বাতাসে তিনটি গন্ধ

১. বাতাসে শীতের গন্ধঃ

পথচারীদের ব্যস্ত ঘামের গন্ধগুলোকে পেছনে ফেলে ছেলেটা প্রায় ফাকাঁ হয়ে যাওয়া রাস্তার কিনার ধরে একা একা হেটেঁ চলে। সতেজ নভেম্বরের একটা দিনের শরীরে সন্ধ্যা নামছে দ্রুত। ছেলেটা হাটঁতে হাটঁতে বুক ভরে শ্বাস নিলো। ধোয়াঁ, কালি আর সীসাময় শহরে বুক ভরে নিশ্বাস নেয়াটা খুবই সাহসী একটা কাজ। অন্য সময় হলে বুকে একগাদা ধুলাবালি আর কার্বন ঢুকতো। এখন ঢুকলো শীতময় একটা গন্ধ। ছেলেটা সিগারেট ধরালো। কাজে বাজছে ইরাজ ভাইয়ের কথা। “শ্রেনীশত্রু কখনো রাখতে নাই, বুঝসো?



১. বাতাসে শীতের গন্ধঃ

পথচারীদের ব্যস্ত ঘামের গন্ধগুলোকে পেছনে ফেলে ছেলেটা প্রায় ফাকাঁ হয়ে যাওয়া রাস্তার কিনার ধরে একা একা হেটেঁ চলে। সতেজ নভেম্বরের একটা দিনের শরীরে সন্ধ্যা নামছে দ্রুত। ছেলেটা হাটঁতে হাটঁতে বুক ভরে শ্বাস নিলো। ধোয়াঁ, কালি আর সীসাময় শহরে বুক ভরে নিশ্বাস নেয়াটা খুবই সাহসী একটা কাজ। অন্য সময় হলে বুকে একগাদা ধুলাবালি আর কার্বন ঢুকতো। এখন ঢুকলো শীতময় একটা গন্ধ। ছেলেটা সিগারেট ধরালো। কাজে বাজছে ইরাজ ভাইয়ের কথা। “শ্রেনীশত্রু কখনো রাখতে নাই, বুঝসো? শত্রু জিইয়ে রাখো, তারা তোমাকে সাবধানে থাকতে সাহায্য করবে। কিন্তু শ্রেনী শত্রু তোমাকে ধ্বংস না করে ক্ষান্ত হবে না।” ছেলেটা শীতের গন্ধ খুব পছন্দ করে। বিশেষ করে শীতের রাতের গন্ধ। কিন্তু সিগারেট খেতে গিয়ে, শীতের গন্ধের বদলে নিকোটিন নিতে হচ্ছে প্রাণ ভরে। ছেলেটা লম্বা লম্বা টান দিয়ে তাড়াতাড়ি সিগারেট শেষ করতে চাইলো। তাড়াহুড়োর কারনে নয়, আবার শীতের গন্ধ নেবে বলে, বছরে মাত্র কয়েকমাস এই প্রিয় গন্ধটা পাওয়া যায়। ছেলেটা সিগারেট পুরোটা শেষ না করেই বুক ভরে শীতের গন্ধ নিলো। আহ, বাতাসে শীতের কি দারুন গন্ধ!

২. বাতাসের বারুদের গন্ধঃ

শীত পড়তে শুরু করেছে মাত্র। নভেম্বরের দুই তারিখ রাত ১১টা। ফাকাঁ রাস্তাটা হঠাৎ একটা ছোটখাট গোলাগুলির পর পুরো ফাকাঁ হয়ে গেলো। দুয়েক লোক ছিলো, তারাও এদিক ওদিক ছুটছে। শুধু ছেলেটির কোন বিকার নেই। সে খুব ধীরে সুস্থে পয়েন্ট টু টু বোরের রিভলবারটা চাদরের নীচে রেখে দিলো। সে বুক ভরে শীতের গন্ধ নিয়ে আবার সিগারেট ধরালো। তার পায়ের নীচে পড়ে ছিলো রক্তাক্ত একজন ‘শ্রেনী শত্রু’। বাতাসে তখনও বারুদের গন্ধ।

৩. বাতাসে লাশের গন্ধঃ

ঠিক ২৪ ঘন্টা পর। বাতাসে যথারীতি শীতের গন্ধ। রাত যত বাড়ছে, গন্ধও তত বাড়ছে। র‌্যাব ৪ সদস্যের একটা টিম ছুটে গেলো ছেলেটাকে ধরতে। তারপর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ। ছেলেটার মৃতদেহ অন্ধকার ডোবাতে পড়ে ছিলো পরদিন ভোর অবধি। তার সেই চাদর, ভেসে রইলো উড়ন্ত মাছিগুলো উপরে…প্রায় ১২ ঘনটা আগের লাশ…পচনঁ ধরেছে। হালকা রোদ ওঠতে শুরু করেছে। বাতাসে তাই শীতের গন্ধও উধাও। তার বদলে সেখানে শুধু লাশের গন্ধ…..

২ thoughts on “বাতাসে তিনটি গন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *