হরতালের ক্ষতিপূরণ আদায়

“হরতালের ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন হবে। খুব শিগগির হরতাল আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৪ ও ৩০৭ ধারায় মামলা করা হবে।’ বিরোধী দলের নৈতিকতাবিরোধী ও অবৈধ হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় তারা আবার জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারা করছে।”- বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর

“হরতালের ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন হবে। খুব শিগগির হরতাল আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৪ ও ৩০৭ ধারায় মামলা করা হবে।’ বিরোধী দলের নৈতিকতাবিরোধী ও অবৈধ হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় তারা আবার জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারা করছে।”- বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর
হরতাল দিয়ে খুন, ধ্বংস মোটেও সমর্থন যোগ্য নয়। আর হরতাল যদি জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে না হয়ে ক্ষমতা দখল বা চোর-রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য হয়, তাহলে তো সেই হরতাল অবশ্যই গণবিরোধী এবং গণতন্ত্র বিরোধী। কিন্তু কথা হচ্ছে আজকে আওয়ামী লীগ হরতালের বিরুদ্ধে যে কথা বলছে গতবার (১৯৯৬-২০০১) ক্ষমতায় এসেও একই কথা বলেছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি বিরোধী দলে গেলেও আর কখনও হরতাল দিবেন না। খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন, নাকে খত দিয়ে বলতে হবে আর কখনো হরতাল ডাকবেন না, তাহলেই আলোচনা হবে। এবার শুরুটা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ আর কখনো হরতাল দিবে না সেকথা ভুলেও বলছেন না। তাহলে কি আওয়ামী লীগ আর কখনো বিরোধী দলে যাবে না??? সেই বন্দোবস্ত কি ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে? তা না হলে তারা হরতালের ক্ষতিপুরণ আদায়ে আইন করবেন কিভাবে? কারণ হরতালে তো আওয়ামী লীগই বাংলাদেশে চ্যাম্পিয়ন। হরতালের জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, ভাঙচুর- এগুলোতেও আওয়ামী লীগের জুড়ি মেলা ভার। ইতিহাস সেকথাই বলে। আর কোনদিন হরতাল করবো না বলে জাতির কাছে ওয়াদা করার পরেও বিরোধী দলে গিয়েই শেখ হাসিনা ১৩০ দিন হরতাল দিয়েছিলেন। আর জ্বালাও-পোড়াও-হত্যা-ভাংচুরের কথা বললে, আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি এখনও শিশু। জ্বালাও-পোড়াও-হত্যা-ভাংচুর করেই তো আওয়ামী লীগ তত্বাবধায়ক সরকার আদায় করেছিলো, লগি-বৈঠার তোড়ে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তেও বাধ্য করেছিলো (মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনকে এনেছিলো)! বিএনপি কি এযাবত কিছু আদায় করতে পেরেছে হরতাল দিয়ে?? সেই মারমার-কাটকাট হরতাল করার মুরোদ কি বিএনপির আছে? বর্তমান মেয়াদের পাঁচ বছরে বিএনপি জোট হরতাল দিয়েছে মাত্র ১৬ দিন (৭ অক্টোবর পর্যন্ত)! আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে নির্ঘাত এটা ১১৬ ছাড়াতো।
তাছাড়া বিএনপি যেকারণে হরতাল দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ তো ঠিক সেই একই কারণে হরতাল দিয়েছে। গদি দখল ছাড়া হরতালের তো অন্য কোন কারণ নেই। জনগণ তো শুধু ভুক্তভোগী দর্শক মাত্র।
হরতালের ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন- হিসাব কেমন জানি গোলমেলে মনে হচ্ছে! আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকলে এ আইন তারা কখনই করবে না। কারণ তাহলে সর্ববৃহত ক্ষতিপূরণ তো তাদেরই দিতে হবে!!

৫ thoughts on “হরতালের ক্ষতিপূরণ আদায়

  1. মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর
    মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে আবেদন, প্রাক্তন বিরোধী দলীয় নেত্রীর রেকর্ড পরিমাণ হর্তাল ১৩০ দিনকে অতিক্রম করার এই চ্যালেঞ্জ এখন আপনার সামনে। পিলিজ, রেকর্ডের স্বার্থে আরো ১১৫ দিন হর্তাল দিন। নইলে ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না। আর ক্ষতিপূরণ টূরন কোন ব্যাপারই না। রাজপুত্র চাইলেই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হিডেন একাউন্ট থেকে এনে সরকারের মুখে ছুঁড়ে ফেলতে পারে আনায়াসেই। আর সেই সাথে হর্তাল প্রতি ৫/৭ পিস আম পাব্লিক ফ্রাই থাকতেই হবে। নইলে হর্তালেরও বেইজ্জত হবে। বাঙলাদেশ পোড়াবাদ।

  2. কে জানি লিখেছিলেন, কপাল ভিজে
    কে জানি লিখেছিলেন, কপাল ভিজে যায় নয়নের জলে!
    পরে আরেকজন কোন অক্ষর পরিবর্তন ছাড়াই ঐ বাক্যটিকে শুদ্ধ করেছিলেন এভাবে, যখন পা দুটি বাধা থাকে শিমুলের ডালে!

    তেমনি আপনি বলছেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন… আর কোনদিন হরতাল করবো না!
    আসলে ঐ বাক্যটির আগে বসবে, আসুন(তখনকার বিরুধীদলীয় নেত্রীকে উদ্যেশ্য করে) এমন একটি আইন করি যাতে ক্ষমতায় গেলেও আমরা…. কোনদিন হরতাল করবো না ।(আশা করি বুঝাতে পেরেছি)

    হরতালে বা এরকম প্রকৃতির প্রতিবাদ হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার ।ইহা নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ।তবে আইন করে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনে আলাদা একটি নীতিমালা করা যেতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *