গার্মেন্টস শ্রমিকের ৮০০০৳


গত অনেকদিন যাবত গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল। সরকার আর মালিকপক্ষের সাথে। শ্রমিকরা কী চাচ্ছে যতটা সম্ভব আমলে নেয়াই হয়নি। সরকার তো দুরের কথা চায়ের কাপে বাল ফালানো জনগনের কাছেও শ্রমিকদের দাবি ৮০০০ টাকা খুব একটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সরকার যখন মালিকপক্ষের ৪৫০০ থেকে মাত্র ৭০০ টাকা বাড়ানোর জন্য দর কষাকষির নাটক করছিল তখন জনগনও নিজেদের মত করে একটা গ্রহনযোগ্য বেতনের পরিমান নির্ধারণ করছিলো। যা ৬০০০-৬৫০০ এর বেশী না।


গত অনেকদিন যাবত গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল। সরকার আর মালিকপক্ষের সাথে। শ্রমিকরা কী চাচ্ছে যতটা সম্ভব আমলে নেয়াই হয়নি। সরকার তো দুরের কথা চায়ের কাপে বাল ফালানো জনগনের কাছেও শ্রমিকদের দাবি ৮০০০ টাকা খুব একটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সরকার যখন মালিকপক্ষের ৪৫০০ থেকে মাত্র ৭০০ টাকা বাড়ানোর জন্য দর কষাকষির নাটক করছিল তখন জনগনও নিজেদের মত করে একটা গ্রহনযোগ্য বেতনের পরিমান নির্ধারণ করছিলো। যা ৬০০০-৬৫০০ এর বেশী না।
জনগন সরকার কিংবা মালিকপক্ষের কথাবার্তার বারবার ঘুরেফিরে যে কথাগুলি উঠেছে
#১ আমি মাস্টার্স করে বের হয়ে বেতন পাচ্ছি ৯০০০টাকা আর ফকিন্নির জাত গারমেন্টস শ্রমিকরা পাবে ৮০০০টাকা??
#২ আপনারা অভারটাইমের হিসেবটাতো দিচ্ছেন না, অভারটাইম হিসেব করলে এই বেতন অনেকখানি বেড়ে যাবে।
#৩ হুট করে বেতন এত বাড়ালে আমরা বায়ার হারাবো , গার্মেন্টস খাত পথে বসে যাবে। এতে গার্মেন্টস শ্রমীকদেরও মঙ্গল, তারাও পথে বসে যাবে না হলে।

৩# এর জবাবে বলতে হছসে গার্মেন্টস খাতকে পথে বসানোর জন্য আর কিছুই লাগবেনা এখন পর্যন্ত সস্তা জনশক্তিকে পুজি করে গার্মেন্টস খাতকে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এক্সপেনশন করা হয়েছে সেটাই যথেষ্ট। কোন কিছু শক্ত ভিতের উপর না দাড়ালে বেশিদিন টিকবেনা সেটাই স্বাভাবিক। প্রচণ্ড অনিয়ম এবং অমানবিক পরিস্থিতি দিয়েই বিকশিত হয়েছে আমাদের গার্মেন্টস খাত। এখানে নাই জীবনের নিরাপত্তা শ্রমিকদের জন্য সাক্ষাত মৃত্যুকূপ এটি। অন্তত ৩সহস্রাধিক মৃত্যু ঘটেছে এখানে। অত্যন্ত অমানবিক বেতন তাদের। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের মাথাপিছু আয়(পারিবারিক আয় নয়। পারিবারিক আয় আরো বেশী) ৪০০$ থেকে ১০০০$ হয়েছে তাদের জন্য আমরা নির্ধারণ করি ৫৩০০৳ অর্থাৎ বাৎসরিক ৭৯০$ যা তাদের পারিবারিক আয় মাথাপিছু দাঁড়ায় 200$ । দেশের সবচে ব্যয়বহুল জায়গা ঢাকায় থেকে কীভাবে তারা এই আয়ে চলবে?! তাও যদি এই টাকাটাও ঠিকমত পেত তারা।
আন্তর্জাতিকভাবে তাই আমাদের গার্মেন্টস খাতের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে । দিগুনের চেয়েও বেশী খরচ দিয়ে হলেও অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে বায়াররা। কারণ শেষমেশ পন্যের মূল্যে শ্রমীকের মজুরীর হার খুবই সামান্য এটা তিন চার গুন করলেও পন্যের মূল্য খুব ১% ও বাড়বে না!!
তাই সময় থাকতে পথে আসুন। শ্রমিকদের ন্যুনতম সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে এতদিন ধরে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় খাতটি ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করুন। গার্মেন্টস শ্রমীকদের বলির পাঠা বানিয়ে নিজেদের মুনাফা বাড়ায়ে বেশিদিন আর চলতে পারবেননা । তাদের এই ঠ্যাকাও পড়েনি যে আধপেটা থেকে অমানবিক কষ্ট করে আপনাদের পকেট ফোলাতে শুন্য হাতে মরবার। রক্তের দাগ এখনও শুকায় নাই।

২# “আপনারা অভারটাইমের হিসেবটাতো দিচ্ছেন না, অভারটাইম হিসেব করলে এই বেতন বেশখানিকটা বেড়ে যাবে।”–এর অর্থ হচ্ছে জীবনধারণযোগ্য আয় করতে হলে একজন শ্রমিককে অভারটাইম করতেই হবে। বেতন কাঠামো এমনভাবেই করা হয় যেন শ্রমিকরা ওভারটাইম করতে বাধ্য হয় বেঁচে থাকার তাগিদে। এটা খুবই অগ্রহণযোগ্য একটা ব্যাপার। কারণ মহান মে দিবসের পেছনের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই দৈনিক ৮ঘন্টার বেশী কাজ করতে একজন শ্রমিককে কোনভাবে বাধ্য করা যাবেনা। সে যেন তার এই আট ঘন্টায় ন্যায্য মজুরিটা পায়। এর বেশী অভারটাইম সম্পূর্ণ তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার, পেটের দায় যেন না হয়।
অর্থাৎ এটা একটা সেটেল্ড ইস্যূ। মজুরী নির্ধারণে ওভারটাইম ঊল্যেখকরা মে দিবসের চেতনার পরিপন্থী আর তা করে আমরা প্রমান করেছি গার্মেন্টস শ্রমীকদের ন্যায্য কাজের পরিবেশ দিতে আমরা ১১৭ বছর পিছিয়ে আছি , অন্তত।

১# “আমি মাস্টার্স করে বের হয়ে বেতন পাচ্ছি ৯০০০টাকা আর ফকিন্নির জাত গারমেন্টস শ্রমিকরা পাবে ৮০০০টাকা?? “–
অর্থাৎ আপনি নিজে ঠকছেন তাই আরেকজনকে তার নিজের অধিকারের জন্য লড়তে দিবেননা?? কেন বুঝতে পারছেন না গার্মেন্টস শ্রমীকের ৮০০০টাকা শুধু তাদের একার আন্দোলন নয় শুধু তাদের একার দায় নয় এর সুফলভোগী হব আমরা সবাই।
আজ থেকে ৮-১০বছর আগে মাস্টার্স করে কেও শুরুর বেতন পেত ৭০০০৳ আর এখন পাচ্ছে ৯০০০৳ কিন্তু তখন একজন রিকশাওয়ালা এক বেলা রিকশা চালিয়ে ১০০৳ পেলেও এখন পাচ্ছে ২০০-৩০০৳ কিংবা আপনার বাশার কাজের বুয়াটি তখন ৫০০টাকায় ৩-৪টী কাজ করলেও এখন সেই টাকায় একটি কাজও করছে না। কারণ কী??
কারণ গত ৮-১০বছরে আমাদের দেশ সহ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আকারে মূল্যস্ফিতি ঘটেছে। প্রতিটী পন্যমুল্য সেবামূল্যই অন্তত দিগুন হয়েছে। সৌভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রবৃদ্ধি এই মূল্যস্ফীতিকে হার মানিয়েছে। তাই যে সকল আয়ে শ্রমীক ও মালিকের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ এবং এর পেছনে বিরাট কোন লোপাটসংঘ(i.e BGMEA) নেই সেসব ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে ন্যাজ্যভাবে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন রিকশা ভাড়া , বুয়ার বেতন, মুদি দোকানীর আয় সেই সাথে গার্মেন্টস মালিকদের আয়। কিন্তু যারা আমরা বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, কলকারখানায় চাকরি করছি সে হোক প্রান্তিক শ্রমীক কিংবা প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী , আমরা সবাই মালিক শ্রেনীর লালসার শিকার হছসি। স্নাতকদের কম কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা স্নাতকদের স্বল্পমূল্যের বেতনে কাজ করতে বাধ্য করছে, এই ভাবনা মাথায় ঢুকিয়ে যে স্টার্টিঙে কম পেলে কী হয়েছে আসতে আসতে বাড়বে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সবচে যোগ্য ব্যক্তিও একবছরের মাথায় ২০হাজার ছাড়াতে পারছেনা। আর ভদ্র স্বভাবের স্নাতকরা যখন এই কম মজুরিতে শ্রম দিচ্ছেণ তারা তাদের নিচের কর্মচারীদের ভাত মারছেন। কারণ উপরের বেতন কম হবার সুযোগে নিচের কর্মচারীদের বেতনও কমিয়ে দিচ্ছে মালিক শ্রেণী। আর গার্মেন্টস শ্রমিকরা তো থাকে ফুডচেইনের সবচে নিচের তলায়। কিন্তু এর সমাধান কী??
সমাধান হল নিচের তলায় বেতন বৃদ্ধি করার। ভিত যত বড় ও শক্ত হবে উপরে তত ভাল স্থাপনা তোলা যাবে। যখন একজন প্রান্তিক গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন বাড়বে ৮০০০৳ হবে তখন ধাপে ধাপে উপরের কর্মচারীদের বেতন বেড়ে একজন স্নাতক ফ্রেশারের বেতনও বেড়ে অন্তত ১৬০০০-২০০০০৳ হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই প্রান্তিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত সকলেরই ন্যায্য বেতন নিশ্চিত হবে। কারণ ভীত সেখানে শক্ত। কিন্তু একটা সময় যখন আপনি নিজে প্রান্তিকের বেতনে ভাগ বসাবেন অর্থাৎ ভীতের রড সিমেন্ট দিয়ে স্থাপনা বড়ো করতে যাবেন আপনার স্থাপনা আজ হোক কাল হোক কল্যাপ্স করবেই।
এই বাংলাদেশের রাস্তার বেশীরভাগ অংশটা জুড়ে প্রাইভেট কার থাকলেও সেগুলোয় থাকে মাত্র এক দশমাংশেরও অনেক কম। সময় এসেছে এই সিনারিওতে সামঞ্জস্য আনার। তাদের এই আন্দোলন শুধু তাদের একার না। তারা জয়ী হলে আপনিও লাভবান হবেন তা যে শ্রেনীভুক্তই হন না কেন আপনি। তাহলে কেন সেই আধপেটা মানুশগুলি শুধু প্রাণ দিবে আপনার জন্য?? রুখে দাঁড়ান নিজ নিজ অবস্থান থেকে।

৪ thoughts on “গার্মেন্টস শ্রমিকের ৮০০০৳

  1. ভাবছি গার্মেন্টসে চাকরি নিমু
    ভাবছি গার্মেন্টসে চাকরি নিমু ।বেতন যাই হোক ভামদের ফালতু আন্দুলনে যোগ দিয়া এক্সট্রা কিছু কামামু!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *