ছোট্ট ভালোবাসা

# ছোট্ট ভালোবাসা – ১ #

ঘরে ঢুকেই তৃষার হাতে বাজারের
ব্যাগটা দিলাম । অফিস থেকে ফেরার পথেই প্রতিদিন বাজার করে ফিরি । আমার ভাগ্যগুণে তৃষার মত একটা মেয়েকে নিজের
বৌ হিসেবে পেয়েছি । আগে ভাবতাম , তৃষা বুঝি আমার জন্যই। এখন ভাবি ভুলক্রমে ও
আমার কাছে এসেছে । আমি মাঝে মাঝেই ভাবি যে , ওকে যোগ্য
মর্যাদাটা দিতে পেরেছি তো ?

এ ধরনের মহৎ চিন্তা বারবার আসে না। মহৎ চিন্তার বারোটা বাজিয়ে দিল তৃষা ।

– একি ! এসেই বসে আছো ? যাও , হাত পা ধুয়ে আসো !
– যাচ্ছি ।

ওর হাত থেকে গামছাটা নিতে গিয়ে হঠাতৎখটকা ঠেকল । একটু হাসি হাসি ঠেকল । অবশ্য
আমি ওর হাস্সোজ্জ্বল মুখ দেখেই অভ্যস্ত ।

# ছোট্ট ভালোবাসা – ১ #

ঘরে ঢুকেই তৃষার হাতে বাজারের
ব্যাগটা দিলাম । অফিস থেকে ফেরার পথেই প্রতিদিন বাজার করে ফিরি । আমার ভাগ্যগুণে তৃষার মত একটা মেয়েকে নিজের
বৌ হিসেবে পেয়েছি । আগে ভাবতাম , তৃষা বুঝি আমার জন্যই। এখন ভাবি ভুলক্রমে ও
আমার কাছে এসেছে । আমি মাঝে মাঝেই ভাবি যে , ওকে যোগ্য
মর্যাদাটা দিতে পেরেছি তো ?

এ ধরনের মহৎ চিন্তা বারবার আসে না। মহৎ চিন্তার বারোটা বাজিয়ে দিল তৃষা ।

– একি ! এসেই বসে আছো ? যাও , হাত পা ধুয়ে আসো !
– যাচ্ছি ।

ওর হাত থেকে গামছাটা নিতে গিয়ে হঠাতৎখটকা ঠেকল । একটু হাসি হাসি ঠেকল । অবশ্য
আমি ওর হাস্সোজ্জ্বল মুখ দেখেই অভ্যস্ত ।
কিন্তু ওর মুখটুকু একটু বেশি আনন্দিত কি ?
রহস্য উদঘাটন ভবিষ্যতের জন্য
তুলে রেখে পা বাড়ালাম

¤

একটু পর দোতালায় উঠে এলাম ।
কখনো মা বাবার
সাথে কথা না বলে জিরিয়ে নেই না ।
ঘরে ঢুকতেই শ্বশুড় শ্বাশুড়িকে দেখে অবাক
হয়ে গেলাম ! তৃষাকে তাই এ জন্যই
খুশি খুশি লাগছিল !

কুশল বিনিময় করেই চলে আসলাম । কথা বলুক
তারা । না ঘাটানোই ভালো ।
নিচে নেমে আসতেই দেখি দু ভাইবোন
কথা বলছে । তৃষার ভাই , ছোট ।
ভার্সিটি পড়ুয়া । অনেকদিন পর দেখে প্রাণ
ভরে গল্প করছে হয়তো । দেখেই হাসলাম ।
কারণ তৃষা , তৃষার ছোট
ভাই নিলয় এবং শ্বাশুড়িকে নিয়ে কিছু অতীত
আছে আমার ।
যা দিয়ে আমার জীবন কানায় কানায় পূর্ণ ।

– নিলয় , আছো কেমন ?
– এই তো দুলাভাই ।
– মেয়েদের পিছনে লাইন মারো না তো ?

তৃষা ভ্রু কুঁচকে তাকাল , ” আমার ভাই মোটেই
এরকম না । ”

– আমি এখন বুঝতে পারি দুলাভাই তোমার অতীতের
কষ্টটা ।
– হয়ে গেছে তাহলে ?
– আমি কি এখনো ক্লাস এইটে নাকি ?

হেসে উঠলাম । তৃষার দিকে তাকানোর সাহস
পেলাম না ।
বোধ করি সেও হাসছিলো

¤¤

ডিনারটা জমজমাট হলো ।
অনেকদিন পরে দুই পরিবার একত্র হলো ।
এদিকে ঢাকা থেকে বড় ভাইয়া , ভাবী ও তার
পুঁচকা ছেলে তপু কে নিয়ে এসেছে ।
ঢাকা থেকে সোহেল ও এসেছে । সোহেল আমার
ছোট ভাই ।
মূলত সবাই একত্রিত হয়েছে তাই
ডিনারটা অনেক জমজমাট হলো ।
হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠল সকলেই ।
টানে পড়ে হাসছি আর একটু পরপর
তৃষাকে দেখছি ।
ওর গালের টোল পড়া হাসিটা দেখেই
বুকে কেমন লাগে ।
এটা দেখেই ত ….
ইয়ে মানে পটে গিয়েছিলাম ।

¤¤

তপু বেঘোরে ঘুমাচ্ছে । তৃষা একটু আগ পর্যন্ত
জেগে ছিলো । এখন ঘুমিয়ে পড়েছে ।
তপু তৃষার অনেক নেওটা । এবাড়িতে এলেই
তৃষার সাথে সারাক্ষণ থাকবে । কোনোমতেই
ছাড়বে না । এই চার বছরের
ছেলেটা তৃষাকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে এখন ।
কিন্তু ঘুম আসছে না আমার চোখে ।

উঠে বসলাম।
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম । অনর্থক
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মশার
ভালোবাসাকে গ্রহণ করে ফিরে এলাম ।
অস্বস্তি লাগছে ।
হঠাত ই ধরতে পারলাম , সেই দিনগুলোর
কথা মনে পড়ছে । কিন্তু আসতে দিচ্ছি না ।
আসুক না ।
স্মৃতিগুলোতে হারিয়ে গেলে এমন কি হবে ?

চোখ বন্ধ করতেই সব কিছু লাফ
দিয়ে উঠে এলো । হারিয়ে গেলাম স্বপ্নগুলোর রাজ্যে

##
সবে মাত্র এসএসসির রেজাল্ট দিলো । গোল্ডেন জিপিএ – 5 পাওয়ার কারণে তখন গিয়েছিলাম কক্সবাজারে । কিছুদিন পরেই কলেজের ভর্তির জন্য চেষ্টা করতে হবে । তাই এর পূর্বে কিছুটা শান্তিতে থাকার জন্যই পরিবারের সবাই কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেই ।
উদ্দেশ্য ছিল তিনরাত থাকার ।
যাওয়ার পর পর দুদিন মহানন্দে কাটলো ।মেয়েদের সাথে তখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলার দুঃসাহস হয়ে ওঠে নি ।ভীতু টাইপের ছিলাম যে রাস্তায় মেয়ে দেখলেই গলির চিপাচাপা খুঁজতাম ।

তারপরও সবার মত মনের
একটা বাসনা ছিলো কিছু চাওয়া পাওয়ার । তবে কখনোই Love at first sight এ আমি বিশ্বাস করতাম না ।
তৃষাকে দেখেই ভুলটা ভেঙেছিল ।
তৃতীয় দিন খুব সাধারণভাবেই বের হয়েছিলাম হাটার উদ্দেশ্য । আটটার দিকে হোটেলের রিসেপশনে ডুকতেই দেখলাম
একজন মহিলা , দুটো ছেলেমেয়ে কথা বলছে ।
এই মেয়েটাই ছিলো তৃষা ,
ছেলেটা ছিলো তৃষার ভাই নিলয় । আর মহিলাটি কে ….

কি করছে সেটা লক্ষ্য করার দরকার মনে করি নি । কারণ আগেই বলেছি যে এব্যাপারে যথেষ্ট ভীতু ছিলাম ।

রুমে ফিরে সোহেলের সাথে কিছুক্ষণ খুনসুটি করে মায়ের ধমক খেলাম । কিছুক্ষণ বয়স্কদের মত ভাব করে শুয়ে পড়লাম । পিচ্চি একটা ঘুম দেয়া অতীব দরকার ।

¤

দাঁড়িয়ে দেখছি সন্ধ্যার সূর্যাস্তটা । খুব আস্তে করে যেভাবে দিনের শেষ হয় , সেটা যেমন মনের পুলক জাগায়। তেমনি বিষণ্ণ করে তোলে মন। আর এসন্ধ্যায় তৃষার মুখের সেই হাসিটা দেখেই যেমন তোলপাড় হতে লাগল ।
অদূরে দুই ভাইবোন দাঁড়িয়ে হাসছে । বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম না । ফিরে এলাম । কিন্তু
তখনো হাসছে ছবিটা আমার মনে ।

হোটেলে ফিরেই ফোন লাগালাম সৌরভকে। সৌরভ এবিষয়ে একজন অভিজ্ঞ ।
ওপাশে রিং হতেই সৌরভ ফোন ধরল ।

– হ্যালো , কে ….
– তোর বড় ভাই
– হাহাহা , বল ।

সৌরভ আমার বন্ধু । কোন রাখঢাক না করেই বলে দিলাম সব । ভালো লেগেছে, এখন কি করতে পারি ……

– যাক অবশেষে কাউকে পেলি
– ফ্যাঁচফ্যাঁচ না করে কি করব বল ।
– যেভাবে বলব সেভাবে করবি
– আচ্ছা ।
– কাল মেয়েটার সামনে যাবি..
– গেলাম ।
– সামনে দাঁড়াবি
– ..
– হাটু গেড়ে বসবি । বসে বলবি , আলাভিউ !
– শালা ! থাপ্পড় মেরে উড়াল দিবে ।
– আচ্ছা, এভাবে কর ।
কাল সামনে যাবি । গিয়ে বলবি ,আপনাকে খুব পরিচিত লাগছে ।
বোধহয় ঢাকায় দেখেছি । এভাবে একটু পরিচিত হবার চেষ্টা করবি । পরে সুবিধামত বলে দিবি । কয়দিন থাকবি ওখানে ?
– কালকেই ফিরে আসবো । (আমার কাঁদো কাঁদো অবস্থা )
– দেখ কিছু করতে পারিস কি না।
– আচ্ছা রাখি ।

ফোনটা ছেড়ে দিতেই ধপ করে সোফায় বসে পড়লাম । কালকেই ঢাকা ফিরে যাবো ।
এখন কি হবে ?
ওর কথামতো কাজ হবে তো ?

ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝে উঠলাম না ।

¤¤

তপু নড়ে উঠতেই চোখটা মেললাম । তৃষা সাবধানে তপুকে সরিয়ে উঠে বসল । বের হয়ে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়াল । গ্রিলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে । চাঁদের জোছন্যা যেন চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে । আর তার আলোয় তৃষাকে যেন অপ্সরীর মত লাগছে । ভাবতেই ভালো লাগছে , তৃষা আমার । ওর
ভালোবাসার অংশ আমি । ওর সুখ দুঃখের একটি অংশ আমি । চোখের জলের , মুখের হাসিটায় আমার চিহ্ন থাকে । ওর আলিঙ্গনে আমার কথাই শুনতে পাই । সকালের স্নিগ্ধতা , দুপুরের ব্যস্ততা , বিকালের মুগ্ধতা আমি দেখি প্রাণ ভরে । কাজের ফাঁকে দুষ্টুমি হাসিতে চোখ টিপ দেয়া , অন্যমনস্কতার ভিড়ে জোর চিমটি কাটা , কান , চুল ধরে টান দেয়ার মাঝে যে ভালোবাসা থাকে , সেই অমূল্য সম্পদটুকু আমি পাই । যা অনেকে সাধনা করেও
খুঁজে পায় না ।

যদি ধরে রাখতে পারি , ও সারাজীবনের জন্য আমার থাকবে । ওর ভালোবাসায় সিক্ত থাকবো আমি ।

চোখটা বন্ধ করেই ফের ভাবনায়
ডুবে গেলাম । আজ স্মৃতিটা আমায় অনেক টানছে । নতুন করে মনে করি সবকিছু …

# ছোট্ট ভালোবাসা – ২ #

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৌড় লাগালাম নিচে । আজই তো চলে যাবো । কিছু একটা করা দরকার । কি করা যায় ? গতরাতের
সৌরভের পরামর্শটাকেই অবলম্বন মনে হলো ।

বালুকাবেলায় হাটতেই দেখলাম ,
তৃষা একা দাঁড়িয়ে আছে । এদিক ওদিক তাকাচ্ছে । ভাইকে খুঁজছে হয়তো ।
এই সুযোগ ।
প্রথমবার দু পা বাড়িয়েও ফিরে এলাম ।
দরকার কি ?
কিন্তু ……

– হ্যালো

ডাক দিতেই ঘাড় ঘুরাল মেয়েটা । অদ্ভুত সুন্দর , মায়াময় মুখখানি… ।
অনুভব করছি বুকের রক্ত চলাচল বেড়ে গেছে!!

– জ্বি ।
– আপনাকে কোথায় যেন দেখেছিলাম ।
– আমাকে ? কোথায় ?
– ঢাকাতেই দেখেছিলাম …..

হেসে দিলো । মনে হয় কিছু বুঝতে পেরেছে । বুঝতে পারলাম না ঠিক । মেয়েদের মন নিয়ে গবেষণা তো আর করি নাই ….

– আমি হবিগঞ্জ থাকি ।

আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে গেল । পিছে পিছে আর গেলাম না । অস্বস্তি লাগছিল ।
কিছু যদি মনে করে !
ওর ভাইকে দেখতে পেলাম । ওদিকেই যাচ্ছে ।
আমি দেখছি ।

তখন আমি দেখছিলাম এক স্নিগ্ধ সকালকে যা তখনো বুঝতে পারি নি ।

¤

সারা দুপুর খুঁজেও পেলাম না ওদের । কোথায় গেছে কে জানে!! বাবা বলছিলেন সন্ধ্যায় রওয়ানা দিবেন । তার আগেই আর একবার খুঁজব।
সৌরভ ফোন দিলো ।

– কি রে । খবর কি ?
– ভালো না ।
– জানতাম । তোরে দিয়ে কিছু হবে না । আমি থাকলে ঠিকই পটিয়ে ফেলতাম ।
– খবরদার । এই পটানো শব্দটা উচ্চারণ করবি না । যদি ওকে পাই তাহলে ও তোর বোন হবে !
– নাম কি ?
– জানি না ।
– গাধারাম !
– ..
– দেখ সমন । আমি সিরিয়াস ।
– বল ।
– সত্যি জানিস না ?
– না !
– দেখ , জীবনে কিছু সময় একবারই আসে । বারবার ফিরে আসে না । যদি না পারিস জীবন থেকে একটা ভালো লাগার মানুষকে হারিয়ে ফেলবি ।
– ..
– তুই যদি না পারিস তাহলে তুই আমার বন্ধু না ।
– চেষ্টা করব ।

কথাগুলো ভাবছিলাম । ঠিকই তো ! একবার যদি হারিয়ে , ফিরে পাবো তো ? এমন সময় তৃষাকে দেখতে পেলাম ।

– সৌরভ ফোনটা ছাড় ।
– কেন ?
– ওকে দেখলাম । ওদিকেই যাচ্ছি।
– Best of luck

দ্রুতপায়ে ওদিকেই গেলাম । একটু
কথা বলবো তো !

– হাই ।

দুভাইবোনকেই বললাম ।
ফিরে চাইল দুজনেই..

– আসলে তোমাদের সাথে পরিচিত হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল ।
আমি সমন ।
– আমি তৃষা । ও আমার ছোট ভাই নিলয় ।
– ও আচ্ছা । কিসে পড়েন ?
– আগে আপনার পালা
– আমি মেয়েদের সর্বদা অগ্রাধিকার দেই ।

নিলয় হাত তুলল , ” আমি বলছি । আমি এইটে পড়ছি । ”

আমি হেসে দিলাম । পকেটের মোবাইলের কম্পনে বুঝলাম , বাবা যাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছেন ।

– আসলে একটু পর আমি চলে যাচ্ছি । তোমাদের সাথে পরিচিত হবার ইচ্ছা ছিল … খুশি হলাম
– আমিও খুশি হলাম ।
– তোমাদের সাথে যোগাযোগ রাখার ইচ্ছা ছিল ।

তৃষা হেসে দিল, ‘ কিভাবে? ‘
ইতস্তত করে বললাম, ” সেলফোন..”
– আমি তো সেলফোন ইউজ করি না!

নিলয় ওর কথায় সায় দিল ।

– বাসার সেলফোন …
– ওটা ধরি না আমরা ।

মনে মনে বললাম , ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় ।
দুজনের ক্ষেত্রেই কথাটা সত্য…

– ঠিক আছে । এখন তবে যাই ।Bye
– bye.

ঘুরেই হাটতে শুরু করলাম । কোনো কারণ ছাড়াই চোখে পানি চলে আসছিলো । মোছার চেষ্টা করলাম না । পিছনে একবার তাকার ইচ্ছে করছিলো । তাকালাম না । অনুভব করছিলাম , দুজোড়া চোখ তাকিয়ে আছে আমার গমন পথে ।
আমি চোখটা মোছার চেষ্টা করি নি ।

১২ বছর পর….

খুব ব্যস্ততায় শুনলাম সিলেট ট্রান্সফার হয়েছি । সোজা রংপুর টু সিলেট । হবিগঞ্জ । ততদিনে স্মৃতি মলিন । আমার মনেই পড়ে না ওর কথা । আমার যুক্তি কথাই ভিন্ন ।

ঢাকা ফিরে টানা আড়াই বছরে এমন কোনো দিন নেই যেদিন তৃষাকে মনে করি নি । সৌরভের কথামতো বুঝতেই পারছিলাম হারিয়ে ফেলেছি তৃষাকে । সময়ের আর্বতনে স্মৃতিটা ফিকে হয়ে যায় । অনেকটা ভুলেই যাই ওর কথা ।

সিলেটে সৌরভের কর্মস্থল ।
ততদিনে বিবাহিত । টানা আট বছরের সফল ভালোবাসায় দুবছরের বিবাহিত জীবন হয়ে গেছে ওদের ।

সেখানেই গিয়ে উঠলাম । নিচের
তলাটা ছেড়ে দিলো আমার জন্য ।
দিন যায় । আশেপাশের মানুষের
সাথে কখনো সক্ষ্যতা করার চেষ্টা করি নি ।
ছিলাম নিজের মতো ।
ততদিনে মা-বাবা আমার বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করে দিয়েছিলেন…..

ছাদে উঠেছিলাম বিকালটাকে দেখার জন্য । বিকাল যে সেই স্নিগ্ধ সকালকে এনে দিবে আমার জন্য বুঝতে পারি নি । অপর বাড়ির ছাদে দেখলাম একটি মেয়ে বসে আছে । ঘুরে থাকার কারণে মুখটা দেখতে পেলাম না । হঠাত এক ছেলে উপরে উঠে আসল ।
চেনা চেনা লাগছিল ছেলেটাকে …

বিদ্যুৎ চমকের মত মনে পড়ে গেল এতো নিলয় !
এটাই তো সিলেট , হবিগঞ্জ ! তৃষা !
ও কোথায়!!! কেমন আছে ?
কি করে ?
বিয়ে হয়ে গেছে ?

পুরনো স্মৃতি আর ভালোবাসা নতুন করে ব্যাকুল করে তুললো যেন আমাকে!!
যে মেয়ে বই পড়ছে ওটাই না ত !
কেমন যেন লাগা শুরু করল । সাড়ে নয় বছরে যা সুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা যেন বেড়ে যাচ্ছে ।
নিচে নেমে গেলাম ।

পরদিন নিলয়ের সাথে দেখা করলাম । বললাম অনেক কথা ।
শুধু
শুধু একটি মিথ্যে বলেছিলাম ।
বলেছিলাম , তৃষাকে খোঁজার জন্যই আর চাকুরি সূত্রে আমি এখানে ।

পরেরটা অতি সংক্ষেপ ।
পরিবারকে জানালাম ।
দুপরিবার এসে কি ফিসফিস করল । আরো পাঁচমাস পরে আমরা দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলাম ।
খুব কেঁদেছিল তৃষা । ও নাকি সব
জানতে পেরেছিলো নিলয়ের কাছ থেকে ।

যে ছেলে ওকে এতো ভালোবাসে তার কাছেই , তাকে খুঁজেই ফিরে এসেছে…

ভয়ানক অপরাধ বোধ কাজ করছিলো, আড়স্টতায় জর্জরিত! কেননা এই মিথ্যেটুকু কেন বলেছি জানি না। আমি আজো জানি না, কেন ..

ছোট্ট মিথ্যে ওকে আবার পেয়েছি, ভালোবাসার সত্যে মিথ্যেটাকে না হয় সত্য করে নেবো…

¤¤

– এই শুনছো ?

চোখ মেলে তাকালাম । তৃষা আমার দিকে ঝুঁকে আছে ।

– বলো ।
– বারান্দায় আসো না !

হাত ধরে টান দেয়ায় উঠে আসলাম । ওর কথা রাখার
চেষ্টা করি আমি । বারান্দায় জোছন্যার আলো । ওর গালে পড়ে যেন আরো আর্কষণীয় করে তুলছে । মুগ্ধতা কাটছে না!!

– বলো
– দাঁড়াও না ! তোমার
মাঝে রোমান্টিকতা নেই একটুও !

মৃদু অভিযোগ
!!

– আমি তোমাকে …
– কি ?

কিছু না বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল । আমি কিছু বললাম না । কিছুই না । বললাম না অনুচ্চারিত কথাটা । আমি এখন পর্যন্ত বলি নি ওকে, বিয়ের প্রায় একবছর হতে চলল । মধ্যরাতে ভালোবাসার মানুষটার মৃদু স্পর্শের ভালোবাসাটুকু অনুভব করার চেষ্টা করছি । বাহুবন্ধনে আটকাবার চেষ্টা করলাম না ।

বিচিত্র ! মধ্যরাতের এমন অনুভূতি হয় নি আগে ।
সবোর্চ্চ অনুভব করার চেষ্টা করছি …

¤¤

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড় । ঘুম
থেকে উঠে তৃষাকে না দেখতে পেয়ে কান্না শুরু করেছে তপু । আজব ভেজাল তো !

– তোমাকে সবাই এত পছন্দ করে কেন ?
– তবু ভালো সবাই আমাকে পছন্দ করে ! আমার কর্তা তো আমাকে একবারও ” ভালোবাসি ” কথাটা বললেনই না !

হেসে দিলাম ।
মনে মনে বললাম, আজই বলবো!!

ছুটির দিন আজ । দুপুরের খাবার
সেরে তৃষাকে নিয়ে বেরোলাম ।
ওকে খানিকটা বাইরে নিয়ে ঘুরবো । তপুটা কান্না লাগিয়ে দিয়েছিল আসবে বলে ।
কিন্তু আজ তো আমার একটা প্ল্যান আছে !!
পার্কে নিয়ে গিয়ে তৃষাকে বসালাম ।

– এখানে বসো
– তুমি কোথায় যাও ?
– আসছি ম্যাডাম

বাইরে গিয়ে একগুচ্ছ গোলাপ কিনলাম ।
তারপর সোজা তৃষার সামনে । হাটু গেড়ে বসলাম , ফুলগুলো বাড়িয়ে দিলাম তৃষার কাছে ।

– আই লাভ ইউ । ডু ইউ লাভ মি ?

তৃষা বিস্ময়ে চোখ কপালে , ” মানে কি ! ”

– তোমাকে প্রপোজ করছি !
– ও ! কিন্তু এভাবে এতো মানুষের সামনে ….!!
– আরে বাদ দাও । প্রশ্নের উত্তর দাও আগে… তুমি আমাকে ভালোবাসবে??

মুচকি হেসে মুখ গম্ভীর করে তূষা বললো , “সরি , আমি বিবাহিত । আমি আমার উনাকে অনেক ভালোবাসি । ”

চোখ মটকে তাকালাম!! বলে কি মেয়ে !

– উনি টা কে?
– কেন!! আমার জামাই!!
– আমি কে??
– চিনি নাহ্!
– হায়হায়, আমারে চিনতে পারছো না !
– ও তাই তো ! সরি , ভুলে গিয়েছিলাম তো !
আচ্ছা..
– কই!! উত্তর দাও
– আই লাভ ইউ টু .. চলো চলো
– কোথায় ?
– অন্য কোথাও । এখানে লজ্জা লাগছে ভীষণ!!
– কি বলে ! প্রেম করবো না !
এখন প্রেম করবা আমার সাথে
– তাহলে চলে যাই !
– কোথায় ?
– বাপের বাড়ি!! তুমি ফোন দিবা,, লুকায় লুকায় কথা বলবো । মজা হবে না ?

বলে কি তৃষা !
এ দেখি ডেন্জারাস!!

– এই যে ইয়ংম্যান !

ফিরে তাকাতেই দেখলাম এক বৃদ্ধ বৃদ্ধা ।

– প্রেম করছো ?
– জ্বি কাকা !
– করো করো !

হেসে চলে গেলেন তারা ।
তৃষারর হাত ধরলাম ।

– আমার হাত ধরছো কেনো ? আমার বাবা দেখলে ..
– বাংলা ছিনেমার ডায়ালগে কাজ
হবে না সুন্দরী ।!!
– এই চলো আমরা পালিয়ে যাই
– কেনো ?
– ইচ্ছা করছে ।
– ঠিক আছে চলো ।
– আচ্ছা শুনো , কিভাবে পালাবো
একটা প্ল্যান করি ।
– আমি তোমাকে ভালোবাসি তৃষা ।

গলাটা যেন ধরে এলো তৃষার ।

– পালনোর প্লানটা করি আসো ।
কি কি নিতে হবে………..

তখন কিন্তু বাতাস বইছিলো ।
ভালোবাসার বাতাস…

২ thoughts on “ছোট্ট ভালোবাসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *