রাজিবের পর শান্তঃআর কত লাশ চাই?

রাজিবের পর চলে গেলেন শান্ত। প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণের আন্দোলন চলছে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। অভূতপূর্ব এই আন্দোলন

রাজিবের পর চলে গেলেন শান্ত। প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণের আন্দোলন চলছে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। অভূতপূর্ব এই আন্দোলন
দেখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিরা অভিভূত, আশান্বিত আর অন্য দিকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিগুলো ভীত, আতংকিত। যার প্রেক্ষিতে পৈশাচিকভাবে খুন হয়েছে ব্লগার রাজিব (থাবা বাবা)।প্রাথমিকভাবে এই খুনের উদ্দেশ্য হিসেবে তার নাস্তিকতার কথা সবাই বললেও সময় যত গড়াচ্ছে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এর পেছনে আরও গভীর কারণ আছে। শুধুমাত্র নাস্তিকতা ও ধর্ম নিয়ে তির্যক কথা-বার্তার জন্য যে তিনি খুন হননি তা এখন মোটামুটি নিশ্চিত। হতে পারে রাজিব ধর্ম নিয়ে তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক কথা বলেছে, তাই বলে কি জীবন দিয়ে তার মূল্য দিতে হবে? আসলে তা নয়। খুনীরা তার নাস্তিক পরিচয়টি পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা জানে ধর্ম বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষের একটা দুর্বল দিক। খুনীরা ঠিক এই জায়গাটিতে আঘাত করতে চেয়েছিল, এবং আমি বলব তারা এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সফল। কারণ রাজিবের মৃত্যুর পর অনেককেই দেখেছি ওকে নাস্তিক,
অমানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি গালাগাল দিচ্ছে। আমি ওইসব মানুষদের
বলছি এটি দেশের স্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলন। এখানে কে আস্তিক কে নাস্তিক তা মুখ্য নয়, মুখ্য হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আপনারা কেন বুঝতে পারছেন ওরা আমাদের আবেগকে পুঁজি করে এতদিন
ধরে আমাদের নাচিয়ে আসছে, এখনো সেই চেষ্টা করছে। একবার
চিন্তা করে দেখুন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ যদি কে আস্তিক, কে নাস্তিক তা নিয়ে চিন্তা করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত তাহলে কি আমরা এত সুন্দর পতাকাটা পেতাম? তখন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছিলেন। তবে আজ ৪২
বছর পরে আমরা কেন পারব না?৪২ বছর আগে বাংলার সুর্য সন্তানেরা জাত-পাতের ভেদাভেদ ভুলে যুদ্ধ করতে পারলে আজ ৪২ বছর পরে তথাকথিত আধুনিক এই আমরা কেন পারব না?রাজিবের পর পিশাচদের বিচার চাইতে চাইতে চলে গেলেন শান্ত। সরকারের কাছে আজ জানতে চাই আর কত শান্ত,
রাজিবের তাজা রক্ত চাই? আর কত শান্তরা লাশ হওয়ার পর আপনাদের টনক নড়বে? আর কত লাশ পড়লে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবেন? আজ আমাদের সহযোদ্ধা শান্ত এবং রাজিব
পিশাচগুলোর নির্মম থাবার শিকার, কাল হয়তবা শিকার হব আমি বা আপনি। তাই আপনাকে, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি প্রতিরোধ গড়ে
তুলুন পিশাচগুলোর বিরুদ্ধে। আপনার, আমার নিরাপত্তা আমাদের
নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের পাশে কোন রাজনৈতিক
দলকে ভুলেও আশা করবেন না। আন্দোলনের দুই সপ্তাহ হয়ে গেলো অথচ সরকারি দলের একাত্মতা ছাড়া তেমন কিছুই কিন্তু আমরা পাইনি। সরকার কথায় চিড়ে ভেজাতে চাইছে, তা নাহলে
এতদিনের আন্দোলনের পরও কেন আমরা সুনিদির্ষ্ট কোন মীমাংসা পাচ্ছি না? আসলে সব রাজনৈতিক দলই ক্ষমতালোভী, সবার চরিত্রই এক। বি এন পি, আওয়ামী লীগ কেউ আমাদের পাশে নেই। সবাই আসলে আন্দোলনের ফায়দা লুটতে চায়। সবাই চায়
এই গণজাগরণের আবেগকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখল করতে। কিন্তু এটা হতে দেওয়া যায় না। আন্দোলন আমাদের গণমানুষের, আমাদেরই লক্ষ্য রাখতে হবে আন্দোলন যাতে সফল হয়, কেউ যেন আন্দোলনের ফায়দা লুটতে না পারে। অনেক হয়েছে মোমবাতি জ্বালিয়ে, নীরবতা পালন করে, একযোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ও বেলুন উড়িয়ে অহিংস আন্দোলন, এবার আমাদের আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হবে। এবার সরকারের কাছে আমাদের দাবি- দাওয়া পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে সেই দাবি পূরণের আল্টিমেটাম দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে আরো কঠিন কর্মসূচি দিতে হবে। এবার সময় এসেছে আমাদের সহযোদ্ধা শান্ত এবং রাজিবের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার, রাজিবদের প্রতিটি রক্তবিন্দুর মূল্য চুকানোর। কোন যুদ্ধাপরাধী যেন বাংলার মাটিতে না থাকতে পারে
আমাদেরকেই সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আমরা কিছুটা হলেও সমর্থ হব ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের ঋণ চুকাতে।

৫ thoughts on “রাজিবের পর শান্তঃআর কত লাশ চাই?

  1. চিন্তা করে দেখুন একাত্তরে

    চিন্তা করে দেখুন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ যদি কে আস্তিক, কে নাস্তিক তা নিয়ে চিন্তা করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত তাহলে কি আমরা এত সুন্দর পতাকাটা পেতাম? তখন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছিলেন।

    সহমত। কোন ভাবেই ছাগুদের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। ঐক্য এখন সবচেয়ে জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *