ঋহান কথন – ১

খালাতো ভাই ঋহানের বয়স সাড়ে তিন বছর। অজস্র পাকনা পাকনা কথা শিখে গেছে। আজকে ওদের বাসায় বেড়াতে গেছি। লাউঞ্জ রুমে খালু বসে বসে নিউজ পেপার পড়ছেন আর তার পাশে বসে বসে নিজের পুরুষ দন্ড নিয়ে খেলা করছিলো ঋহান। অবসরে সময়ে নিজের ইয়ে ধরা টানাটানি করা ঋহানের ফেভারিট পাস টাইম! যার ফলে তার মা তার শরীরে কাপড় রাখতে পারে না। দিনের বেশীরভাগ সময়ই সে অর্ধনগ্ন থাকে। কিছুদিন হলো তার সাথে যোগ দিয়েছে পাশের বাসার ছেলেটাও। প্রায়ই দুজনকে দেখা যায় অর্ধনগ্ন হয়ে বারান্দার রেলিং ধরে মনের সুখে ঝুলতে। তাদের দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত, ভবিষৎতে আমরা হয়তো “পাশ্চাত্য-ফ্যাশনে-ছোটবেলা-থিকাই-অভ্যস্ত” একটা জেরারেশন পাইতে যাইতেছি।


খালাতো ভাই ঋহানের বয়স সাড়ে তিন বছর। অজস্র পাকনা পাকনা কথা শিখে গেছে। আজকে ওদের বাসায় বেড়াতে গেছি। লাউঞ্জ রুমে খালু বসে বসে নিউজ পেপার পড়ছেন আর তার পাশে বসে বসে নিজের পুরুষ দন্ড নিয়ে খেলা করছিলো ঋহান। অবসরে সময়ে নিজের ইয়ে ধরা টানাটানি করা ঋহানের ফেভারিট পাস টাইম! যার ফলে তার মা তার শরীরে কাপড় রাখতে পারে না। দিনের বেশীরভাগ সময়ই সে অর্ধনগ্ন থাকে। কিছুদিন হলো তার সাথে যোগ দিয়েছে পাশের বাসার ছেলেটাও। প্রায়ই দুজনকে দেখা যায় অর্ধনগ্ন হয়ে বারান্দার রেলিং ধরে মনের সুখে ঝুলতে। তাদের দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত, ভবিষৎতে আমরা হয়তো “পাশ্চাত্য-ফ্যাশনে-ছোটবেলা-থিকাই-অভ্যস্ত” একটা জেরারেশন পাইতে যাইতেছি।

তো যা বলতেছিলাম, আমি ঋহানের পাশের সোফায় বসলাম। হঠাৎ সে তার ফেভারিট পাস টাইম বাদ দিয়ে তার বাবার হাতে ধরা পত্রিকা নিয়ে পড়লো। পত্রিকায় একটা আঙ্গুল রেখে বলে, বাবা এখানে কি লেখা?
– তার বাবা বলে, দুষ্টুমি করো না বাবু, খেলা করো। – কিন্তু ঋহান যথারীতি নাছোড়বান্দা। খালু সাধারনত এমন করে না, সে একজন ”পুত্রস্নেহে অন্ধ” টাইপের পিতা। যা হোক, শেষে ওর বাবা বাধ্য হয়ে বলে – ”আচ্ছা পড়ছি, নারায়নগঞ্জের হোটেলে অবাধ দেহ ব্যবসা।”
শুনে তো আমার ভিমড়ি খাবার যোগাড়। এইবার বুঝলাম খালু কেন বলতে চাচ্ছিলো না।

ঋহানের প্রশ্ন করার খুবই বাজে বাতিক আছে। তো এটা শুনে ঋহান প্রশ্ন করতে পারতো, নারায়নগঞ্জ কোথায় বা অবাধ মানে কি? কিন্তু সে এ জাতীয় প্রশ্নের ধার দিয়েও গেলো না। সে প্রায় সাথে সাথেই তার বাবাকে প্রশ্ন করলো, দেহ ব্যবসা কি বাবা?
তার বাবা একবার আমার দিকে তাকায় আরেকবার তার পুত্রের দিকে তাকায়। খালু জানকে এইরকম অসহায় এর আগে খুব বেশী দেখা যায় নাই। মনে মনে সে নিজেকে তখন মনে হয় বকা দিচ্ছিলো নিউজ পেপার থেকে সত্যি তথ্যটা পড়ে শোনাবার জন্য। চাইলে অন্যটাও বলতে পারতো। যা হোক, খালু বল্লেন – ”জানি না তো বাবা।”

এরপর ঋহান বলে – তুমি জানো না কেন বাবা?
– সবাই তো সবকিছু জানে না, বাবা।
– সবাই তো সবকিছু কেন জানে না বাবা?
– এটাই নিয়ম বাবা। সবাই সবকিছু জানে না। তুমি কি সবকিছু জানো?
– না জানি না।
– তাহলে দেখো…তুমিও জানো না। (খালুর মুখে বিজয়ীর হাসি, ছেলে এত সহজে হার মানবে এটা মনে হয় তার আশাতীত ছিলো)
– কিন্তু বাবা….আমি দেহ ব্যবসা মানে তো জানি!!
– কি জানো বাবা? (খালূর মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে পুরোপরি)
– দেহ ব্যবসা মানে তুমি জানো না কিন্তু আমি জানি।
– কি জানো আমাকে বলো বাবা। (খালু ফ্যাকাশে মুখে আমার দিকে তাকালো। আমি ঢোক গিললাম।)
– এটা তো খুবই সহজ। দেহব্যবসা মানে গায়ের মাংস কেটে কেটে বিক্রি করা। বাবা তুমি অনেক বোকা।
– ঠিক বলেছো বাবা। (খালু চি চি করে বল্ল)

খালুর মনে হয় ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় গা এলিয়ে দিলাম!!

বাবা-মা তার গভীর আনন্দ নিয়ে সন্তানের বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। আমার খালা-খালু গভীর আতংক নিয়ে তাদের সন্তানের বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

৩ thoughts on “ঋহান কথন – ১

    1. ব্লগের “বিভাগ” ক্যাটাগরিটা
      ব্লগের “বিভাগ” ক্যাটাগরিটা নিজেই একটা জলজ্যান্ত কৌতুক। এর আগে আমি কিছু একটা পোষ্ট করলেই বিভাগ সিলেক্ট করতাম – কৃষিগবেষণা ও তথ্য। 😛

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *