Flowers of War- নর্দমায় জন্ম নেয়া স্বর্গীয় সৌরভ ছড়ানো কিছু ফুলের গল্প…

১৯৩৭ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে আধিপত্য বিস্তারে উন্মাদ রক্তপিপাসু জাপানী অভিজাত রাজবংশের নির্দেশে চীনে হঠাৎ আক্রমন চালানো হয়। আক্রমনের প্রথমকে চীনাবাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম সেরা জাপানিজ বাহিনীর সাথে তারা খুব বেশিদিন সমানে সমান লড়াই করতে পারেনি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি জাপানিজ বাহিনী চীনের তৎকালীন রাজধানী নানকিংয়ে ঢুকে পড়ে। এরই মধ্যে তিন মাসে বহুসংখ্যক হত্যা ও ধর্ষণ করে আসা জাপানীজ বাহিনী নানকিংয়ে ঢুকে স্রেফ উন্মাদ পশুতে পরিনত হয়…

১৯৩৭ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে আধিপত্য বিস্তারে উন্মাদ রক্তপিপাসু জাপানী অভিজাত রাজবংশের নির্দেশে চীনে হঠাৎ আক্রমন চালানো হয়। আক্রমনের প্রথমকে চীনাবাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম সেরা জাপানিজ বাহিনীর সাথে তারা খুব বেশিদিন সমানে সমান লড়াই করতে পারেনি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি জাপানিজ বাহিনী চীনের তৎকালীন রাজধানী নানকিংয়ে ঢুকে পড়ে। এরই মধ্যে তিন মাসে বহুসংখ্যক হত্যা ও ধর্ষণ করে আসা জাপানীজ বাহিনী নানকিংয়ে ঢুকে স্রেফ উন্মাদ পশুতে পরিনত হয়…

মাত্র ৬ সপ্তাহ তারা নানকিং দখল করে রাখতে পেরেছিল। এর মধ্যে তারা প্রায় ২৫০০০০-৩০০০০০ মানুষ হত্যা ও হাজার হাজার চীনা নারীকে ধর্ষণ করে। নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতার মাত্রা বিবেচনায় আজো এই গনহত্যাকে Nanking Massacre অথবা Rape of Nanking হিসেবে অপরিসীম ঘৃণায় স্মরণ করা হয়।

হত্যা আর ধর্ষণের মহোৎসবের সেই চরম শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে কিছু স্কুলছাত্রী জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসে কাছের এক রোমান ক্যাথলিক চার্চে। একই সময়ে সেই চার্চের ফাদারের শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য এক mortician( লাশ সৎকারকারি) হাজির হয়। যেহেতু জাপানি সৈন্যরা সে মুহূর্তে স্রেফ জানোয়ারে পরিনত হয়েছিল, সুতরাং বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে কাছের একটা ব্রথেল থেকে পালিয়ে আসে কিছু পতিতা। উদ্দেশ্য আপাতত চার্চের আশ্রয়ে জীবন বাচানো এবং তারপর সুযোগ বুঝে এই মৃত্যুকূপ থেকে পালিয়ে যাওয়া…

সমস্যাটা হল স্কুলছাত্রী বা পতিতা, কারোর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নেয়ার মত কেউ তখন ঐ চার্চে ছি্ল না। এদিকে সেই মরটিসিয়ান মদ খেয়ে মাতলামির চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায়। হঠাৎ জাপানী সৈন্যদের অনুপ্রবেশ এবং বিশুদ্ধ কিছু মেয়েমানুষ পাওয়ার আনন্দে তাদের বুনো উল্লাস প্রকাশ… এবং ঠিক সেখান থেকেই এক অনবদ্য ও অসাধারণ কাহিনীর সূচনা, যা শুধু দেশপ্রেম ও মানবতারই জয়গান গেয়ে যায়নি,একই সাথে দেখিয়েছে নর্দমায় জন্মেও মাঝে মাঝে কিছু ফুল স্বর্গীয় সৌরভ ছড়িয়ে যায়, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় আমাদের চিন্তার দীনতা, সীমাবদ্ধতা…

Chinese-American লেখক Geling Yan এর রচিত 13 Flowers of Nanjing উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে Zhang Yimou পরিচালিত ২০১১ সালের এই মুভিতে অভিনয় করেছেন Christian Bale, Ni Ni, Zhang Xinyi, Tong Dawei, Atsuro Watabe, Shigeo Kobayashi এবং Cao Kefan প্রমুখ। লেখক Geling Yan 13 Flowers of Nanjing উপন্যাসটি লিখেছিলেন Minnie Vautrin নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা এক ডায়েরি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে। মূলত এই মুভিটি ওই ডায়েরিতে থাকা সত্য ঘটনা অবলম্বনেই বানানো হয়েছে। মোটামুটি অপরিচিত নবীশ এই অভিনেত্রীদের অভিনয় দেখে মনে হচ্ছিল তারা একে অপরের সাথে অভিনয়ে সবাইকে চমৎকৃত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বিশেষ করে ব্রথেল থেকে পালিয়ে আসা কিছু দেহপসারিণীর চরিত্রে আর স্কুল থেকে পালিয়ে আসা কিছু স্টুডেন্টের চরিত্রে এতো আবেগময় অভিনয় দর্শকদের শুধু অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছে।

ক্রিশ্চিয়ান বেল ছিলেন এই মুভির এক সারপ্রাইজ কাস্ট। একটা চাইনিজ মুভিতে তাকে অভিনয় করতে দেখে বিস্ময়ে যখন ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছি, তখন হঠাৎ অবাক হয়ে দেখলাম আমি নিজের অজান্তেই তার মরটিশিয়ান চরিত্রের সাথে একাত্ব হয়ে গেছি। অভিনয়ের ব্যাপারে তার অভূতপূর্ব ডেডিকেশন আরেকবার তিনি প্রমান করলেন দর্শকদের মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করে। কিন্তু সবচেয়ে চরম লেগেছে সবচেয়ে চরম লেগেছে একটা বাচ্চার অভিনয়। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য তার জীবনের সবচেয়ে বড় ত্যাগটা করার সময় তার চোখে ভয়ের বদলে ছিল এক অদ্ভুত গর্ব।

বেষ্ট ফরেন লাঙ্গুয়েজ বিভাগে ৮৪ তম অ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এবং ৬৯ তম গোল্ডেন গ্লব এওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত হওয়া এই মুভিটার মুল শক্তি হচ্ছে টীম ওয়ার্ক এবং কাহিনীর অপূর্ব গঠন শৈলি। দর্শক-সমালোচক সবার কাছে তুমুল প্রশংসিত এই মুভিটা অতি অদ্ভুতভাবে আইএমডিবি আর রটেনে কম রেটিং পেয়েছে। অবাক করা ব্যাপার হল দর্শকেরা তাদের রিভিউতে এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেও রেটিংের বেলায় অদ্ভুত কৃপণতা দেখিয়েছেন। তাতেও অবশ্য এই মুভির জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। Boxoffice Magazine এর Pete Hammond এই মুভিকে ৫ য়ে ৪ দিয়ে বলেছেন…

The Flowers of War is ultimately an inspiring, stirring and unforgettable human drama in the face of a horrifying war. It is highly recommended

আর গ্রাভিটি ম্যাগাজিন এই মুভি সম্পর্কে বলেছে…

a uniquely harrowing account of the rape of Nanjing and a work of often garish dramatic flourishes yet undeniable emotional power, finding humor and heartbreak in a tale of unlikely heroism in close quarters.

আশা করি সবাই দেখে ফেলেছেন এই চলচ্চিত্রটি। কিন্তু যারা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন দেখবেন কি দেখবেন না,তাদের উদ্দেশ্য একটা কথাই বলতে পারি। এই চলচ্চিত্র নামের অদ্ভুতুড়ে কথাকাব্যটা আপনাকে শোনাবে এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার কথা, যেখানে যুদ্ধের নারকীয় ভয়াবহতার ক্যানভাসে সকল পশুত্বকে ছাপিয়ে ওঠে ত্যাগ আর মানবতার মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক চিলতে হিরণ্ময় আঁচড়, গেয়ে যায় পবিত্রতা আর শুভ্রতার জয়গান। একজন মুভিখোর ভাই তার রিভিউতে বলেছিলেন এইটা নাকি ভাল মুভির উদাহারন। আমার চোখে এটা শুধু ভাল মুভি নয় , বিবেককে নাড়া দেয়া এক অপূর্ব উপাখ্যান…

আইডিএমবি – www.imdb.com/title/tt1410063

টরেন্ট ডাউনলোড –
http://yify-torrents.com/movie/The_Flowers_of_War_2011

২৬ thoughts on “Flowers of War- নর্দমায় জন্ম নেয়া স্বর্গীয় সৌরভ ছড়ানো কিছু ফুলের গল্প…

  1. অনেকের কাছেই প্রশংসা
    অনেকের কাছেই প্রশংসা শুনেছি!
    ডাউনলোডও করেছি!! এখনও দেখা হয় নাই…
    এইবার দেখে ফেলব একদিন! :থাম্বসআপ:

    1. ডাওনলোড করেছেন কিন্তু এখনও
      ডাওনলোড করেছেন কিন্তু এখনও দেখেননি!! :থাম্বসডাউন: দ্রুত দেখে ফেলুন… সত্যিই চমৎকার একটা মুভি… :salute: কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা:

  2. দেখা হয়নি মুভিটা। লিস্টে
    দেখা হয়নি মুভিটা। লিস্টে রাখলাম। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. মুভিটা দেখিয়েন ডাক্তার
      মুভিটা দেখিয়েন ডাক্তার সাহেব… খুবই চমৎকার এক গল্পে তারচেয়েও চমৎকার অভিনয়ে ক্লাসিক এক মুভি… :চশমুদ্দিন: কমেন্টের জন্য :ধইন্যাপাতা:

  3. আমার ফেভারিট মুভিগুলোর মধ্যে
    আমার ফেভারিট মুভিগুলোর মধ্যে একটি ;
    সবচেয়ে কষ্ট লাগে যখন মেয়েটি সেতারের( ওটা কি সেতার ছিল ?) তার আনতে গিয়ে মারা যায়। :'(

    1. আমারও প্রচণ্ড কষ্ট লেগেছে ওই
      আমারও প্রচণ্ড কষ্ট লেগেছে ওই দৃশ্যটায় :কানতেছি: :মনখারাপ: … মেয়েটাকে ঠিক যে জিনিসটা তার দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেনি, সেটাই ঘটল… :মাথাঠুকি: :মনখারাপ:

      অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই রিভিউটা পড়ার জন্য… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: আজ এইটা আরও ইলাস্ট্রেট করলাম :মাথাঠুকি: … আরও কিছু নতুন জিনিস যোগ করলাম… :ভাবতেছি: :কেউরেকইসনা: আরেকবার পড়ার অনুরোধ থাকলো সবার কাছে… আশা করি আরও কিছু ভয়াবহ ইতিহাস জানতে পারবেন… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :দেখুমনা: :আমারকুনোদোষনাই:

      1. লজ্জায় কই লুকাই …
        লজ্জায় কই লুকাই :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :কেউরেকইসনা: … মাইরালা আম্রে… :মাথাঠুকি: :দেখুমনা: :আমারকুনোদোষনাই:

    1. শুধু গোলাপের শুভেচ্ছা রইল
      শুধু গোলাপের শুভেচ্ছা রইল সোমেশ্বরী আফা… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :খাইছে: :ফুল: :নৃত্য: 😀

  4. ডন ভাই, রিভিউ অস্থির হইছে

    😀 ডন ভাই, রিভিউ অস্থির হইছে
    এরজন্য আপ্নের লাইগা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. কিছু বলব না, শুধুই গোলাপের
      কিছু বলব না, শুধুই গোলাপের শুভেচ্ছা… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল: 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *