অসমাপ্ত ভালোবাসা

সবেমাত্র চোখটা লেগে আসলো এমন সময় বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা হালকা ভাইব্রেট করে উঠল । হাতে নিয়ে দেখি এসএমএস । রাত বারোটা কি সাড়ে বারোটা বাজতেছে । এই সময় নিশ্চয় সিম কোম্পানি থেকে এসএমএস আসবে না । ইদানিং সিম কোম্পানি গুলো ডেইলি চার পাঁচটা করে এসএমএস দেয় । তা ও ভালো ছিল এসএমএস, কিন্তু এখন ফোন করা শুরু করল । কি বিরক্তিকর ।
এসএমএসটা খুলে দেখি একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে এসেছে ।
“আচ্ছা MAN বলত শিশুদের কতদিন পর পর মাথায় শ্যাম্পু দিতে হয়” । নিচে প্রেরকের নাম “শোভাময়” ।

সবেমাত্র চোখটা লেগে আসলো এমন সময় বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা হালকা ভাইব্রেট করে উঠল । হাতে নিয়ে দেখি এসএমএস । রাত বারোটা কি সাড়ে বারোটা বাজতেছে । এই সময় নিশ্চয় সিম কোম্পানি থেকে এসএমএস আসবে না । ইদানিং সিম কোম্পানি গুলো ডেইলি চার পাঁচটা করে এসএমএস দেয় । তা ও ভালো ছিল এসএমএস, কিন্তু এখন ফোন করা শুরু করল । কি বিরক্তিকর ।
এসএমএসটা খুলে দেখি একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে এসেছে ।
“আচ্ছা MAN বলত শিশুদের কতদিন পর পর মাথায় শ্যাম্পু দিতে হয়” । নিচে প্রেরকের নাম “শোভাময়” ।
শোভাময় !! নামটা দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি । পরে বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না । কারণ আমার নোমান নামটাকে শোভা সবসময় ম্যান বলে ডাকত ।
স্বপ্ন দেখছি নাতো ? হাতে চিমটি কেটে দেখি না এখনও বাস্তবেই আছি ।
বাম হাতে ধরা মোবাইলটা কাপছে । আরেকটা এসএমএস । “কিরে ছাগল ঘুমিয়ে গেলি নাকি । তোকে কল্পনা করতে করতে আমার যে কত রাত নির্ঘুম কেটে যাচ্ছে । একটু ও মনে পড়েনা বুঝি এই মেয়েটাকে” ।
আমার দুই চোখে নেমে আসা রাজ্যের ঘুম আজ রাজ্য ছেড়ে চলে গেল ।
তখন সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হইছি ।আমি মানবিকে আর শোভা বিজ্ঞানে বিভাগে । একদিন লাইবেরিতে বসে হুমায়ুন আহমেদের একটা উপন্যাস পরছিলাম । পাশে এসে শোভা বসলো।
এই তোমার নাম নোমান না ?
আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম ।
তুমি কি খুব উপন্যাস পড় ?
আমি আবার হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম ।
তোমার প্রিয় লেখক কে ?
আমি হাতের বইতটা নি হুমায়ুন আহমেদ কে দেখালাম ।
আজিব!!! তুমি মুখে কথা বলতে পার না । সেই প্রথম থেকে মাথা নাড়ানাড়ি করছ , এইভাবে মাথা নাড়ালে তো দেখবে এক সময় টুপ করে মাথাটা পরে গেল। তখন মাথা নাড়ানো তো দূরে থাক কথা ও বলতে পারবে না ।
আমি মুচকি হেসে তার নাম জিজ্ঞেস করলাম ।
ওমা !! তুমি আমার নাম জাননা । পুরোকলেজের সবায় আমার নাম জানে, এইখানকার গাছপালা এমনকি দিঘির অথিতি পাখিগুলো ও আমার নাম জানে ।
সেই প্রথম মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় । অল্প দিনেই আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম । আমার ভালোলাগা মন্দলাগার সাথে মেয়েটার মিলে যেত । একা থাকা, গান শুনা, উপন্যাস পড়া, সব কিছুতেই আমরা এক ছিলাম ।
কলেজেতো সবসময় একসাথে থাকতাম বাড়িতে আসলেও ঘণ্টায় ঘণ্টায় মোবাইলে কথা বলতাম ।
কলেজের সবায় জানত আমরা প্রেম করি কিন্তু কখনও আমরা সেরকম ছিলাম না ।
একদিন শোভা কলেজে আসেনি । ফোন দিলাম ফোন বন্ধ । আমি ক্লাস করতে গেছি কিন্তু ক্লাসে মন বসাতে পারছি না । বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু আড্ডায় মন বসছে না । আমার সব কিছু কেমন যেন শূন্য শূন্য মনে হচ্ছে । কোন কিছুর প্রতি আমার মন বসছে না । বাড়িতে এসে তার মোবাইলে আবার ফোন দিলাম ।
“আপনার ডায়ালকৃত রাজকন্যা পা ভেঙ্গে ফেলেছে , ব্যথায় কথা বলতে পারছে না । অনুগ্রহপূর্বক…………।
এই শোভা , শোভা কি হইছে তোর ।
সকালে পুকুর ঘাটে ধপাস করে পড়ে বাম পা ভেঙ্গে গেছে । খুব ব্যথা করছেরে ।
তার ব্যথার কথা শুনে আমি কেন যেন কেঁদে দিলাম । তখনও বুঝতে পারিনি কেন কাঁদছি ।
সংবিৎ ফিরে আসলো তার কথায় । কিরে ছাগল কথা বলিস না কেন । খুব আপসোস লাগছে ?
বুঝলাম আমি এখন শোভাকে বন্ধু হিসেবে দেখিনা । বন্ধুর থেকে ও বেশি কিছু ভাবি ।
বন্ধুত্ত ভেঙ্গে যাবে এই ভয়ে তাকে আমি আমার মনের কথাটা বলতে পারছি না । আবার মনের মধ্যে চেপে ও রাখতে পারছি না । শেষে একদিন কলেজে তাকে বলেই ফেলি ।
কথাটা বলার পর থেকে আজ প্রায় একমাস আমি কলেজে যাইনি । এর মধ্যে কলেজের শীতকালীন ছুটি দিয়ে
দিছে । শোভা আর আমার সাথে যোগাযোগ করে নি । আমি জানি সে আর আমার সাথে কখনও কথা বলবে না ।
পাগলিটার অভিমান এতদিনে ভাঙল ।
এখন ও এসএমএস এর রিপ্লায় দিইনাই ।
“আপনি যাকে এসএমএস করেছেন সে এখন ঘুমাচ্ছে । এখন সে রিপ্লায় দিতে পারবে না” ।
এসএমএস টা লিখে সেন্ড করলাম । আমি জানি কাল সকাল টা আমার জন্য শুধু সকাল হবে না । কাল আমার জন্য একটা বিশেষ সকাল হবে ।
কাল সকালে অঝোর ধারায় কুয়াশা পরবে । তীব্র কুয়াশায় শোভাকে কেমন লাগে আমি দেখব, কাল সূর্য তার প্রখরতা আরও বাড়িয়ে দিবে তীব্র আলো আমার শোভাকে কেমন করে আমি দেখব, সূর্যের প্রখরতা ঢাকতে কাল নীল আকাশ মেঘে ঢেকে যাবে, সেই মেঘলা আকাশে আমার শোভাকে কেমন লাগে আমি দেখব, গোধূলির লাল আভা যখন আমার শোভার মুখে পরবে তখন ও কি তার রুপের পাল্টে যাবে । আমি দেখব । কাল আমি সব দেখব ।

৭ thoughts on “অসমাপ্ত ভালোবাসা

    1. আমার মনে হয় এই ব্লগে যারা আছে
      আমার মনে হয় এই ব্লগে যারা আছে তারা সবাই নৌকার পক্ষের লোক । তারপরও আপনার এই প্রচারনা খুব ভালো লাগে । থ্যাংকস ভাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *