দ্বিমুখী

ব্যাস্ত মহাস​ড়ক।
রাস্তার একপাশে দেখা গেল এক পাগলকে, গম্ভীর মনে হেটে চলেছে। মাঝে মাঝে থমকে যাচ্ছে, বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে, আবার হাটছে। হঠাৎ তিনি থমকে দাড়ালেন, পাশে দাড়ানো স্যুট টাই পরা ভদ্রলোকটিকে বললেন.
: ওই তোর নাম আবদুল বারেক না?
: হ্যা, আপনি কি করে জানলেন!
:বাসায় খবর নে, তোর ছোট মাইয়াডা দুইতালা থেইকা পইড়া গেছে।
:এইটা কি বলেন! আমার মেয়ে আছে জানলেন কি করে! কে আপনি!!
: আমি কে সেইটা দিয়া কি করবি? যা বলি কর।
জনাব আবদুল বারেক তাড়াতাড়ি পকেট থেকে ফোন বের করলেন। নাম্বার ডায়াল করতে তার হাত কাপছে। ওইপাশে রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না। ইশ, কি টেনশান। কেউ ফোন ধরেছে।

ব্যাস্ত মহাস​ড়ক।
রাস্তার একপাশে দেখা গেল এক পাগলকে, গম্ভীর মনে হেটে চলেছে। মাঝে মাঝে থমকে যাচ্ছে, বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে, আবার হাটছে। হঠাৎ তিনি থমকে দাড়ালেন, পাশে দাড়ানো স্যুট টাই পরা ভদ্রলোকটিকে বললেন.
: ওই তোর নাম আবদুল বারেক না?
: হ্যা, আপনি কি করে জানলেন!
:বাসায় খবর নে, তোর ছোট মাইয়াডা দুইতালা থেইকা পইড়া গেছে।
:এইটা কি বলেন! আমার মেয়ে আছে জানলেন কি করে! কে আপনি!!
: আমি কে সেইটা দিয়া কি করবি? যা বলি কর।
জনাব আবদুল বারেক তাড়াতাড়ি পকেট থেকে ফোন বের করলেন। নাম্বার ডায়াল করতে তার হাত কাপছে। ওইপাশে রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না। ইশ, কি টেনশান। কেউ ফোন ধরেছে।
:হ্যা, নিশির আম্মু? দিবা কি করছে? কি! হাসপাতালে! কিভাবে? দুইতালা থেকে প​ড়ে গেছে! কি করে! পিছলে! আমি এখনি আসছি।
ফোন কেটে দিয়ে কপালের ঘাম মুছলেন। হতভম্ব হয়ে তিনি পাগলের দিকে তাকালেন। পাগল স্মিত হাসি ফুটিয়ে তুলেছে মুখে।
:যাইস না, তুই হাসপাতালে গেলে কাম হইব না, হায়াত মউত সব আল্লাহর হাতে। আমার সাথে আয়, তরে পথ দেখামু…
আবদুল বারেক যেন সম্মোহিত হ​য়ে গেলেন। ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে পাগলের পিছু নিলেন। এতক্ষন রাস্তার আশেপাশের মানুষ এই ঘটনা দেখছিল​। এবার দুই একজন সাহস করে এগিয়ে গেলেন।
“কী খবর ভাই কি হইছে?”।” ভাই ঘটনা কি?” বিভিন্ন প্রশ্ন আসছে চারপাশ থেকে। বারেক সাহেব তার উত্তর দিলেন না, তিনি হাটছেন আর হাটছেনই। তার সামনে সামনে তার পথপ্রদর্শক, পাগল লোকটি। কৌতুহলি মানুষ ক​য়েকজন এবার তাদের সাথে সাথে হাটতে শুরু করলো। একজন টোকাই, সে পাশের লুঙ্গি পরা লোকটিকে বললো.
: ভাই বুঝছেন, ওই পাগল লোকটা অনেক কামেল লোক। যা বলে তাই হ​য়। দেইখা বুঝেন না?
: চুপ কর, উনি কি যেন বলছেন।
থমকে দাড়ালেন পাগল ব্যাক্তি। বিড়বিড় করে কিছু বলে রাস্তা থেকে মাটি তুলে নিলেন। তার পেছনে অনুসরনরত আরেক পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোককে বললেন,
: এই নে, তোর কোমরে মাখবি। ব্যাথা সেরে যাবে।
পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক আকাশ থেকে প​ড়লেন। ইনি কি করে জানলেন যে তার কোমরে ব্যাথা? নিশ্চ​য়ই ইনি খুব উঁচুদরের মানুষ। কোন ওলি। পাগলের বেশে এসেছেন। এগিয়ে গিয়ে পাগলের পা ধরলেন। পাগলও তার মাথায় হাত রাখলেন। হাটা বাবা, ইনি আমাদের হাটা বাবা…- চোখ দিয়ে পানি ফেলতে ফেলতে ভদ্রলোক বললেন। হাটা বাবা বললেন-আল্লাহ তোমার ভাল করবে।
পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোকের দেখাদেখি আরো কতজন এগিয়ে এলেন হাটা বাবার পা ধরার জন্য। সবার হাত কে ঠেলে দিয়ে হাটতে শুরু করলেন হাটা বাবা। তার পেছনে পেছনে আরো কত মানুষ। আস্তে আস্তে অনুসরনকারীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে তার পেছনে হাটতে হাটতে পরিবার পরিজনকে ফোন করে আসতে বলছেন। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা গ​ড়িয়ে গিয়েছে। হাটা বাবা এক স্থানে বসলেন। সবার মাঝে হুড়াহুড়ি প​ড়ে গেল , কে বাবার পা আগে ছোবে। বাবা কাউকে একটু মাটিপ​ড়া , কারো মাথায় হাত বুলিয়ে, কাউকে দেখে ফু দিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে বললো, বাবা খাবেন? বাবা মাথা নাসূচকভাবে নেড়ে বললেন তার পাশের মহিলাটিকে দিয়ে দিতে। মহিলাটি দাড়িয়ে বললো,
:না বাবা আমার লাগবে না। আমি আপনার খেদমতে নিজেকে উজাড় করতে চাই।
বাবা স্মিতহাস্যে বললেন,” আল্লাহ তোকে বেহেশত নসিব করুক।”
ভীড়ের মাঝে হুল্লোড় প​ড়ে গেল​। কেউ দশ টাকা, কেউ বিশ টাকা কেউ একশ টাকা, যে যত পারে সব ওই মহিলার কাছে জমা রাখতে লাগলেন। মহিলা প্রত্যেকটি নোট নিয়ে আগে বাবার পায়ে ছোয়ালেন, তারপর জমা করতে লাগলেন।
রাত গভীর হতে থাকলো, ভীড় বাড়তে লাগলো। মহাস​ড়কের যে স্থানে থামলেন বাবা, সেই স্থান চিহ্নিত করা থাকলো। ব্যস্ত স​ড়কের মাঝে হবে বাবার খানকাহ। কেউ বাঁধা দিলে তার দোজখে যায়গা হবে না।

…………(চলবে)

১৫ thoughts on “দ্বিমুখী

  1. পরবর্তী ঘটনা এইরকম হইলে ভালু
    পরবর্তী ঘটনা এইরকম হইলে ভালু হবে- হাটা বাবা ফোন দিলেন সেই আবদুল বারেক আর কোমরে ব্যাথা ওয়ালা ভদ্রলোককে। কনফারেন্স হচ্ছে, “কীরে রতইন্যা আর জামাইল্যা, তোরা কোনে? তগো বখশিশ খানা লইয়া যা”
    😀 😀 😀

    1. উনি আমার গল্প হাইজ্যাক করতে
      উনি আমার গল্প হাইজ্যাক করতে চাইলে তো হবে না। আমি এইরকম কিছু আনবো না, জবান দিয়া রাখলাম বুঝেছেন??? আপনারে ধইন্যাপাতা এতোগুলা….. :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ক্ষেপছি: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  2. ভাল লেগেছে। ইন্টারেস্টিং মনে
    ভাল লেগেছে। ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। অপেক্ষায় রইলাম। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. @নিষিদ্ধ বচনসমূহ
    ভাই, আপনি

    @নিষিদ্ধ বচনসমূহ

    ভাই, আপনি এত্তগুলো খ্রাপ:-D
    কাহিনীটা শেষ না হতেই সমাপ্তি ঘোষণা করা উচিৎ হয় নাই ।

  4. গল্পের শুরুটা দারুন! পাঠকের
    গল্পের শুরুটা দারুন! পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে| বাকি কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম| তবে এধরনের একটা চরিত্র মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডে আছে| অনেকেই তাকে চিনে, নাম “হায়দার বাবা”| জীবনে গোসল করে নাই, চুলে জটা, সারা গায়ে ময়লা, সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় হাঁটে| গাধা মুরিদের দোল কলা, মুলা, ডাব নিয়ে পেছন পেছন ঘুরে| খুবই হাস্যকর|

Leave a Reply to নাভিদ কায়সার রায়ান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *