মেডিকেল নিয়ে সাধারণ মানুষের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর !!!!!!!!!!!!!!

আমার এক বন্ধুকে নিয়ে আমাদের মেডিকেলের আউট ডোরের এক স্যার এর কাছে গেলাম । যেহেতু সরকারি মেডিকেল এর সাথে পিক আওয়ার অনেক রুগী গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে । হাতে ভালো সময় আছে এই ভেবে কিছুক্ষন বসে থেকে ফ্রী তে একটু স্যার কে দেখাবো । এই ভেবে এক জায়গাতে তিন জন বসলাম । কিছুক্ষন পরে আমাদের কাছে এক আন্টি আসলেন , খুব সুন্দর করে বললেন ” বাবা , তোমাদের সাথে একটু কথা বলি ?? ” আমি নিজেই তখন জায়গা ছেড়ে উনাকে বসতে বলে বললাম, “জি বলেন ”


আমার এক বন্ধুকে নিয়ে আমাদের মেডিকেলের আউট ডোরের এক স্যার এর কাছে গেলাম । যেহেতু সরকারি মেডিকেল এর সাথে পিক আওয়ার অনেক রুগী গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে । হাতে ভালো সময় আছে এই ভেবে কিছুক্ষন বসে থেকে ফ্রী তে একটু স্যার কে দেখাবো । এই ভেবে এক জায়গাতে তিন জন বসলাম । কিছুক্ষন পরে আমাদের কাছে এক আন্টি আসলেন , খুব সুন্দর করে বললেন ” বাবা , তোমাদের সাথে একটু কথা বলি ?? ” আমি নিজেই তখন জায়গা ছেড়ে উনাকে বসতে বলে বললাম, “জি বলেন ”

আন্টি নিজের পরিচয় শেষ করে , আর সবার মত যেটা আমাদের ( মেডিকেল স্টুডেন্ট ) সবার কাছে এখন খুব পরিচিত সেই ইতিহাস আর অভিযোগ করতে থাকলেন । আন্টির কথা গুলোকে প্রশ্ন আকারে ধরলে যেমন ভাবে আমারা তার উত্তর দিই তা কিছুটা এমন …………

১। উনার ছেলে ও মেয়ে ২জন ই এবার HSC দিবে উনি চান ওদের একজন যাতে মেডিকেলে পড়ে । দরকার হলে উনি প্রাইভেট হোক , টাকা পয়সা কোন ব্যপার না তার কাছে !!!!!

এর উত্তর দেয় #যাবির #আব্দুর

আন্টি কেউ যদি নিজে থেকে পড়তে না চায় তাহলে না দেয়াই ভালো । কারন মেডিকেলে অনেক পড়া , তাই নিজে থেকে যারা আগ্রহী না তারা এখানে এসে তাল মিলাতে পারে না । কারন এখানে অনেক পড়াশুনা আর সেটা সারাজীবন ধরেই । এখানে সে নিজের ইচ্ছা তে নাহ আসলে ২ দিন পরই তার জীবন অসহ্য হয়ে যাবে । তখন সে নিজের ভিতরে এক অসহ্য মানুষিক কষ্টে পড়বে । তাই যারা নিজের ইচ্ছাতে এ পেশাতে আসতে আগ্রহী তাদেরই আশা উচিত , না হলে না আসাই শ্রেয় ।

২। এরপর উনি সরাসরি ই বলল ” না বাবা , কি আর বলি ??? তোমাদের বলছি না তবে আজ কাল ডাক্তার রা সবই তো কশাই । হাজারটা টেস্ট করতে দেয় কমিশনের জন্য ”

কথাটা শুনে মেজাজ যে খারাপ হয়নি তা বলবো না । তখন আমিই শুরু করলাম আন্টি আপনার ধারনা ভুল । আমরা এখন ওয়ার্ড করি দেখা যায় বেশির ভাগ সময়ে রুগীকে ২ টার বেশি টেস্ট দেয়া হয় না । আর সরকারি মেডিকেলে অনেক টেস্ট করা হয় । আর স্বভাবতই টা শুধুই নাম মাত্র মূল্যে । আর আমরা যদি বুঝি রুগীর আর্থিক অবস্থা আসলেই অনেক খারাপ তাহলে আমরা ফ্রি তে করানোর ব্যবস্থা করে দিয় । আর আমরা সবাই কথায় কথায় বাইরের দেশের উদাহরন দিই । আমার নিজের ভাই কিছু দিন আগে ইন্ডিয়া থেকে ডাক্তার দেখিয়েছেন । উনি যাবার পর উনাকে প্রথম ৩২ টা টেস্ট করতে দেয়া হয় । আর বাইরের দেশে সুপার কম্পিউটার আছে আপনি যখন ঢুকবেন তখন আপনার কি ঝামেলা সব সুপার কম্পিউটারই বলে দিবে । আর আমাদের এখানে স্যার রা বলেন আমাদের চেষ্টা করতে হবে একটা টেস্ট করেই রোগ ধরে ফেলতে । আর বড় বড় স্যার দের টাকার এত অভাব নেই যে উনি নিজে ছোট হবেন এই কিছু কমিশনের জন্য । ৮৫ % ডাক্তার এর দলভুক্ত নয় । শেষে বললাম আমাদের দেখা বহু ইন্টার্ন ভাইয়া আছে যারা নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে রুগীদের ডিম কিনে দেয় ।

৩ / এরপর আন্টি বললেন আমাদের ডাক্তার রা ৫০০ টাকা ভিজিট নেয় !!!

তখন আমরা বললাম , আন্টি আপনি একটা কথা আগে বলেন । আমাদের আর সচিবদের পদ মর্যাদা একই । তারপর ও যখন আমরা একটা জেলা পর্যায়ে যাবেন দেখবেন সেখানে একজন সচিব যাবে সরকারি গাড়ি করে আর ডাক্তার যাবে রিকশা করে । এখানে থেকেই তো বৈষম্য তৈরি হল । আর আপনি যে ৫০০ টাকার কথা বলছনে একজন ডাক্তার ৫০০ টাকা নিবার আগে তাকে কতটা কষ্ট করা লাগে জানেন ??? অন্য দেশে যেখানে ৩ থেকে ৫ বছরের মত সময় লাগে তখন আমাদের দেশে সেই ডিগ্রি নিতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০ বছর । এ ১০ বছরে ক্লিনিকে খেটে সবাই মাসে কত পায় জানেন ২৫০০০ টাকা । এই টাকা দিয়ে সে কি করবে তার মা বাবাকে দেখবে নাকি ভাই বোনদের দেখবে ( আমরা তিন জনই পরিবারের বড় ছেলে ) নাকি তার নিজের সংসার দেখবে ???? আর যখন কেউ ডাক্তার হয় তখন আমাদের সমাজ ব্যবস্থার জন্য আমাদের আত্মীয় স্বজন সবাই আমাদের থেকে আসা করতে থাকে । যত টা কষ্ট করে ঐ জায়গাতে আসে তাতে এই ৫০০ টাকা অনেক কমই আছে । আপনি বললেন আপনার ছেলে কে মেডিকেল এ দিতে চান আপনার ছেলে কে এই জায়গাতে একটু ভাবুন না । তখন বুঝতে পারবেন !!!!!!!

৪ । এরপর উনি বললেন এই যে তোমরা কত সুন্দর করে আমার সাথে কথা বলছো কিন্তু কিছু ডাক্তারের ব্যবহার খুব খারাপ । এটা কেন হবে ????

এটার উত্তর #যাবির অনেক সুন্দর করে দিল । প্রথমে ও বললো , আন্টি যারা ডাক্তার তার ও মানুষ । আপনি কোন অফিসে যান সেখানে ও দেখবেন কিছু লোক দেখবেন অনেক ভালো ব্যবহার করছে আর কিছুর ব্যবহার অনেক বাজে ব্যবহার করে । একটা মানুষ আপনি তার কাছে গেলে অনেক ভালো ভাবে আপনাকে বসতে বলবে , কথা বলবে । আর আপনি আরেকজনের কাছে যাবেন সেই অফিসেরই সে দেখবেন কথাই বলে ঝাড়ি দিয়ে । । বেশি দূরে যাবার দরকার কি ?? আপনি আপনার ছেলে মেয়ে দের মাঝে দেখেন । একজন দেখবেন অনেক ঠান্ডা আর আরেকজনকে কিছু বলার আগেই সে দেখবেন ক্ষেপে যায় । আর একজন ডাক্তারকে অনেক কিছু মেন্টেন করা লাগে । যেমন ; এখন আমি এখান থেকে পাস করে বের হবার পরও আমার পড়াশুনা শেষ হবে না । আমাকে তখন আমার বউ _ বাচচা দেখতে হবে , সাথে আমার পড়াশুনা, এরসাথে রুগী দেখা । তখন নরমালি আমার মাথা গরম থাকারই কথা । সেই হিসেবে দেখবেন ডাক্তারদের মাথা অনেক ঠান্ডা । কারণ আমাদের মেডিকেল জীবনের শুরু থেকেই শিখানো হয় তোমাকে রুগীরা গালি দিবে তার মাঝে তুমি হাসি দেয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না কারণ তুমি ডাক্তার !!!!!!!!!!!!!
আমি আবার এর সাথে ওয়ার্ড এর অভিজ্ঞতা বললাম , ভালো মত বললে অনেকে শুনতে ও চায় না । এটাও একটা কারন .। অনেক সময় রুগীর সাথে যারা থাকে তারা এত ঝামেলা করে যে তাদের জন্য অন্য রুগীদের দেখা কষ্টকর হয়ে যায় । তখন ঝাড়ি দিতেই হয় ।

৫। শেষে উনি আমাদের ডেইলি রূটিন জানতে চাইলেন ??

তখন আমারা তিন জন মিলেই তাকে এক বুঝিয়ে দিলাম । আমাদের প্রতিদিন ক্লাস শুরু হয় ৮ টা বাজে । এর মাঝে থাকে ৯ টা থেকে ১১ টা দাঁডিয়ে ওয়ার্ড করা লাগে । আমাদের ক্লাস মাঝে মাঝে শেষ হতে ৩ টা ও বাজায় । তবে নরমালি ক্লাস আর খাওয়া দাওয়া শেষ করতে আমাদের ৩ টা ৩০ বেজে যায় । এরপর আমাকে একটু ঘুমুতে হবে । আবার সন্ধ্যায় আমার ওয়ার্ড থাকবে এ জন্য ৬ টার মধ্যে আমাকে বের হতে হবে । রাতে
ওয়ার্ড করে খাওয়া শেষ করে আমার রুমে ফিরতে ১০ টা ৩০ মিনিটের মত বাজে । এখন মেডিকেলে
পড়ার অনেক চাপ পরদিন আমাদের আইটেম( এটা একটা পরীক্ষা ) থাকে । এর ফলে রাতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা আমাকে না চাইলেও পড়তে হবে । এভাবে ঘুমাতে আমার রাত ২ টা ৩০ মিনিটের ও বেশি বাজবে । পরদিন সকালে আমার ক্লাস আছে ৮ টায় , তাই সকালে ৭ টা ২০ এর মাঝে আমার উঠা লাগবে !!!

আমি আন্টির মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম উনি সন্দেহে আছেন , উনার ছেলে কিংবা মেয়ে কি পারবে এত চাপ নিতে । শেষ মেস আন্টির কাছে থেকে বিদায় নেয়ার সময় তার মুখ দেখে আর কথা শুনে আমরা বুঝতে পারলাম উনি আমাদের নিয়ে যত ভুল ধারনা ছিল তার অনেক কিছুই আজ দূর হয়েছে । আর কিছু না হোক এই একজন মানুষ আর যাই হোক কোনদিন ডাক্তারদের নিয়ে আর নেতিবাচক কিছু বলবে না !!!!!!

১৩ thoughts on “মেডিকেল নিয়ে সাধারণ মানুষের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর !!!!!!!!!!!!!!

  1. মজার ব্যাপার হচ্ছে এদেশে
    মজার ব্যাপার হচ্ছে এদেশে চান্স পাইলে সবাই ডাক্তারদের একহাত নিতে ছাড়ে না। কিন্তু ঠিকই চায় নিজের ছেলেমেয়েদের অন্তত একজন “কসাই” হোক। :শিস:

  2. একদম ঠিক কথা বলছেন ভাইয়া
    একদম ঠিক কথা বলছেন ভাইয়া ………। আমরা এখন কিছু টা যত দোষ নন্দ ঘোষ টাইপের মাঝে পরে গেছি !!!!!!!!!!!!!!!!!!!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ,
    সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার , ব্যরেস্টার! আহ!! কই।যাই!!!!!!

    আইচ্ছা কত গুলান ঘুমের ট্যবলেটের নাম বলেন দেখি কেমন ডাক্তার্।

  4. অবস্থার এখন পরিবর্তন হয়েছে।
    অবস্থার এখন পরিবর্তন হয়েছে। ডাক্তার বা কোন নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের দোষ দিয়ে লাভ নাই । কোন অসহযোগিতা যদি তারা করে থাকেন সেটা আমাদের সমাজেরই চিত্র। ডাক্তার দের কাছে যেতে হয় জন্য এরকম মনে হয়। অন্য পেশার মানুষের কাছে গেলে দেখা যাবে আরও খারাপ অবস্থা। কাউকে দোষ না দিয়ে নিজেরা ভাল হলেই হয়।

  5. আরও কিছু ঝামেলা আছে ।
    আরও কিছু ঝামেলা আছে । ডাক্তারদের বিপক্ষে কিছু বললে টা পাবলিক অনেক খায় এ জন্য ডাক্তারদের থেকে অন্য কোন পেশার মানুষরা হলুদ সাংবাদিকতার এত জঘন্য শিকার খুব কমই হয় । আমাদেরকেই শুনতে হয় এক ডাক্তার মারা যাবার পর, ডাক্তারদের মরা ভালো বিষয় না এর থেকে রুগী মরলে পাবলিক বেশি খায় । আর হলুদ সাংবাদিকতার সবচেয়ে জঘন্য দিক টা আপনার কাছের কোন বড় ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলে বুঝতে পারবেন !!!!!!!!!!!!! @কিরণ শেখর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *