কোন এক যুগে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি একসাথে হয়েছিল

কোন এক যুগে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি একসাথে হয়েছিল … শুধু তাই নয় তারা একসাথে আন্দোলনেও নেমেছিল । দুই নেত্রীকে রাজী করানো গিয়েছিল যুগপত আন্দোলনে।
আজ সেই দিন…
.
.
১০ নভেম্বর, ১৯৮৭….
আন্দোলনে নামে লাখো জনতা!
তীব্র শীত এবং কনকনে বাতাস উপেক্ষা করে লাখো জনতা পল্টনের দিকে……….

সেখানে হঠাৎ হেঁটে আসছে খালি গায়ে এক যুবক।
‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ বুকে পিঠে লিখে জীবন্ত পোস্টার হয়ে তিনি রাজপথ কাঁপিয়ে আসছেন।
চোখে মুখে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা। উপস্থিত জনতার ঘোর কাটার আগেই স্বৈরশাসকের তপ্ত বুলেটে লুটিয়ে পরে নূর হোসেন। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ।

কোন এক যুগে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি একসাথে হয়েছিল … শুধু তাই নয় তারা একসাথে আন্দোলনেও নেমেছিল । দুই নেত্রীকে রাজী করানো গিয়েছিল যুগপত আন্দোলনে।
আজ সেই দিন…
.
.
১০ নভেম্বর, ১৯৮৭….
আন্দোলনে নামে লাখো জনতা!
তীব্র শীত এবং কনকনে বাতাস উপেক্ষা করে লাখো জনতা পল্টনের দিকে……….

সেখানে হঠাৎ হেঁটে আসছে খালি গায়ে এক যুবক।
‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ বুকে পিঠে লিখে জীবন্ত পোস্টার হয়ে তিনি রাজপথ কাঁপিয়ে আসছেন।
চোখে মুখে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা। উপস্থিত জনতার ঘোর কাটার আগেই স্বৈরশাসকের তপ্ত বুলেটে লুটিয়ে পরে নূর হোসেন। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ।
শহীদ হোন নূর হোসেন।

১০ই নভেম্বর “নুর হোসেন দিবস”
১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বরের এই দিনে দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষনা করে। এরপূর্বে এরশাদ ১৯৮২ সালে একটি সেনা উত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে জয়্লাভ করেন, কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার এই নির্বাচনকে জালিয়াতি বলে অভিযুক্ত করে। তাদের একমাত্র দাবী ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। এ উপলক্ষ্যে খুব সম্ভব্ত ৩ দিনের টানা হরতাল দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ২ দিন ৩ দিন এই রকম টানা হরতাল দেওয়া হত। (আজ আবার মনে হয় সেই দিনেই আমরা ফিরে গেছি…)

“নুর হোসেন” – বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম। এক অখ্যাত যুবকের সাহসী মৃত্যু পুরো দেশটাকে জানিয়ে গেল আমাদের সংগ্রাম ছাড়া বেঁচে থাকার কোন পথ নেই। বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষের ইতিহাসের নুর হোসেন একটা সংযোজন। ১৯৮৭ নভেম্বরের ১০ তারিখে রাজধানী ঢাকা মিছিলে মিছিলে ছেয়ে গিয়েছিল। সেই মিছিলে বুকে-পিঠে “গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক” শ্লোগান লিখে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচীতে অংশ নেন তরুণ নুর হেসেন। গণতন্ত্রের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে ঢাকার রাজপথ উৎসর্গ করলেন নিজের প্রাণ। পুলিশের গুলিতে শহীদ হলেন নুর হোসেন। ঢাকার গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট বা জিপিও মোড় হলো নুর হোসেন স্কোয়ার। নূর হোসেনের সঙ্গে আরও আত্মাহুতি দেন যুবলীগের নেতা নুরুল হুদা ও কিশোরগঞ্জ বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারন করে বলেন,
সেদিন আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারনে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।

তবু আজও প্রশ্ন থেকে যায় গণতন্ত্র কি মুক্তি পেয়েছে আসলেই??

নুর হোসেনের রক্তে যার হাত আজো লাল,সে তো ঠিকই গণতন্ত্রের অংশীদার। নুর হোসেনের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত গনতন্ত্রকে শুধু ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া সুযোগ হিসাবে যারা ব্যবহার করেছে – তাদের কারনে গনতন্ত্র প্রতি পদে পদে আজ অবনত হচ্ছে। অগনিত সেলিম দেলোয়ার, বসূনিয়া, দিপালী সাহা, নুর হোসেন, ডাঃ মিলনদের রক্তের উপর দিয়ে পথ তৈরী হয়েছিল ক্ষমতা বদলের, একসময় স্বৈরাচারী এরশাদকে যেতে হয়েছে ঠিকই। তবে বদল হয়েছে শুধু শাসকের, শাসক না বলে শোষক বদল হয়েছে বলাই ভাল। অবিশ্বাস্য হলেও শহীদ নূর হোসেন যে স্বৈরাচার সরকার পতনের জন্য, যে গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন। আজ রাজনীতির প্রধান অংশ তারা!!! ভাগ্যের সে কি নির্মম পরিহাস!!!! সত্য যে ৭১ সালের রাজাকারদের মত সেই এরশাদও আজ রাজনৈতিক ভাবে পূনর্বাসিত। এমন মনে হয় কেবল আমাদের দেশেই সম্ভব।

৪ thoughts on “কোন এক যুগে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি একসাথে হয়েছিল

  1. সব থেকে দুঃখের বিষয় হল এই
    সব থেকে দুঃখের বিষয় হল এই এরশাদই আজকে নূর দিবস পালন করেছে 🙁
    আমাদের জাতিটা খুবই মজার !!! যে মারলো সেই এখন তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে !!

  2. নূর হোসেনদের আত্মত্যাগ
    নূর হোসেনদের আত্মত্যাগ চিরকালই ব্যর্থ হয়ে যায়… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাঙামন: :এখানেআয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *