৭ নভেম্বর ‘সিপাহী-জনতার গণঅভ্যুত্থান’ ও কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ড

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মহা গুরুত্বপূর্ণ দিন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। এই ঐতিহাসিক দিবসটাকে কেউ কেউ পালন করে থাকেন ‘সিপাহী-জনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস’, কেউ বলেন ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’র দিন। মূলত এই দুই ধারায়ই দীর্ঘ দিন ধরে দিবসটি পালন হয়ে আসছিল। কিন্তু এখন তৃতীয় একটা ধারা দিবসটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এইসব ‘অনেকেই’ তাদের দৃষ্টিকোণ বিশেষত শ্রেণী দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন। যারা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’র দিন বলেন তারা এটা বলতেই পারেন। কারণ তাদের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ মানেই জাতীয় শোষক-ধনিক এবং তাদের প্রভু সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে এই কথিত বিপ্লব ও সংহতি। আসলে প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে এদিনের আসল বিপ্লবকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই প্রতিবিপ্লবীদের জন্য ৭ নভেম্বর দিনটি বিপ্লব ও তাদেরই সংহতির দিবস। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং তাদের গড়া কথিত রাজনৈতিক দলসহ ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী-মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো এই দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ‘মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার হত্যা দিবস’ হিসেবে দিবসটি পালন করছেন বিগত কয়েক বছর ধরে তারা মনে করেন, দিনটিতে নির্বিচারে সেনা অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে, তাই দিনটি ‘হত্যার’ দিন। তারা শ্রেণীগত বৈষম্যের বাইরে বিষয়টিকে দেখতে চান, শ্রেণীগত দিকটিকে সামনে আনতে চান না। আর যাঁরা ‘সিপাহী-জনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে দেখেন তাঁরা শ্রেণীগত দিকটিসহ প্রকৃত বিপ্লবের বিষয়টি ধারণ করেন।

তবে যে যেভাবেই দিবসটি পালন করুন না কেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত হয়েছিল সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত গণ অভ্যুত্থানের। আর এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এগারো নম্বর সেক্টর কম্যান্ডার, শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। দেশের এক ক্রান্তিলগ্নে তিনিই এ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনিই বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন, সেই সঙ্গে জিয়াকে ক্ষমতায়ও বসিয়েছিলেন সিপাহী-জনতার স্বার্থরক্ষার শর্তে। কিন্তু তারপরের ইতিহাস এক নজিরবিহীন বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। যিনি জিয়ার জীবন বাঁচিয়েছিলেন তাকেই জিয়া ফাঁসীতে ঝুলিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেন। ইতিহাসে স্থান করে নেন ইতিহাসের দ্বিতীয় মীরজাফর হিসেবে।

ফ্লাস ব্যাক ০৭ নভেম্বর ১৯৭৫ : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে খন্দকার মোশতাক আর খালেদ মোশাররফ তখন নাগর দোলায়। একজন উঠছেন, একজন নামছেন। কিন্তু তারা কেউ জানেন না ঠিক সেই সময়টিতেই তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে, শহরের অন্য এক প্রান্তে। আবু ইউসুফের এলিফ্যন্ট রোডের ৩৩৬ নম্বর বাসাটি তখন সরগরম। জাসদের তরুনকর্মীরা ছাড়াও ইউসুফ এবং মাহমুদের বাসা জুড়ে সেনাবাহিনী থেকে চলে আসা অসংখ্য হাবিলদার, সুবেদার, কর্পোরাল, সার্জেন্ট ওয়ারেন্ট। এরা সবাই বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্য। দফায় দফায় মিটিং হচ্ছে। তারা বিদ্রোহ করতে চান। কেউ খালেদ মোশাররফকে উৎখাত করতে চান। কেউ চান খালেদ, জিয়াসহ সব অফিসারদের হত্যা করতে। তাহের তাদের লাগামহীন উত্তেজনার রাশ টেনে ধরেন। তাদের বোঝান হত্যা বিপ্লব নয়। তাহের শুধু সৈনিক সংস্থা নয়, জাসদের সামগ্রিক অবস্থাটিও বিবেচনা করেন। ৪ নভেম্বর থেকে আবু ইউসুফ এবং এ বি এম মহমুদের বাসায় শুরু হয় জসদের নেতৃবৃন্দের লাগাতার মিটিং। আসেন সিরাজুল আলম খান, ড. আখলাকুর রহমান, হাসানুল হক ইনু, আ ফ ম মাহবুবুল হক, খায়ের এজাজ মাসউদ, কাজী আরেফ প্রমুখেরা। আসেন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতা হাবিলদার হাই, কর্পোরাল আলতাফ, নায়েব সুবেদার মাহবুব, জালাল, সিদ্দিক প্রমুখেরা। দেশের অন্যতম প্রধান এই দল যারা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার তুমুল দাবি নিয়ে তোলপাড় তুলেছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে, তারা একবার দিকভ্রান্ত হয়েছেন শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের কারণে, বাধাগ্রস্ত হয়েছে তাদের যাত্রা। দ্বিতীয়বারের মতো রাজনীতির গতিপথ বদলে দেবার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন খালেদ মোশাররফ । এবার জাসদ তার সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে মোকাবেলা করতে চায় এ পরিস্থিতি। আর জাসদের প্রধান শক্তি তখন গণবাহিনী এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। দুটি অঙ্গসংগঠনেরই কমান্ডার ইন চিফ তাহের। তাঁরা বলেন, চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার নামে খালেদ মোশাররফ তার সেনাপ্রধান হওয়ার ইচ্ছাই চরিতার্থ করেছেন শুধু। তাছাড়া বিনা বিচারে শেখ মুজিবের খুনিদের দেশত্যাগের সুযোগ দিয়ে বিরাট অন্যায় করেছেন তিনি। ক্যান্টনমেন্টে সিপাইরা মারাত্মকভাবে এজিটেটেড হয়ে যাচ্ছে। তারা খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে যে, তাদের ইউজ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই এই এক্সপ্লয়টেশন চলছে। সিপাইরা এর একটা শেষ দেখতে চায়। তাহের বুঝতে পারেন এ মুহূর্তে জাসদের পক্ষে এরকম একটা পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেবার মতো অবস্থা নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে জাসদ নিষ্ক্রিয় থাকলেও অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে আর্মিতে একটা বিদ্রোহ ঘটবেই। এই বিদ্রোহকে যদি জাসদ নিজেদের পক্ষে আনতে না পারে তাহলে নিশ্চিত যে এর ফল ভোগ করবে শত্রুপক্ষের কেউ।

তাহের জাসদ নেতাকর্মীদের বলেন, আমি সিপাইদের নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট দখল করে নিতে পারব এবং সেখান থেকে অস্ত্র বের করে আনতে পারব বাইরে। আর বাইরে যদি পিপল রেডি থাকে তাহলে এটি একটি জয়েন্ট আপরাইজিং হতে পারে। জাসদের নেতৃবৃন্দ খানিকটা দ্বিধান্বিত থাকলেও তাহেরের আত্মপ্রত্যয় প্রভাবিত করে তাদের। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে একটি অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয় এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেবে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, এরপর জাসদ তার গণবাহিনী এবং অন্যান্য সংগঠনসহ ছাত্র, শ্রমিক জনতাকে এই বিপ্লবে শামিল করবে। এটি হবে সিপাই জনতার বিপ্লব।এই অপারেশনের নেতৃত্ব দেবেন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সুপ্রিম কমান্ডার কর্নেল তাহের। সিদ্ধান্ত হয় পরদিন অর্থাৎ ৫ নভেম্বর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার পক্ষ থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একটি লিফলেট বিলি করা হবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য সিপাই এবং অফিসারদের আসন্ন বিপ্লবী উদ্যোগের ব্যাপারে অভিহিত করা হবে। গোপনে বিপ্লবের সিদ্ধান্ত যখন চূড়ান্ত হয়ে গেছে খালেদ মোশাররফ তখনও তার সেনাবাহিনী প্রধানের পদ নিয়ে দেন দরবার করছেন মোশতাকের সঙ্গে।

এদিকে একই সময়ে ০৩ নভেম্বর থেকে নিজ গৃহে বন্দি হয়ে আছেন জিয়া। ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে চাপা উত্তেজনা। তাহের তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইনু এবং আনোয়ারকে বলেন, মনে রেখো বিপ্লবটা কিন্তু সিপাইদের, আমরা শুধু ফেসিলিটেইট করব। লিফলেটের ড্রাফট তারা করুক পরে আমরা দেখবো।সিপাই অফিসার সবাইকে প্রিপেয়ার করা দরকার। লিফলেটে সিপাইরা তাদের আক্রোশ আর ইচ্ছার কথা লেখেন,

‘‘সৈনিক ভাইয়েরা, আমরা আর ধনিক শ্রেণীর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে চাই না। নিগৃহীত, অধিকার বঞ্চিত সিপাইরা আর কামানের খোরাক হবে না। আসুন আমরা একটা অভ্যুত্থান ঘটাই। আমাদের এই অভ্যুত্থান শুধুমাত্র নেতৃত্বের পরিবর্তন করিবার জন্য হইবে না বরং এই অভ্যুত্থান হইবে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার জন্য। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ঔপনিবেশিক আমলের রীতিনীতি বদলাইয়া ফেলিয়া সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের স্বার্থরাক্ষাকারী একটি বাহিনীতে পরিণত করিব।”

লিফলেটের কারণে সিপাইদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সে খবর খালেদ মোশাররফ পান। এই উত্তেজনা প্রশমনের ব্যবস্থা হিসেবে খালেদ মোশাররফ বিভিন্ন রেজিমেন্টের সিপাইদের ঢাকা থেকে অন্যান্য ক্যান্টনমেন্টে বদলি করতে শুরু করেন। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতাদের খুঁজে বন্দি করবার নির্দেশ দেন তিনি। সিপাইরা তাহেরকে জানান, প্রতিটি মুহূর্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ, আগামীকালের মধ্যে কিছু ঘটাতে না পারলে খালেদ মোশাররফ বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতাদের বন্দি করবেন, বাকিদের বদলি করে দেবেন ঢাকার বাইরে। তখন আর করার থাকবে না কিছুই। সিপাইরা বলেন অভ্যুত্থান ঘটাতে হলে, ঘটাতে হবে আজই। আশ্চর্য কাকতালীয় ব্যাপারই ঘটে। লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার চূড়ান্ত বিপ্লবটি ঘটেছিল ৭ নভেম্বরেই। লেনিনও এমন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছিলেন। স্রোতের তোড়ের মধ্যে তারা তখন সবাই। তাহের বলেন – ‘‘এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে যাতে আমরা ক্ষমতার কেন্দ্রে না থেকেও পরিস্থিতিকে কন্ট্রোল করতে পারব। সেজন্য এই মধ্যবর্তী সময়ে সিপাই এবং জনগণ সমর্থন করবে এমন একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে জাতীয় সংহতি রক্ষা করা দরকার, তাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের নিজেদের অবস্থা অনুকূলে এনে তারপর আমরা পাওয়ার নিতে পারি।” পার্টি সদস্যরা জানতে চান, তাহের কার কথা ভাবছেন? তাহের বলেন , আমি জেনারেল জিয়ার কথা ভাবছি। আপনাদের আগেই জানিয়েছি যিনি আমাকে ইতোমধ্যে তাকে মুক্ত করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন। দুই তারিখ রাতে ফোন ছাড়া পরেও এক সুবেদারের মাধ্যমে আমাকে এস ও এস মেসেজ পাঠিয়েছেন। এ মুহূর্তে উনিই সবচেয়ে এক্সেপ্টেবল হবেন। ন্যাশনালিস্ট, সৎ অফিসার হিসেবে আর্মিতে তার একটা ইমেজ আছে। জাসদের একটিভিটিজের ব্যাপারে উনি বেশ ভালোমতোই জানেন এবং এ ব্যাপারে সবসময় একটা নীরব সমর্থন তার আছে। জাসদকর্মী কাজী আরেফ বলেন, কিন্তু জিয়া আমাদের পক্ষে থাকবেন সেটা আপনি কতটা নিশ্চিত? তাহের বলেন, এ মুহূর্তে জিয়ার অবস্থাটা চিন্তা করে দেখেন। তার তো ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। তিনি ইতোমধ্যে আর্মি থেকে রিজাইন করেছেন। বসে আছেন বন্দি হয়ে। তাকে মেরেও ফেলতে পারে যে কোন সময়। আমরা তাকে মুক্ত করতে পারলে তাকে একরকম মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করা হবে। এ পর্যায়ে আলাপ ওঠে অভ্যুত্থান যদি সফল হয়, বিজয়ী সিপাই জনতা কার নামে স্লোগান দেবে। অনেকেই বলেন, অবশ্যই তাহেরের নামে। কিন্তু তাহের আপত্তি করেন। বলেন, ক্যান্টনমেন্টে আমার নামে স্লোগান হলে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। আমি আর্মি থেকে রিটায়ার্ড একজন মানুষ তাছাড়া সাধারণ মানুষও জাসদের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানে না। জাসদের কোন পাবলিক ফিগারের নামেই স্লোগান হওয়া উচিত। কিন্তু জনগণের কাছে পরিচিত জাসদ নেতা জলিল, রব, শাহজাহান সিরাজ তখন কারাগারে। সে ক্ষেত্রে জিয়ার নামে স্লোগান হলেই ভালো। উনি আর্মির লোক, তাকে আমরা মুক্ত করছি তাছাড়া সাধারণ মানুষের কাছেও তার একটা পরিচিতি আছে। ইতোমধ্যে তার জীবনরক্ষার বার্তা পাঠিয়ে তিনি ক্ষীণ আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন হয়তো তাহের তাকে উদ্ধার করবেন কখনো। খানিকটা বিহ্বল তাহের। আবার নিজেকেই প্রশ্ন করেন তিনি এমন একটি ঘটনার জন্যই কি নিজেকে প্রস্তুত করছেন না সারাটা জীবন? ঠাণ্ডা মাথায় পুরো অভ্যুত্থানের ছকটি তৈরি করতে বসেন তাহের। আর দশটি রাতের মতোই আরও একটি রাত নামে ঢাকা শহরে।

আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ঘড়ির কাঁটা মধ্য রাত পেরোয়, সেদিন ৭ই নভেম্বর। জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করবার দায়িত্ব ছিল হাবিলদার হাইয়ের। তিনি ২০/৩০ জন সিপাই নিয়ে জিয়ার বাসভবনে যান। তারা স্লোগান দিতে দিতে আসেন ’কর্নেল তাহের লাল সালাম, জেনারেল জিয়া লাল সালাম’। গভীর রাতে টেলিফোনের মাধ্যমে নিজের জীবন রক্ষার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাহের যে বাস্তবিকই তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা দেখে উৎফুল্ল হয়ে উঠেন জেনারেল জিয়া। হাই জিয়াকে বলেন, কর্নেল তাহের এলিফ্যন্ট রোডে তার ভাইয়ের বাড়ীতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। খানিকটা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন জিয়া।উঠে পড়েন সৈনিকদের আনা গাড়িতে। এসময় মাঝপথে ফারুক, রশিদের এক সহযোগী মেজর মহিউদ্দীন এসে জিয়াকে বহনকারী গাড়িটিকে থামান। জিয়াকে টু ফিল্ড আর্টিলারিতে নিয়ে যাবার ব্যাপারে মেজর মহিউদ্দীন খুব তৎপর হয়ে উঠেন। সিপাইরা খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। জিয়া টু ফিল্ড আর্টিলারিতে গিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। জিয়া ততক্ষণে ধাতস্থ হয়েছেন তার মুক্ত অবস্থার সাথে। তিনিও আর ক্যান্টনমেন্টের বাইরের কোন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ে যেতে চাইলেন না। জিয়া বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যদের বলেন, তোমরা বরং কর্নেল তাহেরকে এখানে নিয়ে আস। বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার লোকেরা। তাহের এই খবর পেয়ে ইনুকে বলেন, এরা একটা রিয়েল ব্লান্ডার করে ফেলল। আমি চেয়েছিলাম আমাদের বিপ্লবের কেন্দ্রটাকে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে নিয়ে আসতে।

তাহের টু ফিল্ড আর্টিলারিতে পৌঁছালে জিয়া এগিয়ে এসে তাহেরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।জিয়া তাহেরকে বলেন,

‘‘তাহের ইউ সেভড মাই লাইফ,থ্যাঙ্ক ইউ। থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ।” তাহের বলেন, আমি কিছুই করিনি, করেছে এই সিপাইরা। অল ক্রেডিট গোজ টু দেম। জিয়া বলেন, ‘‘লেট মি নো হোয়াট নিডস টু বি ডান। তোমরা যেভাবে বলবে সেভাবেই সবকিছু হবে।”

এরপর তাহের বসেন জিয়ার সঙ্গে আলাপে। কিভাবে তারা এই বিপ্লবটি সংগঠিত করেছেন তা জিয়াকে বিস্তারিত জানান।তাহের বলেন, একটা ব্যাপার আমাদের ক্লিয়ার থাকতে হবে যে পুরো বিপ্লবটা করেছে সিপাইরা, এখানে কোন একক পাওয়ার টেক ওভারের ব্যাপার নাই। আমরা এই মুহূর্তে জাসদের সরকার গঠন করতে চাচ্ছি না, আমরা জাতীয় সরকার করতে চাই। খুব তাড়াতাড়ি একটা সাধারণ নির্বাচন দরকার, রাজবন্দীদের মুক্তি দেয়া দরকার, সৈনিকদের দাবিদাওয়া গুলো নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।আপনি এখানে একটা ক্রুশিয়াল রোল প্লে করবেন। আগামীকাল আমাদের প্রথম কাজ হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা সমাবেশ করা। সমাবেশে আমি এবং আপনি বক্তৃতা দেব। বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণকে অভ্যুত্থানের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা দিতে হবে। এতক্ষণ চুপচাপ শুনলেও বক্তৃতার কথা শুনতেই জিয়া বেঁকে বসে। তাহের বলেন, দেশ একটা সংকট এবং বিভ্রান্তির মধ্যে আছে এ মুহূর্তে জনগণকে সুসংহত করা জরুরি। তাহলে কিন্তু আপনি আপনার কমিটমেন্ট ভঙ্গ করছেন। আপনি বলেছেন আমরা যেভাবে বলব আপনি সেভাবে কাজ করবেন। জিয়া সরাসরি বলেন, কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমি যাবো না। গাড়িতে ফিরতে ফিরতে ইনু বলেন, জিয়া তো কোন কথা রাখবেন বলে মনে হচ্ছে না। তাহের ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে আনতে না পারাটা একটা ব্লান্ডার হয়েছে। বিপ্লবের পুরো সেন্টারটা যাতে বাইরে থাকে সেজন্য আমি অভ্যুত্থানের সময় ক্যান্টনমেন্টে গেলাম না। আমি চাচ্ছিলাম অভ্যুত্থানটার একটা সিভিল ডাইমেনশান তৈরি করতে। রেডিওতেও যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ক্যান্টনমেন্টেই রেকর্ড করা জিয়ার একটি বক্তৃতা প্রচার করা হয়েছে রেডিওতে। সেখানে জিয়া নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সিপাইদের অভ্যুত্থানের কথা বললেও বক্তৃতায় জিয়া কোথাও অভ্যুত্থানের পেছনে জাসদ কিম্বা কর্নেল তাহেরের কথা উল্লেখ করেননি। মূলত সেই ভাষণ থেকেই শুরু হয় জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। এমন বিশ্বাসঘাতকতার নজির হতে পারে শুধুমাত্র পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদদৌলার সাথে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। মূলত তখন থেকেই ইতিহাসের পাতায় জিয়ার নাম লেখা হয়ে গেলো বাংলার দ্বিতীয় মীরজাফর হিসেবে।

এরপরের ইতিহাস সকলেরই জানা। জিয়া তার প্রাণ রক্ষক তাহেরকে একই বছরের ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করেন, তারপর তার বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বরের ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দোষী করেন এবং এক প্রহসনের বিচার করার জন্য ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুন ১নং বিশেষ সামরিক আদালত গঠনের সরকারি ঘোষণা দেয়া হয়। এ আদালত ১৭ জুলাই কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য ৩৩ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদি সাজার রায় ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপতি ১৮ জুলাই এ মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এরপর বিশ্বাসঘাতক জিয়া ৭ নভেম্বরের কৃতিত্ব (এবং নেতৃত্ব) নিজে নিয়ে নেন, দিনটিকে ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান’-এর বদলে কথিত বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে প্রচার করেন। আর এর সঙ্গে সঙ্গে সেনা ছাউনিগুলো থেকে বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সিপাহী ও অফিসারদের আটক করে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে গুপ্ত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকেন। হাজার হাজার সিপাহী-অফিসারকে হত্যা করা হয় এভাবে। হাজার হাজার সিপাহী-অফিসার এবং জাসদ সংগঠকদের জেলখানায় আটক রেখে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকে এসব কাণ্ড। ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় ‘সিপাহী-জনতার গণঅভ্যুত্থান’ এর মূল চেতনা।

শেষ কথা : সেই ৭ নভেম্বরের প্রত্যাশা যদি পূরণ হতো তাহলে বাংলাদেশ আজ অন্য বাংলাদেশ হতো। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে থাকতো ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের দর্শনে। এই বাংলাদেশে জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী জনগণের বাহিনী ছাড়া কখনই সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের প্রতিভূদের ক্রীড়নক হিসেবে কোন শক্তি থাকতো না, দেশে যুদ্ধাপরাধী বা মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তির অস্তিত্ব থাকতো না। এমনকি দেশে কথিত ওয়ান ইলেভেন ঘটিয়ে সাম্রাজ্যবাদ-বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ চক্রের জয়জয়কার ঘটানোর অবকাশ থাকতো না, সামরিক শাসকদের সৃষ্ট বিএনপি-জামায়াত জোটকে নানা কৌশলে গণ রোষ থেকে রক্ষা করে ফের রাজনীতি করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার সুযোগও ঘটতো না। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষত-বিক্ষত করে বৃহত্তর জনগণের প্লাটফর্মকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টাও সম্ভব ছিল না। সুতরাং এখানে ৭ নভেম্বরের আসল প্রত্যাশাগুলো পূরণ হয়নি। আর পূরণ হয়নি বলেই শাসিত-বঞ্চিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর লড়াইও শেষ হয়নি। একই কারণে কর্নেল তাহের এবং তাঁর ৭ নভেম্বরও শেষ হয়নি। শেষ হবে না যতোদিন না বিপ্লবের বিজয় আসবে।

৪৬ thoughts on “৭ নভেম্বর ‘সিপাহী-জনতার গণঅভ্যুত্থান’ ও কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ড

  1. কি হয়েছিলো ‘৭৫ এর ৭ নভেম্বর?
    কি হয়েছিলো ‘৭৫ এর ৭ নভেম্বর? আমরা ‘৭৫ পরবর্তি প্রজন্মে স্পষ্ট ভাবে তেম কিছুই জানিনা। যা জানি তা শুধু অন্যের মুখে ঝাল খাওয়ার মতো ব্যাপার। একজনের একটা মন্তব্য দেখেছিলাম।- “আমি নিশ্চিত বিএনপির ৯৫% নেতাকর্মীও জানেনা ৭ নভেম্বরে আসলেই কি হয়েছিলো? অথচ ঘটা করে তারা বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করে।” কথাটার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি আমার পরিচিত এক ছাত্রদলের বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম। আমতা আমতা করে উনি যা বললেন তা শুনে নিশ্চিত হলাম কথাটা আসলেই সত্যি।

    দারুন লিখেছেন উত্তর বাংলা ভাই। গতকাল রাতেই ভাবছিলাম আমাদের উত্তর বাংলা ভাইয়ের কাছ থেকে অনেকদিন হোল লেখা পাচ্ছিনা। ভাবতে না ভাবতেই এইরকম চরম একটা পোস্ট। লেখাটা স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি। সবার জানা দরকার এই ইতিহাস।

    1. আমি এক ছাত্রদল নেতাকে
      আমি এক ছাত্রদল নেতাকে (কেন্দ্রীয় সদ্দস্য ছিলেন এ্যানি-সোহেল কমিটির) জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনারা যে বলেন, “বাংলার কোরাজান, খালেদা জিয়া লও সালাম”, এটার মানে কি? আর কোরাজান শব্দের মানে কি, কোন ভাষার শব্দ? উনি উত্তরে বলছিলেন, কোন ভাষার শব্দ জানি না। তবে মানে হছে আপোষহীন নেত্রী। হা হা হা …… ফিলিপিন্সের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন কোরাজান একুইনো, সামরিক শাসক ফারডীনান্ড মার্কোসের পতনের পরে। সম্ভবত ১৯৮৬ সালে। তারও ছিল বেগম জিয়ার মতো ফুলানো চুল ও সানগ্লাস।

      নিজ কাম কাজে একটু দৌড়ের উপরে আছি আতিক ভাই। তাই অনেক দিন পোস্ট দেয়া হয়নি। ধন্যবাদ।

    2. আতিক ভাই ৭ নভেম্বর কে জানা
      আতিক ভাই ৭ নভেম্বর কে জানা আসলেই কঠিন একটা বিষয়। দীর্ঘ ৩৮ বছরের প্রেক্ষাপটে আজ অনেক কিছুই পরিবর্তিত যে ক্যাপ্টেন হাফিজ, খালেদ মোশারফ- শাফায়েত জামিলের পক্ষে থেকে জিয়াউর রহামান কে আটকে রেখে ছিলেন তিনি পরবর্তীতে বিএনপির মন্ত্রী হন স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে ইতিহাস বিকৃত হবে।

      তারপরেও কিছু বই আছে যেগুলো ফিল্টার করলে একদম কম জানা যাবে না—–
      ১। কর্নেল হামিদের তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা
      ২। শাহাদুজ্জামানের ক্র্যাচের কর্নেল
      ৩। কর্নেল শাফায়েত জামিলের রক্তাত্ব মধ্য আগস্ট

      আরও কিছু যেগুলো জানতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে হাসানুল হক ইনু এবং আনোয়ার স্যার অনেক বেশি জানেন। তাদের লেখায়ও পাওয়া যাবে কিছু।

      1. কিরন ভাই, এই প্রসঙ্গে আরও
        কিরন ভাই, এই প্রসঙ্গে আরও দুইটী বইয়ের কথা বলতে পারি।
        1) Bangladesh : The Unfinished Revolution : by Lorence Liftsuluz
        2) Democrecy and the challenge of Development : A Study of Political and Military Interventions in Bangladesh : By Maudud Ahmed
        3) Bangladesh : A legacy of Blood – by Anthony Mascarenhas.

        লিগ্যাসী অফ ব্লাডের বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়, বাংলাদেশ রক্তের ঋণ – অনুবাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, হক্কানী পাবলিশার্স।

        আসলেই এটা অনেক বড় ব্যাপার, স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা কঠিন। তবে কিছু লিংক দিলাম। হয়তো কিছুটা জানা যাবে এখান থেকে।

        ১) ঢাকা কারাগারে গোপন বিচার ও তাহের হত্যাকাণ্ড : ডঃ আনোয়ার হোসেন

        ২) স্মরণীয় সেই দিন : লরেন্স লিফশুলজ

        ৩) সাতই নভেম্বর, জেনারেল জিয়া ও কর্নেল তাহের : নির্মল সেন

        এছাড়া সামরিক আদালতে দেয়া কর্নেল তাহের জবানবন্দি থেকেও কিছু জানা যায়। যা নীচের লিংকে
        ক) অসমাপ্ত বিপ্লব, তাহেরের শেষ কথা – ০১

        খ) অসমাপ্ত বিপ্লব-তাহেরের শেষ কথা : ০২

        গ) অসমাপ্ত বিপ্লব-তাহেরের শেষ কথা : ০৩

        আর কিছু লিংক দেয়া যায়। কিন্তু আমাকে ঝাড়ুপিটা খাওয়া লাগে নাকি সেই চিন্তায় দিলাম না!! 😀 😀 😀 😀

        1. আপ্নেরে ঝাড়ুপিটা করবো ক্যান??
          আপ্নেরে ঝাড়ুপিটা করবো ক্যান?? :মাথাঠুকি: :মানেকি: :ক্ষেপছি: কর এতো বড় সাহস… :খাইছে: :এখানেআয়: :এখানেআয়:

  2. ৭ নভেম্বর কি ঘটেছিল এই
    ৭ নভেম্বর কি ঘটেছিল এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে আপনার পোষ্টটিতে প্রদত্ত তথ্য আমার কাছে যতেষ্ট মনে হয়নি ।বিশেষ করে ১/খালেদ মোশারফ, বীর বিক্রম কর্নেল নাজমুল হুদা, কর্নেল হায়দার হত্যার বর্ণনা বা হত্যার পেছনের কারণ ও ২/জলিলের কাছে মেজর জিয়ার ফোন, এই দুটি বিষয় অজানাই থেকে গেল ।
    উত্তর বাংলা ভাই, উল্লেখিত দুটি বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কিছু তথ্য(যদি আপনার কাছে থাকে) মুল পোষ্টে সংযোজনের জন্য অনুরোধ জানালাম ।

    [এই লিংটিও একটু দেখবেন http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-08/news/303586%5D

    1. মেজর জলিল না শাহীন ভাই, আপনি
      মেজর জলিল না শাহীন ভাই, আপনি টাইপিং মিসটেক করছেন। কর্নেল তাহের হবে। যাই হোক, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমি শুধু সাত নভেম্বর নিয়েই লেখতে চাইছিলাম। তাড়াহুড়াও করছি।

      বীর যোদ্ধা শহীদ খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম, মেজর হুদা এবং মেজর হায়দারের নিহত হওয়া প্রসঙ্গে গত ০৭ নভেম্বর টিভি টক শোতে অপর এক বীর যোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিন যা বলেছেন তা ০৯ তারিখের বাংলাদেশ প্রতিদিনের তৃতীয় পাতায় প্রকাশিত হয়। এখানে তা তুলে দিলাম-

      বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্ব বহন করা একটি দিন হচ্ছে ৭ নভেম্বর। এর সব কিছুই ভূলুণ্ঠিত হয়েছে চোরাপথে। ৭ নভেম্বরের নেতা হচ্ছেন কর্নেল তাহের। বৃহস্পতিবার বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রণব সাহা অপুর উপস্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) জিয়াউদ্দীন এ কথা বলেন। এ সময় এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

      মেজর জিয়াউদ্দীন বলেন, সময়টা ছিল বিপ্লবের। খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরের মধ্যে নিগূঢ় বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে এই মুভমেন্ট হয়েছিল। তাদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগটা ঘটাতে পারলে কর্নেল হুদা, খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হায়দারকে এভাবে জীবন দিতে হতো না।

      তিনি আরও বলেন,

      ৭ নভেম্বর খুব ভোরে তারা যখন যাচ্ছিলেন তখন সেকেন্ড বেঙ্গলের চেকপোস্টে ধরা পড়েন। তাদের সেখান থেকে সম্মানের সঙ্গে ওপরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের জন্য নাশতা দিতে বলা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে একটা ফোন আসে আর্মির হেডকোয়ার্টার থেকে। ফোনে বলা হলো এদের এখনো বসিয়ে রেখেছ? এদের কী করতে হবে তোমরা জান না? আমার মনে হয় এ হুকুমটি জিয়াউর রহমান নিজেই দিয়েছিলেন।

      এই মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, কর্নেল হায়দারের অপরাধ ছিল জলিল নামে এক জুনিয়র আর্মি অফিসারকে একটা কোর্ট মার্শাল করা হয়েছিল, একটি খাসিয়া মেয়েকে অত্যাচার করার অপরাধে। কর্নেল হায়দার সেই রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। জলিলের অল্প বয়স এবং মুক্তিযুদ্ধে তার অবস্থান চিন্তা করে একটি লঘু শাস্তি দিয়েছিলেন কর্নেল হায়দার। এরই প্রতিদান পেলেন কর্নেল হায়দার।

      মেজর জিয়াউদ্দীন বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের ফোন পাওয়ার পরেই তাদের নিচে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করলেন ক্যাপ্টেন জলিল ও ক্যাপ্টেন আসাদ। সেখানে কর্নেল নওয়াজিশসহ আরও অনেক সিনিয়র অফিসার ছিলেন। তিনি বলেন, বিপ্লবে নাচানাচি হয়। যারা বঞ্চিত গোষ্ঠী তারাই নাচানাচি করে। সেই সময়টা ছিল বিপ্লবের। এ অভ্যুত্থানটার বিরুদ্ধে জেনারেল খালেদ মোশারফকে কখনো টার্গেট করা হয়নি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে জনতার অভ্যুত্থানটি হয়েছিল।

  3. ৭ই নভেম্বর নিয়ে মেজর জেনারেল
    ৭ই নভেম্বর নিয়ে মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবের একটা লেখা গত ৭ই নভেম্বরে ছিল । উনারর ওয়াল থেকে দেখে নিতে পারেন ।

    1. খাজা ভাই, আমি সাত নভেম্বর
      খাজা ভাই, আমি সাত নভেম্বর নিয়ে বেশ কিছু লেখা পড়েছি। কিন্তু এই ঘটনায় সিআইএ’র ইনভল্ভমেন্ট নিয়ে কিছু আমার চোখে পড়েনি কোন লেখাতেই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি। কথাটা আমার নয়। এক কট্টর জাসদ বিরোধী সাংবাদিক মাসুদুল হকের। যিনি স্বাধীনতার যুদ্ধে সিআইএ এবং র নামে একটা দারুণ তথ্যবহুল বই লিখছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “জাসদের জন্মের পিছনে অনেকেই সিআইএ’র অদৃশ্য হাতের কথা বলে থাকেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন বস্তুনিষ্ট এবং বিশ্বাস যোগ্য কোন প্রমাণ কেউই দিতে পারেননি।” ……………… হয়তো সাত নভেম্বরে সিআইএ বা ০৩ নভেম্বরে র এর অদৃশ্য হাতের কথা যা বলা হয় সেসবও অনুমান নির্ভর। এটা আমার নিজস্ব মত। ধন্যবাদ।

  4. অনেক কথা বলার আছে কিন্তু ঠিক
    অনেক কথা বলার আছে কিন্তু ঠিক কিভাবে বলব সব কেন জানি গুছিয়ে লিখতে পারছি না। ৭ নভেম্বর অনেক বড় এবং কত গুলো ঘটনার চেইন একটা ঘটনা শুধু ৭ নভেম্বর নিয়ে লিখলে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব হয় না। তারপরও আপনি অনেক ভাল লিখেছেন।

    ৭ নভেম্বর এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনা… (কোন বই কাছে না থাকার কারণে তারিখে ভুল হতে পারে)

    ১৫ অগাস্ট, বঙ্গবন্ধু ও ওনার পরিবার কে হত্যা
    ১৬ অগাস্ট, খন্দকার মোশতাক সরকার প্রধান ও জিয়াউর রহমান সেনা প্রধান
    ১ নভেম্বর, খালেদ মোশারফ-শাফায়েত জামাল কর্তৃক সেনা বিদ্রোহ
    ২ নভেম্বর, খালেদ মোশারফ সেনা প্রধান হিসাবে নিয়োগ
    ৩ নভেম্বর, জাতীয় চার নেতা হত্যা ও বঙ্গবন্ধু খুনি ফারুক, রশিদদের দেশ ত্যাগ
    ৭ নভেম্বর, তাহেরের সহায়তায় পাল্টা সেনা বিদ্রোহ, সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফকে হত্যা

    কর্নেল তাহেরের আদর্শ নিয়ে আমার দ্বন্দ্ব নাই কিন্তু তিনি তার হাতিয়ায় হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান কে যিনি কিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেনাপ্রধান হয়েছিলেন!

    তার সহায়তার বিদ্রোহে খুন হন খালেদ মোশারফ কিন্তু খালেদ মোশারফ জিয়াকে চার দিন বন্দী রেখেও তাকে কিছু করেন নি!

    জাতীয় চার নেতা হত্যার কথা তাহের জানতেন কি না সেটা আমার কাছে স্পষ্ট না। সিরাজুল আলম খান সহ অন্যান্য নেতারা তাহেরকে কে সাপোর্ট দিলেও জাসদের গণ বাহিনী ও সেনা বিদ্রোহের পর ইনু আর আনোয়ার ছাড়া উচ্চ পর্যায়ের কারো সাহায্য তিনি পাননি!

    দ্বিতীয়বারের মতো রাজনীতির গতিপথ বদলে দেবার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন খালেদ মোশাররফ । এবার জাসদ তার সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে মোকাবেলা করতে চায় এ পরিস্থিতি। আর জাসদের প্রধান শক্তি তখন গণবাহিনী এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। দুটি অঙ্গসংগঠনেরই কমান্ডার ইন চিফ তাহের। তাঁরা বলেন, চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার নামে খালেদ মোশাররফ তার সেনাপ্রধান হওয়ার ইচ্ছাই চরিতার্থ করেছেন শুধু।

    খালেদ যদি এটা করে থাকেন তাহলে জিয়া, যিনি কিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সবচাইতে বেশি প্রিভিলাইজড তার মত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কিভাবে বিপ্লব সফল করার স্বপ্ন দেখেন!

    খালেদ সেনা প্রধান হওয়ার পর তার মা-ভাই মিছিল করে ৩২ নম্বরে যান। জিয়া গোষ্ঠী আওয়াজ তোলে দেশ ভারতের অধীনে চলে যাচ্ছে। এর পক্ষে প্রচুর লিফলেট বিলি করে প্রচারণা চালানো হয়। অন্য দেশ বা সংস্থার ইন্ধন না থাকলে কি এত কিছু সম্ভব হত?

    আসলে বিপ্লবের জন্য যে সময় বা মানুষের উপর ভরসা করেছিলেন সেটাই ঠিক ছিল না। কে জানে আইএসআই-সিআইএ সিরাজুল আলম খানের মাধ্যমে তাহের কে ব্যবহার করেছে কিনা!

    1. ১ নভেম্বর, খালেদ

      ১ নভেম্বর, খালেদ মোশারফ-শাফায়েত জামাল কর্তৃক সেনা বিদ্রোহ
      ২ নভেম্বর, খালেদ মোশারফ সেনা প্রধান হিসাবে নিয়োগ
      ৩ নভেম্বর, জাতীয় চার নেতা হত্যা ও বঙ্গবন্ধু খুনি ফারুক, রশিদদের দেশ ত্যাগ

      এই তিনটা ঘটনা একই দিনের এবং তারিখটা ০৩ নভেম্বর ১৯৭৫। আর এতোগুলো বিষয় নিয়ে এক সাথে লিখতে গেলে তো একটা বইই লিখে ফেলতে হবে। আমি চাইছিলাম শুধুমাত্র সাত নভেম্বর নিয়ে লিখতে। এবং এটাও ধারণা করেছিলেন বাকী বিষয়গুলা কম বেশী সবাইই জানেন। তাই সেদিকে যাইনি। তবে উপরে কমেন্টে কয়েকটা লিংক দিয়েছি। পড়া না থাকলে সময় করে পড়তে পারেন। হয়তো অনেক প্রস্নের উত্তর পেতে পারেন।

      আর একটা কথা, আপনার শেষ লাইনটা ভিত্তিহীণ। কেননা, ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ঠিক ঐ সময়টাতে (জাসদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে) গণবাহিনী এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ছিল জাসদের মূল স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং দুইটা উইং এরই প্রধান ছিলেন কর্নেল তাহের। সিরাজুল আলম খান জাসদের অনেক কিছুরই প্রণেতা হলেও ০৭ নভেম্বরটা আসলেই কর্নেল তাহেরের সিদ্ধান্তেই ঘটেছিল। সেখানে সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা নিতান্তই গৌন ছিল। মূল পোস্টে মনে হয় এবিষয়ে খানিকটা উল্লেখ আছে। থ্যাংকুজ!!

      1. আর একটা কথা, আপনার শেষ লাইনটা

        আর একটা কথা, আপনার শেষ লাইনটা ভিত্তিহীণ। কেননা, ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ঠিক ঐ সময়টাতে (জাসদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে) গণবাহিনী এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ছিল জাসদের মূল স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং দুইটা উইং এরই প্রধান ছিলেন কর্নেল তাহের।

        ৭ নভেম্বর তাহের যে তার দলীয় অনেক নেতার কাছ থেকে সাহায্য পাননি সেটা শাহাদুজ্জামান এর বইয়ে উল্লেখ আছে। হ্যাঁ ৭ তারিখের বিদ্রোহের পিছনে তাহেররে ভূমিকায় সব চাইতে বেশি ছিল কিন্তু বাকি লিডারদের অনেকেই তাদের কমিটেড হেল্প ও করেননি।

        1. কিরন, ইতিহাস বলে জাসদ সেই সময়
          কিরন, ইতিহাস বলে জাসদ সেই সময় এই অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল ১৯৭৬ সালের জুলাই মাস। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা, খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের অভ্যুত্থান, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড এবং দেশের তৎকালীন বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এটা করতে হয়েছিল। আপনি ক্রাচের কর্নেলেই পাবেন এই সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। জাসদ, গণবাহিনী এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো ক্যান্টনমেন্টের বাহিরে তাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। আমি আসলে ভিত্তিহীন বলেছি একদম শেষ লাইনটাকে। যেখানে আপনি বলেছেন,

          কে জানে আইএসআই-সিআইএ সিরাজুল আলম খানের মাধ্যমে তাহের কে ব্যবহার করেছে কিনা!

          এটা ভিত্তিহীন কারণ সিরাজুল আলম খানই কিন্তু আলোচনার একদম শেষ দিকে তাহেরকে সমর্থন করেন ৭ নভেম্বরেই বিপ্লবের তারিখ নির্ধারণে। আসলে মি বলতে চাইছি এই ঘটনাটাতে সিরাজুল আলম খানের ইনভলমেন্ট থাকলেও পলিসি মেকিং এর ক্ষেত্রে সব দায়িত্ব ছিল তাহেরের উপরে। ধন্যবাদ ভাইজান।

    2. খালেদ সেনা প্রধান হওয়ার পর

      খালেদ সেনা প্রধান হওয়ার পর তার মা-ভাই মিছিল করে ৩২ নম্বরে যান। জিয়া গোষ্ঠী আওয়াজ তোলে দেশ ভারতের অধীনে চলে যাচ্ছে। এর পক্ষে প্রচুর লিফলেট বিলি করে প্রচারণা চালানো হয়। অন্য দেশ বা সংস্থার ইন্ধন না থাকলে কি এত কিছু সম্ভব হত?

      খালেদ মোশাররফ কিন্তু খুবই রাগান্বিত হয়েছিলেন তার মা এবং ভাইয়ের মিছলের সামনে থাকা নিয়ে। সেই দিনই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে প্রথম বাংলা মাটিতে জয় বাংলা শোনা যায় প্রকাশ্যে। এই মিছিল এবং অভ্যুত্থান নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া বারাবারি রকমের প্রতিক্রিয়া দেখায়। এবং এতে করে মনে হতে থাকে খালেদের পিছনে রয়েছে ভারতের সমর্থন এবং ভারত খালেদের মাধ্যমে বন্দি আলীগ নেতাদের দিয়ে আবারও বাকশালে ফিরে যাওয়ার একটা চেষ্টা চলছে। আর এই সন্দেহের বশেই প্রাণ দিতে হয় জাতীয় চার নেতাকে। ফারুক-রশিদ-মশতাক গং এটাই বিশ্বাস করেছিল তাই সরিয়ে দেয়া হয় আলীগের হাল ধরার মতো নেতৃবৃন্দদের যার পরিকল্পনা তাদের অনেক আগেই করা ছিল যে উদ্ভূত যে কোন নেগেটিভ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষনিকভাবে এই চারজনকে সরিয়ে দেয়া হবে। এই প্রসঙ্গে আন্থনি মাসকারেনহাসের লিগাসি অফ ব্লাড বইয়ে অনেক বিস্তারিত করে বলা হয়েছে। আর লিফলেট প্রচারণা তো জাসদ, গণবাহিনী এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা করেছে। তা কিন্তু মোটেই কঠিন ছিল না সেই সময়ে। এই প্রসঙ্গে লরেন্স লিফশুলজের বাংলাদেশ দা আন ফিনিশড রেভুলিউশন থেকে কয়েকটা লাইন তুলে দিচ্ছি –

      তাহের তার ঘনিষ্ট সহযোগী ইনু ও আনোয়ারকে নিয়ে বসলেন। বলেন, মনে রেখো বিপ্লবটা কিন্তু সিপাহীদের। আমরা শুধু ফেসিলিটেড করবো। লিফলেটের ড্রাফট তারা করুক আমরা শুধু দেখে দিবো।

      লিফলেটের খসড়া তৈরী করেন ট্যাংক রেজিমেন্টের হাবিলদার বারী এবং নায়েক সুবেদার জালাল। পরে ইনু, আনোয়ারসহ কয়েকজন তা চূড়ান্ত করেন। জাসদের রাজনৈতিক প্রকাশনা দেখতেন শামসুদ্দিন পেয়ারা, তাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয় লিফলেট ছাপানোর। সেই রাতেই শামসুদ্দিন জিন্দাবাজারে তার পরিচিত এক প্রেস থেকে ১০ হাজার লিফলেট লিফলেট ছাপিয়ে আনেন। তাহের তখন তাঁকে বলেন, লিফলেটগুলো ক্যান্টনমেন্টের ফার্স্ট গেটে দিয়ে আসো। ভয়ের কিছু নেই ওখানে যারা ডিউটিতে থাকবে তারা আমাদের লোক (বিপ্লবী সনিক সংস্থা), কারো সাথে তোমাকে কোন কথা বলতে হবে না। হাতে বান্ডীল দেখলেই তারা বুঝবে। কথা অনুযায়ী শামসুদ্দিন পেয়ারা ক্যান্টনমেন্ট গেটে গিয়ে বিনা বাক্য ব্যায়ে তা রেখে আসেন। সেখান থেকে সংগ্রহ করে সেরাতেই সৈনিকরা পুরো ক্যনাটন্মেন্টে লিফলেট ছড়িয়ে দেয়।

      1. জেল হত্যা প্রসঙ্গে —
        ০৩

        জেল হত্যা প্রসঙ্গে —

        ০৩ নভেম্বর যখন বঙ্গভবনে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনীচক্র ফারুক রসীদ গং বুঝতে পারলেন একটা পাল্টা ক্যু ঘটে গেছে। ………… অভ্যুত্থান শুরু হবার পর থেকে বাহিরে যে সাংঘাতিক অবস্থা বিরাজ করছিল তার প্রতিফলন ঘটে বঙ্গভবনেও। একদিকে ফোন বাজছে। অন্যদিকে একের পর এক নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। লোকজন খবর নিয়ে উদভ্রান্তের মতো ছুটাছুটি করছে। এরই মাঝে রশিদ বাহিরে অবস্থানরত সৈনিকদের উপরেও নজর রাখছেন। ভোর চারটার একটু পরে রশিদ আরও একটা ফোন রিসিভ করলেন। রশিদের ভাষায়,”ঐ বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যেই টেলিফোনটা বেজে উঠলো। রিসিভার তুলেই আমি শুনতে পেলাম একজন ভারী কথা বলছেন, – আমি ডিআইজি প্রিজন কথা বলছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আলাপ করতে চাই।”

        রশিদ মোস্তাককে ফোনটা দিলেন। তিনি কিছুক্ষণ ধরে কেবল হ্যাঁ হ্যাঁ করতে থাকেন। তার কথা পরিষ্কার বুঝা না গেলেও যে কোন ব্যাপারে যে তিনি সম্মতি জ্ঞাপন করছিলেন এতে আর কোন সন্দেহ নেই।

        টেলিফোনে যখন এই আলাপ চলছিল তখন ফারুক রসীদের “পূর্ব পরিকল্পিত আকস্মিক পরিকল্পনা” কার্যকরী করার জন্য রিসালাদার মুসলেহউদ্দিন তার দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশের অপেক্ষারত। অস্ত্র হাতে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে তা নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষের সাথে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডিআইজি প্রিজন কারাগারে এসে হাজির হয়। পরে টেলিফোনে প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করে (যে ফোনের কথা আগেই বলা হয়েছে) ডিআইজি মুসলেহউদ্দিনকে তার দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেন। সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের আর এক ন্যক্কারজনক হত্যাযজ্ঞ। জেলের ভিতরেই হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। (Bangladesh : A legacy of Blood by Anthony Mascarenhas, Page 128-130)

      2. আমি সাত তারিখের লিফলেট এর কথা
        আমি সাত তারিখের লিফলেট এর কথা বলি নাই। আমি বলেছি, দেশ ভারত দখল করে নেবে এই জাতীয় যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল সে সম্পর্কে। জাসদ তো প্রস্তুত ছিল সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক এর বিদ্রোহ সংক্রান্ত প্রচারণায়।

        1. আমি বলেছি, দেশ ভারত দখল করে

          আমি বলেছি, দেশ ভারত দখল করে নেবে এই জাতীয় যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল সে সম্পর্কে।

          এই প্রপাগন্ডা সৈনিক সংস্থা বা জাসদ ছড়িয়েছে এমনটা মনে হয় আপনি তথ্য দিতে পারবেন না। আর লিফলেট সৈনিক সংস্থার ব্যানারে একবারই বিলি করা হয়েছিল। সেটা ৫ নভেম্বর রাতে। তবে হ্যাঁ, ১৯৭৪ সালের শেষ দিক থেকেই সৈনিকদের মধ্যে একটা অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এবং এমনই সময়ে কাকতালীয়ভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ ঘটে যায় কর্নেল তাহেরের যখন তিনি নারায়ণগঞ্জে বেসামরিক চাকুরীতে কর্মরত। আর সৈনিক সংস্থার বিলিকৃত লিফলেটে শুধুই সৈনিকদের বারো দফা দাবীরই উল্লেখ ছিল। যার মধ্যে একমাত্র রাজনৈতিক দাবী ছিল সকল রাজবন্দির মুক্তি। বাকী সবই ছিল সেনাবাহিনী সংক্রান্ত। আসলে খালেদ ০৩ নভেম্বর ক্যু করার পরে এবং তাঁর মা ও ভাই মিছলে নেতৃত্বে দিয়ে খন্দকার মুশতাক, ফারুক-রশীদ তথা একাত্তরের পরাজিত পক্ষ অনুমান করে নিয়েছিল যে, খালেদের এই বিদ্রোহের পিছনে ভারতের হাত রয়েছে। তখনই তারা এই ভারত দখল করে নিবে এই টাইপের প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়।

    1. আমি শুধু সাত নভেম্বর নিয়েই
      আমি শুধু সাত নভেম্বর নিয়েই লিখতে চাইছিলাম দুলাল ভাই। ধন্যবাদ। আপনার নতুন পথের যাত্রা (টেলিফিল্ম) শুভ হোক। :গোলাপ: :গোলাপ:

  5. অসাধারণ লিখেছেন উত্তর বাংলা
    অসাধারণ লিখেছেন উত্তর বাংলা ভাই(পূর্বে একবার বাংলা ভাই বলে বিতর্কিত হয়েছিলাম তাই সেই ভুল আর করলামনা)।তবে কিনা আমার অনুসন্ধিৎসু মন আরো অনেক কিছুই জানতে চায়। জানার আগ্রহ থেকেই বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক মাহমুদুল বাসারের একটি প্রতিবেদন আমার চোখে পড়ে,যা হুবহু তুলে ধরলাম।

    ইতিহাসের রহস্যের তল খুঁজে পাওয়া সত্যিই মুশকিল। সামরিক শাসকের সাজানো কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ জবানবন্দি দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের। এরপর তারই ভাই আরেক সামরিক শাসকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবানবন্দি দিলেন। তিনি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
    কর্নেল আবু তাহেরের জবানবন্দিটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। সুদীর্ঘ, ধারালো, পরিশীলিত ভাষায় লেখা। অগ্নিগর্ভ অভিভাষণ, এতে সন্দেহ কী? যদিও নতুন প্রজন্মের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাহেরের সব কথার সঙ্গে একমত হতে পারব না, কিন্তু তার জবানবন্দিতে যে তেজস্বিতা, সৎসাহস, দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে, তাকে স্যালুট করি। জবানবন্দির এক জায়গায় বলেছেন, ‘নিঃশঙ্কচিত্তের চেয়ে জীবনে আর কোনো বড় সম্পদ নেই। আমি তার অধিকারী। আমি আমার জাতিকে তা অর্জন করতে ডাক দিয়ে যাই।’ রক্তে আগুন ধরানো কথা। রবীন্দ্রনাথও বলেছেন, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য মুক্ত সেথা শির।’
    জবানবন্দির শুরুতে কর্নেল তাহের বলেছেন,

    ‘ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এই দেশের সঙ্গে আমি রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। আর এরা কীভাবে অস্বীকার করে এই দেশের অস্তিত্বে আমি মিশে নেই। যে সরকারকে আমিই ক্ষমতায় বসিয়েছি, যে ব্যক্তিটিকে নতুন জীবন দান করেছি তারাই আজ এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আমার সামনে এসে হাজির হয়েছে। এদের ধৃষ্টতা এতবড় যে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো আরও বানানো অনেক অভিযোগ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা করেছে।’ (অসমাপ্ত বিপ্লবÑ লরেন্স লিফৎসুলজ, পৃ. ১৩০)।

    জিয়াউর রহমানের কথা বলেছেন। জিয়াকে কর্নেল তাহেরই জীবনদান করেছেন। জিয়া তার উপযুক্ত প্রতিদানই দিয়েছেন। এমন বড় মাপের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যিনি ব্ল্যাকমেইলিং করতে পারেন, জীবন দাতার জীবন কেড়ে নিতে পারেন, ক্ষমতার মোহে তিনি কি-না করতে পারেন? ক্ষমতার মোহে তিনি মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। সংবিধানে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়েছেন। রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। অথচ সেদিন দৈনিক ‘যায়যায়দিন’-এ দেখলাম, একজন বামপন্থি প-িত জিয়াউর রহমানের ওপর কলাম ফেঁদেছেন। এসব হচ্ছে ঈর্ষা এবং হীনমন্যতা।
    জবানবন্দিতে কর্নেল তাহের স্বীকার করেছেন,

    এই ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডকৃত দলিলপত্রেই দেখা যায় যে, ১৯৭৫-এর ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আমার নেতৃত্বে সিপাহি অভ্যুত্থান হয়। সেদিন এভাবেই একদল বিভ্রান্তকারীর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র নির্মূল করা হয়। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দীদশা থেকে মুক্তি পান আর দেশের সার্বভৌমত্বও থাকে অটুট। এই যদি হয় দেশদ্রোহিতার অর্থ তাহলে হ্যাঁ, আমি দোষী।’

    কর্নেল তাহেরের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা রেখে আমি এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। তাহেরের নেতৃত্বে ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটে সেনানিবাসে, এটা অবিসংবাদিত সত্য। কিন্তু ‘একদল বিভ্রান্তকারী’ কাদের বলেছেন তিনি? বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফকে? কী ‘ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র’ করেছেন তিনি? তিনি তো ডালিম, ফারুক, রশীদদের ঔদ্ধত্য প্রতিহত করে সেনাবাহিনীতে চেইন অফ কমান্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার লক্ষ্যে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন। এ অভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল। আর সেনাপ্রধান তো জিয়া নন, জেনারেল সফিউল্লাহ। এটা ঠিক যে, খালেদ মোশাররফের পরিকল্পনায় ভুল ছিল, সে ভুলের খেসারতও তিনি দিয়েছেন জীবন দিয়ে। কিন্তু তাই বলে তিনি ‘ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী’ নন। তিনি সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার জন্য এ অভ্যুত্থান ঘটাননি। তাহেরের প্রভাবে অনেক সেনা অফিসারকে সিপাহিরা উত্তেজিত হয়ে হত্যা করে। তারা প্রত্যেকে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তাহেরের জবানবন্দিতে এ সত্য দীপ্তমান যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনার মূল নায়ক কর্নেল তাহের, জিয়ার কোনো ভূমিকাই নেই। জিয়া তো ভয়ে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি করুণ সুরে তাহেরকে বলেছিলেন, ‘সেভ মি প্লিজ।’ তাহেরের অনুগত সৈনিকরা জিয়াকে বন্দীদশা থেকে বের করে এনে সাজানো বীরত্বের মাল্যে ভূষিত করেন। জিয়া বের হয়ে তাহেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাহের বলেন, ‘জিয়াকে আমি তার নৈশ পোশাকে পেলাম। সেখানে ব্রিগেডিয়ার মীর শওকতসহ আরও ক’জন অফিসার ও সৈনিক ছিল। জিয়া আমাকে আর আমার ভাইকে গভীরভাবে আলিঙ্গনাবদ্ধ করলেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি আমাদের তার জীবন বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন। তার জীবনরক্ষার জন্য আমার প্রতি ও জাসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, আমরা যা বলব তিনি তাই করবেন।’ কিন্তু ধুরন্ধর, চৌকস জিয়া তা করেননি, করেছেন তার উল্টোটা। জিয়া যে কাপুরুষ ছিলেন, সে সম্পর্কেও তাহের বলেন, ‘আর জিয়াউর রহমান? সে তখন খালেদের হাতে বন্দী, অসহায়ভাবে ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছিল।’
    এ জাতির জন্য বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, জিয়াউর রহমানের লোকরা কর্নেল তাহেরের মতো বিদ্বান ও বিপ্লবীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, খালেদ মোশাররফ ভারতের দালাল হয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাবে। তিনি খালেদ মোশাররফকে বললেন ‘উচ্চাভিলাষী’ আর জিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলেন।তিনি এও মনে করেছিলেন, জিয়া তার বিপ্লবী, গণমুখী দফাগুলো মেনে নেবেন। তাহের বলেন, ‘৪ নভেম্বর বিকেলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আমার কাছে খবর পাঠান। জিয়ার অনুরোধ ছিল আমি যেন সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আমার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তাকে মুক্ত করি ও দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করি।’
    এর আগে ২ নভেম্বর রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া-মোশতাকের লোকরা জাতীয় চার নেতাকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। খালেদ ভারতপন্থী হলে তাদের মুক্তি দিয়ে দিতেন, খুনি মেজর চক্রকে বিদেশে পালানোর সুযোগ দিতেন না। ওই রাতে অর্থাৎ জিয়াকে মুক্ত করার রাতে ক্যান্টনমেন্টে নির্বিচারে অফিসার হত্যার নামে যজ্ঞ চলে। সেই সঙ্গে খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল হায়দারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় হত্যা করা হয়। এ সম্পর্কে এবং জেলহত্যার মতো বর্বরতা সম্পর্কে তাহেরের কোনো বিশ্লেষণ নেই। আর এটাও জাতির জন্য দুর্ভাগ্য যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনার ভেতর দিয়ে নতুন করে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি নবোদ্যমে জেগে উঠেছিল। এ ব্যাপারটির নিখুঁত বিশ্লেষণ দিয়েছেন কর্নেল হামিদ তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান’ বইতে। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ৭ নভেম্বর সকালে ঢাকার রাস্তায় নেমে দেখি জামায়াতিরা, মুসলিম লীগাররা, রাজাকার-আলবদররা রাস্তায় নেমে উল্লাস করছে। তাহের ব্যাপারটি খেয়াল করেননি। জিয়া প্রথমে ডালিম, ফারুক, রশীদদের ব্যবহার করেছেন তারপর তাহেরকে ব্যবহার করে ৭ নভেম্বরের সাম্প্রদায়িক মহানেতায় অভিষিক্ত হলেন, ভাবখানা এমন, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বীরবিক্রমে হটিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে।
    এরপর তাহের বলেন,

    ৮ তারিখ সন্ধ্যায় জিয়া আমাকে জানালেন, কয়েকটা ঘটনায় কিছু অফিসার মারা গেছেন। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করার প্রস্তাব দেই। আমি তখনই সেনানিবাসে আসার প্রস্তাব করি। জিয়াকে আমি আরও জানাই যে বিপ্লবী সৈন্যদের ওপর আমার কড়া নির্দেশ ছিল যাতে কোনো অফিসারের ওপর এভাবে আক্রমণ করা না হয়। ১১ তারিখ পর্যন্ত জিয়া আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করেন। কিন্তু ১২ তারিখের পর তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    কেননা ততক্ষণে জিয়া ক্ষমতার রশি ধরে ফেলেছেন। বেতার থেকে তাকে সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছিল। তাহের নির্বিচার অফিসার হত্যার অভিযোগের দায় অস্বীকার করে খন্দকার মোশতাককে দায়ী করেছেন। এর মধ্যে জিয়া তার নিজস্ব টার্গেট অনুসারে জাসদ নেতাদের গ্রেফতার এবং কর্নেল তাহেরের পরিবারের লোকদের গ্রেফতার করে ফেলেছেন। পরে কর্নেল তাহেরকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার করেন। তাহের বলেন, ‘জিয়া শুধু আমার সঙ্গেই নয়, বিপ্লবী সেনাদের সঙ্গে, ৭ নভেম্বরের পবিত্র অঙ্গীকারের সঙ্গে, এক কথায় গোটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাদের পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। খালেদ মোশাররফের সঙ্গে তুলনায় জিয়া মুদ্রার অন্য পিঠ বলেই প্রমাণিত হয়েছে।’
    কিন্তু খালেদ মোশাররফ তো তাহেরের পিঠে ছুরিকাঘাত করেননি। কর্নেল তাহের তার বিপ্লবী ১২ দফা খালেদের কাছে পেশ করেননি, পেশ করেছিলেন সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মোশতাক ও জিয়ার কাছে। তাহের খালেদের জীবন রক্ষা করেননি, রক্ষা করেছিলেন জিয়ার জীবন। জিয়াকে ‘কমরেড’ পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কর্নেল হামিদ তার বইতে অফিসার নিধনের দায় জাসদের ওপর বর্তিয়েছেন। মেজর জলিলের নির্দেশে খালেদ ও হায়দারকে হত্যা করা হয়েছে।
    তাহের তার সুদীর্ঘ, সুলিখিত ভাষণে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে, মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে যে মূল্যায়ন করেছেন, তার সঙ্গে আমি একমত নই। তবে ১৫ আগস্ট সম্পর্কে একটা কথা ঠিক বলেছেন,

    , ‘শেখ মুজিব ছিলেন জনগণের নেতা। এ কথা অস্বীকার করার অর্থ সত্যকে অস্বীকার করা। তাই চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তার ভাগ্য নির্ধারণ করার অধিকার শুধু জনগণেরই ছিল।’

    আরেকটি কথা কর্নেল তাহের খুব সঠিক বলেছেন:-

    আমি তাদের পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলাম, সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য হলো সীমান্ত রক্ষা এবং প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক অখ-তা রক্ষা করা। আমাদের মতো সমাজে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে নাক গলানো সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য নয়। অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মূলে রয়েছে উচ্চাভিলাষী অফিসারদের ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব।

    কিন্তু জিয়াও তো উচ্চাভিলাষী ছিলেন, বঙ্গবন্ধু তা জানতেন। এ জন্য সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেননি। বঙ্গবন্ধু জিয়াকে পাত্তাই দেননি। অথচ তাহেরের মতো বিচক্ষণ-বিপ্লবী জিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলেন। ফলে জীবন দিয়ে তিনি তার খেসারত দিলেন।

    1. ধনবাদ শঙ্খনীল। আসলেই কর্নেল
      ধনবাদ শঙ্খনীল। আসলেই কর্নেল তাহেরের একটা হিসেবেই ভুল ছিল তা হচ্ছে জিয়াকে বিশ্বাস করা। এর পিছনে যে ব্যাখ্যা কর্নেল তাহের দিয়েছেন সেটাকে খুব বেশী শক্ত যুক্তি মনে হয়নি আমার কাছেও।

    2. এটা পড়তে পারেন
      এটা পড়তে পারেন ভাই।
      =============
      ~৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান-বিপ্লব না প্রতিবিপ্লব : ড. আনোয়ার হোসেন~

      বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিপাহী অভ্যুত্থান নানাভাবে বিতর্কিত। এই অভ্যুত্থানের রূপকার ও নেতা হিসেবে কর্নেল তাহের এর ভূমিকার কথা এখন অনেকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। অভ্যুত্থানে সহায়তাকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ভূমিকাও স্বীকৃত। এই দল ও এর সমর্থক সংগঠনসমূহ নভেম্বর অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় একটি উন্নততর সমাজ ব্যবস্থার উত্তরণের বিপ্লবী প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করে এবং ঐ দিনটিকে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। কাছাকাছি মূল্যায়ন অর্থাৎ সিপাহী অভ্যুত্থানের বিপ্লবী মর্ম বস্তুর স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং দেশের অল্পকিছু সংখ্যক বাম বুদ্ধিজীবী।

      অন্যদিকে সিপাহী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি করা বিএনপি ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ নামে পালন করে থাকে। ক্ষমতায় থাকাকালে ৭ নভেম্বরকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় নানা অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে অভ্যুত্থানের নায়ক হিসেবে দলীয় নেতা জিয়ার নাম প্রচার করে এসেছে। এই দলের বক্তব্য অনুযায়ী ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’র মাধ্যমে বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে ‘আজাদী’ লাভ করেছে এবং তা সম্ভব হয়েছে ‘ভারতীয় তাঁবেদার রাজনৈতিক শক্তি’-কে পরাজিত করে। একই ধরনের বক্তব্য এরশাদ ও তাঁর দল জাতীয় পার্টির, জামায়াতসহ বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও দক্ষিণপন্থী দলের এবং এমনকি বাম হিসেবে পরিচিত ছোটখাটো দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সমর্থক হিসেবে গড়ে ওঠা বুদ্ধিজীবী মহল যাতে শামিল হয়েছে গোঁড়া ডান-বাম ও সাম্প্রদায়িক চিন্তার অনুসারীরা-তারাও নভেম্বর অভ্যুত্থানকে বিএনপি’র মূল্যায়নে বিচার করে থাকে।

      আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল যেমন ন্যাপ, গণতন্ত্রী দল ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং সাধারণভাবে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিবর্গ ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি চরম ক্ষতিকর ও নেতিবাচক ঘটনা হিসেবে চিত্রিত করে আসছেন। এদের অনেকেই ৩ নভেম্বরের খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানকে দেখেন জিয়াউর রহমানের ক্ষমতারোহণ, দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক স্বৈরতন্ত্র এবং সরকার ও রাষ্ট্র প্রশাসনের সকল স্তরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পুনর্বাসনের সঙ্গে সমার্থক করে। ’৯৬-এর নির্বাচন মারফত ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার তাই ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি বাতিল করেছে এবং ঐ ঘটনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদি বন্ধ করে দিয়েছে।

      ভারত উপমহাদেশে সিপাহী বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থানের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। পরাধীন ভারতে ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর ভারতীয় সিপাহীরা বিদ্রোহে শামিল হয়েছিল শাসক ইংরেজদের বিরুদ্ধে। সে বিদ্রোহ পরাজিত হয় এবং হাজার হাজার সিপাহীকে জীবন দিতে হয় প্রকাশ্যে ফাঁসির দড়িতে। এরপর ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সৈনিকেরা বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়ায় বিদ্রোহী সৈনিকদের বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি। উপরোক্ত দুইটি সেনা বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন।

      কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে সিপাহী অভ্যুত্থান ঘটলো কেন? সেনা বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থানে শামিল হলে যেখানে মৃত্যুদণ্ডের মত চূড়ান্ত শাস্তি হবে তা জেনেও কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা ৭ নভেম্বরে এমন মরিয়া লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এই প্রশ্নের উত্তর পেলে বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের শিরোনামের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সহজতর হবে।

      অভ্যুত্থানের আশু কারণ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু তার সুদূর প্রসারী কারণ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাষ্ট্র প্রশাসনে নানা অসঙ্গতির মধ্যে নিহিত।

      পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে বাঙালি সিপাহীরা মুক্তিযুদ্ধ করেছে পুনরায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো একটি বাহিনীর সদস্য হওয়ার জন্যে নয়। মুক্তিযুদ্ধ প্রচলিত যুদ্ধ নয়। এটা জনযুদ্ধ। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করার ফলে বিদ্রোহী বাঙালি সৈনিকদের চিন্তায় মৌলিক পরিবর্তন সূচিত হয়। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে একটি ঔপনিবেশিক আমলের আমলাতান্ত্রিক সেনাবাহিনীর স্থলে জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী একটি গণবাহিনীর সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে তারা। বাস্তবে তা ঘটেনি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্য অনুযায়ী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণকর একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সমাজের উপযোগী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তা করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন-কানুনের ভিত্তিতে গড়ে তোলা পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোটিকে তার ভিতসহ উপড়ে ফেলা। তারপরই কেবল নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোর সৌধটি গড়ে তোলা সম্ভব হতো। পৃথিবীর নানা দেশে যেখানে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এবং তার সুফল নিপীড়িত জনগণ পেয়েছে সেখানে পুরোনো ও অকেজো রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে ফেলে তার স্থলে নতুন কাঠামো অর্থাৎ জনপ্রশাসন, গণবাহিনী এবং নতুন বিচার ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলেই তা সম্ভব হয়েছে। এইসব ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যদিয়েই মুক্তিযুদ্ধের শক্তি তাদের ক্ষমতার ভিতকে শক্ত করেছে এবং পরাজিত শক্তির পুনরায় ক্ষমতা লাভের সম্ভাবনাকে কার্যকর ভাবে বন্ধ করেছে।
      অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলেও রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর কোনো ক্ষেত্রে উল্লিখিত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে ৭ নভেম্বর সিপাহী অভ্যুত্থানের নেতা কর্নেল তাহেরের একটি পর্যবেক্ষণ প্রণিধানযোগ্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঐ বাহিনী থেকে পদত্যাগের পর তাঁর লেখা ‘মুক্তিযোদ্ধারা আবার জয়ী হবে’ প্রবন্ধে তাহের উল্লেখ করেন, “বাংলার দুর্ভাগ্য, আইনানুগ উত্তরাধিকারীর সর্বস্তরের নেতৃত্ব এসেছে তাদেরই হাতে যারা পাক বিপ্লবী ¬ব যুগে ছিল ক্ষমতার উৎস। প্রশাসনযন্ত্র সেই পুরোনো ব্যক্তিরাই চালান। বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তারাই। যে সামরিক অফিসার পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করার জন্য ছিলেন সচেষ্ট, তিনি আজ আরও উচ্চ পদে সমাসীন (১৯৭৬ সালে গোপন বিচারে তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডে করেছিলেন এমনই একজন অফিসার, ব্রিগেডিয়ার ইউসুফ হায়দার)। যে পুলিশ অফিসার দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে সোপর্দ করেছে পাকিস্তানিদের হাতে তিনি আবার মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হুলিয়া বের করতে ব্যস্ত। যে আমলারা রাতদিন খেটে তৈরি করেছে রাজাকার বাহিনী তারা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চাকরি দিয়ে দয়া প্রদর্শনের অধিকারী। যে শিক্ষক দেশের ডাকে সাড়া দিতে পরেননি তিনিই আজ তরুণদের শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের যে কর্মীকে শোষণের পরিকল্পনা করা শেখানো হয়েছে বছরের পর বছর ধরে তিনিই এখন সমাজতন্ত্রে উত্তরণের পরিকল্পনা তৈরি করেন। যুদ্ধ চলাকালে যারা পাকিস্তানিদের হয়ে প্রচারণায় মত্ত ছিলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর তারাই ভোল পাল্টিয়ে সংস্কৃতির মধ্যমণি হয়েছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের পর প্রত্যেক দেশে করা হয়েছে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। মুক্তিযুদ্ধে যারা বিরোধীতা করেছে তারা স্থান পেয়েছে সেই ক্যাম্পে। সেখানে কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদেরকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা বিপ্লবী জনতার অংশ হতে পারে। নিতান্তই পরিতাপের বিষয়, যাদের কনসেনট্রশন ক্যাম্প থেকে আত্মশুদ্ধি করার কথা সকলের অগচরে তারা সর্বস্তরে নেতৃত্বের আসন দখল করে বসেছে।

      ….এরা বিশ্বঘাতক, দেশদ্রোহী, ক্ষমার অযোগ্য। এরা বাংলার সরল জনগণের মাথার বোঝা। এই বোঝাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। নির্মূল করতে হবে এদেরকে যাতে বাংলাদেশে আর বিশ্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি না হয়।”

      তাহের বর্ণিত এই বোঝাকে ফেলা যায়নি বলেই ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের মধ্যদিয়ে তারা রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল। তাহেরের মতো একই চিন্তা ছিল সিপাহী-ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-কর্মচারিসহ ব্যাপক জনগণের যারা মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়ে ছিলেন।

      সিপাহী অভ্যুথানকে সেনাবাহিনীতে শ্রেণীসংগ্রাম এবং তার মধ্যদিয়ে একটি শ্রেণীহীন সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। অতি সরলকৃত বক্তব্য হলেও অভ্যুথানকারী সৈনিকদের চেতনায় নিপীড়িত মানুষের শৃঙ্খলমুক্তির প্রবল ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। যেমনটা দেখা গেছে রোমের অভিজাততন্ত্রের বিরুদ্ধে দাস বিদ্রোহে অথবা বাংলায় জমিদারতন্ত্র ও ইংরেজ নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৃষক-প্রজা বিদ্রোহে।

      অভ্যুত্থানের আশু কারণ ও প্রেক্ষাপট কী ছিল? ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে উচ্ছেদ করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি। ক্ষমতার শক্তিবলয়ে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়। উন্মুক্ত রাজনীতির অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন শক্তি কেন্দ্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক হয়ে পড়ে। ক্ষমতার শক্তি কেন্দ্র হয়ে পড়ে ক্যান্টনমেন্ট। তাই প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলতে থাকে সেখানে। ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসাররা ক্ষমতা লাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। এ কাজে সৈনিকদের ভাড়াটিয়া বাহিনীর সদস্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এক ইউনিটকে দাঁড় করানো হয় অন্যের বিরুদ্ধে।

      এমনি অবস্থায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পুনরায় ক্যুদেতা ঘটে। সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দী করে নতুন সেনাপ্রধান হন তিনি। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করে অভ্যুত্থান ঘটালেও সাধারণ সৈনিকদের চোখে তা নিছক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি। একই সময়ে ঢাকা কারাভ্যন্তরে মোশতাক চক্রের খুনি ঘাতক দল হত্যা করেছে জাতীয় চার নেতাকে। আর মোশতাক ও ঐ ঘাতকদের সঙ্গে দরবারে সময় ব্যয় করছেন খালেদ মোশাররফ। দেশে ২ নভেম্বর রাত থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো সরকার নেই। শ্বাসরুদ্ধকর ভীতিজনক এক অনিশ্চিত অবস্থার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে দেশবাসী। যুদ্ধমান শক্তি সৈনিকদের অস্ত্র হাতে মুখোমুখি এমন লড়াইয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যে লড়াইয়ে সৈনিকদের কোনো স্বার্থ নেই। এই অচলাবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোনো পথও কেউ দেখাতে পারছে না। এমনি অবস্থায় কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংঘটিত হয় সিপাহী অভ্যুত্থান।

      অস্ত্রহাতে হাজার হাজার সিপাহী ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে। সিপাহী জনতা ভাই ভাই শ্লোগান দিয়ে তারা জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। এই অভ্যুত্থানের সনদ সিপাহীদের ১২ দফা দাবির প্রথম দফাটি ছিল নিম্নরূপ:

      “আমাদের বিপ্লব নেতা বদলের জন্য নয়। এই বিপ্লব গরিব শ্রেণীর স্বার্থের জন্য। এতদিন আমরা ছিলাম ধনীদের বাহিনী। ধনীরা তাদের স্বার্থে আমাদের ব্যবহার করেছে। ১৫ আগস্ট তার প্রমাণ। তাই এবার আমরা ধনীদের দ্বারা ধনীদের স্বার্থে অভ্যুত্থান করিনি। আমরা বিপ্লব করেছি। আমরা জনগণের সাথে একত্র হয়েই বিপ্লবে নেমেছি। আমরা জনতার সঙ্গে থাকতে চাই। আজ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হবে গরিব শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার একটি গণবাহিনী।” অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল রাজবন্দীদের মুক্তি, রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অফিসার ও জোয়ানদের ভেদাভেদ দূর করা, ব্যাটম্যান প্রথার অবসান, অফিসারদের পৃথক রিক্রুটমেন্ট প্রথার অবসান, ব্রিটিশ আমলের আইনকানুন বদল, দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইত্যাদি।

      প্রেক্ষাপট, সুদূর ও আশু কারণ এবং ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী বিশেষ করে ১২ দফা দাবির প্রথম দফা অনুযায়ী সিপাহী অভ্যুত্থানকে তাই একটি বিপ্লব প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করতে দ্বিধা থাকার কথা নয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের ফলাফলের বিচারে তাকে প্রতিবিপ্লব¬ব আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা হওয়ার কথা নয়।
      তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি বিপ্লবী ঘটনা আর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় প্রতিবিপ্লব। সিপাহীদের দাবির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের পক্ষ ত্যাগ করে হাত মিলিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সঙ্গে। অভ্যুত্থানকারী সিপাহী ও তাদের নেতা তাহের পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা যে বিপ্লবী ছিলেন তা বোঝা যায় জয়ী প্রতিবিপ্লবীদের হাতে তাদের জীবন দানের ঘটনা থেকে।

      ৭ নভেম্বরের সিপাহী অভ্যুত্থানের বিপ্লবী প্রচেষ্টা পরাজিত হওয়ায় সমাজের যে সমস্ত অসঙ্গতির কারণে তা ঘটেছিল তা দূর হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক সকল শক্তি এই তাৎপর্যপূর্ণ অভ্যুত্থানের ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করে ঐ সব অসঙ্গতি দূরীকরণে সচেষ্ট না হলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি পুনরায় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সুযোগ করে নেবে। আমরা তা চাইতে পারি না।

      ড. মো. আনোয়ার হোসেন: মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞানী, অধ্যাপক প্রাণ রসায়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

      1. দেরিতে হলেও প্রিয়তে নিলাম।তবে
        দেরিতে হলেও প্রিয়তে নিলাম।তবে একটি কথাতো জলের মত পরিস্কার যে কর্নেল তাহের এক গভির চক্রান্তের স্বীকার হয়েছিলেন।যা তার সরল মনে অনুধাবন করতে পারেন নাই।তিনি কুটিল বন্ধুত্বের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে গভির ষঢ়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছিলেন।যার মাশুল তিনি চরম ভাবে দিয়েছিলেন।

  6. সরাসরি প্রিয়তে… অনেক
    সরাসরি প্রিয়তে… অনেক ব্যস্ততার কারণে এমন ভরপুর তথ্যে ভরা পোস্টটি শেষ করতে পারলাম না। শঙ্খনীল ভাই আর কিরণ-ভাই ও সম্পূরক অনেক তথ্য দিয়েছেন বোধহয়!!
    সময় করে পূরাটা পড়তে হবে, অনেক কিছুই জানার-বুঝার আছে…
    সবাইকে অফুরন্ত ধইন্যা :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: আর উত্তর বাঙলা-কে বিশেষ ধইন্যা সহযোগে :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :ফুল:

  7. ধন্যবাদ উত্তর বাংলা ভাই
    ধন্যবাদ উত্তর বাংলা ভাই ।

    আসলে তৎকালীন সেনা অফিসাররা একেকজন একেক ধরণের তথ্য দিয়ে কথা বলেছেন ফলে সঠিক বিষয় খুজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে ।তাছাড়া দেশি বিদেশী সাংবাদিকরাও অনেক মিত্যা ও বিভ্রান্তিমুলক তথ্য পরিবেশ করেছে যার ফলশ্রুতিতে ৭ তারিখ নিয়ে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে ।

    1. একদম সঠিক কথা বলেছেন শাহিন
      একদম সঠিক কথা বলেছেন শাহিন ভাই। আর এই কারণেই সেদিনের প্রকৃত ঘটনাবলী পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। যারাই লিখেছেন নিজের পক্ষেই লিখেছেন বা নিজে যা চাইতেন সেভাবে লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  8. স্রেফ চমৎকার বললেও কম বলা হবে
    স্রেফ চমৎকার বললেও কম বলা হবে এই লেখাটার ব্যাপারে :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: … ৭ই নভেম্বর নিয়ে এতো পরিমানে মিথ্যাচার আর বিভ্রান্তিমূলক সংশয় ছড়ানো হয়েছে যে আজ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের নভেম্বরের ৭ তারিখ সম্পর্কে জ্ঞান ভাসাভাসা কিংবা সংশয়মূলক। :এখানেআয়: এইরকম তথ্যবহুল পোস্ট যেখানে পোস্টের বাইরেও সবাই কমেন্টে নানা তথ্য দিয়ে পোস্টটাকে করেছেন পারফেক্ট, আরও দরকার। তাহলে হয়তোবা আমরা ৭ই নভেম্বর সম্পর্কে সব সংশয় কাটিয়ে আসল সত্যটা জানতে পারব। আপনার এই ধরনের কাজ অব্যাহত থাকুক উত্তর বাঙলা ভাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    অজস্র গোলাপ রইল আপনার জন্য… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

  9. অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি
    অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি ষ্টিকি করে সবার নজরে আনার ব্যবস্থা করবার জন্য মাস্টারকে অশেষ ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

    1. একমত। তবে প্রতীকি না, দাবী
      একমত। তবে প্রতীকি না, দাবী উঠা উচিৎ খুনী জিয়ার মরণোত্তর বিচারের। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. দাবী উঠা উচিৎ খুনী জিয়ার
        দাবী উঠা উচিৎ খুনী জিয়ার মরণোত্তর বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়া হোক…
        মরণোত্তর ফাঁসি!! খুনী জিয়া :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার:

  10. অসাধারণ পোস্ট। সবচেয়ে বড়
    অসাধারণ পোস্ট। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হছে পোস্টের কমেন্টের মাধ্যমে আরও অনেক অনেক তথ্য উঠ্বে এসেছে যা আমাদের অনেকেরই জানা ছিল না। ধন্যবাদ উত্তরবাংলা ভাই, কিরন খের ভাই। শঙ্খনীল কারাগার ভাই। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  11. 1972 আমেরিকা রাজনীতিক গভেষক
    1972 আমেরিকা রাজনীতিক গভেষক এন আর কাউ বাংলাদেশে এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে বলেছিলেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে ডঃ আখলাকুর রহমানকে সাহায্য করুন। শেখ মুজিবর রহমান হয়ত চেষ্টা করেছিলন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিরুধী শক্তির জন্য হয়ত তাদের এক হওয়া আর হয়নি। ডঃ আখলাকুর রহমানের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বা ডিজিটাল বাংলাদেশ বড় দরকার হয়ে পড়েছে আজকের দিনে রাজনীতিতে তরুণ ও যুবকদের জানতে হবে কি প্রয়োজন রাজনীতি করতে হলে, ইতিহাস জানার দরকার বঙ্গবন্ধু যেমন বুঝতে পারতেন কি দরকার এ জাতির তেমনি ডঃ আখলাকুর রহমান জানত কি প্রয়োজন সমাজ বা রাষ্ট্র গড়তে।
    বাজেট মতামত ‍ঃ আমার মতে আসলে বাজেট সব বিষয়ে ভালভাবে জেনে করাই যুক্তিগত কারণ সাধারণ মানুষ ভাবে বাজেট তাদের জন্য নয় বড় লোকের জন্য। আসলে তা নয়, সরকারকে সুযোগ দিতে হবে একবার এ সরকার আরেকবার ঐ সরকার এভাবে করলে সরকার বুঝে উঠতে পারেনা কোনটা ভাল হলো কোনটা খারাপ হলো তাই আমার মতে সরকারকে সুযোগ দিতে হবে যেন সে সকল প্রকার মানুষের বিষয় মাথায় রেখে বাজেট পাস করতে পারে। এটা নিয়ে ঘাবরালে চলবে না। সব বিষয়ে একবারে ভালো করা যায় না। সময়ের বিষয় সময় দিন।

    নিবেদক
    সৈয়দ ফজলুল হক লেমন
    সভাপতি ডঃ আখলাকুর রহমান পরিষদ,
    বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *