জার্সি নং ১০…

বিদেশী খেলোয়াড় কিন্তু সে নাকি বাঙ্গালী, সেদিনই প্রথম ভালোলাগাটা শুরু হয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলিকে। স্বভাবতই সেই টিম কেও ভাল লেগে যায়। তারপরই ভাল লাগে তার টিমের সেরা ব্যাটসম্যানকে। ভাল লাগতো তার খেলা। যতক্ষণ মাঠে থাকতো খেলাটা ভাল লাগতো। আউট হলেন তো আগ্রহ শেষ। তিনি শচীন টেন্ডুলকার

বিদেশী খেলোয়াড় কিন্তু সে নাকি বাঙ্গালী, সেদিনই প্রথম ভালোলাগাটা শুরু হয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলিকে। স্বভাবতই সেই টিম কেও ভাল লেগে যায়। তারপরই ভাল লাগে তার টিমের সেরা ব্যাটসম্যানকে। ভাল লাগতো তার খেলা। যতক্ষণ মাঠে থাকতো খেলাটা ভাল লাগতো। আউট হলেন তো আগ্রহ শেষ। তিনি শচীন টেন্ডুলকার
সময়টা তখন ১৯৯৯/২০০০ এর মতো হবে হয়ত। বয়সটা তখন কতই বা হবে ৭ কিংবা ৮। খেলা বলতে তখনতো শুধু বুঝতাম কে ভাল বলটাকে পিটাতে পারবে সেই ভাল খেলোয়াড়। এখনকার মতো এতোটা ক্রিকেটভক্ত তখনকার দিনের গ্রামের ছেলেরা ছিলোনা। সত্যি বলতে কি সৌরভ কিংবা শচীন কাও কেই হয়ত খুব ভাল করে চিনতাম না। তবে চিনে রেখেছিলাম শুধু তার জার্সি নং ১০। এভাবে আস্তে আস্তে বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন খেলাটা বোঝা শুরু করলাম আর জেনে গেলাম সেই ১০ নং জার্সির খেলোয়াড়কে। প্রথম স্কুল পালিয়েছিলাম এই দুজনের খেলা দেখার জন্য। মাস্টার মশাই যতই বকা দিক, আমি লিটিল মাস্টারের খেলা দেখব। মনে পরে বাড়িতে প্রথম ইলেক্ট্রিসিটি গেছিল ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের মাঝা-মাঝি। এখনও মনে আছে বাসায় টিভি খুলতেই প্রথম দেখেছিলাম বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার খেলা চলছে। সেবারের বিশ্বকাপে ভারতের কোন খেলাই বাদ যায়নি । শচিন গড়েছিল সর্বোচ্চ রানের পাহার। এভাবেই ভালবাসে গেছি দুজনকে। গাঙ্গুলিকে টিম থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের খেলা আর আগের মত দেখতাম না। ওই সময়টায় আবার যেন সেই ছোট্ট বেলায় ফিরে গেছিলাম, দেখতাম শুধু শচীনের ২২গজের সময়টা। দাদা ফিরলে আমিও আবার খেলা দেখায় ফিরলাম। কিন্তু এবার দাদাই নিজে চলে গেল। না চাইলেও কিছুই আর করার ছিলনা। IPL শুরু হতেই KKR আর Mubai কে সাপোর্ট করতাম অন্ধের মত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসেই ২০১১ সালে সারাবিশ্বের সাথে আমিও অপেক্ষায় ছিলাম শচীন কি পারবে তার এই একটি অপূর্ণতা পূরণ করতে সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায়। হ্যাঁ সে পূর্ণতা পেয়েছে…
কিন্তু এখন সময় এসেছে সময়ের কাছে হার মানবার। সময় এসেছে জায়গা ছেড়ে দেবার। ক্রিকেট মাঠ ছেড়ে চলে যাবার পর আধো কি কেউ কোনদিন কেউ পারবে তার অপূর্ণতা পূরণ করতে?
পূরণ হোক বা না হোক আমি জানি আমি কিংবা আমার মত বয়েসী যে কোন ছেলের কাছেই আসলে সেই ছোট্ট বেলা থেকে দেখে আসা শচীন আর একটিও জন্মাবেনা। আমাদের ক্রিকেট বলতেই যে ছিল এই শচীন, সেই শচীনই যদি না থাকে তাহলে খেলার মাঠ যে শূন্যতা তাদের মাঝে তৈরি করবে সেই শূন্যতা কখনও কাটবেনা।

একজন শিক্ষক কখনই তার ছাত্রদের কাছ থেকে অবসর নেয়না। সে সব দিন তাদের শিক্ষকই থাকে। তেমনি Little Master ও একজন। সে খেলার মাঠ থেকে যতই অবসরে যাক না কেন ভক্তকূলের কাছে সে সেই টেন্ডুলকারই ছিল আছে থাকবে। তারা পারবেনা কাউকে ১০ নং জার্সি পরে দেখতে। সৃতির পাতায় বার বার ভেসে বেরাবে শচীন শচীন আর শচীন…

১৪ thoughts on “জার্সি নং ১০…

  1. ইষ্টিশনে স্বাগতম…
    ইষ্টিশনে স্বাগতম… :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: পোস্টে ভালোলাগা রেখে গেলাম… :ধইন্যাপাতা: :ভালাপাইছি: চালিয়ে যান… :থাম্বসআপ:

    1. ডন মাইকেল কর্লিওনি ভাইয়া
      ডন মাইকেল কর্লিওনি ভাইয়া টিকিট কেটে এসেছি 😛 । তাই ইস্তিশনেই থাকব আশা করি… 🙂 আপনাকে ধন্যবাদ। দোয়া করবেন। 🙂
      ===Be Happy===

  2. আমি টেন্ডুলকারের একদম প্রথম
    আমি টেন্ডুলকারের একদম প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটাও দেখেছিলাম ডিডি ন্যাশনাল চ্যানেলে। তখন আমাদের এলাকায় অনেক উঁচু বাঁশ দিয়ে এন্টেনা লাগালে দেখা যেতো। সেই থেকেই আকর্ষণ ক্রিকেটের প্রতি।

    1. কোন সন্দেহ নাই আপনি বিশ্বের
      কোন সন্দেহ নাই আপনি বিশ্বের ভাগ্যবান মানুষদের একজন। 🙂
      আমার গ্রামের বাড়িতে এখান থেকে দুই বছর আগেও বাঁশ দিয়ে এন্টেনা লাগাতে হত। এখন ডিশ চলে আসছে। তারপরও ডিশতো মাঝে মাঝেই চলে যায়। তাই তখন আবার সেই বাঁশে লাগানো এন্টেনাই ভরশা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *