○হিমুর সাথে একদিন○

—আপনি কি হিমু? হুমায়ুন আহমেদের হিমু?

—না। আমি হিমালয় ওরফে হিমু। হুমায়ুন আহমেদ আমাকে নিয়ে লিখতেন। এখন আর লেখেন না। ভদ্রলোক আর বেঁচে নেই। আমারও আর হাঁটা হয় না। বনে যেয়ে চাঁদও দেখা হয় না।

—আপনাকে কি আমি ভাই বলে ডাকবো? হিমু ভাই? ইচ্ছা হচ্ছে ডাকার।

—ইচ্ছা মনে পুষে রাখতে নেই। ইচ্ছা পুষে রাখলে এক সময় সেটা নেতিয়ে যায়। আর সেই নেতানো ইচ্ছা মনকে খামখা বিষন্ন করে তোলে। যতবার ইচ্ছা ভাই বলে ডাকো। চাইলে কাকা কিংবা মামাও বলতে পারো।

—Thanks হিমু ভাই। আমি জানতাম আপনি না করবেন না। আপনার সাথে আজ হাঁটি? হাঁটবেন তো?


—আপনি কি হিমু? হুমায়ুন আহমেদের হিমু?

—না। আমি হিমালয় ওরফে হিমু। হুমায়ুন আহমেদ আমাকে নিয়ে লিখতেন। এখন আর লেখেন না। ভদ্রলোক আর বেঁচে নেই। আমারও আর হাঁটা হয় না। বনে যেয়ে চাঁদও দেখা হয় না।

—আপনাকে কি আমি ভাই বলে ডাকবো? হিমু ভাই? ইচ্ছা হচ্ছে ডাকার।

—ইচ্ছা মনে পুষে রাখতে নেই। ইচ্ছা পুষে রাখলে এক সময় সেটা নেতিয়ে যায়। আর সেই নেতানো ইচ্ছা মনকে খামখা বিষন্ন করে তোলে। যতবার ইচ্ছা ভাই বলে ডাকো। চাইলে কাকা কিংবা মামাও বলতে পারো।

—Thanks হিমু ভাই। আমি জানতাম আপনি না করবেন না। আপনার সাথে আজ হাঁটি? হাঁটবেন তো?

—তুমি কি হিমু হতে চাও? তোমার হলুদ পাঞ্জাবী কোথায়? পায়ে তো জুতাও আছে দেখছি।

— আমার যে হলুদ পাঞ্জাবী নেই হিমু ভাই।

— তাহলে তো তুমি হিমু হতে পারবে না। হিমু ধর্ম অনেক কঠিন। হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতে হবে। রাতে চাঁদ দেখতে হবে। মাঝে মাঝে পুলিশ/সন্ত্রাসীদের সাথে ঠাট্টাও করতে হবে। আরও অনেক কিছু আছে। পারবে?

— হিমু ভাই, আপনি আপনিই। আপনার জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। আমার হিমু হওয়ার শখ, নেই তবে মহাপুরুষ হতে চাই। আপনি কি মহাপুরুষ,, হিমু ভাই?

— সেটা বলা মুশকিল। কখনও ভাবি নি। তুমি আজ মনে করিয়ে দিলে আজ থেকে ভাবতে হবে। আমি আসলে কি? এখন অবসর পেলে ময়ুরাক্ষীর পাশাপাশি এটাও ভাব্বো।
পান খাবে?

— দিন। আপনি বলছেন,না করব না। আচ্ছা হিমু ভাই,মানুষের মনকে কব্জা করার কৌশল আপনি কোথায় শিখলেন?

— খুব সোজা। তুমিও পারবে। প্রত্যেক মানুষেরই অবচেতন মন বলে একটা জিনিস থাকে। সেই জিনিসটা যারা জাগিয়ে তুলতে পারে, মানুষ তাদেরকেই মনে রাখে বেশি। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কিছু ঘটনা থাকে যার মেয়াদ সাময়িক কিন্তু স্মৃতি থেকে যায় চিরকাল। এমন কোন কাজ করার চেষ্টা করবে যা আগে কেউ ভাবেনি বা করেনি।

— হিমু ভাই, আপনি নাকি মানুষের সম্পর্কে এবং তার আগাম ভবিষ্যত্‍ সম্পর্কে বলে দিতে পারেন? এটা কিভাবে? শেখাবেন হিমু ভাই? এর বিনিময়ে আপনি যা বলবেন আমি তাই করব।

— তুমি খুব কিউরিয়াস মাইন্ডেড। এই জিনিসটা ভালো। পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে গেলে অনেক কিছুর উত্তরের প্রয়োজন আর উত্তর যেখানে থাকবে প্রশ্নও সেখানে থাকবে। তোমার প্রশ্নের একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি আমি-
মানব চরিত্রের একটা মজাদার দিক হলো বিভ্রান্ত হওয়া। মানুষ বিভ্রান্ত হতে ভালোবাসে। আর সেই কারনেই সাড়া জীবন মানুষ এমন কিছু বিভ্রান্তির পিছু ছুটে বেড়ায় যা সে পেতে চায় কিন্তু পায় না। মানুষের এসব দূর্বল দিক গুলোকে পয়েন্ট করে একজন মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেয়া খুব একটা কঠিন কাজ না। আনন্দেরও বলা চলে। তুমি যদি কাউকে একবার বিভ্রান্ত করেই দিতে পারো তাহলে সে নিজেই নিজের এমন অনেক তথ্য প্রকাশ করে দিবে যা তুমি জানতে না। সবই পরিস্থিতি, আর পর্যবেক্ষণ করার মত দৃষ্টি শক্তিও থাকা চাই। জনাব
মিসির আলী থাকলে হয়তো আরো ভালো যুক্তি দিয়ে তোমাকে ব্যাপারটা বোঝাতে পারতেন।

— আচ্ছা হিমু ভাই, এই হলুদ পাঞ্জাবীর বিশষ্যত্বটা কি?

— এর আলাদা কোন বিশষ্যত্ব নেই, তবে কিছু উপকারি দিক আছে বলতে পারো। এটাকে একটা মোহাচ্ছন্নতাও বলা যায়। মানুষ যেমন তাবীজ ব্যাবহার করে ঠিক সেরকমই হিমুদের হলুদ পাঞ্জাবীও কাজ করে। হলুদ পাঞ্জাবী পড়লে হিমু বিশ্বাসটা মনে ভালো করে জেগে ওঠে। রাত বিরেতে কেউ যদি দেখে যে একটা ছেলে হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে হাটছে, তো ব্যাপারটা দেখতে অদ্ভুতই লাগবে। তাই নয় কি? ও তোমার নামটা যেন কি?

— বাবা-মা নাম দিয়েছিলেন শ্রাবণ। নামটা কেমন যেন রোমান্টিক রোমান্টিক। আমার পছন্দ না। মহাপুরুষদের এরকম নাম থাকতে নেই। তাই নিজের নাম নিজেই দিয়েছি। খসরু। আমাকে খসরু বলে ডাকবেন, হিমু ভাই।

— ওকে খসরু। তুমি কি মহাপুরুষ হতে চাও?

— জ্বী হিমু ভাই। তাইতো আপনার কাছ থেকে কিছু ব্যাপার ক্লিয়ার করে নিচ্ছি।
আচ্ছা হিমু ভাই, আপনি যে খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান সারাদিন, আপনার পায়ে ময়লা লাগে না? এই যেমন ধরুন ককুরের পায়খানা কিংবা রাস্তায় পড়ে থাকা কারো বমি?
মহাপুরুষ হতে গেলে কি খালি পায়ে হাঁটা একান্তই জরুরী?

— হিমুদের খালি পায়ে হাঁটা আবশ্যক। তবে জুতা পড়তে নিষেধ নেই। আর ময়লা তো ভরবেই। কতবার যে কুকুরের পায়খানা পাঁয়ে লাগিয়ে মাজেদা খালার বাসায় উঠেছি তার হিসাব নেই। মানুষের দৃষ্টি থাকে বড় বিষয় গুলোর প্রতি এসব ছোট খাটো ব্যাপার কয়জনেই বা খেয়াল করে? মাজেদা খালাও খেয়াল করেন নি হয়তো। তাছাড়া এটাতো কুকুরগুলো মৌলিক অধিকার। এখানে আমি কুকুরের দোষ দেখি না। সরকারের উচিত কুকুর সমাজের জন্য কুকরিক পায়খানা স্থাপন করা। নাম হতে পারে “কুকুরিও শৌচালয়”। আইডিয়াটা মন্দ না। কি বলো?

— ঠিক বলেছেন হিমু ভাই। এই ব্যাপারে আমি একমত। এই ব্যাপারটা নিয়ে কুকুরদের তিন দিনের একটা সমাবেশ করা উচিত। যার শ্লোগান হবে
“বাঁচার মত বাঁচতে চাই. . যথাযথ হাগতে চাই!”

— বাহ। তোমার আইডিয়াটাও ভালো। এই ব্যাপারটা কুকুদের জানানো উচিত।

— হাঁটতে হাঁটতে তো অনেক দূর এসে পড়লাম হিমু ভাই। আপনাকে একটা শেষ প্রশ্ন করতে চাই। করি?

— তোমার আইডিয়া আমার ভালো লেগেছে। নির্দ্বিধায় করো।

— রূপা কে নিয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি উনাকে ভালোবাসেন?

— হিমুদের ভালোবাসতে নেই, তুমি জানো না? হিমুরা কখনও কোন তরুণীর প্রেমে জড়ায় না। হিমু আইনে এটা ঘোরতর অন্যায়।
তুমি আজ যাও। আমিও যাই।
আমার একটা ফোনকল করতে হবে…।

২ thoughts on “○হিমুর সাথে একদিন○

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *