ব্যাংক, কোচিং সেন্টার, চিকিৎসকদের টাকায় চলছে শিবিরের কর্মকাণ্ড

ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অর্থের যোগান দিচ্ছে নামে-বেনামে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। অনুদান হিসেবে দেয়া এসব টাকা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখা-সংগঠনের নামে ব্যাংকে জমা হওয়ার পর তা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।


ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অর্থের যোগান দিচ্ছে নামে-বেনামে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। অনুদান হিসেবে দেয়া এসব টাকা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখা-সংগঠনের নামে ব্যাংকে জমা হওয়ার পর তা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিং সেণ্টার থেকে চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় সংগঠনের অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি ১৫ দিনে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রেটিনার টাকা অন্য একটি কোচিং এর নামে শিবিরের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। শুধুমাত্র শিবিরের চট্টগ্রামের একটি শাখার অ্যাকাউন্টে গত পাঁচ মাসে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাসে পুলিশ অভিযানে গিয়ে শিবিরের বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করেন। এসব নথিপত্র পর্যালোচনা করে শিবিরকে তাদের কর্মকান্ড সংগঠিত করার জন্য কোচিং সেণ্টার, ব্যাংক এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে অনুদান আদায়ের এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো.শহিদুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, `একটি ছাত্র সংগঠনের নামে করা অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমান অর্থ লেনদেন অস্বাভাবিক। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।`

উল্লেখ্য রোববার সকালে নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় শিবিরের তান্ডবের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ছাত্রাবাস থেকে ৩৮শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। রোববার দুপুর সোয়া ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওই ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্র ও বিপুল পরিমান জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর বিভিন্ন জিহাদি বইয়ের সঙ্গে শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিং সেন্টার থেকে প্রবাহ কোচিং এর নামে ৩ লাখ করে ৬ লাখ টাকার দুটি চেকের রিসিভ কপি, ইসলামি ব্যাংকে ১৫ দিনে ১৭ লাখ টাকা জমা দানের একটি চেক বই ও শিবিরের দুই নেতার যৌথ একটি একাউন্টে প্রায় ৮১ লাখ টাকা লেনদেনের একটি ব্যাংক স্টেটম্যান্ট পাওয়া গেছে।

১৫ দিনে ১৭ লাখ টাকা লেনদেনের যে চেক বইটি পাওয়া গেছে সেটি নগরীর চকবাজার ইসলামি ব্যাংকে (মুদারাবা সেভিংস একাউন্ট-২০৫০১৬২০২০৩৯৪৭১০২) ইসমাইল ও আজিজুল হাকিমের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে তাদের দেয়া হয়েছে। চকবাজারে অবস্থিত রেটিনা কোচিং সেন্টারের ওই ১৭ লাখ টাকা ইসলামি ব্যাংকের ওই একাউন্টে জমা দেয়া হয়েছে।

৮১ লাখ টাকা লেনদেনের যে ব্যাংক স্টেটম্যান্টটি পাওয়া গেছে সেটি চকবাজার ইসলামি ব্যাংকে মোদাবারা সেভিং একাউন্ট। মুহসিনুল ইসলাম ও এ এমএম মাসরুর হোসাইন এর নামে যৌথভাবে এটি খোলা হয়েছে। নিয়মিত একাউন্ট নাম্বারটির গ্রাহক ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে মেইন হোস্টেল কক্ষ নম্বর ২০/সি, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এএমএম মাসরুর হোসাইন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবিরের (উত্তর) সেক্রেটারি। মুহসিনুল ইসলাম হল শাখার শিবির নেতা।

ব্যাংক স্টেটম্যান্টটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ২ অক্টেবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টেটম্যান্ট দেয়া হয়েছে। স্টেটম্যান্টে দেয়া ৫ মাসে ওই একাউন্টে মোট ৮১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৭ টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব টাকা ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা, গাজিপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী এবং নগরীর সিডিএ শাখার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর একাউন্টে বিপুল পরিমান অর্থ লেনদেনের বিষয়কে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মো.শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এসব টাকা কোথা থেকে এসেছে, কেন পাঠানো হয়েছে আর কোন খাতে খরচ হয়েছে তা আমরা তদন্ত করে দেখবো।’

শিবিরের তহবিলে চিকিৎসকের টাকা এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ(চমেক) ছাত্রাবাসে ইসলামি ছাত্রশিবিরের তহবিলে মাসিক চাঁদা দেয়ার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসকের নাম। চাদা দেয়ার তালিকায় থাকা চিকিৎসকদের নাম সংবলিত কয়েকটি রিসিভ কপি পাওয়া যায় পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও জিহাদি বই পত্রের সঙ্গে। ১৬ জন ডাক্তার থেকে আদায় করা রশিদের ১৭টি রিসিভ কপি বাংলানিউজের হাতে রয়েছে। এতে মোট ৪ হাজার ৪শ টাকা আদায় করা হয়েছে।
এসব রশিদে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ডা.ইউসুফ, ডা.এহতেশাম, ডা.এ ছালাম, ডা.গিয়াস, ডা.রেজাউল, ডা.জসীম, ডা.জাহেদ, মুহিতুল, ডা বাবুল, বাবুল ওসমান, ডা.আব্দুল কাদের, ডা.আব্দুস সালাম, ডা.কামরুল ইসলাম, ডা.মো.জাহাঙ্গির,.মো.ইসমাইল ও ডা.আশিক চৌধুরী।

আট কোচিং সেণ্টারের টাকা যাচ্ছে শিবিরের তহবিলে চট্টগ্রামের শিবির নিয়ন্ত্রিত আটটি কোচিং স্ণ্টোর জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কর্মকান্ড সংগঠিত করা এবং এজন্য অর্থ যোগান দিচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং সংগঠিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে তিনটি সরাসরি জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত। এগুলো হচ্ছে, রেটিনা, প্রবাহ এবং ইনডেক্স।

আরও পাঁচটি কোচিং সেন্টার আছে যেগুলো দৃশ্যমান জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত নয়, কিন্তু নেপথ্যে এগুলো পরিচালনার দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের হাতেই। এসব কোচিং সেন্টার হচ্ছে, সলিউশন, এক্সিলেন্ট, এক্সপোনেন্ট এবং প্রিপারেশন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তারেক আহম্মেদ বাংলানিউজকে বলেন, `আটটি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে নাশকতার পরিকল্পনা এবং সেটা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার প্রাথমিক তথ্য, প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। আরও কয়েকটি কোচিং সেণ্টারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।`

উল্লেখ্য ঝটিকা মিছিল সংগঠিত করার সময় গত ১০ নভেম্বর রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ কোচিং সেণ্টারের কর্মকর্তা-শিক্ষক সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

খবরের লিংক- বাংলানিউজ২৪

৬ thoughts on “ব্যাংক, কোচিং সেন্টার, চিকিৎসকদের টাকায় চলছে শিবিরের কর্মকাণ্ড

  1. দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল

    দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা।

    ১০০ ভাগ সত্য কথা।প্রতিমাসে ওদের চাদার পরিমান ৭০০-১০০০ টাকা।

  2. বাংলার মানুষ দেখুন জামাত
    বাংলার মানুষ দেখুন জামাত শিবিরের আসল কর্মকান্ড ! এই জামাতে এবং তথাকথিত ইসলাম পন্থী রানৈতিক দলের ডাকা অনৈতিক হরতালে সমর্থন দিয়ে বিএনপি কি তাদের আসল চেহারা প্রকাশ করল ? এই বিএনপি কি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানরে বিএনপি, নাকি সর্বকালের শেষ্ঠ দালাল মউদুদ আহমেদ এর বিএনপি, নাকি নব্য রাজাকার মাহমুদুর রহমানের বিএনপি ? কোথায় বিএনপির মুক্তিযোদ্ধারা ? নাকি তারা আসল মুক্তিযোদ্ধা না? বিএনপিতে কি শুধু জিয়াউর রহমানই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ? আপাত দৃষ্টে তাই মনে হয়। ভুলে যাবেন না এ তরুন প্রজন্মই কিন্তু আওয়ামীলীগকে সংখ্যা গরিষ্ট আসন দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এখনও সময় আছে রাজাকারদের সংগ ছেড়ে জনতার সংগে আসুন। ভবিষ্যত ভাল হবে…………..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *