গল্পঃ খাঁচাবন্দি (১ম পর্ব)

ভাদ্র মাস চলছে। এসময় সচরাচর বৃষ্টি হয় না। হলেও খুব কম। তবে আজকের
পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নরকম।সকাল
থেকে বৃষ্টি পড়ছে। একদম মুষলধারে আষাঢ়ে বৃষ্টি। রাস্তাঘাট সব পানিতে তলিয়ে গেছে, পানি উঠে একেবারে টইটুম্বুর অবস্থা। তুলিদের বাসা আট তলায়। বাসা থেকে নিচে তাকালে মনে হয় যেন বন্যা হয়ে গেছে। তুলি জানালার পাশে একটা বই নিয়ে বসেছে। হুমায়ুন আহমেদের “বৃষ্টিবিলাস”। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখে বৃষ্টি। তাই
বইটা পড়তে শুরু করা। বাহিরেও বৃষ্টি,বইয়ের নামও বৃষ্টি। দুই বৃষ্টিতে কাটাকাটি হয়ে এখন শুধু বিলাস
টা বাকি।কিন্তু বইয়ে তার মন নেই। তুলির খুব ইচ্ছে করছে ছাদে গিয়ে ইচ্ছেমতো বৃষ্টিতে ভিজতে। বৃষ্টির

ভাদ্র মাস চলছে। এসময় সচরাচর বৃষ্টি হয় না। হলেও খুব কম। তবে আজকের
পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নরকম।সকাল
থেকে বৃষ্টি পড়ছে। একদম মুষলধারে আষাঢ়ে বৃষ্টি। রাস্তাঘাট সব পানিতে তলিয়ে গেছে, পানি উঠে একেবারে টইটুম্বুর অবস্থা। তুলিদের বাসা আট তলায়। বাসা থেকে নিচে তাকালে মনে হয় যেন বন্যা হয়ে গেছে। তুলি জানালার পাশে একটা বই নিয়ে বসেছে। হুমায়ুন আহমেদের “বৃষ্টিবিলাস”। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখে বৃষ্টি। তাই
বইটা পড়তে শুরু করা। বাহিরেও বৃষ্টি,বইয়ের নামও বৃষ্টি। দুই বৃষ্টিতে কাটাকাটি হয়ে এখন শুধু বিলাস
টা বাকি।কিন্তু বইয়ে তার মন নেই। তুলির খুব ইচ্ছে করছে ছাদে গিয়ে ইচ্ছেমতো বৃষ্টিতে ভিজতে। বৃষ্টির
প্রতিটি ফোটায় ভিজে ক্লান্তিকর সময়ের অবসান টানতে। তবে এ ইচ্ছে শুধু যে ইচ্ছেই থেকে যায়। তুলির বৃষ্টিতে ভিজতে কঠোর মানা আছে। অনেক আগে একবার ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছিল। সে’বার রাতে ভীষন রকমের জ্বর উঠেছিল, ঠান্ডা লেগে গলা ভেঙ্গে যায়। হঠাত করে বৃষ্টি ভিজার এটাই সাইড এফেক্ট।শরীর বৃষ্টির পানি সইতে পারে না, তাই এরকম অসুস্থ হওয়া স্বাভাবিক। সেদিন তুলির মা তুলিকে খুব
বকেছিলেন। সামান্য বৃষ্টিতে ভেজা নিয়ে মা-বাবা দু’জনেই অনেকগুলো কথা শুনিয়েছেন।তুলির ছোট মন সেদিন বড় ব্যথা পেয়েছিল, নিজের রুমে লুকিয়ে লুকিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছে। তারপর থেকে আর বৃষ্টিতে ভেজা হয় নি। আজকেও আর হবে না, শুধু জানালা দিয়ে দেখে যেতে হবে।

(খ)
আতিকুর রহমান তুলির বাবা। একজন
উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। সরকার থেকে বেশ মোট অঙ্কের টাকা আয় করেন। তাছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে উপহার তো আছেই! তুলির মা আফরোজা সুলতানা একজন আধুনিক মা।বাসার কাজকর্ম করেন না বাহিরে চাকরি করেন। তিনি একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন। বিদেশী অর্থায়নে এনজিও চলে। উপরের লেভেলে কাজ করেন তাই তিনিও ভালো বেতন পান। বাবা-মা দুজনের দিনের বেশির ভাগ সময় বাহিরে কাটান।
তুলি কে সময় দেবার মত টাইম তাদের নেই। তুলির দেখাশোনার দায়িত্ব প্রায় পুরোটাই মাজেদা খালার উপর। মাজেদা খালা তুলির সবচেয়ে কাছের বন্ধু,সে খালার সাথে সব কথা শেয়ার
করে। খালাও তুলিকে নিজের আপন মেয়ের মতোই ভালবাসেন।

মাজেদা খালার অনেক গুন। খালা খুব
সুন্দর করে গল্প বলতে পারেন। রূপকথার গল্প,রাজারানীর গল্প,ভূতের গল্প-পেত্নীর গল্প। আগে গল্পগুলো ভালো লাগতো, এখন আর ভালো লাগে না,
তিনি বিভিন্ন আজগুবি কথাও বলেন।
যেমনঃ দুই শালিক দেখলে দিনটা ভালো যাবে, কালো বিড়াল দেখলে দিন খারাপ
যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। মাজেদা খালার
ভীষন রকমের টিভিপ্রীতি রয়েছে। ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের প্রতি দুর্বলতা আরও বেশি। রাতে বাসায় মা থাকেন তাই টিভি দেখে আরাম পান
না। তাই দুপুরে সোফায় আরাম করে বসে রিপিট টেলিকাস্ট দেখেন। তুলি প্রায়ই পাশে বসে থাকে,এই
সব সিরিয়াল তার ভাল লাগে না বরং বিরক্ত লাগে। একটা ঘটনাকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে এতো রঙঢঙ করে দেখানোর কোন মানে নেই। হয়তো এজন্যই একে নাটক বলে!

(গ)তুলিদের পাশের বাসায় নতুন
ভাড়াটিয়ে এসেছে। আগে সেখানে আসিফেরা থাকতো। আসিফ হচ্ছে জ্বলজ্যান্ত একটা মাথা ব্যথার নাম।
এইটুকু লিলিপুট কিন্তু ভিতরে আস্ত
একটা বোম।তবে আসিফের সাথে তুলির সময়টা বেশ ভালোই কাটত।আসিফের বাবা অন্য জেলায় ট্রান্সফার হয়ে গেছে। তাই পুরো ফ্যামিলি শিফট
হয়ে গেছে। চলে যাওয়ার আগে আসিফ অনেক কেদেছে, যেতেই চায়।তুলির মনটাও খুব খারাপ হয়েছিল।

নতুন ভাড়াটিয়ার সাথে এখনো পরিচয়
হয় নি। ঢাকার লোকেরা আলগা খাতির
দেখায় না। কে আসলো, কে গেলো এতে তাদের খুব একটা মাথা ব্যথা নেই। সেদিন স্কুলে যাবে বলে বাসা থেকে বের
হয়েছিল। পাশের বাসায় দরজা খোলা।
দরজার আশেপাশে অনেকগুলো ছোটবড়
প্যাকেজ। কৌতুলবশত ভিতরে উঁকি দিল। ভেতরে অগোছালো রুম।
একটা জাজিম, এখানে সেখানে শার্ট-
প্যান্ট, চায়ের কাপ একটা মাটিতে পড়ে আছে,কিছু প্যাকেজ অর্ধেক খুলে রাখা, বই পত্র এখানে সেখানে,সিগারেটের প্যাকেট ইত্যাদি।এই লোকটা যে ভীষন
রকমের অগোছালো আর কুড়ে।তা রুম
দেখে সহজেই বোঝা যায়। আর
লোকটাও বা রুম ছেড়ে গেল কোথায়!
তবে সবচেয়ে নজরকারা জিনিসটি
হলো রুমের কোনায় রাখা ক্যানভাসের
আকা ছবিগুলো। খুবই সুন্দর করে আঁকা, এতো সুন্দর
ছবি তুলি আগে কখনো দেখেনি। আচ্ছা লোকটা শিল্পী নাকি? তা না হলে ঘরে এতো ছবি কেন? এতো বড়ো ঘরে কি একজনই থাকবে, কি অদ্ভুত!
হঠাত নিচ থেকে গাড়ির হর্ন বেজে উঠলো। স্কুলে যাওয়ার
সময় হয়ে গেছে। তুলি দ্রুত লিফটের
দিকে এগুচ্ছে। তুলির মাথায় একটাই
কথা ঘুরছে “লোকটা কী অদ্ভুত!”

(চলবে)

৪ thoughts on “গল্পঃ খাঁচাবন্দি (১ম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *