আমিও একদিন

আমরাও একদিন এডমিশন টেস্ট দিয়েছিলাম। মনে পড়ে দিন গুলোর কথা। এই তো মনে হয় কয়েক দিন আগে, চোখ বুজে হাত বাড়ালেই মনে হয় ধরতে পারব। কিন্তু মাঝে যে, অনেক গুলো দিন পার হয়ে গেছে।

পরিবারের বড় ছেলে, আর মা-বাবার ছোট সন্তান হওয়ায় আমি একটু মাঝামাঝি স্থানে পরে যেতাম। বড় আপাদের কাছে বাচ্চাটি আবার ছোটরা ভাবত অন্যরকম।


আমরাও একদিন এডমিশন টেস্ট দিয়েছিলাম। মনে পড়ে দিন গুলোর কথা। এই তো মনে হয় কয়েক দিন আগে, চোখ বুজে হাত বাড়ালেই মনে হয় ধরতে পারব। কিন্তু মাঝে যে, অনেক গুলো দিন পার হয়ে গেছে।

পরিবারের বড় ছেলে, আর মা-বাবার ছোট সন্তান হওয়ায় আমি একটু মাঝামাঝি স্থানে পরে যেতাম। বড় আপাদের কাছে বাচ্চাটি আবার ছোটরা ভাবত অন্যরকম।

SSC পাশ করে যেমন ইচ্ছা মত ঘুরে বেড়িয়েছি তেমনি HSC পাশ করেও তেমনটাই চেয়েছিলাম। করেছিও তাই। কোচিং করব কিসের? কারণ, যা জানি তা তো জানিই আর যা জানি না নতুন করে জানার আগ্রহ নাই। জাহাঙ্গীর নগর আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম কিনেছিলাম। ভাবটা এমন যে দুটোর একটাতে টিকেই যাব। কিন্তু আপুদের ইচ্ছা নাই আমাকে রাজশাহী পাঠানোর। আর আমিও সুযোগ নিলাম তবে ঘুরতে বাকি রাখিনাই। রাজশাহীর শর্ট সফর একটা দিয়েছিলাম। আর জীবনে প্রথমবারেব মত বাস এক্সিডেন্টেও পড়লাম। শীতে ভাড়ি কাপর ভেদ করে রাস্তার পীচের ঘষায় চামড়া উঠে গিয়েছিল।

জাহাঙ্গীর নগরের চারটা বিষয়ের তিনটাতেই অকৃত কার্য আর একটাতে ওয়েটিং। এসে দেখি সীট ফিলআপ।

আর কোন প্রস্তুতি নিচ্ছি না। সোজা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব।

আমার কাছথেকে কাগজপত্র নিয়ে এক ভাইয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম পুরন করে জমা দিয়ে ছিলেন। পরীক্ষার দুই দিন আগে আমার হাতে প্রবেশ পত্র দিয়ে বলেন ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখে পরীক্ষা। এই পরীক্ষার কথা শুধু জানি, আমি আর ঐ ভাইয়া।

২১ফেব্রুয়ারীতে বড় আপুর কাছথেকে বইমেলার কথা বলে ৫০০টাকা আদায় করেছিলাম।

পরীক্ষা দিতে এসে দেখি এরচেয়ে সহজ কাজ দুনিয়ায় ২য়টা নাই। যে কয়টা পাড়ি বৃত্ত ভরাট করলাম। দেখি জীব বিজ্ঞানের সব প্রশ্লই মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে। এগুলোতো আমার সিলেবাসের বাইরে তাই একটাও পাড়ি না। তবে আমার ব্যক্তিগত দর্শন হলঃ না জানা অন্যায় না কিন্তু ভুলভাল উত্তর দেওয়া অন্যায়। এ অন্যায়টা আমি জেনে শুনে কিভাবে করি? তাই করলাম না বায়োলজী প্রশ্লের উত্তর।
পরীক্ষা দিয়ে খুব খুশি কারণ, রেজাল্ট জানার দরকার নাই। তা ছাড়া বাড়িতে কেউ জানে না আমি পরীক্ষা দিয়েছি। পকেটে আছে ৫০০টাকা। এই টাকায় বই কিনে বাড়ি যাব! কিনলাম অভিজিত্‍ রায়ের ‘আলো হাতে ছুটে চলে আধাঁরেরো যাত্রী’ বইটা।

যেই দিন ভাইভা তার আগের দিন এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলল সে ১১শ র মধ্যে আছে আমি যেন খোজ নেই। তাছাড়া কাল থেকে ভাইভা শুরু। আমি কল করে জানতে পারলাম প্রথম দেড়শ জনের মধ্যে আমি আছি। পরের দিন আমি যাই ভাইভায় এটেন্ড করতে। কিন্তু প্রথমদিন মাত্র ১০০জনের পর আর কাউকে ডাকে নাই। মজার ব্যপার হল ঐ দিনের আগে আমি কোন দিন জবিতে যাই নাই। পরদিন এসে প্রথম যে বিষয়টা চাইলাম স্যার বললেন দেখেন তো পাবে কি না? একটা বিষয় খুব খারাপ করেছে। আমি বললামঃ এই বিষয় না পেলে আমি এখানে পড়বই না। সেখানে আমাদের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান স্যার ছিল। স্যার বললেনঃ এ ছেলেকে চেক না করেই পারলে আমাকে দিয়ে দেন। আমি খুশি হতে পারতাম কিন্তু পারি নাই যখন দেখলাম ভর্তি ফি প্রায় ১৫হাজার টাকা! যাই হোক পরে ভর্তি হয়েছিলাম।

৪ thoughts on “আমিও একদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *