শিরোনামহীন অনুভূতি

ভাইজান একটু বসি ?
সবেমাত্র সিগারেটে টান দিচ্ছিলাম এমন সময় কথাটা কানে বাজল । পাশে ঘুরে দেখি আমার মত একটা ছেলে মুখ কাচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে ।
বললাম এইটা তো পাবলিক প্লেস , কে বসবে কে উঠবে তার জন্য কি অনুমতি নেওয়া লাগে ।
ছেলেটা নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে ।
জিজ্ঞেস করলাম ঢাকা কি নতুন ।
বলল হুম ।
হাত ধরে পাশে বসালাম, চেহারাটা কেমন যেন শুঁকনো হয়ে আছে , তবে সেই শুকনো চেহারার মধ্যে একটা আভিজাত্যতা আছে ।
ভাইজান খুব ক্ষুধা লাগছে । কথাটা বলেই সামনের টং থেকে দুইটা বনরুটি আর একটা কলা নিয়ে খাওয়া শুরু
করল ।

ভাইজান একটু বসি ?
সবেমাত্র সিগারেটে টান দিচ্ছিলাম এমন সময় কথাটা কানে বাজল । পাশে ঘুরে দেখি আমার মত একটা ছেলে মুখ কাচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে ।
বললাম এইটা তো পাবলিক প্লেস , কে বসবে কে উঠবে তার জন্য কি অনুমতি নেওয়া লাগে ।
ছেলেটা নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে ।
জিজ্ঞেস করলাম ঢাকা কি নতুন ।
বলল হুম ।
হাত ধরে পাশে বসালাম, চেহারাটা কেমন যেন শুঁকনো হয়ে আছে , তবে সেই শুকনো চেহারার মধ্যে একটা আভিজাত্যতা আছে ।
ভাইজান খুব ক্ষুধা লাগছে । কথাটা বলেই সামনের টং থেকে দুইটা বনরুটি আর একটা কলা নিয়ে খাওয়া শুরু
করল ।
ছেলেটার খাওয়া দেখে মনে হচ্ছে অনেকদিন কোনকিছু খায়নি । এইরকম ক্ষুধার্ত মানুষের খাওয়া দেখলে খুব মায়া লাগে । এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বললাম তুমি আস্তে আস্তে খাও ।
আরেকটা কলা নিয়ে চিলতে চিলতে বলল ভাইজান আমার কাছে তো কোন টাকা নেই । লজ্জায় কারো কাছে হাত পাততে পারি না । আজ তিনদিন উপোষ ।
একনাগাডে কথা গুলো বলে আবার খাওয়া শুরু করল ।
আমি বললাম সমস্যা নেই তুমি পেট ভরে খাও । আমি কি বললাম তা মনে হয় ছেলেটা শুনেনি । সে এখন খাওয়ার প্রতি মনঝোগি ।
আসার সময় ছেলেটাকে বাসায় নিয়ে আসলাম । দুপরে খেয়ে ঘুমিয়ে পরছিল । উঠল সন্ধ্যার পর ।
চা নিয়ে বারান্দায় বসলাম । জিজ্ঞেস করলাম তার পরিচয়, ঢাকায় কেন এসেছে ।
সে যা বলল তার সারমর্ম হচ্ছে
সাত আট বছর আগে তার মা মারা যায় । তখন তার একটা ছোট বোন ছিল । বয়স সাত আট মাস । তার বাবা তখন দেশের বাইরে ছিল । তখন তিনি বাড়িতে এসে আরেকটা বিয়ে করে । শুধু তার বোনের লালন পালন করার জন্য । প্রথম দুই তিন বছর ওই মা খুব ভালো ছিল । তারপর সৎ মায়ের ঘরে একটা মেয়ে হয় । এরপর সে আর আমাদের সাথে ভালো ব্যাবহার করত না । তারপর বাবা একবারেই বাড়ি চলে আসে । তখন বাবার অনেক টাকা ছিল , ওই গুলো ব্যাংকে রাখছিল । প্রতি মাসে ভালো লাভ আসত তাই দিয়ে সংসার চলত । বাবার পায়ে একটা টিউমার হল তখন ওইটা অপারেশন করার সময় সৎ মা কেমনে কেমনে আব্বুর সব টাকা তার নিজের নামে করে নেয় । তারপর থেকে আমাদের উপর সৎ মায়ের অবহেলা আরও বেড়ে উঠে ।
ছোটবেলা থেকে আমার খুব মাথা ব্যাথা করত , গত কয়েক মাস থেকে এই মাথা ব্যাথা খুব বেশি করত । ডাক্তারি পরিক্ষা করার পর জানতে পারলাম আমার মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে মাথায় ব্রেন ক্যান্সার হইছে । বিশ পঁচিশ লাখ টাকার মত লাগবে । সৎ মা বলল তোমার জন্য এতো টাকা খরচ করা আমার সম্ভব না । আমি জানতাম তখনও আমার মায়ের কাছে কোটি টাকার মত আছে । তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বলল এই রোগে তো কেউ ভালো হয় না খামাকা চিকিৎসা করে লাভ কি । তার থেকেও ভালো হয় তোমার চিকিতসার টাকাটা তোমার বোনের বিয়েতে খরচ করি ।
ভাইজান আমি আমার বোনটারে খুব ভালবাসি । তাই আর কিচ্ছু বলতে পারিনি । আমি চাই আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আমার বোনটা শান্তিতে থাকুক । ভাইজান আমি আর বেশি দিন বাঁচব না । হয়ত আজই মারা যেতে পারি । ঢাকা আসার সময় যে টাকা নিয়ে আসছিলাম সব শেষ । গত তিনদিন বোনটার সাথে একটু কথা ও বলতে পারিনি । বোনটার সাথে একটু কথা কইতে পারমু ।
আমি আমার মোবাইলটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম ।
আমি রাতুল । অহনারে একটু দিবেন ।
বুঝলাম ফোন ধরছে তার সৎ মা ।
বোন কেমন আছিস !!!! রাতে খাইছস ? তোর শরিলটা ভালো আছে ? ও বইন কথা কস না কেন । তুই কাদতেছিস কেন ………………
আমি আর সেখানে বসে থাকিনি । আমার কেন যেন মনে হচ্ছে কিশোরী মেয়েটি তার ভাইয়ের সাথে আর কখনও কথা বলার সুযোগ পাবে না ।
হায় ঈশ্বর তুমি এমন কেন ।

৮ thoughts on “শিরোনামহীন অনুভূতি

  1. দুনিয়াটা বড়ই বিচিত্র। কাছের
    দুনিয়াটা বড়ই বিচিত্র। কাছের মানুষরা অনেক সময় দূরে ঠেলে দেয় আবার কখনো কখনো দূরের মানুষরা কাছে টেনে নেয়॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *