“জীবনের বাকে বাকে ভালোবাসা” (সত্য কাহিনী অবলম্বনে)

যদ্দুর মনে পড়ে…..দিনটা ছিল রবিবার।
সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।বাসা থেকে বেরুতেই পারি নি সারাটা দিন!আকাশটা ভাল থাকলে হয়ত এতক্ষনে চার-পাঁচ বার চা না হলেও অন্তত দু টাকার টোষ্ট পেটে যেত।

সন্ধ্যে হয় হয়।
বৃষ্টির ঝাপটা কমে আসছে।ভাবলাম যাই,বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি।বাসায় কেউ নেই।দরজায় তালা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
সারাদিন বৃষ্টি হওয়াতে সন্ধ্যার বাতাসটা কেমন যেন ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল।ভাগ্যিস জ্যাকেট টা সাথে নিয়েছিলাম।



[1st part]

যদ্দুর মনে পড়ে…..দিনটা ছিল রবিবার।
সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।বাসা থেকে বেরুতেই পারি নি সারাটা দিন!আকাশটা ভাল থাকলে হয়ত এতক্ষনে চার-পাঁচ বার চা না হলেও অন্তত দু টাকার টোষ্ট পেটে যেত।

সন্ধ্যে হয় হয়।
বৃষ্টির ঝাপটা কমে আসছে।ভাবলাম যাই,বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি।বাসায় কেউ নেই।দরজায় তালা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
সারাদিন বৃষ্টি হওয়াতে সন্ধ্যার বাতাসটা কেমন যেন ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল।ভাগ্যিস জ্যাকেট টা সাথে নিয়েছিলাম।

আমি সহ দু একজন বাদে রাস্তায় তেমন একটা জন-মানুষ দেখা গেল না।
আনমনে হাটছিলাম।

হটাত্‍ চক্ষু স্থির হল একটা রিকশার দিকে!ঠিক রিকশার দিকে না বলে বলতে পারেন রিকশার যাত্রীর দিকে!

একটি মেয়ে!অসম্ভব সুন্দর একটি মেয়ে!
দেখা মাত্রই ভুলে গেলাম সব কিছু।ভুলে গেলাম আমি জেগে আছি না ঘুমিয়ে।মাত্র কয়েক সেকেন্ড।সেই মেয়েটিকে দেখা কয়েক সেকেন্ড।কিন্তু আমার কাছে মনে হল হাজার বছর!
রিকশা চলে গেল কখন বুঝতে পারি নি।

এক পথচারীর ডাকে যখন চেতনা ফিরে পেলাম তখন শীত শীত অনুভব করলাম!চেয়ে দেখি সমস্ত শরীর ভিজে গেছে!

আসলে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে বৃষ্টি এসেছিল বুঝতেই পারি নি!!!
সর্বনাশ!
21.একেবারে ভিজে গেছি!আমার যা অবস্থা!ঠান্ডা একদম সহ্য করতে পারি না!নির্ঘাত আজ জ্বর আসবে!
এখন উপায়!
এই সন্ধ্যা বেলা কেউ এরকম পাগলামি করে?
নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে বাড়ি ফিরলাম।

কাপড় পাল্টে পড়তে বসলাম।ভাল লাগছে না।শুধু ঐ মেয়েটার কথাই বার বার মনে হচ্ছে!
ঘুম ঘুম লাগছে!অথচ এখনো ৯ টাও বাজে নি!অন্যান্য দিন ১১ টায়ও ঘুম আসে না!কালক্ষেপন না করে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম!

সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম ঐ মেয়েটাকে নিয়ে!
যা ছিল আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সুন্দর সপ্ন!!!
পড়ে বুঝেছিলাম এ সপ্নের জন্যই হয়ত আল্লাহ সে দিন এত আগেই চোখে ঘুম দিয়েছিলেন!

সপ্নটা হল:
আমি আমাদের বড় পকুরটার পাশে বসেছিলাম।ভাবছিলাম মেয়েটার কোমল মুখ খানির কথা।
কথাটা ভাবতেই পিছন থেকে ঘারে এক উষ্ন কোমল হাতের ছোয়া অনুভব করলাম!
পিছন ফিরে তাকতেই চমকে উঠলাম!সেইমেয়েটা!হ্যা সেই মেয়েটা!এক মহুর্ত ভাবলাম আমি হয়ত সপ্ন দেখছি!
ও আমার পাশে বসল!
বাস্তবের দেখার চেয়ে ওকে তখন অনেক সুন্দর লাগছিল!
হালকা বেগুনি রঙের শাড়ি পড়েছিল!যা আমি আজও ভুলতে পারি নি!ঘন কালো চুলগুলো থেকে বার বাররোদের আলো প্রতিফলিত হচ্ছিল!গোমরা মুখে বসেছিল!ও হয়ত আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল!
31.ঠিক তখনই আমি বুঝতে পারলাম আমি সপ্ন দেখছি!অথচ আমার মনে হচ্ছিল এটা যেন সপ্ন না হয়!!
আল্লাহর কাছে ঘুমের মধ্যেই বার বার দোয়া করছিলাম সপ্নটা সত্যি করে দিতে!!!

ঘুম যখন ভাংলো তখন দেখলাম আম্মু আর আমার ছোট বোন ইলা আমার মাথায় পানি ঢালছে…..!
অনুভব করলাম গায়ে প্রচন্ড জ্বর!
ডাক্তার এসে দেখে বলল জ্বর ১০৩!
তখনও আমি ভাবছিলাম সপ্নটা যদি সত্যি হত!!
ডাক্তার বলল কিছু খেয়ে ওষুধ খেয়ে নিতে।কিন্তু আমি কিছু মুখে দিতে পারছিলাম না।যা মুখে দেই সবই তিতা লাগছিল।

আম্মু অনেক বুঝিয়ে বিস্কিট খাওয়িয়ে ওষুধ খেতে দিলো।

বিকেলে জ্বর কমলে বাসা থেকে বেরুলাম।উদ্দেশ্য,সেই মেয়েটাকে আর একবার দেখা।
মাগরিবের আযান হচ্ছে পাশের মসজিদে।তবুও আজ আর মেয়েটাকে দেখতে পেলাম না!
বলা বাহুল্য,আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তাম ছোট থেকেই।
মেয়েটার দেখা না পেয়ে মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল।

মসজিদ থেকে ফিরে মনে হল জ্বরটা আবার বাড়বে!
জ্বর নিয়ে যেটুকু ভাবছি তার চেয়ে দ্বিগুন বেশি ভাবছিলাম মেয়েটাকে নিয়ে।
শুয়ে শুয়ে ভাবছি,আবার যদি দেখা হতো!!!

হ্যা!দেখা হয়েছিল!দেখা হয়েছিল মেয়েটির সাথে!

41.একটি বছর পর!
তবে বলতে পারিনি বুকের ভিতর আটকে থেকে ছটফট করা না বলা কথাটা!বলতে গিয়ে বার বার থমকে দাড়িয়েছি,কোন এক অদ্রীশ্য শক্তির পিছুটানে!বারবার চেষ্টা করেছি কথাটা বলার।কিন্তু পারিনি!
আমি পেরে উঠি নি অজানা সেই শক্তির কাছে!
পরে বুঝতে পেরেছিলাম পিছুটান শক্তিটা ছিল বন্ধুত্বের!!
বন্ধুত্বের কাছে হার মেনে আমি চিরদিনের জন্য হারিয়েছি আমার ভালবাসা!

[দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের অপেক্ষায়…….]

৪ thoughts on ““জীবনের বাকে বাকে ভালোবাসা” (সত্য কাহিনী অবলম্বনে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *