাকার অবাব অইবো না ।

টাকাটা খুব দরকার ছিলো তার । রাজী হয়ে গেলো তাই । কথা ছিলো জোবায়েরকে এমনভাবে মারবে যেনো আর কখনো দাড়াতে না পারে । ভেঙ্গে দিতে হবে দুটো পা । যার বাপ পাকিস্থান আমলের চেয়ারম্যান এত সহজে কেউ তারে টেক্কা দিতে পারবে না ।

এক সন্ধ্যায় সরদার বাড়ির পাশের গলিতে জোবায়েরকে পাওয়া গেলো । পা দুইটা কেউ থেতলে দিয়েছে । ঢাকায় আনতে আনতে মরে গেলো । ভোর হওয়ার আগেই আহসানকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ ।

জামিনে বের করে মালেক মিয়া তাকে ঢাকা পাঠিয়ে দিলো । তিনটা বছর পালিয়ে পালিয়ে । মায়ের মুখটা একটা বার দেখতে পারলো না । আদরের বোনটাকে বিদায় দিতে পারলো না ।

মাঝে মাঝে জোবায়েরকে স্বপ্নে দেখে আহসান । সেই ভয়াবহ চিতকার শুনতে পায় ।
আমারে মাইরো না । দুই বছরের একটা বাচ্চা আছে আমার . . .
হোহো করে হেসে উঠেছিলো পিলু ভাই । তারপর চাপাতির এক কোপে বাম পা টা আলগা হয়ে গিয়েছিলো । আহসান শুধু তাকে চেপে ধরে ছিলো । অন্য পায়ের গোড়ালিতেও কোপ দিলো পিলু ভাই ।

খুব একটা সুযোগ হয় না ঘুমানোর । ঢাকা শহর যখন ঘুমিয়ে পরে , নাজিরাবাজার , আগামাসি লেন , আগাসাদেক লেন তখন জেগে ওঠে । সারারাত কাজ করতে হয় । রাতে ঘুমুতে পারে খুব কম । ভয়ানক দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় ।
কেটে ফেলা দুই পা নিয়ে জোবায়ের নিস্তেজ হয়ে যখন পরে আছে , আহসান ভেবেছিলো কাজ বুঝি শেষ । মালেক মিয়া গাড়িতেই বসে ছিলো । তারপর জোবায়েরের কাটা পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো । থেতলানো পা নিয়ে জোবায়ের টু শব্দটা করতে পারলো না ।

মাস ছয়েক আগে পিলু ভাইকে কারা যেনো জবাই করে বগা দের পুকুরে ফেলে রেখে গেছে । আহসান জানে সবই । পিলু ভাই লোক ভালো ছিলো । বউটাকে কি ভালোটাই না বাসতো । শিউলি ভাবী আর পিলু ভাইয়ের প্রেম দেখলে হিংসেই হতো খুব ।

‘দুটো নান আর হাফ গ্রিল ।’
জ্বি স্যার বলে লোকটার দিকে তাকিয়েই চমকে উঠেছিলো আহসান । অবিকল পিলু ভাই ।
‘স্যার কিছু মনে করবেন না । আপনার কি কোনো যমজ ভাই আছে ? পিলু নাম ?’ ইচ্ছে হলেও বলতে পারেনি । সবকিছু বলা যায় না ।

শেষরাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙ্গেই প্রচন্ড পিপাসা পায় মালেক মিয়ার । ফ্যান বন্ধ । অথচ ফ্যান বন্ধ থাকার কথা না । ফ্যান বন্ধ থাকলে সে ঘুমুতে পারে না । প্রেসার ওঠা নামা করে । সামনে নির্বাচন । শরীর ঠিক রাখা দরকার ।

ফ্যানটা ছাইড়া দে পিলু
কথাটা বলে নিজেই চমকে উঠলো সে । পিলু নাই ছয় মাস হয় । অথচ আগে পিলু সবসময় থাকতো তার ঘরের বাইরে । এমনকি ছোটবৌটাকে যেদিন নিয়ে আসলো ঘরে , সেদিনও পিলু ছিলো ঘরের দরজায় । কুকুর বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে , পিলু পারে না ।

নাহ । কথাটা একসময় খুব গর্ব করে বলতো মালেক মিয়া । যেদিন পিলুকে ছোটবৌয়ের বিছানায় দেখে ফেললো , সেদিন থেকে আর বলে না । তার বাবা একটা কথা বলতো , দুধ আর খুবসুরত আওরাত , গরম না রাখলে নষ্ট হবেই ।

আজকে মনে হয় আর ঘুম হবে না । ভোরের আলো দেখা যায় । দশবছর পর মালেক মিয়া ফজরের নামাজ পরলেন । নামাজ শেষে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করলেন ।
মালেক মিয়ার শীত শীত লাগছে । তিনি জায়নামাজ ছেড়ে উঠলেন না ।

মালেক মিয়ার মাথাটা তিনদিন পরে রেললাইনের উপর পাওয়া যায় । তার শরীরটা কখনো পাওয়া যায় নি ।

৬ thoughts on “আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে. . .

  1. আইব্বাস খুনাখুনির মহরা
    আইব্বাস খুনাখুনির মহরা লাগাইছেন দেখি। আপনার আগের নিকের সাথে ভালো ম্যাচ করছে এই গল্পটা। :ভেংচি:

  2. গল্পে একটি জিনিসকে ফুটিয়ে
    গল্পে একটি জিনিসকে ফুটিয়ে তুলতে আপনার বর্ননার ঢঙটা অসাধারণ লেগেছে। :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি:

  3. মর শালারা। বদমাইশি করলে এমনই
    মর শালারা। বদমাইশি করলে এমনই হবে। লেখা, থুক্কু,সত্য ঘটনার লিখিত রূপ খুবই ভালো লাগলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *