একালের রাজনীতি “The Bloody Politics”

বিষয়টা প্রথম বার খেয়াল করলাম ২ নেত্রীর ফোনালাপের পরদিন অর্থাত প্রথম দফায় বিম্পির ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন …… দিনের শেষে সংবাদ  সন্মেলনে ফ’ই আলমগীর বলছিলেন “সারা দেশে সহিংসতায় ৩ জন মারা গেছে” !!!
শুনে পুরোই তব্দা খেয়ে গেলুম মাইরি !! এই লাশ ব্যাবসায়ী রাজনীতিবিদরা যেখানে ১০ জন মারা গেলে তাকে অনায়াসেই ৩০০০ জন মারা গেছে বলে দাবি করে; সেখানে ৪ জন মারা গেছে অথচ এই হারামজাদা দাবি  করল  ৩ জন মারা গেছে !!!! কাহিনী কি !!!


বিষয়টা প্রথম বার খেয়াল করলাম ২ নেত্রীর ফোনালাপের পরদিন অর্থাত প্রথম দফায় বিম্পির ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন …… দিনের শেষে সংবাদ  সন্মেলনে ফ’ই আলমগীর বলছিলেন “সারা দেশে সহিংসতায় ৩ জন মারা গেছে” !!!
শুনে পুরোই তব্দা খেয়ে গেলুম মাইরি !! এই লাশ ব্যাবসায়ী রাজনীতিবিদরা যেখানে ১০ জন মারা গেলে তাকে অনায়াসেই ৩০০০ জন মারা গেছে বলে দাবি করে; সেখানে ৪ জন মারা গেছে অথচ এই হারামজাদা দাবি  করল  ৩ জন মারা গেছে !!!! কাহিনী কি !!!

একটু পরেই অবশ্য সুদে আসলে বুঝে গেলাম পুরা কাহিনী !! নিহত চার জনের  মধ্যে ১  জন ছিল যুবলীগ কর্মী , তাই তিনি ৪ জনের জায়গায় ৩ জনের কথা উল্লেখ করছিলেন !! জাতির ভাগ্য ভাল যে , অন্য ২ নীরিহ মানুষ গুলো কে তিনি হিসাবে ধরছিলেন,  পরের বার অবশ্য সেই “ভুলে”র পুনরাবৃত্তি আর করেন নাই, পরবর্তি সময়ে থেকে এই নির্দলীয় লোকদের মৃত্যু কে তিনি হিসাবেই ধরেন  নাই ..!!

তার হিসাবটা অবশ্য খুব’ই যৌক্তিক,  আওয়ামীলীগের কর্মী বা আম আদমীরা কি আর মানুষ !!! তারা ত পশু পাখী,  তাই অত্র অঞ্চলের বিশিষ্ঠ  চুদির ভাই ফখরুল আর তার লেঞ্জা জামাত মিলে লীগের কর্মীদের “পাখির মত গুলি” করে মারে কিংবা পশুর মত পিটিয়ে মারে ; ক্ষেত্র বিশেষে আবার ‘নারায়ে তকবীর’ স্লোগানে স্লোগানে নিজেরাই মুখরিত হয়ে দু পয়সার আশরাফুল  মাখলুকাত গুলো কেও পশুর মত “উত্তম রুপে জবেহ” করে দেয় !! যাকে আপ্নি নরবলি বা কোরবানী হিসাবে ও অভিহিত করতে পারেন ! আর  হাত পায়ের রগ ‘জবাই’ করার ক্ষেত্রে ত তারা বহু আগে থেকেই চরম  সিদ্ধহস্ত, বহু ধাপ এগিয়ে !!!

গত পর্শু ও ৫ জন মারা গেছে,  কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার রাতের সংবাদ সন্মেলনে ফখরুলকে এ বিষয়ে কোন বক্তব্যই দিতে দেখলাম না !!!
কারন !!?
ভেরি সিম্পল, যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ৪ জনই নিরীহ পাবলিক, এরা কি আর মানুষ! !? জাস্ট ২ পয়সার পাবলিক, তাদের প্রধান  রাজনৈতিক হাতিয়ার !! এদেশে ত বহুদিন আগে থেকেই “রাজনোতি” হয় না, তার বদলে যা হয় তার নাম “লাশনীতি “!! এখানে জীবিত মানুষের চেয়ে “কুড়িয়ে পাওয়া ১৪ আনা”র মত’ই বিনামুল্যে কুড়িয়ে পাওয়া লাশেরই প্রয়োজনীয়তা বেশি ….

তাই “উন্নয়নের রাজনীতি”র ডায়ালগবাজি পুন্দাই এরা দেশের জনসংখ্যা কমানোর মহান লক্ষ বাস্তবায়নে সারা দেশে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে ….!! তাই জাতি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ ….
হায়, মানবতা ও আজকাল ঘাটে ঘাটে চোদা খেয়ে বেড়াচ্ছে …..!!! বিম্পির কেন্দ্রীয় নেতা দুরে থাক, পাতি নেতা কিংবা বিম্পির অঙ্গ সংগঠনগুলোর  ২য়/৩ই সারির কোন  নেতাকেই মাঠে নামতে দেখা যায় নাই !!অথচ তাদের নির্দেশনাতেই লাশের পর লাশ পড়ে !!

তাদের এসব মহান ত্যাগি নেতাদের হালহকিকত একটু খিয়াল –
বিম্পির পার্টি অফিস আরো বেশ কিছুদিন আগে থেকেই রিজভি ঘর বাড়ি, এই “ভয়াবহ দুঃসাহসী” আইটেমটা এখন বিম্পির কার্যালয়ের বাইরে এক পাও দেয় না, এমনকি সংবাদ সন্মেলন করার সময়? তার টেবিলটা থাকে কার্যালয় আর বাইরের ফুটপাতের মাঝামাঝি জায়গায় রাখা হয়, অর্থাত ইকুইলিব্রিয়াম পয়েন্টে 😛 যার  অর্ধেক টা থাকে কার্যালয়ের ভেতরে আর বাকি অর্ধেক বাইরে, ভয়ঙ্কর দুঃসাহসী ‘মেরুদন্ডহীন”  এই বিপ্লবি নেতা “বিম্পির কর্পোরেট খোয়াড়ে ‘লুকিয়ে” থেকে  সেখান থেকে আবার নতুন নতুন হরতাল কিংবা জেহাদের ঘোষনা দিয়ে যাচ্ছেন!!! তিনি আরাম আয়েশে অবকাশ যাপন করেন আর ডজন কে ডজন পাবলিক  লাশ হয়ে পড়ে থাকে রাস্তায় !!
আসলে হিপোক্রেসি কত প্রকার এবং কি কি তার “নিকৃস্টতম  নিদর্শন”  এই রিজভি !!! এজন্য অবশ্য জাতি এই বীরপুরুষ কে চিরকাল মনে রাখবে …..

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিম্পির আরেক ত্যাগি নেতা জয়নাল আবেদীন রে আমি কখনোয় “মহিলা বহির্ভুত” কোন মিছিল বা যে কোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মসুচীতেই অংশগ্রহন কর্তে দেখলাম না !! খালেদা জিয়ার বাড়ি বিষয়ক “কান্না কাটিময়” হরতালের সময়
তাকে যখন পুলিশ  পেটাচ্ছিল, তখনো কিন্তু তার ‘পেয়ারা নেত্রী’রা এসে তাকে উদ্ধার করেছিল ! আজ টিভিতে দেখলাম  “রমনীমোহন” এই মহান ব্যাক্তিত্ব সংসদ এলাকায়  সর্বসাকুল্যে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মিছিলের ‘শোভা বর্ধন’ করছিলেন,  যেখানে ১ মাত্র পুরুষ সদস্য “বীর শ্রেষ্ট”  ফারুক,  আর বাকি ৪ জন’ই নারী !! কঠিন তার “নারী প্রীতি !!
সাম্প্রতিক উদাহরণ  হিসাবে তার সর্বশেষ নারী প্রীতির ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায় ….. কয়েক  মাস আগে আমেরিকা সফরের সময় তিনি বিম্পির আমেরিকা শাখার সভাপতির বাসায় উঠেছিলেন … এবং সভাপতির স্ত্রীর সাথে ইটশ পিটিশ করার প্রচেস্টা চালানয় , স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন !!

আমার ব্যাক্তিগত ধারণা, খুব সম্ভবত আপোষহীন নেত্রী হয়ত তাকে কথা দিয়েছেন যে,  নির্বাচনে জিতলে তাকে মহিলা ও  শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, তাই হয়ত নারী নেত্রীদের সাথে ঘুরে ফিরে প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক টুকু সেরে নিচ্ছেন !!

আসলে ঐতিহ্যগত ভাবেই আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা বাঙ্গালীর দুর্নাম ঘোচানোর  দায়িত্ব তিনি একাই স্বীয় স্কন্দে তুলে নিয়ে আগামী বছরের কাজ এ বছরেই শেষ করতে বদ্ধপরিকর !! ভাল ত, ভাল না …!?

সাম্প্রতিক কালে বিম্পির আরেক অন্যতম কান্ডারি  মহান দুদু মিয়ার ওয়াজ  নসিহত দুরে থাক, তার “দুধেল বদন মুবারক” খানি ও আজকাল “অমাবশ্যার চাদ” !! কারণ “বাস্তববাদি” জনাব দুদু  জাতির বিবেকগিরি’র ডিউটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে আজকাল গরু ছাগলের ‘দুদু’ আহরণেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন …. হুদাই রাস্তায় গিয়া মাইর খাওয়ার কুনোই মানে নাই, তাই সারাটা দিন তিনি এই কর্মে এতই ব্যাস্ত থাকেন যে , তাকে দেখলে নগদেই আপ্নার ‘অবচেতন মন’ নিরদ্ধীধায় গেয়ে উঠবে- “দুদুর  এই দুদ দোহনেই  আনন্দ “….
আপাতত তিনিও নিরাপদ জীবনের আশ্রয়ে আছেন …. তবে বাড়ির ভেতরে থেকে তিনিও  নেতা কর্মীদের ফিল্ডে নামতে সমানে উতসাহ বিতরণ করে বেড়াচ্ছেন …

তাদের নির্দেশনায় লাশের পর লাশ পড়ছে , তারা আর পেছনে বসে বসে কলকাঠৈ নাড়ছেন  লাভ ক্ষতির হিসাব নিকাশ করছেন এবং ভবিষ্যতে আর কতগুলো লাশ ফেলতে হবে তার ছক কাটছেন…

 হায় রাজনীতি !! আমাদের গন্ডমুর্খ বিরোধী দলীয় নেত্রী  পড়া শোনার মুল্য বোঝেন না , তাই তিনি চান সবাই তার মত মুর্খ থাকুক, কারণ জাতি যত বেশি অশিক্ষিত থাকবে তার শেকড় ততৈ  বেশি পোক্ত হবে …. সেজন্য এসএসসি এইচএসি কিংবা জেএসসি পরীক্ষার দিন গুলোতেও হরতাল দিয়ে সমানে শিক্ষার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন… 
এখন ছোট ছোট বাচ্চারা ও ককটেল বোমার আওতা মুক্ত নয়!  কদিন আগে হরতালের দিন চিটাগাং এর ক্লাস টেনে পড়ুয়া এক ছাত্রী’র ২ চোখই মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয় , সে এখন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন,  দুদিন আগে ডাস্টবনে তাদের ফেলে  রাখা বোমাকে ক্রিকেট বল ভেবে হাত দিতেই তার ২ হাত উড়ে যায়  বিস্ফোরণে ! গতকাল ও প্রঃআঃতে দেখলাম বোমার আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন ৯ বছরের সুমী কাতরাচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে, কাভার্ড ভ্যান চালক রমজান আলী’র  ছেলে মনির কে কাভারাড ভ্যানের ভেতর রেখেই আগুন জ্বালিয়ে দেয় এই বিক্ততিত মস্তিস্কের খুনিরা, শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গেছে !!! ‘এই শিশুদের দোষটা কি!!?

বাসে , কাভার্ড ভ্যানে কিংবা ফোর  স্ট্রোক  গুলোতে মানুষ জন কে ভেতরে রেখে জীবন্ত অগ্নি দগদ করে তিলে তিলে মেরে ফেলার পৈশাচিক মাস্তি তাড়েই তাড়িয়ে আর কতকাল উপভোগ করবেন !!! এটাই কন ঘরানার রাজনীতি !! এসব কি আপ্নি দেখেন না, আপ্নি কি অন্ধ  !!

কবার তুমি অন্ধ সেজে থাকার অনুরাগে
বলবে ঠিক’ই দেখছিলে না তেমন ভাল করে !!

ম্যাডাম কাল’ই জাতীয় অন্ধ সমতির সদস্য পদ গ্রহন করুন !! এবং হয়ে যান একজন নিবন্ধিত অন্ধ ….

নিজের ছেলেদের বিদেশের মাটিতে ফেলে রেখে তার নিশ্চয় খুব খারাপ লাগে এবং এটা  তিনি বহুবার বলছেন, সেদিনের  সুবিখ্যাত ফোনালাপে ও তিনি এ দুঃখের  কথা তুলছিলেন….

হায় পুত্র হারানোর ‘সাময়িক বেদনা’ই তিনি সইতে পারছেন না,  তাইলে সন্তান কে “চিরতরে” হারিয়ে ফেলা মায়ের চিরন্তন দুঃখ তিনি কেন বোঝেন না !!?

সবাই’ই এ তথ্য জানে যে, রক্ত যত বেশি ঝরবে আপ্নার ঠোটের লিপস্টিকের লাল রং ও তত’ই বেশি গাঢ় হবে , আপ্নি যে রক্তস্নান করতে চান রক্তাক্ত সুইমিং পুলে, সেটা ও কারো অজানা নয় …. কিন্তু রক্তের স্রোত সুইমিং পুল ছাড়িয়ে রীতিমত রক্ত-গঙ্গায় পরিনত হয়ে সমুদ্রের দিকে ধাবমান, তবু এখনো তার রক্ত  পিপাসা মেটে নাই !!
জানি না কবে মিটবে তার পিপাসা !! তবু কবির সুমনের এই প্রশ্নটা বারবার বেজে যায় –

কত হাজার মরলে পরে মানবে তুমি শেষে –
বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে !!

৫ thoughts on “একালের রাজনীতি “The Bloody Politics”

  1. হেডিংটা খুবইন আপত্তিকর…
    হেডিংটা খুবইন আপত্তিকর… ব্লাডি পলিটিক্স না বলে বলেন বুলহেড পাব্লিক!!
    আজকের ফেসবুক স্ট্যাটাসটা মনেহয় অনেকাংশেই খাপখাবে এইখানে…

    “ব্যক্তি প্রতিমুহূর্তে যেহেতু স্ব স্ব ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য স্বকীয় ভাষায় হাহাকার করে, সেহেতু কেউই এক মুহূর্তের জন্য রাজনীতিবহির্ভূত নয়…

    তাই যারা ‘আমি রাজনীতি ঘৃণা করি’ বা ‘দয়া করে অন্তত এই বিষয়টি রাজনীতি মুক্ত রাখুন’ এমন কথা বলে তা নিরেট নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়!!

    রাজনীতিই হচ্ছে মানবতার আদর্শ পরিশোধনের প্রধান এবং একমাত্র পথ, সুতরাং এমন কথা বাহুল্য অথবা বাতুলতা ছাড়া কিছুই না। কোন পথ জঞ্জালপূর্ণ বা কর্দমাক্ত হলেই তা বাতিল হয়ে যায় না বরং তা মানুষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।।”

    সত্য মানুষের অধিকার কখনই আপোষে নিশ্চিত হয় না। সংগ্রাম আর মানুষের রক্তেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হবে, যুগে যুগে দুনিয়ার সকল সভ্যতার ইতিহাসও তাই বলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *