¤ আমি রাস্তায় মা।যাওয়ার চেষ্টা করছি। ¤

– আরে নাস্তাটা তো করে যা।
– না।ক্লাসে লেট হয়ে যাবো।
– আচ্ছা,দুইটা টোস্ট খেয়ে যা।
– ঠিক আছে।দাও।
অরুন্ধুতি দেবী টোস্ট এনে দিলেন ছেলেকে। আর টোস্ট হাতে নিয়েই পবন দরজার দিকে এগুলো।
– এই টোস্ট খেয়ে জল খেয়ে পরে বেরো।
– জল আমার ব্যাগে আছে মা। আমার কিন্তু ফিরতে আজ একটু দেরি হবে।একবারে কোচিংক্লাস করে ফিরবো।
– তা কটা বাজবে?
– এই তো সন্ধ্যা ৭/৮টা বাজবে।
-আচ্ছা দুপুরে তাহলে কোনো একটা ভালো হোটেলে খেয়ে নিস। টাকা আছে না?নাকি লাগবে?



– মা গেলাম।
– আরে নাস্তাটা তো করে যা।
– না।ক্লাসে লেট হয়ে যাবো।
– আচ্ছা,দুইটা টোস্ট খেয়ে যা।
– ঠিক আছে।দাও।
অরুন্ধুতি দেবী টোস্ট এনে দিলেন ছেলেকে। আর টোস্ট হাতে নিয়েই পবন দরজার দিকে এগুলো।
– এই টোস্ট খেয়ে জল খেয়ে পরে বেরো।
– জল আমার ব্যাগে আছে মা। আমার কিন্তু ফিরতে আজ একটু দেরি হবে।একবারে কোচিংক্লাস করে ফিরবো।
– তা কটা বাজবে?
– এই তো সন্ধ্যা ৭/৮টা বাজবে।
-আচ্ছা দুপুরে তাহলে কোনো একটা ভালো হোটেলে খেয়ে নিস। টাকা আছে না?নাকি লাগবে?
– অসুবিধা নেই। টাকা আছে। যাই।

পবন চলে গেল।অরুন্ধুতি দেবী দরজা বন্ধ করে ঘরে আসলেন। এতক্ষণ মা ছেলে দরজায় দাড়িয়েই কথা বলছিল। পবন সামনে এইচএসসি দেবে। সিটি কলেজে পড়ছে। পড়াশোনায় তেমন খারাপ না। কিন্তু প্রচুর দুষ্ট আর ফাঁকিবাজ। তবে এখন মন দিয়ে পড়ছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা যে। তবুও অরুন্ধুতি দেবীর চিন্তা,ছেলেটা যে কী করবে?

#
কলেজের ক্লাস শেষ।একটুপর কোচিং ক্লাস শুরু হবে। পবন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।
আবির বলল- কীরে? পবন তুই তো হেভি পড়াশোনা করছিস শুনলাম।
পবন- আজাইরা প্যাচাল বাদ দে। পড়াশোনার কথা তুলা মানে আড্ডা পুরা ভোগে। মাহির তোর ইফ্তির কী খবর রে?
মাহির- এই যে তুই আরেক বেতালা প্যাচাল শুরু করছস। আমার যে ঐ ব্যাপারে কোনো ইন্টারেস্ট নাই তা তোরা ভালোভাবেই জানিস। তার থেকে অন্তুরে জিগা ওর বিশাখার কী খবর?
পবন- ভালো কথা কইছস তো? ঐ অন্তু চুপ কইরা আছস কেন?
অন্তু- বালের প্যাচাল বাদ দিবি? প্রেম পীড়িতির বড় জ্বালা!
পবন- শেষমেষ ভূতে ছ্যাকা খাইলি মামা?
অন্তু- ভূত মানে?
আবির- তো? ঐ মাইয়া তো ভূতের মত দেখতেই!
অন্তু- দেখ এই ব্যাপার নিয়া একদম ফাজলামো করবি না।
মাহির- ইহ্!! দেখ দেখ একবারে যেন আগুনে ঘি পড়ছে।
পবন ফোনটা পকেট থেকে বের করে বলল,এই তোরা একটু চুপ কর। মা ফোন দিছে।

– হ্যা মা বলো।
– কী করছিস? দুপুরে খেয়েছিস?
– একটু আড্ডা দিচ্ছি মা। কোচিং এ যাব এখন। আর হ্যা দুপুরে খেয়েছি।
– হুম। আমি একটু তোর আন্টির বাড়ি যাচ্ছি বুঝছিস? ফিরতে ফিরতে ৯টা বেজে যাবে। তোর খাবার ডাইনিংএ ঢেকে রেখে গেলাম। তুই এসে একটু ওভেনে গরম করে খেয়ে নিস।
– আচ্ছা ঠিক আছে মা।
– আরেকটা কথা,বিরোধীদল আগামীকাল হরতাল ডেকেছে। একটু সতর্ক থাকিস।
– তুমি চিন্তা করো না। কালকে হরতাল আজকে তো না। রাখি।
– আচ্ছা। রাখলাম।
পবন ফোন রেখেই বলল,কাল আবার হরতাল। যাক একটা অঘোষিত বন্ধ পাওয়া গেল। বই পড়া যাবে।
মাহির- বুঝবি মজা যখন পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে।
অন্তু- ঐ প্যাচাল বাদ দে।
কালকে একটা ছুটি পাওয়া গেল সেইটা আসল কথা। আমাদের মত ছাত্রের জন্য এইটা বিশাল আরামের। আবির,ঐ কোচিং টাইম হয়ে গেছে। চল এখন।

সকলে মিলে কোচিং ঢুকল। এইযে বাউন্ডুলে বন্ধুগুলো, এদের সকলের ইচ্ছা ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স। অন্তুর ইচ্ছা ঢাকা ভার্সিটিতে ফিজিক্স নিয়ে পড়ার। মাহিরের ইচ্ছা ল’তে চান্স। আবিরের যেকোনো এক সাবজেক্টে চান্স হলেই হল কিন্তু তা হতে হবে অবশ্যই ঢাকা ভার্সিটি। আর পবন ভাবছে চারুকলা কিংবা বাংলা সাহিত্যে নিয়ে পড়বে। এদের প্রত্যেকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বপ্ন।
প্রহরে প্রহরে এরা স্বপ্ন আঁকছে।

#
আগামীকাল হরতাল অথচ সন্ধ্যা হতে না হতেই ঢাকার পরিবেশ থমথমে। এখানে সেখানে হরতালকারীরা গাড়ি ভাঙছে,ককটেল ফাটাচ্ছে,আগুন ধরাচ্ছে।পবনের চোখের সামনেই একটু আগে এক চলন্ত সিএনজিতে ইয়া বড় একটা ইট মারলো হরতালকারী। সাথে সাথে সিএনজির কাঁচ ভেঙে সেটা উল্টে গেল। পবন হাটছে জিগতলার রাস্তা ধরে। তাকে যেতে হবে আজিমপুর। হরতাল কালকে অথচ আজকেই এই সন্ধ্যা ৭টার দিকেই সব বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। দাড়িওয়ালা মওলানারা এখানে সেখানে লাঠি নিয়ে দাড়িয়ে। পবন একটা রিকশা দেখে কাছে গেল।
– আজিমপুর যাবেন মামা? কলোনিতে?
– না। যাইতাম না।
– চলেন না মামা। ভাড়া বেশি দেব।
– না,যামু না। আইচ্ছা কত দিবেন?
– ৭০টাকা দিব।
– না,১৫০ দিওন লাগতো।
– যাও,১০০ দিব।এর বেশি নেই আমার কাছে।
– আইচ্ছা উঠেন।

পবন রিকশায় উঠে বসলো। রিকশা চলতে শুরু করলো।
কিছুক্ষণ যেতেই পবন দেখলো একটা লোক রাস্তায় পড়ে কাঁদছে। সারা শরীর রক্তে ভেজা। আশেপাশে ককটেলের গন্ধ। হয়তো লোকটির উপর ককটেল ফেটেছে। পবনের খুব মনে হল লোকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। হঠাৎ
মনে হল, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। কখন কী হয় ঠিক নেই। আপাতত সে এখন বাড়ি পৌঁছলেই প্রাণে বাঁচে। পবন দেশের পরিস্থিতিতে শঙ্কিত বোধ করছে। কী যে হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। রাজনীতি সবকিছুকে ধোঁয়াশা করে দিয়েছে।

– মামা,জলদি চালাও।
– আরে রিকশায় কিছু হইতো না। রিকশা জ্বালাইয়া টালাইয়া দেয়না। এদিক দিয়া ভালা আছে।
– তবু তুমি জলদি চালাও।

রিকশা দারুণ গতিতে চলছে। যেন বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। চারদিকে নিরবতা। কোনো দোকান খোলা নেই। বাতাস এসে পবনের চুল উড়িয়ে নিচ্ছে।পবনের ভালো লাগছে। ভয় কেটে গেছে। অনেকক্ষণ ভয়ে থাকলে তা দুম করে কেটে যায়। তখন মানুষ অসীম সাহসী হয়ে যায়। পবনও এখন অসীম সাহসী।

হঠাৎ করেই পবনের গায়ে জ্বালা পোড়া করতে থাকে। সে বুঝে উঠতে পারে না কেন? রিকশা থেমে গেছে। রিকশাওয়ালা রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। চারদিক ধোঁয়াশা লাগছে। পবন একবার পিছে তাকালো। কে বা কারা যেন দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে বুঝলো হয়তো গানপাউডার…… ..
পবনের সারা গায়ে যেন আগুন লেগে গেছে এমন লাগছে। সে তার ফোনটা বের করে কন্ট্রাক্ট নাম্বারে গেল। সব ঘোলা লাগছে তবু মা লেখা মনে হয় এমন একটা সেভ নাম্বারে ফোন করলো। অপর পাশ থেকে কে যেন বলল,
– পবন,বাড়ি ফিরেছিস?
পবন শুধু বলল,
– আমি রাস্তায় মা। যাওয়ার চেষ্টা করছি।
####
¤ নন্দন ¤

২৩ thoughts on “¤ আমি রাস্তায় মা।যাওয়ার চেষ্টা করছি। ¤

  1. নির্মম সত্য। তবে দেশের
    নির্মম সত্য। তবে দেশের রাজনৈতিক দনগুলোর কোন প্রতিক্রিয়া হবে না।
    কারণ তাদের ছেলে/মেয়েরা তো কখনো এভাবে পড়ে থাকে না॥

  2. বাস্তব ধর্মী লেখা!!!
    দেশের যে

    বাস্তব ধর্মী লেখা!!!
    দেশের যে পরিস্থিতি হয়তো আজ নয় কাল আমার কিংবা আপনার সাথে এই একই ঘটনা ঘটবে।

    1. তারিক ভাই আপনেরে এত্তগুলা
      😀 :নৃত্য: তারিক ভাই আপনেরে এত্তগুলা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. দুবার পড়ে ফেলছ?তাইলে আগে
      দুবার পড়ে ফেলছ?তাইলে আগে ধইন্যা লও :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: আর আমিও তো ভাই সমাধান জানিনা :-B

    1. সাব্বির ভাই আপনে
      😀 :হাহাপগে: সাব্বির ভাই আপনে প্যারাসিটামলে পাইলেন কী?ফেবুতেও মনে হয় প্যারাসিটামলের কথা শুনছি!

    1. ভাই একটু আশা রাখেন।নইলে কেমনে
      ভাই একটু আশা রাখেন।নইলে কেমনে চলবো?আমরাই যদি বলি এগুলা কোনোদিন বন্ধ হবো না, তাহলে বন্ধ হবো কেমনে?

  3. পড়েছি ফেবুতে সবার আগে…
    পড়েছি ফেবুতে সবার আগে… কষ্টটা লেগেছে এই পোড়া দেশের কথা চিন্তা করে :মনখারাপ: :মনখারাপ: … এতো সম্ভাবনা কিভাবে লোভ আর হিংসার অনলে পুড়ে যায় ভেবে শুধু অবাক হই… :মাথাঠুকি: :এখানেআয়:

    ভালো লেগেছে নন্দন ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *