জাতীয় জেলহত্যা দিবস ও চারটি পোস্টমর্টেম।

ভোর রাত। তখনো বাইরে নিথর থকথকে অন্ধকার। হঠাৎ খুলে যায় কারাগারের মূল ফটক। চত্বরে প্রবেশ করে কালো পোশাকধারীর নেতৃত্বে অস্ত্রধারী ৪ জন সৈন্য। বেজে ওঠে পাগলা ঘন্টা।
বেজে ওঠে ডিআইজি প্রিজনের টেলিফোন। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক দাম্ভিক দানবীয় কন্ঠস্বর। – ‘Let them do whatever they want.’ ডিআইজির হাত ঘুরে জেলারের হাতে ধরিয়ে দেয়া তালিকা অনুযায়ী একই ঘরে সমবেত করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এবার পরিচয়ের পালা। ইনি… থমকে যায় বক্তা।

ভোর রাত। তখনো বাইরে নিথর থকথকে অন্ধকার। হঠাৎ খুলে যায় কারাগারের মূল ফটক। চত্বরে প্রবেশ করে কালো পোশাকধারীর নেতৃত্বে অস্ত্রধারী ৪ জন সৈন্য। বেজে ওঠে পাগলা ঘন্টা।
বেজে ওঠে ডিআইজি প্রিজনের টেলিফোন। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক দাম্ভিক দানবীয় কন্ঠস্বর। – ‘Let them do whatever they want.’ ডিআইজির হাত ঘুরে জেলারের হাতে ধরিয়ে দেয়া তালিকা অনুযায়ী একই ঘরে সমবেত করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এবার পরিচয়ের পালা। ইনি… থমকে যায় বক্তা।
পরিচিতির প্রথম শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে গর্জে ওঠে ঘাতকের হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। ৬০ রাউন্ড গুলির পর সব কিছু স্তব্ধ। সুনশান।

পোস্টমর্টেম ১ঃ

নাম : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
জন্ম : কিশোরগঞ্জ জেলার, সদর থানার, যশোদল দামপাড়া/বিদ্দামপাড়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ১৮
ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা : লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় যশোদল মিডল ইংলিশ স্কুলে। এরপর কিশোরগঞ্জ আজিমুদ্দিন হাই স্কুল আর ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে কাটে তাঁর স্কুল জীবন। ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে দুই বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৩ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে আই.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর আসেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে।
ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকাকালে সাংগঠনিক রাজনীতির সাথে পরিচয় হয় তাঁর। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক হন প্রথম বর্ষে পড়ার সময়। এরপর ১৯৪৭-৪৮ সালে সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হলের সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুসলিম ছাত্রলীগের সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে মাস্টার্স উত্তীর্ণ হবার আগেই আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইতিহাসে প্রথম
শ্রেণীতে মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৫১ সালে তিনি সরকারি চাকুরিতে ইস্তফা দেবার পর ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনায় ফিরে আসেন। অধ্যাপনার কাজে ব্যস্ত থাকাকালীনই তিনি এলএলবি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকাকালে সাংগঠনিক রাজনীতির সাথে পরিচয় হয় তাঁর এবং পরবর্তীতে রাজনীতি সৈয়দ নজরুলের ধ্যান- জ্ঞানে পরিণত হয়।
পেশা : পিতার ইচ্ছা ছেলে সিএসপি অফিসার হোক। এ ইচ্ছা পূরণে তিনি ১৯৪৯ সালে সিএসপি পরীক্ষা দেন ও উত্তীর্ণ হয়ে কর বিভাগে অফিসার পদলাভ করেন। কিন্তু তিনি মাত্র এক বছর সেই চাকরি করেন। কারণ একবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে ঊর্ধ্বতন কমিশনারের রুমে গিয়েছেন, কমিশনার তাঁকে বসতে না বলায় অপমানিত বোধ করেন তিনি। চাকরিতে ইস্তফা দেন। এরপর আর এ ধরনের সরকারি চাকরি করেননি। ১৯৫১ সালে তিনি সরকারি চাকুরিতে ইস্তফা দেবার পর ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনায় ফিরে আসেন। অধ্যাপনার কাজে ব্যস্ত থাকাকালীনই তিনি এলএলবি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৫৫ সালে ময়মনসিংহ বার কাউন্সিলে যোগ দিয়ে আইন পেশাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন।

পোস্টমর্টেম ২ঃ

নাম: তাজউদ্দিন আহমদ।
জন্ম: কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
মা ও বাবা: মা মেহেরুন্নেসা খানম এবং বাবা মৌলবি ইয়াসিন খান।
পড়াশোনা: তাজউদ্দীন আহমদের পড়াশোনা শুরু বাবার কাছে আরবি শিক্ষার মাধ্যমে, একই সময়ে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি হন বাড়ির দুই কিলোমিটার দূরের ভূলেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১ম ও ২য় শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করেন। ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের কাপাসিয়া মাইনর ইংলিশ স্কুলে। মা’র প্রচেষ্টা ছিল
ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে লেখাপড়া করানোর। সফল হন তিনি। এরপর বিদ্যালয় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পড়েছেন কালিগঞ্জ সেন্ট নিকোলাস ইনস্টিটিউশন, ঢাকার মুসলিম বয়েজ হাই স্কুল ও সেন্ট
গ্রেগরিজ হাই স্কুলে। এসময় একজন স্কাউট হিসেবে স্কাউট আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। পরবর্তী কর্মজীবনে যা তাঁর প্রেরণা ও কাজ করার ক্ষমতা জুগিয়েছে। এসম্পর্কে তিনি বলেছেন – ‘স্কাউট হিসেবে শিক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাকে অমানুষিক পরিশ্রম করতে প্রেরণা ও ক্ষমতা জুগিয়েছে।’ এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিভিল ডিফেন্স-এর ট্রেনিং নিয়েছিলেন তিনি। এম.ই. স্কলারশিপ পরীক্ষায় ঢাকা জেলায় প্রথম স্থান লাভ করেন। শুধু তাই নয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায়। ১৯৪৪ সালে এই পরীক্ষায় অবিভক্ত বাংলায় দ্বাদশ স্থান লাভ করেন তিনি। এ সময়ই জড়িয়ে পড়েন মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে। হয়ে ওঠেন পার্টির সক্রিয় সদস্য। এবছর নির্বাচনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। যদিও মুসলিম লীগের গণবিচ্ছিন্ন রাজনীতির প্রতিবাদে, পরবর্তীতে দলের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন। একই বছর কলকাতায় শেখ মুজিবুর রহামনের সাথে পরিচয় হয় তাঁর। ভালো পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল উচ্চ মাধ্যমিকেও। ঢাকা বোর্ডে অর্জন করেন ৪র্থ স্থান এবং ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উচ্চ শিক্ষায় তাঁর বিষয় ছিল অর্থনীতি। এমনই মেধা-উজ্জ্বল শিক্ষা জীবনের ধারক ছিলেন এ অনন্য ব্যক্তিত্ব।
বিয়ে: ১৯৫৯ সালের ২৬ এপ্রিল সৈয়দা জোহরা খাতুন লিলির সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের অলংকার ছিল বেলী ফুলের মালা। তাঁর স্নিগ্ধ চেতনা আর মানসিকতার সুগন্ধই বহন করছিল মালার শুভ্র বেলী ফুলগুলো। ছেলেমেয়ে: ৩ কন্যা ও ১ পুত্র। রাজনৈতিক জীবন: ১৯৪৮ এ প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন তিনি। ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোক্তাদের একজন। ১৯৫৩ সাল। ‘আওয়ামী মুসলীম লীগ’ দলের কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুসলিম’ শব্দটি দলের নাম থেকে বাদ দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। শেখ মুজিবুর রহমান দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময়ই আওয়ামী লীগে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন তাজউদ্দীন আহমদ। এ বছরই তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা উত্তর-পূর্ব আসনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হন তাজউদ্দীন। প্রতিপক্ষ মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ নেতা ফকির আব্দুল মান্নানকে ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৯ বছর। ১৯৬৪ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক হন আওয়ামী লীগের। ৬ দফার ঐতিহাসিক ‘৬৬ সালে হন সাধারণ সম্পাদক। শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর
নিজে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ এপ্রিল সরকার গঠন করেন ও ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বদ্যিনাথ তলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে এলে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদ হন নয়া সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। ১৯৭৩- এ ঢাকা-২২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তাজউদ্দীন আহমদ।

পোস্টমর্টেম ৩ঃ

নাম: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
জন্ম: ১৯১৯ সালের ১৬ জানুয়ারী।
জন্মস্থান: সিরাজগঞ্জ জেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়া।
বাবা: হরফ আলী সরকার।
পড়াশুনা: পড়াশুনা শুরু করেন কাজিপুরের গান্ধাইল হাই স্কুলে।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন এডওয়ার্ড কলেজ থেকে। শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় জায়গির থেকে পড়াশুনা করেছেন মনসুর আলী ।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৪১ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন । এরপর ভর্তি হন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ১৯৪৫ সালে এখান থেকেই অর্থনীতিতে এম.এ এবং ‘ল’ পাস করেন। এল.এল.বি- তে প্রথম শ্রেণী লাভ।
পেশা : তিনি স্বাধীন পেশা ওকালতিকেই পরবর্তীতে নিজের
পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৮৫১ সালে আইন ব্যবসা শুরু করেন পাবনা জেলা আদালতে। আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যক্তি। পাবনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতিও ছিলেন তিনি।
রাজনীতি: আলীগড় থেকে দেশে ফেরার পর তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতির সাথে। মুসলিম লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এই নবীন
আত্মসচেতন ব্যক্তি। ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ছিলেন পাবনা জেলা মুসলিম লীগের সহ- সভাপতি। ১৯৪৮ সালে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষণ নেন এবং পিএলজি-এর ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হন। এ সময় থেকেই তিনি ক্যাপ্টেন মনসুর নামে পরিচিত হতে থাকেন। ১৯৫১ সালে তিনি আওয়ামী-মুসলীম
লীগে যোগ দেন। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। আওয়ামী মুসলীম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন এবং দলের পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় পূর্ববঙ্গ কোয়ালিশন সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক, খাদ্য ও কৃষি এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন তিনি। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন করেন। পাবনা-১ আসন
থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনে মনসুর আলী পুনরায় পাবনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ বছর তিনি আওয়ামী লীগে পার্লামেন্টরী দলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক গঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) সেক্রেটারী জেনারেলও ছিলেন এ সময় ক্যাপ্টেন মনসুর।

পোস্টমর্টেম ৪ঃ

নাম:আবুল হাসনাত মোহাম্মদ
কামরুজ্জামান।
জন্ম: নাটোর মহকুমার বাগাতীপাড়া থানার মালঞ্চী রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে মামার বাড়িতে ১৯২৬ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান। লেখাপড়া: লেখাপড়ার শুরু রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে। বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবক আব্দুস সামাদ ছিলেন তাঁর লেখাপাড়ার প্রেরণার উত্স। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তাঁর এক ফুপা। তিনি রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামে বদলী হয়ে যাবার সময় কামরুজ্জামান হেনাকেও সাথে করে নিয়ে যান এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকেই ১৯৪২ সালে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যান কলকাতা এবং বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৬
সালে অর্থনীতিতে অনার্সসহ স্নাতক পাশ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাঠ শেষ করে তিনি চলে এসেছিলেন নিজ শহর রাজশাহীতে। চলতে থাকে রাজনীতি। পুনরায়
ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে স্নাতক ছেলেটি এবার পড়াশোনা শুরু করেন আইন নিয়ে।
রাজশাহী কলেজ যে বছর আইন বিভাগ খোলে, সে বছর প্রথম ব্যাচেই অর্থাত্ ১৯৫৬ সালে, তিনি এখান থেকেই লাভ করেন বি.এল. ডিগ্রী। শুরু করেন আইন পেশা। প্রসার লাভ করেন আইন পেশায়।
রাজনীতি: তিনি বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্র লীগের রাজশাহী জেলা শাখার সম্পাদক হন ১৯৪২ সালে। বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্র লীগের নির্বাচিত সহ
সভাপতি ছিলেন ১৯৪৩-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। ১৯৫৬ সালে কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৬২ সাল ও ১৯৬৬ সালে পরপর দু’বার এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান পাকিস্তান জাতীয়
পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফার সময় তিনি ৬ দফা আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। পরের বছর ১৯৬৭ সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন। আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির সমর্থনে ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পুনরায় তিনি রাজশাহী থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায়
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন কামরুজ্জামান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কামরুজ্জামান। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে নির্বাচন দিলে এ সাধারণ নির্বাচনে তিনি রাজশাহীর দু’টি সদর গোদাগাড়ি ও তানর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে তিনি মন্ত্রী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।

১৯৭৫ সালের ৩ নবেম্বর মধ্যরাতে অনেকের মতে ভোর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ জাতির চার মহান সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন
আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যুর রক্তাক্ত অধ্যায়ে মানবতার শত্রু ও বঙ্গবন্ধুর হন্তারক ওই একই পরাজিত শক্তির দোসর বিপথগামী কিছু সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করে। সেই থেকে প্রতিবছরের মতো এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরে পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। বাঙালীকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রমিছিল থেকে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।

৭৫-এর পর থেকে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর নাম- নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা চলে। বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যাকান্ডের নেপথ্যের কুশীলব হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ আত্মস্বীকৃত ঘাতকদের মুখ থেকেই বেরিয়ে এসেছে। জেল হত্যাকান্ডের পর ওই সময়ই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের
করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এর পর দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার
শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদন্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন
কারাদন্ড হয়। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন দফাদার মারফত আলী শাহ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা। যাদের যাবজ্জীবিন কারাদন্ড দেয়া হয় তারা হলেন-কর্নেল (অব) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ
(বরখাস্ত), লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মোঃ কিসমত হোসেন এবং ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন বিএনপি নেতা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নুরুর ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর (অব) খায়রুজ্জামান। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত অপর চার আসামি লে.কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ওই চার আসামির চারটি আপীল ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে জেল হত্যাকান্ডের সুদীর্ঘ সময় পর এর বিচারের রায় হলেও জাতীয় নেতার পরিবারের সদস্যরাসহ বিভিন্ন মহল থেকে ওই সময়ই রায়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘প্রহসনের রায়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। একই সঙ্গে রায়টি প্রত্যাখ্যানও করা হয়। তাদের অভিযোগ,
জেলহত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। জাতির ইতিহাসের নৃশংসতম এই হত্যাকান্ডের পুনর্তদন্ত ও পুনর্বিচার দাবি করেন তারা। অবশ্য জেলহত্যা মামলায় খালাস পেলেও লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ- এই চারজন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড- প্রাপ্ত হওয়ায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি এদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে পলাতক অপর আট যাবজ্জীবন কারাদন্ড পাওয়া আসামির সম্পর্কে কোন মতামত না দেয়ায় তাদের দন্ড বহাল আছে বলে আইনজীবীরা ব্যাখ্যা দেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ায় জেল হত্যাকান্ডের পুনর্বিচারের সুযোগ আসে। গত
বছরের ১ নবেম্বর সরকারপক্ষ জেলহত্যা মামলার আপীল বিষয়ে সারসংক্ষেপ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে জমা দিলে পুনর্বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল আপীল বিভাগের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত রায়ে ২০০৮ সালের হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ২০০৪ সালের নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ পলাতক তিন অআসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদন্ড এবং অন্য ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি।
আজকের এই দিনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতীয় এই চার নেতাকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করছি এবং সকল হত্যাকান্ডের হোতাদের এক দঙ্গল থুতু নিক্ষেপ করে তাদের সকলের যারা এখনো পলাতক সকলকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
তথ্য সূত্র:-
১। বাংলা উইকিপিডিয়া।
২। গুনিজন ডট কম (ওয়েব পেইজ)।
৩। দৈনিক জনকণ্ঠ।
৪।বি ডি নিউজ ২৪ ডট কম।

২০ thoughts on “জাতীয় জেলহত্যা দিবস ও চারটি পোস্টমর্টেম।

    1. আপনি বলেন- এই পোস্ট স্টিকি
      আপনি বলেন- এই পোস্ট স্টিকি করতে! এই পোস্ট নিয়ে কোন ব্লগারের আগ্রহ পর্যন্ত দেখলাম না এখনো! আমাদের এক্টিভিস্টদের অবস্থাটাই এই রকম।

      1. দুলাল ভাই আসলেই কি পাঠকদের
        দুলাল ভাই আসলেই কি পাঠকদের হিট বা অনুরোধের কারণে পোস্ট স্টিকি করা হয় নাকি গুরুত্ব আর মানের কারণে? আশাকরি সবই বুঝতে পারছেন…

        সময়ের সাথে চিন্তা করলে কোন দিক থেকেই পোস্টটির মান এবং গুরুত্ব অনেক স্টিকি পোস্ট থেকেও বেশী মানসম্পন্ন…

        কেউ আবেদন করলে আপনি অনেক ভাবেই তা উরিয়ে দিতে পারেন কিন্তু এমন নগ্ন আক্রমণাত্মকভাবে করা উচিৎ না, মুক্ত মনের দাবীদার ব্লগার হিসেবে!! ভাল থাকবেন…

        1. কেনোজানি চোখ ভিজে আসলো
          কেনোজানি চোখ ভিজে আসলো তারিকভাই আপনার মন্তব্যটি পড়ে।আসলে অনেকটা আবেগ জড়িয়ে ছিল পোস্টটিতে।আপনি হয়তবা খেয়াল করবেন আমার কামরূপ কামাক্ষা পোস্টটি এখনো ভিজিট হয়।এখনো সেটিতে মন্তব্য পড়ে।অথচ এই পোস্টটি মাত্র ৫০বার পর্যন্ত ভিজিট হতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে।হাতে গোনা কয়েকজনের মন্তব্য পড়েছে।সানিলিওনের একটা পোস্ট দিয়েছিলাম যা কিছু ঘন্টার মধ্যেই ভিজিটরের সংখ্যা ১০০ পার করেছিল।আমার পোস্টটির কথা বাদ দেন।জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়েছিল ইস্টিশনে। সেগুলোর অবস্থা আরো খারাপ।আমরা চেতনা চেতনা করে গলাবাজি করতে পারি, চেতনাকে অন্তরে ধারন করতে পারিনা।

          1. জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আরো

            জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়েছিল ইস্টিশনে। সেগুলোর অবস্থা আরো খারাপ।আমরা চেতনা চেতনা করে গলাবাজি করতে পারি, চেতনাকে অন্তরে ধারন করতে পারিনা

            :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :দেখুমনা: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

        2. আমিও একমত লিংকন ভাইয়ের সাথে।
          আমিও একমত লিংকন ভাইয়ের সাথে। আসলে হিট সংখ্যা বা পাঠক অনুরোধ নয়, স্টিকি হওয়ার মূল মাপকাঠি হওয়া উচিৎ পোস্টের মান। আর পোস্টের মান সম্পর্কে মূল্যায়ন যেহেতু মডারেশন প্যানেলের দায়িত্ব তাই তাদের উপরেও আস্থা রাখতে হবে। ধন্যবাদ আবারও, অনেক কষ্ট করে পোস্ট বানানোর জন্য।

  1. স্টিক করার দাবী আমি জানাই…।
    স্টিক করার দাবী আমি জানাই…। কষ্ট সাধ্য কাজ করেছেন একটা। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টির জন্য।

    জাতীয় চার নেতার প্রতি আমার সম্মান রইলো

  2. অল্প পরিসরেই অনেক
    অল্প পরিসরেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সমাবেশ ঘটেছে এই লেখায়; ভাল লাগল।
    প্রিয়তে রাখলাম। :থাম্বসআপ:
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

  3. অসাধারণ কাজ করেছেন শঙ্খনীল
    অসাধারণ কাজ করেছেন শঙ্খনীল ভাই… আপনাকে প্রনাম :bow: :bow: এবং :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আর জাতীয় চার নেতাকে হৃদয় থেকেই অফুরন্ত :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  4. আমি অবাক হয়েছি যে, এত
    আমি অবাক হয়েছি যে, এত অনুরোধের পরও এই পোষ্টটি স্টিকি হয় নাই!

    জাতীয় চার নেতার প্রতি সম্মানার্থে এবং মানসম্পন্ন একটি পোষ্টের জন্য আমিও স্টিকি করার অনুরোধ জানালাম ।

  5. আমি অযথা তর্কে জড়াতে কখনো
    আমি অযথা তর্কে জড়াতে কখনো উৎসাহবোধ করি না ।তবু দুলাল ভাইর মন্তব্যটি দেখে একটি প্রশ্ন না করে পারলাম না ।
    আচ্ছা, ব্লগারদের আগ্রহ ছাড়া কি পোষ্ট স্টিকি হয় না? যদি আপনার কথা যথার্ত হয় তবে বর্তমানে স্টিকিকৃত ২য় পোষ্টটি এই পোষ্টটির তুলনায়, স্টিকি করার আগে কতটা আগ্রহের ছিল বা স্টিকির পরও কতটা আগ্রহের হয়েছে?

  6. দেরীতে হলেও পোস্টটা পড়লাম।
    দেরীতে হলেও পোস্টটা পড়লাম। ভালো পোস্ট নিঃসন্দেহে। মরটেম টাইটেল দেখে মনে করেছিলাম হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য পাবো। ধন্যবাদ শঙ্খনীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *