এখন বড় হইছি না। এখন চোখের পানি ফেললে চলবে?

ভারতের ক্রিকেট টিমের আমি ফ্যান, কারন কি জানেন? ভারতের দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপ না, বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যান বা বোলিং অ্যাকশানের জন্য তাও নয়। অনেক বেশী রান চেজ করে জিতার জন্য তাও না। কারন আমি শচীন টেন্ডুলকারের সমর্থক। আরও কোটি কোটি মানুষের মত আমি নিজেও শচীন টেন্ডুলকারের একজন ফ্যান।

ভারতের ক্রিকেট টিমের আমি ফ্যান, কারন কি জানেন? ভারতের দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপ না, বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যান বা বোলিং অ্যাকশানের জন্য তাও নয়। অনেক বেশী রান চেজ করে জিতার জন্য তাও না। কারন আমি শচীন টেন্ডুলকারের সমর্থক। আরও কোটি কোটি মানুষের মত আমি নিজেও শচীন টেন্ডুলকারের একজন ফ্যান।
বিদায়!!!!! সে তো নিতেই হবে। কিন্তু বিদায় যদি হয় শচীন টেন্ডুলকারের, তাহলে আবেগ ধরে রাখা মুশকিল। কত স্মৃতি, কত আনন্দ বেদনার মুহূর্ত আছে এই শচীন কে নিয়ে। শচীন টেন্ডুলকার ব্যাটিং করতেছে… আমি টিভিতে সুপার গ্লু। বান্ধবী নিয়ে ডেট এ গেছি কোন নামী রেস্টুরেন্টে … ওইখানে বাধ্য করেছি টিভি খোলাতে, কারন শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটিং যে মিস হয়ে যাবে। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগছে?? ক্যামনে টিভি রেখে উঠবো ??? আরে শচীনের আর মাত্র ৯ রান বাকি ১০০ হতে। এইরকম আরও শত শত উদাহারন দেয়া যাবে।
আমার শচীন প্রীতি দেখে আমার স্বর্গবাসী পিতা মশকরা করে বলতেন ” শচীন টেন্ডুলকার ১০০ করুক আর না করুক, তোর বাপের কি?” কোনদিন তাকে বুঝাতে পারিনাই যে এমন একজন মহান খেলোয়াড়কে আমার জীবনে আমি দেখে যেতে পেরেছি, তার লাইভ খেলা দেখেছি, এটাই তো আমার জীবনের অনেক পাওয়া। আর কি চাই।
শচীনের একটা স্টেট ড্রাইভ দেখার জন্য রাতের ঘুম হারাম করা কোন ব্যাপার না। ব্যাপার ছিলনা ক্লাস ১০এর টেস্ট পরীক্ষাও, ব্যাপার ছিলনা আমার কাকার হাতের শক্ত মাইর। বরং আম্মাকে বলতাম ” পরীক্ষা গেলে পরীক্ষা পাওয়া যাবে, শচীন এর ব্যাটিং গেলে ব্যাটিং পাওয়া যাবেনা” এই রকমই আমার শচীন প্রেম।

শচীন টেন্ডুলকারের শেষ খেলাটা কিন্তু আমি লাইভ দেখিনি, কারন আমি জানি আমি খেলাটা দেখলেই আবেগপ্রবন হয়ে যাবো। আরে, এখন বড় হইছি না। এখন চোখের পানি ফেললে চলবে?? শচীন ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন,তার ম্যাচ সংখ্যা ৪৬৩। ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও শচীন, ৪৪.৮৩ গড়ে করেছেন ১৮৪২৬ রান। এইসব ছাড়াও শচীন তার খেলার স্টাইল দেখিয়ে অগুনিত দর্শককে দিয়েছেন অনাবিল আনন্দ।

আমার মত খুব সাধারণ একজন Spectator এর পক্ষ থেকে এই লিজেন্ড কে জানাই আমার অন্তরের গভীর থেকে বিদায়ী শুভেচ্ছা।

২ thoughts on “এখন বড় হইছি না। এখন চোখের পানি ফেললে চলবে?

  1. এটা আমার আজকের ফেসবুক পোস্ট
    এটা আমার আজকের ফেসবুক পোস্ট —

    এটা পড়ে বিরক্ত হইতে পারেন। তাই পড়লে নিজ দায়িত্বে- হুম!

    টেন্ডুলকারকে কোন দিনই আমার ভালো লাগতো না, বরং টেন্ডূল আউট হলেই আমি খুব খুশী হতাম। মনে পড়ছে ভাইয়া, আমি আর কাজিন বাবু একসাথে খেলা দেখলাম। টেন্ডূল আউট হলে ভাইয়ার প্রথম কমেন্টটা হতো, “যাও ভাতিজা অনেক খ্যালাইছো”, আমি তো আরও খারাপ কথা বলতাম, “যা শালা”!! বাবুও তেমনি কমেন্ট করতো। এই যে ২০০৭-৮ সালের দিকে টেন্ডূল যখন বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পাচ্ছিল না, ছয় ইনিংসে নার্ভাস নাইনটিজে গিয়ে আউট হয়েছিল যার মধ্যে আবার তিনটাই ছিল ৯৯! কি যে খুশী হইছিলাম সেই সময়টা!! অবশেষে সপ্তম বারের প্রচেষ্টায় টেন্টূল সেঞ্চুরি করলো, তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার ভিবি সিরিজের বেষ্ট অফ থ্রি ফাইনালের প্রথমটাতে। খুবই ব্যথিত হয়েছিলাম তখন! সেবার প্রথমবারের মতো ভারত অস্ট্রেলিয়ার ট্রাই সিরিজ জয়ী হয়। যদিও ডাউন আন্ডারে ভারতের প্রথম সাফল্য আসে ১৯৮৫ সালের মিনি বিশ্বকাপে। সেবার ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

    আসলে কি কারণে জানিনা আমার কেন জানি ভালোই লাগতো না টেন্ডূলকে। এটার পিছনে সম্ভবত প্রধান কারণ ছিল আমি ব্রায়ান লারার ভক্ত। তাছাড়া টেন্ডূলপ্রেমীদের সাথে ঝগড়াতে আমার প্রধান অস্ত্র ছিল সে মনে রাখার মতো তেমন কোন ইনিংস খেলতে পারেনি, দলকে খাদের কিনারা থেকে একা জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে পারেনি খুব বেশী একটা। আর এই কাজেই মাষ্টার ছিল লারা। এমন ম্যাচ জয়ী ইনিংস স্টিভ ওয়াহ, ইনজামাম, অরবিন্দ ডি সিলভা খেলেছে বেশ কয়েকটা। মনে পড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত দুর্দান্ত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩১১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৪৮ রানে আট উইকেট হারায় উইন্ডিজ। সেখান থেকে দুই বিশাল ব্যাটসম্যান এ্যামব্রোজ আর ওয়ালসকে (টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ডাকের (শূন্য) রেকর্ডটা এখনও তাঁর!) শেষ দুই উইকেটে ৭৫ রান যোগ করে লারা ১৫০ প্লাস রানে অপরাজিত থাকে এবং এক উইকেটে জয়ী হয়। ২০০৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশ বহুল বিতর্কিত টেস্টে ২৬১ রান চেজ করতে গিয়ে এক সময় পাকিস্তানের স্কোর হয় ২০৫/৮। সেখান থেকে এক উইকেটে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় ইনজামাম ১৩৮ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে। আবার ৯৪ সালে সফরকারী অস্ট্রলিয়ার বিরুদ্ধে করাচীতে ৩১৪ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের স্কোর হয় ৮/২৩৬, পরে হয় ৯/২৫৮। শেষ উইকেটে মুশতাককে নিয়ে ৫৭ রান যোগ করে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে ইনজামাম ম্যাচ জয়ী হয়। এমন আরও অনেক ইনিংসই আছে। কিন্তু টেন্ডুলকারের খুব বড় ভক্তও মনে হয় খুব বেশী একটা এমন সিঙ্গেল হ্যান্ডেডলি ম্যাচ বের করে আনা ইনিংস দেখাতে পারবে না টেন্ডূলের।

    যাই হোক, ১৯৮৯ সালে টেন্ডূলের সেই প্রথম সিরিজের ম্যাচগুলা দেখেছিলাম ভারতীয় দূর দর্শনের কল্যাণে। সেবার ভারতের নিয়মিত অধিনায়ক দিলীপ ভেংসরকারের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেয় কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত যার ডাক নাম চিকা। মনে আছে সেবার চার টেস্টের সাত ইনিংসে শ্রীকান্ত ছয় বার আকরামের বলে আউট হয়। সাত ইনিংসে মাত্র ৮০ প্লাস রান করে শ্রীকান্ত। সবগুলো ম্যাচ ড্র হয়। টেন্ডূল প্রথম ইনিংসে ওয়াকারের বলে আউট হওয়ার আগে করে ১৫। ২য় টেস্টেই ইমরান, আকরাম, ওয়াকার, ওয়াসিম জাফর ও কাদিরের বোলিং এর মুখে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে সে। পরের টেস্টে ৪০ প্লাস একটা ইনিংস খেলে যে ইনিংসে আব্দুল কাদিরকে ভালোই ধোলাই দিছিল টেন্ডূল। ঐ ম্যাচেই জাভেদ মিয়াদাদ টেন্ডূলের ব্যাটিং দেখে মাঠেই ক্যাপ্টেন ইমরানকে বলেছিল “ইয়ে শেরকা বাচ্চা হ্যাঁয়”। শেষ টেস্টেও একটা ফিফটি করা টেন্ডূল অভিষেক সিরিজেই চার টেস্টের ৬ ইনিংসে দুই ফিফটির সাহায্যে ২১৫ রান করে। ঐ বোলিং এ্যাটাকের বিরুদ্ধে এই পারফর্মেন্স তাও আবার ১৬ বছরের বালকের, হুদাই তো মিয়ানদাদ বাঘের বাচ্চা বলে নাই। ঐ সিরিজটা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের অভিষেক সিরিজ ছিল, বেশ কয়েকজনের পারফর্মেন্স তাদের ভবিষ্যৎ সফল ক্যারিয়ারের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেবারে টেন্ডূলের সাথে একই ম্যাচে অভিষেক হয় ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদ ও মুশতাক আহমেদের। সেই সিরিজেই ভারত পেয়ে যায় সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে। আর পাকিস্তান পায় শোয়েব মোহাম্মদকে। শোয়েব একটা ডাবল সেঞ্চুরিসহ করে চারশো প্লাস রান। আবার মাঞ্জরেকরও একটা ডাবল, একটা সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে করে ৫৫০ প্লাস রান। পরে তারা দুইজনই অনেক দিন নিজ নিজ দলকে ভালো সার্ভিস দিয়েছে। তেমনি ওয়াকার, আকিব, মুশতাকও।

    তারপরে তো শুধুই টেন্ডূলের রেকর্ড আর রেকর্ড। আজ অবসরের আগে এমন উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছে যে আগামী একশ বছরে এই রেকর্ড ভাঙ্গা মুশকিল হয়ে যাবে। কেন জানিনা কোন দিন টেন্ডূলকে পছন্দ না করা আমি আজ হটাত করেই টেন্ডূলকের ভক্ত হয়ে গেলাম! খারাপ লাগছিল টেন্ডূলের বক্তব্য শুনতে। আর দেখা যাবে না মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটা ও নাক উঁচা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুইটা সেঞ্চুরি (তাও আবার তাদের মাঠেই) করে অন্যের প্রশংসা করতে কৃপণ অস্ট্রেলীয় মিডিয়া কর্তৃক ১৯৯২ সালে বালক বীর খেতাব পাওয়া টেন্ডূলকে। শুভকামনা শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *