নন্দিত ও নিন্দীত হুমায়ূন আহমেদ

গত কয়েকদিন ধরে হুমায়ূন আহমেদের ‘আগাপাশতলা তুলোধুনো’ করে সমালোচনাগুলো চোখে পড়ছে – কি ব্লগে – কি ফেসবুকে – কি অনলাইন ম্যাগে-সব জাগাতেই হুমায়ূন সমালোচনা তুঙ্গে! দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন এই বয়স্ক মানুষটার পেছনে হঠাৎ করে সমালোচকরা লাগলো কেন সেটা কিছুতেই বুঝে আসছে না। তবে এসব দেখে তার লেখা একটা কলামের শেষ কিছু লাইন মনে পড়লো! “পোকারা আমাদের ওপর রাগ করে কামড়ায় না। তারা বেঁচে থাকতে চায় বলেই কামড়ায়। সমালোচকদের বেলায়ও কথাটা সত্য। তারা আমাদের রক্ত চায়, আমাদের কষ্ট চায় না। – ফ্রেডারিখ নীট্শে”


গত কয়েকদিন ধরে হুমায়ূন আহমেদের ‘আগাপাশতলা তুলোধুনো’ করে সমালোচনাগুলো চোখে পড়ছে – কি ব্লগে – কি ফেসবুকে – কি অনলাইন ম্যাগে-সব জাগাতেই হুমায়ূন সমালোচনা তুঙ্গে! দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন এই বয়স্ক মানুষটার পেছনে হঠাৎ করে সমালোচকরা লাগলো কেন সেটা কিছুতেই বুঝে আসছে না। তবে এসব দেখে তার লেখা একটা কলামের শেষ কিছু লাইন মনে পড়লো! “পোকারা আমাদের ওপর রাগ করে কামড়ায় না। তারা বেঁচে থাকতে চায় বলেই কামড়ায়। সমালোচকদের বেলায়ও কথাটা সত্য। তারা আমাদের রক্ত চায়, আমাদের কষ্ট চায় না। – ফ্রেডারিখ নীট্শে”

এইটাই হচ্ছে আসল কথা। হুমায়ূন আহমেদরা না থাকলে সমালোচকরা করে কেটে খাবে কি করে? তাদেরো পেট চালাতে হবে, নাকি?

যেসব কারনে হুমায়ূন আহমেদের সমালোচকদের আমি দেখতে পারি না –

১. সমালোচনা করার মত নূণ্যতম যোগ্যতা এদের নাই। না সাহিত্যজ্ঞান না ভাষাজ্ঞান। গঠনমূলক সমালোচনা কি জিনিস এদের বেশীরভাগেরই তা জানা নাই। বরং সমালোচনার নামে তারা যেটা করে সেটাকে স্ল্যাং বাংলায় বলা যায় “পশ্চাৎদেশে অঙ্গুলী সঞ্চালন”।

২. এরা সাধারনত নীতি বির্বজিত হয়। সকালে হুমায়ূনের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে দেখা যায় তারা দুপুরটা কাটায় পুরনো হিমু বা মিসির আলী পড়ে।

৩. এরা সম্পূর্ণ বিনা উসকানীতে এবং সর্ম্পূন অপ্রাসংগিকভাবে হুমায়ূন সমালোচনার অবতারনা করতে পারে।

৪. এদের সমালোচনার উদ্দেশ্য হয় – খ্যাতি কুড়ানো এবং/অথবা ব্যক্তিগত ঝাল মেটানো। এমনিক যারা পেশাদার সমালোচক, তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে আর্থিকভাবে লাভবান হবার অভিযোগও রয়েছে।

৫. এরা টু দ্যা পয়েন্টে সমালোচনা করতে পারে না। একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার বলে। “হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে শিক্ষনীয় কিছু নাই” এবং “হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সাহিত্য মান ভাল না”- এই দুটি বাক্য তাদের বহুল চর্বিত এবং চর্বিত। গত এক দশকে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য সমালোচকেরা এর খুব একটা বেশী বাইরে যেতে পারে নাই। আফোসস!!

হুমায়ূন আহমেদ যখন একাই সিলেটে অনশন ধর্মঘট করতে যান তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

২. হুমায়ূন আহমেদ যখন ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরী করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই হাত পাতার জন্য প্রস্তুতি নেন, তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

৩. হুমায়ূন আহমেদ যখন তার উপার্জন দিয়ে মুভি ই্ত্যাদি বানিয়ে দেশের সংস্কৃতিতে এগিয়ে নিয়ে যান, মানুষকে বইমুখী করেন, সিনেমা হল বিমুখ মধ্যবিত্তকে হলমুখী করেন, তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

৪. হুমায়ূন আহমেদ তার উপার্জন দিয়ে গাজীপুর এবং সেন্ট মার্টিনসে নন্দনকানন করে জনগনের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, সেখানে পাখিদের এবং মানুষের জন্য আলাদা আলাদা লিচু গাছ রোপন করেন, তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

৫. হুমায়ূন আহমেদ যখন ফাসিঁর আদেশপ্রাপ্ত আসামীকে ক্ষমার করার প্রতিবাদে স্বয়ং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দৈনিক পত্রিকায় নির্ভীক কলাম লেখেন, তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

৬. হুমায়ূন আহমেদ নিজের প্রেয়সীকে বিয়ে করে স্ত্রী’র মর্যাদা দেয়, লুকিয়ে লুকিয়ে অবৈধ প্রেম করে না,তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

৭. একসময় নিদারুন অর্থ কষ্টে ভোগা এই মানুষটা পেট চালানোর জন্য সেবা প্রকাশনীর বিদেশী বইয়ের অনুবাদ করতেন। সে যখন তার উপার্জিত অর্থের একটা অংশ তারঁ গ্রামের দরিদ্র লোকদের জন্য ব্যয় করেন ( এই ব্যাপারটা সে কখনই গনমাধ্যমে প্রকাশ করেননি), তখন সমালোচকদের কোন কথা বলতে দেখি না।

কারন, বাংলাদেশের তথাকথিত সমালোচকদের কাজ হলো অঙ্গুলী সঞ্চালন করা। পিঠ চাপড়ানি দেয়া নয়। আর উক্ত সমালোচক নাস্তিক হলে তো কথাই নাই। সুতরাং, এই জাতীয় সমালোচকদের হুমায়ূন আহমেদের যে, সিটিএন (CTN), সেটা বলাই বাহুল্য।

সমালোচকদের নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের মুখে বলেছিলেন – “একবার আমার একটা উপন্যাস বের হলো। তখন বাজারে আমি নতুন। কিছুদিন পর একজন সাহিত্য সমালোচক আমার বইয়ের রিভিউ লেখলে একটা দৈনিক পত্রিকায়। তিনি লিখেছেন – “কাব্যের ভাষা প্রাঞ্জল, কবিতার পঙ্কতিগুলোর ছন্দমিল লক্ষনীয়।” আমি দৌড়ে গিয়ে বুক শেলফ থেকে আমার বইটি নামিয়ে উল্টে পাল্টে দেখলাম, কোন এক অজানা কারনে আমার উপন্যাসের বইটি কবিতার বইয়ে রুপান্তরিত হয়েছে কিনা। দেখলাম, ঠিকই তো আছে। এর মানে হলো, উক্ত সমালোচক আমার বইটি না পড়েই কথাগুলো লিখেছে। কিছুদিন পর দেখলাম আরেকজন সমালোচক একটা ম্যাগাজিনে আমাকে তুলোধুনো করেছেন। তার লেখা পড়ে মনে হলো, উপন্যাস লিখে আমি বিরাট অপরাধ করে ফেলেছি। আমি অপরাধবোধে ভুগতে থাকলাম। তারো কিছুদিন পর আরেক জাগায় দেখলাম আরেকজন লিখেছেন – “হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি মাইল ফলক।” সমালোচকদের এইরকম পরস্পরবিরোধী সমালোচনা আমাকে তাদের উপর আস্থাহীন করে দিয়েছে। তাই এখন থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমার নিজের কাছে যেটা ভাল লাগে, সেটাই গুরুত্ব দিবো। সমালোচকদের ভাল লাগা না লাগাকে গুরুত্ব দিবো না। ”

হুমায়ূন আহমেদের সৎ সাহস নাই? সৎ সাহস আছে বলেই তিনি শাওনকে বৈধ এবং হালাল উপায়ে বিয়ে করেছেন অথচ চাইলেই তিনি পরকীয়া চালিয়ে যেতে পারতেন। চাইলেই সৈয়দ শামসুল হকের মত শ্যালিকার সাথে রং ঢং করতে পারতেন। চাইলেই কলকাতার সাহিত্যিকদের মত কচি কচি মেয়েদের সাথে বিছানায় যেতে পারতেন। এসব করেন নাই, কারন তিনি নিজের বিবেকের কাছে কখনই নিজেকে ছোট হতে দেননি। সৎ সাহস আছে বলেই শেখ হাসিনার নিজের হাতে দেয়া ১০ হাজার ডলারের চেক সরাসরি ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলেন। আজ তাকেই কিনা ব্যঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উঠা উঠতি সমালোচকের কথা শুনতে হয়! দেশে গুনী লোকজন জন্মাবে কি করে?

(পূর্ব প্রকাশিত)

১৮ thoughts on “নন্দিত ও নিন্দীত হুমায়ূন আহমেদ

  1. হুমায়ূন আহমেদ স্যার গুনী লেখক
    হুমায়ূন আহমেদ স্যার গুনী লেখক নিঃসন্দেহে, চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সফল।
    কিন্তু তারপরও তাঁর লেখক সত্ত্বা সমালোচনার উর্ধ্বে নয়, এটা বলাই বাহুল্য।

    একজন লেখক যখন ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘মধ্যাহ্ন’ ,(আরো বেশ কিছু) এর মত অসাধারণ কিছু লেখা লেখেন;

    আবার তিনিই যখন টিনেজারদের ফালতু আবেগকে পুঁজি করে টিনএজ মনে সুড়সুড়ি দেওয়া, ফরমায়েশি লেখা লেখে যান দিনের পর দিন; যা পড়ে পাঠকসমাজের সাহিত্যক্ষুধা দিনে দিনে কেবল শিশু খাদ্য যেমন- ‘কাঠি লজেন্স বা ‘সেরেলাক’এর জন্য তৈরি হয়;
    তখন সেই লেখকের লেখনীর যৌক্তিক সমালোচনার অধিকার পাঠক সমাজের আছে বৈকি।

    শুভ কামনা রইল। :গোলাপ: :ফুল:

    1. মজার ব্যাপারটা কি জানেন
      মজার ব্যাপারটা কি জানেন ফাউস্ট, এই অতিব গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনাটা কিন্তুক এখন যতটা নিকৃষ্ট ও নীচতার সাথে করা হচ্ছে, তার জীবদ্দশায় কিন্তু সমালুচকদের খুজেও পাওয়া যায়নি। :মানেকি: একটা ব্যক্তি যখন প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় কারোর সমালোচনা করেন, তখন অবশ্যই সমালোচকের যোগ্যতার ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে। আদৌ সমালোচক সমালোচনা করার মত যোগ্যতা রাখেন কিনা। ঠিক এই কারনেই হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে আহমেদ ছফা কিংবা হুমায়ুন আজাদের সমালোচনাকে আমরা সত্যিকারের সমালোচনা বলে গণ্য করি । কিন্তু আজকাল ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কিছু সমালোচক যখন সমালোচনার নামে গালাগালি করতে শুরু করেন, তখন কিন্তু “আঙ্গুর ফল টক” গল্পটির কথা মনে পড়ে যায়। ইনারা হুমায়ূনের জীবদ্দশায় হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরেছেন, আর আজ ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত আজাইরা ফালাফালি করছেন লাইমলাইটে আসার জন্য। :ক্ষেপছি: হুমায়ুনকে গালি দিয়ে সমালোচনা করাই আজ লাইমলাইটে আসার সবচেয়ে সহজ রাস্তা… :এখানেআয়: :এখানেআয়: :মাথাঠুকি:

      1. হুমায়ুন আযাদ হুমায়ুন আহমেদকে
        হুমায়ুন আযাদ হুমায়ুন আহমেদকে পছন্দ করতেন না। একবার লিখলেন- হুমায়নু আহমেদ হলেন বাজারী লেখক। আর উনার নাটকগুলো কাজের মেয়েরাই বেশী পছন্দ করে।

        এর কিছুদিন পর ঢাকা ক্লাবে হুমায়ুন আযাদ বসে আছেন। হুমায়ুন আহমেদ পাশে গিয়ে বিনীত ভাবে হুমায়ুন আযাদকে বললেন-স্যার, টেলিভিশনে আমার নতুন নাটক “আজ রবিবার” আগামি সপ্তাহ থেকে প্রচারিত হবে। অনুগ্রহ করে আপনার বাসার কাজের মেয়েদের বলবেন- নাটকটি দেখার জন্য। ওরাতো আর পত্রিকা পড়ে জানতে পারবেনা।

        এই হলো আমাদের হুমায়ুন। এই হলো আমাদের সাহিত্যের আকাশের পূর্ণিমা দ্বাদশীর চাঁদ। যার আলো বাংলাভাষী প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে সুশোভিত করেছে শুধুমাত্র কিছু হিংসুক, আঁতেল পন্ডিত আর কিছু সাহিত্যের ফেরিওয়ালা মূর্খবুদ্ধিজীবী ছাড়া।

        1. প্রলয় ভাই, আপনি যথার্থ
          প্রলয় ভাই, আপনি যথার্থ ‘হুমায়ূন আহমেদ’ পাঠক তা আপনার মন্তব্যে আবেগের আধিক্য দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
          কাউকে পীরের পর্যায়ে উন্নীত করার কোন কারন আছে কি, জনাবে আলা?
          (বরং তা সেই মানুষটার সত্ত্বাকেই অপমান করা)
          শুভ কামনা রইল। :ফুল: :গোলাপ:

          1. যারা তাকে সস্তা বলেন, তারা
            যারা তাকে সস্তা বলেন, তারা ওনার সব বই পড়েছেন বলে মনে হয়না, তার লেখার মেসেজ আশির দশকের বাংলা সিনেমার মত প্রকাশ্য না, সবাই ডিকোড করতে পারেনা, হিজরা, RAB, ম্যারিটাল রেপ, নির্বুদ্ধিতা, প্রাইভেসী সেন্স, রাজাকার, সাইকো এমন সব সুক্ষ্ম সামাজিক সমস্যা নিয়ে তিনি লিখেছেন যেগুলো কেউ স্পর্শও করে না, আর তার এই অবদানগুলো কারো চোখেও পড়েনা।

            সবচেয়ে বড় কথা, যারা তাকে সস্তা বলে, তারা ভেবেও দেখেনা সস্তা জনপ্রিয়তার কোন ইন্স্ট্রুমেন্টটা তিনি ব্যবহার করেছেন ? ভালগারিজম ? সেক্স ? কন্ট্রোভার্সি ? অ্যাকশন ? একটাও না !! — মনির জামান।

    2. হা হা হা ৪ দশক ধরে লেখালেখি
      হা হা হা ৪ দশক ধরে লেখালেখি করে পাঠকদের মাতিয়ে রেখে জীবনের শেষ ৪ বছর বেচারা ভাল লেখতে পারেনি, তার দুই শিশুপুত্রের ভবিৎষত চিন্তায় ফরমায়েশি লেখা লিখেছে, আর অমনি তার ৪ দশকের অবদান ভুলে েঐ ৪ বছর নিয়ে পড়লেন ভাই আপনারা? ভালই আপনারা পারেনও।

      এই কারনে পোষ্টের সব শেষের লাইনটা আবারও পড়তে অনুরোধ করলাম আপনাকে। 🙂

  2. ফাউষ্ট ভাই একমত হতে পারলাম
    ফাউষ্ট ভাই একমত হতে পারলাম না, আমাদের টিএনএজ বয়সটা আসলে হুমায়ুনময়। স্যারের বইয়ে টেক্সট বইয়ের মতো গাদাগাদা শিক্ষনীয় কিছু নেই তবে জীবন নিয়ে, বাস্তবতা নিয়ে কিন্তু একমাত্র তিনিই লিখে গেছেন।স্যারের লেখার সহজবোধ্যতাই এই বিশাল কিশোর পাঠকসমাজ গড়ে তুলেছে। যারা হিমু হতে চায়, মিসির আলী হতে চায়। এটাই স্যারের সার্থকতা।

    1. ঠিক বলেছেন। শিক্ষনীয় কিছু
      ঠিক বলেছেন। শিক্ষনীয় কিছু পেতে চাইলে ভার্সিটির টেক্সট বই পড়েন। শিখতেও পারবেন, পরীক্ষায় ভাল ফলও করতে পারবেন। হুমায়ূন আহমেদ তো টেক্সট বই লেখে না। তাহলে তার বই পড়তে কে বলেছে আপনাদের?
      আপনার সাথে সহমত নাহিদ। ভালো বলেছেন।

  3. হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আপনার
    হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আপনার আন্তরিক অনুসন্ধানের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি । হুমায়ূন সমালোচকদের মধ্যে আমি একজন । তবে ওনাকে বাজে ভাবে আক্রমণ কেন করা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয় । একজন মনোরঞ্জনকারী জনপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদ আলোচনায় আসবেন ঘুরে ফিরে এটাই স্বাভাবিক ।

    সমালোচনার ক্ষেত্রে অবজেক্টিভ দৃষ্টিভঙ্গী থাকলে গোল বাধার কোন কারণ ঘটে না । সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন যখন সমালোচক ব্যক্তি আক্রোশ থেকে সাব্জেক্টিভ সমালোচনার লাইনে এগোন ।

  4. আহারে একেকজন সাহিত্য
    আহারে একেকজন সাহিত্য সমালোচকরে দেইখা আমার একটা ছন্দের কথা মনে পইরা গেল।

    কাঁঠালের আঠালী কত রঙ্গ দেখালি।

    হাসি পায় এদের চিংড়িমাছের মত লাফালাফি দেইখা।কারো সমালোচনা করার আগে নিজের যোগ্যতার পরিমাপ করতে হয় এইটাও বোধে আসেনা।হুমায়ুন আজাদ স্যার যে কারো সমালোচনা করতে পারে সেই যোগ্যতা উনার আছে,আবার তিনি তার সমালোচনার উচিৎ জবাব হুমায়ুন স্যারের থেকে পেয়েছিলেন’ও।বাংলা সাহিত্যে হুমায়ুন আহমেদ স্যার একা নন যে উনিই কেবল সমালোচনার শিকার হয়েছেন।আমাদের সাহিত্য গুরু রবীন্দ্রনাথকি কম লাঞ্ছিত হয়েছিলেন? একটা উদাহরণ দেই,

    ১৯১৩ সালে আমেরিকার মিনিয়াপলিস ট্রিবিউন পত্রিকায় লেখা হলো,ভারত বর্ষের সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথ।

    অর্থাৎ তিনি সস্তা লেখা লিখে বেশ টুপাইস পয়সা কামিয়ে নিচ্ছেন।সাহিত্যের ইতিহাস সাক্ষ্যদেয়, রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্নে বাংলা সাহিত্যে প্রতিভাসঞ্চারী প্রায় সব লেখককে সমকালীন গঞ্জনা সহ্য করে সাহিত্য সাধনা করতে হয়েছে।
    শিল্পস্রষ্টা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, হাসি- ঠাট্টারও কমতি ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ এমনকি হাল আমলে বিনয় মজুমদারকেও নানাভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। সমকালীনদের কাছে লাঞ্ছনার এ ধারা এখনো বহমান। নজরুলের একটা উদাহরণ দেই,

    নজরুল ও তার বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থকে কটাক্ষ করে লিখিত সজনীকান্ত দাসের প্রথম প্যারোডি কবিতা ‘আবাহন’ সাপ্তাহিক শনিবারের চিঠির অষ্টম সংখ্যায় (২৮ ভাদ্র, ১৩৩১ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
    ‘ওরে ভাই গাজী রে
    কোথা তুই আজি রে
    কোথা তোর রসময়ী জ্বালাময়ী কবিতা!
    কোথা গিয়ে নিরিবিলি
    ঝোপে ঝোপে ডুব দিলি
    তুই যে রে কাব্যের গগনের সরিতা!’

    বাংলা সাহিত্যে পরাবাস্তবতার অন্যতম
    প্রবর্তক, শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবিদের মাঝে একজন –
    আমরা এখন কথায় কথায় তাঁর কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকি। কিন্তু এই ব্যক্তি জীবদ্দশায় যতটা না খ্যাতি পেয়েছেন, তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শিকার হয়েছেন অযথা অর্বাচীন সমালোচনার। তৎকালীন সমালোচকদের মাঝে ‘জীবনানন্দ হেইট-ক্লাব’ জাতীয় সংঘ তৈরি হয়ে গেছিল, তারা কারণে অকারণে জীবনানন্দের
    কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করতেন, তাকে নানাভাবে আক্রমণ করতেন। অনেকে বলেন জীবনানন্দ এতোটা উপেক্ষা সহ্য না করতে পেরেই ট্রামের নিচে প্রাণ দেন, আত্মহত্যা করেন ।
    সেই সকল সমালোচকদের বাহাস গুলো যদি সত্যই ধরে নেই তাহলেতো এদের কারোরই সাহিত্যে কোনো অবদান নেই।সব বেকুব, ফালতু।আহারে শরৎচন্দ্রের কথা কেনো ভুলে যান?কি বাজে লেখাইনা লেখতো বাবু।অথচ এদের নিয়েই আজকে আপনাদের কত লাফালাফি।আগে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের নোখের যোগ্য হোন,তার পর কিছু বলতে আসবেন।একটা কথা মনে রাখবেন সমালোচক বৃন্দ ভাই বোনেরা,ইর্ষা মানুষকে ব্যার্থতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনা।

  5. অতি উত্তেজনায় প্রলয় হাসান
    অতি উত্তেজনায় প্রলয় হাসান ভাইকে ধন্যবাদ জানাইতে ভুলে গেছি।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্টটি পুনপ্রকাশ করার জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. হুমায়ূন আহমেদের লেখায় আমি
    হুমায়ূন আহমেদের লেখায় আমি জীবন ঘনিষ্ট প্রচুর উপাদান পেয়েছি। সহজ ভাষায়, হাস্যরসের মাধ্যমে লিখতেন বলেই আঁতেল পাঠকদের সংজ্ঞানুযায়ী জাতে উঠতে পারেন নাই। জাতে ওঠার দরকারও নাই। যারা জাতে উঠে বসে থাকে আমার মতো সাধারণের নাগালের বাইরেই থেকে যান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *