The Black Magic-2

বিদেশি সিনেমায় এমনকি ভারতীয় সিরিয়ালে প্রায়ই দেখা যায়, একজন দুষ্ট ব্যক্তি একটি পুতুলের গায়ে সুঁচ ফুটিয়ে আরেক জায়গায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করছে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
এধরনের কাজই হচ্ছে সাধারন ভাষায় কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক। একে ডার্ক আর্ট, ডার্ক ম্যাজিক, ভূডূ, ডাকিনী বিদ্যা,মারণ, উচাটন, তাবিজ করা, বান মারা, কুফরি কালাম ইত্যাদিও বলা হয়ে থাকে। ভূত বা প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী বা কোনো কাজ করার বিদ্যাকে নেক্রোম্যান্সি বা কালো জাদু বলে। বিভিন্ন সমাজ ও ধর্মে ব্ল্যাক ম্যাজিকের নাম ভিন্ন হলেও মূলত ব্যাপারটা একই আর তা হল কালো বা খারাপ শক্তির প্রতীক শয়তানের উপাসনা। প্রাকৃত বা অপ্রাকৃত ঘটনাকে অলৌকিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করার নামই হলো যাদুবিদ্যা। যাদুবিদ্যায় মূলত তিনটি বিষয় থাকে – মন্ত্র, মন্ত্রপূত বস্তু ও মন্ত্রাচার বা বিশেষ কাজ।



বিদেশি সিনেমায় এমনকি ভারতীয় সিরিয়ালে প্রায়ই দেখা যায়, একজন দুষ্ট ব্যক্তি একটি পুতুলের গায়ে সুঁচ ফুটিয়ে আরেক জায়গায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করছে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
এধরনের কাজই হচ্ছে সাধারন ভাষায় কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক। একে ডার্ক আর্ট, ডার্ক ম্যাজিক, ভূডূ, ডাকিনী বিদ্যা,মারণ, উচাটন, তাবিজ করা, বান মারা, কুফরি কালাম ইত্যাদিও বলা হয়ে থাকে। ভূত বা প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী বা কোনো কাজ করার বিদ্যাকে নেক্রোম্যান্সি বা কালো জাদু বলে। বিভিন্ন সমাজ ও ধর্মে ব্ল্যাক ম্যাজিকের নাম ভিন্ন হলেও মূলত ব্যাপারটা একই আর তা হল কালো বা খারাপ শক্তির প্রতীক শয়তানের উপাসনা। প্রাকৃত বা অপ্রাকৃত ঘটনাকে অলৌকিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করার নামই হলো যাদুবিদ্যা। যাদুবিদ্যায় মূলত তিনটি বিষয় থাকে – মন্ত্র, মন্ত্রপূত বস্তু ও মন্ত্রাচার বা বিশেষ কাজ।

খ্রিস্টধর্ম প্রবর্তনেরও আগে পাশ্চাত্যে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে অদ্ভুত কিছু বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল। এরা এক একটি গোত্র বিভিন্ন কাল্পনিক ভূত-প্রেত বা অশুভ আত্মার আরাধনা করত। এমনকি এখনো এ বিদ্যার গোপন অনুসারীরা তাদের এ বিদ্যা দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে আসছে। সে যুগে কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রথা, অন্ত্যেষ্টি সংস্কার, ভূত তাড়ানো অনুষ্ঠান ও জাদু অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো। আর এসব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মৃত আত্মার সন্তুষ্টি আনয়ন। মূলত আত্মাসংক্রান্ত সেই ধ্যান-ধারণা থেকেই ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর বিবর্তন। কালোজাদুর অপপ্রয়োগে মানুষকে হত্যা করা বা আঘাত করা, পাগল বানানো,বিয়ে বন্ধ করা বা বিয়ে ভাঙানো ইত্যাদি ধ্বংসকর অনেক কাজ করা সম্ভব । সন্মোহন বা হিপনোটিজম অথবা মনুষ্য বশীকরণ বিদ্যাও কিন্তু এক ধরনের ব্ল্যাক আর্ট।

বিভিন্ন Ritual বা ধর্মী আচার, উপাসনা বা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়ে থাকে। নানান আকারের চক্র, মন্ত্র এবং আত্মা এই সকল রিচুয়ালের মূল উপাদান। যাদুবিদ্যা প্রয়োগের উপায় বা উপকরণ নানা ধরনের হয়ে থাকে। বিশেষ প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও জড়বস্তু যাদুর কাজে ব্যবহার করা হয়। মানুষের চুল, নখ, গায়ের ময়লা; জীবজন্তুর হাড়, চামড়া, দাঁত, মাংস; পাখির পালক, নখ, মাংস, রক্ত; গাছগাছড়ার ফুল, ফল, লতা, শিকড়, ছাল; জড়বস্তুর মধ্যে মাটি, পাথর, সোনা, রূপা, তামা, লোহা, কড়ি, ঝাড়ু ইত্যাদি যাদুবিদ্যার কাজে ব্যবহার করা হয়। ব্ল্যাকআর্টে শয়তানের উপাসনা করা হয়। ব্ল্যাকআর্টের উপাসনাকারীরা মনে করে শয়তান খোদার চেয়ে শক্তিশালী, যেহেতু ভালো কাজের থেকে খারাপ কাজ করা সহজ। মাঝে মাঝে লুসিফার, অর্থাৎ শয়তানের উদ্দেশ্যে মানুষ বলি দেয়া হয়।

বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিছুর কথা আজ উল্লেখ করছি ।

#কুফরি কালাম বা বান মারা
অনেক লোক কোরান শরিফ এর কিছু নির্দিষ্ট আয়াত উল্টা করে পরে এই কাজ করে থাকে যাকে বলা হয় কুফরী বা শয়তানি কালাম । একেই আমরা বলে থাকি ফুঁক দেওয়া, কবজ করা অথবা বাণ মারা বলে।
সাধারণত কাউকে বান মারার জন্য কতকগুলো তথ্য জানা জরুরি: তার পুরা নাম, তার মায়ের নাম, তার সঠিক জন্ম তারিখ। এসব তথ্যের সাথে দরকার হয় জাকে বান মারা হবে তার শরীরের সাথে সংস্লিষ্ট যেকোনো জিনিস–তার একটা চুল, নখ বা তার কাপড়ের একখন্ড সুতা বা তার রুমালের একটা টুকরো। আমাদের দেশে এইজন্য সাধারণত লোকজন মায়ের নাম বলতে চায় না।

#Voodoo বা ভূডূ
ভূডূ (Voodoo) হচ্ছে এক ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক বা ডাকিনীবিদ্যা। ‘ভূডূ’ কথার অর্থও ‘আত্মা’ শোনা যায়, ভূডূবিদ্যার সাহায্যে নাকি কবরের লাশ জ্যান্ত করে তাকে গোলামের মতো খাটানো যায়।ভূডূ চর্চার উৎপত্তি মূলত হাইতিতে। তবে আফ্রিকায় এর চর্চা আরও বেশি। ব্রাজিল, জ্যামাইকায়ও ভূডূর প্রচলন রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, বিভিন্ন দেশে এর চর্চা হয় ভিন্ন ভিন্ন নামে। যেমন : হাইতিতে একে বলা হয় ভূডূ, ব্রাজিলে ক্যানডোমবল, জ্যামাইকায় ওবিয়াহ ইত্যাদি। পশ্চিম অফ্রিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে ভূডূতে সেখানকার কমপক্ষে পঁচিশ লাখ মানুষ এ বিদ্যার অনুরাগী। এ চর্চা সবচেয়ে বেশি হয় আফ্রিকার ঘানায়। ঘানার ককুজানের অধিবাসীরা এ বিদ্যাটির সাংঘাতিক অনুরাগী। এরা অসুখ-বিসুখে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেয়ে ভূডূ চিকিৎসকদের ওপর ভরসা করে বেশি।

#Ya sung বা ইয়া সাং
Ya sung বা ইয়া সাং এক ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক যেটা থাইল্যান্ড এর উত্তরপূর্ব অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। এটি করা হয় ঐতিহ্যগত জ্ঞানের মাধ্যমে শেকড়ের বিষ দিয়ে; যাতে পেটব্যথা, শরীরে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে ভুক্তভোগীকে ঠেলে দেয়।

#witchcraft বা ডাইনিবিদ্যা
witchcraft বা ডাইনিবিদ্যা ইতিহাসগত এক ধরণের বিশ্বাস যেখানে পৌরাণিকগত ব্যাখ্যায় জাদু বা ইন্দ্রশক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখিত।দ দৃঢ়ভাবে মানুষের বিশ্বাস ছিলো খ্রিস্টীয় ইউরোপে যারা ডাইনী ছিলো তারা শয়তানের প্রভাব বিস্তার করতে নিজেদের শক্তি দিয়ে মানুষ ও বাড়িঘরের ক্ষয়সাধন করতো। এটা পশ্চিমা জগতে মূলত একটি সাংস্কৃতিক ভাবতত্ত্ব হিসেবে পরিগণিত; যেটাকে দোষ দেয়া হয় একটি অতিপ্রাকৃতিক সত্ত্বা, মানবজাতির দুর্ভাগ্য হিসেবে।

৪ thoughts on “The Black Magic-2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *