সেই ঢাকা, এই ঢাকা # ৪র্থ পর্ব (ক) # মসজিদ

মসজিদের শহর ঢাকা। ছোটবেলা থেকেই এই কথাটা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। ঢাকায় থাকছি আজ ৩ বছর হয়ে গেল। বিভিন্ন মসজিদে যাওয়ার সুযোগও হয়েছে। আজকের পর্ব ঢাকার মসজিদগুলোর সেকাল-একাল নিয়ে। একটা কথা বলে রাখা ভালো; ঢাকায় এত সব প্রাচীন মসজিদ আছে যে এক পর্বে সেগুলো তুলে আনা অসম্ভব। তাই ভাগ ভাগ করে মসজিদগুলোর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব। পুরাতন মসজিদগুলোর ব্যাপারে আপনাদের কিছু জানা থাকলে মন্তব্যে জানাতে পারেন। পরের পর্বগুলোতে তাহলে সংযোজন করে নিব।

১. বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ


মসজিদের শহর ঢাকা। ছোটবেলা থেকেই এই কথাটা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। ঢাকায় থাকছি আজ ৩ বছর হয়ে গেল। বিভিন্ন মসজিদে যাওয়ার সুযোগও হয়েছে। আজকের পর্ব ঢাকার মসজিদগুলোর সেকাল-একাল নিয়ে। একটা কথা বলে রাখা ভালো; ঢাকায় এত সব প্রাচীন মসজিদ আছে যে এক পর্বে সেগুলো তুলে আনা অসম্ভব। তাই ভাগ ভাগ করে মসজিদগুলোর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব। পুরাতন মসজিদগুলোর ব্যাপারে আপনাদের কিছু জানা থাকলে মন্তব্যে জানাতে পারেন। পরের পর্বগুলোতে তাহলে সংযোজন করে নিব।

১. বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

শুরু করছি বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমকে দিয়ে। বয়স হিসাবে এটি খুব একটা প্রাচীন নয়। ২৭ জানুয়ারি ১৯৬০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হবার পর শেষ হয় ১৯৬৮ সালে। এর নকশা করেছিলেন T Abdul Hussain Thariani.

গঠনগত বৈশিষ্টের দিক থেকে অন্যান্য মসজিদের থেকে এর কিছু ভিন্নতা রয়েছে। মসজিদে গম্বুজ থাকাটা খুব সাধারণ রীতি হলেও এই মসজিদে কোন গম্বুজ নেই। প্রায় ৪০,০০০ মুসুল্লি ধারণক্ষমতার অধিকারী এই মসজিদটি বিশ্বের সবথেকে বড় মসজিদগুলোর তালিকায় ১০ম স্থানে অবস্থান করছে।

নিচের ছবিটি ১৯৬৮ সালে মসজিদ নির্মানের পর পরই তোলা হয়েছিল।

এরপরের ছবিটি ১৯৮৪ সালে তোলা।

বর্তমান সময়ের ছবিটিও দেখে নিন।

২. সাত গম্বুজ মসজিদ

মুঘল আমলে ঢাকায় অনেক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। সাত গম্বুজ মসজিদ এর মধ্যে অন্যতম। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এতে ৭ টি গম্বুজ বিদ্যমান। বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান ১৬৬৪-৭৬ সালের মধ্যে এই মসজিদ তৈরি করেন। এটি বর্তমান ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। নিচের ছবিগুলো অনেক আগে তোলা হয়েছিল। সঠিক তারিখটা অবশ্য বলতে পারছি না। তবে ব্রিটিশ আমলের তোলা সেটা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়।

নিচের স্কেচটি এঁকেছিলেন Charles D’Oyle ১৮৪০ সালে।

ঢাকা শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি হওয়ার আগে তোলা সাত গম্বুজ মসজিদের ছবিটি দেখলে বুকটা কেমন জানি করে উঠে। আহা, কি সৌন্দর্য!

সাত গম্বুজ মসজিদের বর্তমান সময়ের ছবিও দেখুন।

কয়েক বছর আগে মসজিদের লাল রঙ পাল্টে সাদা করা হয়েছে। তাই মসজিদের চেহারাও পাল্টে গেছে।

৩. খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

লালবাগ কেল্লার আধা কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৭০৪-০৫ খ্রিষ্টাব্দে। মসজিদে পাওয়া দুটি ফার্সি অনুলিপি অনুযায়ী খান মোহাম্মদ মৃধা নামক জনৈক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মান করেছিলেন। British Library তে এই মসজিদটির প্রাচীন একটি তৈলচিত্র পাওয়া যায় যেটি এঁকেছিলেন Charles D’Oyle ১৮৬৩ সালে।

এইবার এই মসজিদটির ১৪০ বছর পরের (বর্তমান সময়ের) ছবি দেখা যাক।

৪. দারোগা আমিরুদ্দিনের মসজিদ

নির্মাণের সঠিক সাল জানা না গেলেও এই মসজিদটি যে উনবিংশ শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। দারোগা আমিরুদ্দিন নামক পুলিশের একজন বড়কর্তা এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা। এর অবস্থান মিটফোর্ড হাসপাতালের পূর্বে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর কাছে। এটি ঘাট মসজিদ নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

অনেক খুঁজে মসজিদটির ১৮৮০ সালের একটি ফটোগ্রাফ পাওয়া গেছে।

এবার দেখুন মসজিদটির ২০১২ সালের তোলা ছবি।

৫. মগবাজার মসজিদ

মগবাজার মসজিদের নির্মাণের ইতিহাস খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। কে এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন সেটি বের করা সম্ভব হয়ে উঠে নি। তবে মসজিদটি যে প্রাচীন সেটা এই পুরাতন ছবিটি দেখলেই বোঝা যায়। এটি এঁকেছিলেন Charles D’Oyle ১৮২৭ সালে।

মগবাজার মসজিদের বর্তমান কালের ছবি দেখলেই বোঝা যায় কালের আবর্তে কি বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে মসজিদের গঠনে।

৬. করতলব খান (মুর্শিদ কুলি খান) মসজিদ

পুরাতন ঢাকার বেগম বাজারে অবস্থিত বলে মসজিদটি বেগম বাজার মসজিদ নামেও পরিচিত। নবাব মুর্শিদ কুলি খান যার আরেক নাম ছিল করতলব খান মসজিদটি নির্মান করেন ১৭০১-০৪ সালের মধ্যে। পরবর্তীতে ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। মুর্শিদ কুলি খানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁকে মসজিদ প্রাঙ্গণেই সমাহিত করা হয়।

British Council Library তে করতলব খান মসজিদের কিছু প্রাচীন ফটোগ্রাফ পাওয়া যায়।

মসজিদটির বর্তমান সময়ের ছবিটিও দেখা যাক।

২০১২ সালে মসজিদটি রঙ পরিবর্তন করে সাদা থেকে সোনালী করা হয়েছে। সকালের রোদে মসজিদটিকে দেখতে তাই দারুণ লাগে।

(…..চলবে)

১ম পর্ব # মানচিত্র

২য় পর্ব # মন্দির ও গির্জা

৩য় পর্ব # বুড়িগঙ্গা নদী

১৪ thoughts on “সেই ঢাকা, এই ঢাকা # ৪র্থ পর্ব (ক) # মসজিদ

    1. আসলেও সৌন্দর্য। এই সিরিজটা
      আসলেও সৌন্দর্য। এই সিরিজটা পাবলিক খাবে না, কিন্তু সিরিজটা চালানোতে দারুণ একটা তৃপ্তি পাচ্ছি দুলাল ভাই। ইতিহাসের অলিতে গলিতে ঘুরবার মজাই আলাদা।

  1. দারুন পোস্ট। পাবলিক কি খাইল
    দারুন পোস্ট। পাবলিক কি খাইল সেইটা মাথায় না রেখেই লিখে যাচ্ছেন দেখে ধন্যবাদ।

    প্রাচীন স্থাপনার রঙ পরিবর্তন করা দেখে খারাপ লাগলো। ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অনীহাই ফুটে ওঠে এতে। অনেক দিন পুরান ঢাকার পাশে থাকার সুবাদে নিজ চোখেই দেখেছি অনেক পুরনো পুরনো মসজিদ ভেঙে ফেলে নতুন করে করা হচ্ছে। আগের গুলো ছিল নান্দনিক, আর নতুনগুলো করাই হয় বেশী মানুষ কিভাবে আটে সেই চিন্তা মাথায় রেখে। সুতরাং নান্দনিকতা সেখানে উপেক্ষিত।

    পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

    1. ভাই মানুষ আটা দিয়া শুধু কথা
      ভাই মানুষ আটা দিয়া শুধু কথা না। আমাদের ধারণা ভাঙ্গা পুরান জিনিস। ভাল করে পরিস্কার করে নতুন করব।

    2. মন্তব্যের জন্য আপনাকেও
      মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ আতিক ভাই। আসলে এই সিরিজটা চালাতে খুব ভাল লাগছে। কে পড়ল না পড়ল তাতে কিছু যায় আসে না; টাইম মেশিনে চড়ে অতীত পরিভ্রমণে আনন্দ পাচ্ছি সেটাই যথেষ্ট। সাত গম্বুজ মসজিদের রঙ পরিবর্তনটা ভাল লাগে নি। লাল রঙে একটা মুঘল স্থাপত্যের ছাপ ছিল। সাদা রঙে সেটা হারিয়ে গেছে। তবে করতলব খান মসজিদের সোনালী রঙটা খারাপ লাগে নি। আর নান্দনিকতার কথা বলছেন? বুঝতে হবে আমরা ধর্মপ্রাণ বাঙালি। মসজিদের উন্নয়নের ব্যাপার আসলে আমাদের যেই জোশ উঠে সেখানে নান্দনিকতার স্থান কোথায়?

  2. খুব ভালো লাগলো। এটা আমার
    খুব ভালো লাগলো। এটা আমার ফেবারিট টপিকস। বিশেষ করে পুরাতন স্থাপনাগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানে। ধন্যবাদ শঙ্খচিলের ডানা। :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *