মুক্তমনা মানে কি- বাঁচতে হলে জানতে হবে

যে ছেলেটি মাননীয় স্পীকার হতে চেয়েছিল সে ছেলেটি স্পীকার হতে পারেনি অথচ রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রতিদিন দেশের কোটি কোটি মানুষ স্পীকার হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে বলতে হয়-“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে স্পীকার হয়। সকাল বিকাল স্পীকার হয়।”

মুক্তমনা নামটি শুনলেই অনেকে নাক-সিটকায়, ভাবে কি না কি জানি। বাবা ওসব মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা ভাল। অনেকে আবার ভাবেন মুক্তমনা মানেই এন্টি-ইসলামিস্ট নাস্তিক টাইপের কিছু। রাজীব হায়দার মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্লগার শব্দটির প্রতি একটা বাজে ধারনা খুব প্রবলভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিলো যে-

যে ছেলেটি মাননীয় স্পীকার হতে চেয়েছিল সে ছেলেটি স্পীকার হতে পারেনি অথচ রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রতিদিন দেশের কোটি কোটি মানুষ স্পীকার হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে বলতে হয়-“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে স্পীকার হয়। সকাল বিকাল স্পীকার হয়।”

মুক্তমনা নামটি শুনলেই অনেকে নাক-সিটকায়, ভাবে কি না কি জানি। বাবা ওসব মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা ভাল। অনেকে আবার ভাবেন মুক্তমনা মানেই এন্টি-ইসলামিস্ট নাস্তিক টাইপের কিছু। রাজীব হায়দার মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্লগার শব্দটির প্রতি একটা বাজে ধারনা খুব প্রবলভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিলো যে-
He is a blogger- সে একজন নাস্তিক

মুক্তমনা মানে ব্লগার বা নাস্তিক বা এন্টি ইসলামিস্ট নয়। মুক্তমনা মানে যার মন কোনো নির্দিষ্ট গন্ডিতে বা আদর্শে আবদ্ধ নয়। মুক্তমনা মানে যে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে। যে নতুন কিছু ভাবে, নতুন কিছু করার বিশ্বাস রাখে। অন্যের চিন্তা চেতনা কে সম্মান করে নিজের মতামত প্রকাশ করে এবং যুক্তিসঙ্গত কারন ব্যাখ্যা করে, সেই প্রকৃত মুক্তমনা।

আগে বলেছিলাম দেশের সাধারণ জনগণের মুক্তমনা সম্পর্কে ধারনা। এখন দেশের আরেকদল লোকের মুক্ত মনের ধারনা দেই। তাদের মতে হুমায়ুন আজাদ যা বলেন বা যাই করেন তা সমর্থন করলেই মুক্তমনা হওয়া যায় অথবা বাম রাজনীতি করলে এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ লালন করলেই মুক্তমনা হওয়া যায়। না, আমার হুমায়ুন আজাদ কিংবা তসলিমা নাসরিন কিংবা অন্য কোনো বড় লেখকদের সমালোচনা করার সামর্থ্য এবং স্পর্ধা নেই। আমি সেটা করতেও চাইনা। কিন্তু হুমায়ুন আজাদের কতিপয় আদর্শিক অবস্থানের সাথে আমার অবস্থান নাও মিলতে পারে, তসলিমা নাসরিনের সাথে আমার আদর্শের অনেক অমিল থাকতে পারে- তাই বলে কি আমি বদ্ধমনা হয়ে গেলাম? আপনি যখনই কাউকে আপনার আদর্শ মেনে নিলেন অথবা সে যা বলে চোখ বন্ধ করে তাই সমর্থন করে ফেললেন তখনই আপনি বদ্ধ মনা হয়ে গেলেন। কারন আপনার চিন্তা হুমায়ুন আজাদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। নতুন কিছু ভাবার ইচ্ছা কিংবা সামর্থ্য কোনোটাই নেই। আমি নিজেও হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের ভক্ত। কিন্তু তাই বলে তো আমার নিজের যে একটা সত্ত্বা আছে তা ভুলে গেলে চলবেনা। হুমায়ুন আহমেদ আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক কিন্তু তার অনেক আদর্শিক এবং দার্শনিক মতবাদ এর সাথে আমার মতের অমিল আছে। আমি নিজে একজন মানুষ, আমি হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ কিংবা তসলিমা হতে চাইনি। আমি শুধু মাত্র আমি হব এইধরনের মন যখন আপনার সৃষ্টি হবে তখনই আপনি একজন মুক্তমনা হতে পারবেন। নাহলে বলতে হবে-
সখি মুক্তমনা কারে কয়?
সেকি কেবলি হুমায়ুন আজাদময়?
সেকি কেবলি লিভ টুগেদার
সেকি কেবলি ব্লগারের গলায় ফাস
লোকে তবে করে কি সুখের তরে
এমন মুক্তমনের আশ?

৯ thoughts on “মুক্তমনা মানে কি- বাঁচতে হলে জানতে হবে

    1. যায়না, তবে মুক্তমনা বলে কেউ
      যায়না, তবে মুক্তমনা বলে কেউ যাতে নিজেকে দাবী করার আগে ভেবে দাবী করে এবং মুক্তমনা মানে কেউ যাতে ভুল না বুঝে 🙂

  1. পোস্ট ভালো লাগল।
    তবে একটা

    পোস্ট ভালো লাগল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    তবে একটা খটকা আছে,

    মুক্তমনা মানে যার মন কোনো নির্দিষ্ট গন্ডিতে বা আদর্শে আবদ্ধ নয়।

    এই লাইনে ‘মন বা চিন্তা’ নির্দিষ্ট গন্ডিতে বন্দী না থাকার ব্যপারটা বুঝলাম;
    কিন্তু আদর্শের ব্যপারটা একটু ব্যাখ্যা করলে ভাল হয়।

    ( আমাদের সবারই বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থান আছে বা নির্দিষ্ট আদর্শ ধারন করি; তা কি মুক্তমনা হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক?)

    1. হ্যাঁ, বশ্যই প্রতিবন্ধক।
      হ্যাঁ, বশ্যই প্রতিবন্ধক। খেয়াল করে দেখুন তো ছোটবেলার টম এন্ড জেরি কিংবা রান্না-বাটি খেলা এখন কিন্তু আর ভাল লাগবেনা। একসময় যে বই ভাল লেগেছে তা এখন আর ভাল লাগেনা, একসময় যে শিল্পীর গান পাগল হয়ে শুনেছেন তা আর শুনছেন না। যদি ধরেই নেই আমরা যেটা করছি সেটাই সরবোচ্চ সঠিক তাহলে সেতা প্রতিবন্ধক। তবে আদর্শ সময়ের সাথে বদলায় 🙂

  2. দ্রুপদ ভাই,আপনি যে উদাহরণগুলো
    দ্রুপদ ভাই,আপনি যে উদাহরণগুলো টেনেছেন তার কোনটাই আদর্শ নয়।

    দেশাত্ববোধ বা জাতীয়তাবাদ যেমন একটি আদর্শের নাম; যা আমরা অনেকেই ধারণ করি। এবং যেই নিরিখে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজাকারদের কর্মকান্ড বা এই সময়ে জামাত, শিবিরের অবস্থানকে মনে প্রাণে ঘৃনা করি।

    এই নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থানকে কি আপনি মুক্তমনা হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক বলবেন?

  3. স্বাধীনতা মানে স্ব অধীনতা
    স্বাধীনতা মানে স্ব অধীনতা অর্থাৎ আত্মদাসত্ব করা। নিজের মন যা করতে চাইবে নিজ স্বকীয়তায় তা করার আত্মসম্মানবোধ থাকায় ব্যক্তিস্বাধীনতা। এখন ব্যক্তিস্বাধীনতা অর্থ কিন্তু কখনই যা-তা করার স্বাধীনতা না। আমি পৃথিবীর বুকে এসেই জানতাম না সমাজের মূল্যবোধ কি? জীবন-যাপন করতে করতেই আমরা জেনেছি একইভাবে জন্মের পর গাড়ি চলতে-লাইট জ্বলতে দেখি আমরা ধরে নেই নি এইসবও আমার মত জন্ম নিয়েছে !! আজ আমরা জানি সভ্যতার জন্ম ইতিহাস! এই জানাটাও আমার মধ্যে আলাদা একটা মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। তাই হুমায়ুন আজাদ-মাতুব্বর থেকে তসলিমা নাসরিন অথবা প্লেটো-রুশো থেকে কাফকা-হকিং সবার দর্শন- জ্ঞানও স্বাভাবিকভাবে আমার মূল্যবোধ সৃষ্টিতে অবদান রাখে… সভ্যতার সকল জ্ঞান,দর্শন এবং আবিষ্কার নিয়েই আজকের আমি। কিন্তু আমার সকল ভাবনা চিন্তাই স্বকীয়তা আছে, দুনিয়ার কারও সাথেই আমার ১০০% মিল নাই এমনকি হয়তো ৮০%-ও মিল নাই। এমন আমিই মুক্তমনা হওয়ার হয়তো প্রথম ধাপ…

    মুক্তমনা কোন ধর্ম নয় বা, মানবতাও কোন ধর্ম নয়!! ধর্মের যে স্বকীয়তা তাকে আদর্শবাদ বা দর্শন থেকে আলাদা করে রাখে তা হল ইহকাল-পরকাল… এই প্রশ্নে এমনকি ‘বৌদ্ধ’ ও কোন ধর্ম নয় এটি একটি আদর্শবাদ হোক, অনেক কুসংস্কারাচ্ছন্ন বা উঠতি আদর্শ পরিপূর্ণতিহীন, সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না!! মুক্তমনারা অবশ্যই অবশ্যই ব্যক্তিস্বাধীন আর কোন ধার্মিক ব্যক্তি ব্যক্তিস্বাধীন হতে পারে না। ধর্মীয় নিয়মের মধ্যে থাকার অর্থই পরাধীনতা, অন্যের অনুগত থাকা বা আত্মসম্মানবোধহীন এবং আত্মবিশ্বাসহীন হওয়া…

  4. তাদের মতে হুমায়ুন আজাদ যা

    তাদের মতে হুমায়ুন আজাদ যা বলেন বা যাই করেন তা সমর্থন করলেই মুক্তমনা হওয়া যায় অথবা বাম রাজনীতি করলে এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ লালন করলেই মুক্তমনা হওয়া যায়

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *