” শাহবাগ চত্বর আন্দোলন ও কিছু নির্মম বস্তবতা “

শাহবাগ চত্বর আন্দোলন নিয়ে অসংখ্য তর্ক বিতর্ক রয়েছে । যৌক্তিক অযৌক্তিক কথার ভীরে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা বোধের গতি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে দেবার জন্য যথেষ্ট ।

গণ মানুষের এই আন্দোলনের ডাক, কে বা কারা দিয়েছিল তাই নিয়ে চরম নোংরামি হয়েছে । এক এক পোষ্ট এবং সংবাদ পত্রগুল তে এক এক রকম তথ্য দেয়া হয়েছে । ব্যানার ধরা ছবি সর্বস্ব নেংটি ইঁদুরের দল, হলদে নীতি তে বিশ্বাসী সতীর্থদের ব্যাবহার করে গণমাধ্যমে নিজেদের প্রচারণা চালিয়েছে । তবে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে কারা এই আন্দোলনে প্রথম দিন যোগ দিয়েছিল।


শাহবাগ চত্বর আন্দোলন নিয়ে অসংখ্য তর্ক বিতর্ক রয়েছে । যৌক্তিক অযৌক্তিক কথার ভীরে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা বোধের গতি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে দেবার জন্য যথেষ্ট ।

গণ মানুষের এই আন্দোলনের ডাক, কে বা কারা দিয়েছিল তাই নিয়ে চরম নোংরামি হয়েছে । এক এক পোষ্ট এবং সংবাদ পত্রগুল তে এক এক রকম তথ্য দেয়া হয়েছে । ব্যানার ধরা ছবি সর্বস্ব নেংটি ইঁদুরের দল, হলদে নীতি তে বিশ্বাসী সতীর্থদের ব্যাবহার করে গণমাধ্যমে নিজেদের প্রচারণা চালিয়েছে । তবে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে কারা এই আন্দোলনে প্রথম দিন যোগ দিয়েছিল।

http://www.facebook.com/photo.php?v=10151312830208460 ।
যদিও এই ভিডিও চিত্রটিতে প্রচার বিমুখ অনেকেই নেই । কিন্তু অনলাইন এক্টিভিস্টদের প্রচারণার সুফল আজকের এই শাহবাগ আন্দোলন এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই । সরকারী কিংবা বিরোধী দলগুল তাদের শকুনে দৃষ্টি এবং রাজনৈতিক চাল চেলে বারবার বোঝাবার চেষ্টা করছে যে তাদের ডাকে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যা । লীগ, বা দলের চামচারা এখন দখলদারি পন্থা অবলম্বন করলেও এই আন্দোলনে তাদের কে কোন রকম দলীয় ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয়নি ।

http://img534.imageshack.us/img534/4351/19713582597895102025131.jpg

জামাত শিবিরের নোংরামির মধ্যে সব চেয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার হল , “এই আন্দোলন নাস্তিকদের আন্দোলন” এবং সকল নারী আন্দোলনকারী কে “পতিতা” উল্লেখ করা ।
এরই ধারাবাহিকতায় থাবা বাবা (আহমেদ রাজীব হায়দার ) কে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে । জামাত শিবির এর মাস্টার প্ল্যান এর অংশ এটা । তারা এমন এক জন দেশ প্রেমিক ব্লগার কে টার্গেট করেছে যে ধর্ম বিদ্বেষী বিঁধায় সাধারণ মুসলিমরা এই হত্যা কে সমর্থন জানাবে এবং এই সুযোগে ওরা হত্যার বিচারের দায় থেকে মুক্তি পাবে। এরই সাথে শাহবাগ আন্দোলন কে নাস্তিকদের আন্দোলন নাম দিয়ে দুর্বল করে দেবে । রাজীব কে হত্যার পর থেকেই তারা বিভিন্ন পেইজ এ “রাজীব এর লেখা নাম” দিয়ে কতগুল মিথ্যা বানোয়াট পোষ্ট দিচ্ছে এবং শাহবাগ আন্দোলনে তাদের ভাড়া করা পতিতা লেলিয়ে দিয়ে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করছে।

ব্লগারদের নিয়ে জামাতের সেক্স মিশন!ঢাকা : এবার এক অদ্ভুত ভয়াবহ খেলায় মেতে উঠেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাত-শিবির…

Posted by Voice of 71 – ৭১ এর কন্ঠ on Sunday, February 17, 2013

এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মুসলিমরা । সফল হচ্ছে জামাতের ঘৃণ্য চক্রান্ত ।

সর্ব শেষ নোংরামি হল ফেবু/ ব্লগ স্টারদের ক্ষমতার দখল নিয়ে । রাজীব হত্যার বিচারের দাবীতে কোন কর্মসূচী দেয়া হল না , জামাত শিবির অনলাইন এক্টিভিস্টদের হত্যার হুমকি দিয়ে লিস্ট বানাল , প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে বেড়াচ্ছে, শাহবাগ চত্বর এ হামলার হুমকি দিচ্ছে , অনলাইন এক্টিভিস্টদের জীবন বিপন্ন অথচ ফেবু রথীমহারথীরা টকশো করে বেড়াচ্ছেন , বক্তৃতায় থুতু ছেটাচ্ছেন ,ক্ষমতার দখল নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছেন কিন্তু জামাত শিবির নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার কে আল্টিমেটাম দিচ্ছেন না, আন্দোলনকারীদের জীবনের নিরাপত্তার দাবী জানাচ্ছে না । আন্দোলন আজীবন চলতে পারে না । এত বড় একটা জন জাগরণ এর সমাপ্তি অনেক সুন্দর ভাবে হাওয়া উচিৎ অথচ সরকার পন্থীরা দখলদারির খেলায় মেতেছে আর সুযোগ করে দিচ্ছে আমাদেরই সহযোগীরা ।

পরিশেষে ইমরান,পিয়াল কিংবা জ্যাবেতিক ভাই এর জীবন বিপন্ন হবে না কারণ তারা ক্ষমতাধরদের ছত্রছায়ায় থাকেন । খুন হবে রাজীব কিংবা সাধারণ অনলাইন এক্টিভিস্টরা । এখনো সময় আছে সকল “আমি” থেকে আমরা হই , ক্ষমতা নয় বরং অস্তিত্ব বাঁচাবার লরাই করি নইলে আন্দোলনকারীদের লাশের উপর দাড়িয়ে একদিন বাংলাদেশদের নাম বদলে ছাগুস্থান হবে।

৩৫ thoughts on “” শাহবাগ চত্বর আন্দোলন ও কিছু নির্মম বস্তবতা “

    1. ধন্যবাদ তবে আন্দোলনকারীদের মন
      ধন্যবাদ তবে আন্দোলনকারীদের মন এত দুর্বল হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না । বরং তারা সাবধান থাকবে কোন দলের ষড়যন্ত্র থেকে । 🙂

  1. তাণ্ডব শুরু হয়েগেছে , বুনো
    তাণ্ডব শুরু হয়েগেছে , বুনো কুকুরগুলো এখন ধংসলীলা শুরু করবে , দেশবাশীকে সাবধানে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি , সবসময় সজাগ থাকুন , যারা সক্রিয় ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহন করছেন তারা দলবদ্ধ থাকার চেষ্টা করুন , নিজের বাচ্চাদের প্রতি খেয়াল রাখুন।

    সমাবেশরত বন্ধুদের একঅংশ সব সময় চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন , সামনে কঠিন সময় আমাদের আরও সুগঠিত হতে হবে , আরও পরিকল্পিত হতে হবে।আমাদের জীবন এই ভাবে হারিয়ে যেতে পারেনা।

    এই মুহূর্তে কাউ কে বিশ্বাস করা যায় না।আমাদের যে ভাই আজ মারাগেলেন সেটা মিডিয়া আর রাজনীতির কাছে খুব গুরুত্তপূর্ণ নয় তাই খুব শীতল পতিক্রিয়া তাদের।কিন্তু এই মৃত্যু আমাদের চরম ক্ষতি , এই দুঃখ তীব্র দুঃখ। আর কোন জীবন কে হারিএ যেতে দেওয়া যাবেনা । সঙ্গবদ্ধ আর সচেতন হন।

  2. আমিও বুঝি নাই কেন কেউ থাবার
    আমিও বুঝি নাই কেন কেউ থাবার খুনের বদলার জন্য কড়া কর্মসূচী বা পদক্ষেপের দিকে গেল না? থাবার ওপর হামলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে জামায়াত-শিবির বিরোধী মত দেয়া, নিজের মত-বিশ্বাস নিয়ে কথা বলাটা এখন আর নিরাপদ না। সেই আগের মতো চেপে যেতে হবে, সবাই তো আর লেখক হতে পারবেন না। আগে কেবল শিক্ষক সাহিত্যিক সংস্কৃতি কর্মীরাই তাদের নিজস্ব মত প্রচারের সাহস দেখাতেন। মাঝে যেই কেউ তার মত প্রচারের সুবিধা পেয়েছিল ব্লগ ও ফেসবুকের বদৌলতে। এখন দেখা যাচ্ছে এই জায়গাটাও মসজিদ মন্দিরের বারান্দা হয়ে গেছে।

    1. থাবার মৃত্যুই মনে হয় আমরা
      থাবার মৃত্যুই মনে হয় আমরা বৃথা যেতে দিচ্ছি। কারণ আন্দোলন থেকে কঠিন কোন কর্মসূচি আমরা আশা করেছিলাম কিন্তু আমাদের আশায় পানি ঢেলে দিল তারা :/

      1. কঠিন কর্মসূচি চাইলেই দেয়া যায়
        কঠিন কর্মসূচি চাইলেই দেয়া যায় না। শক্তিশালী আন্দোলন ও ক্ষুদ্র ভুলের জন্য ভেস্তে যেতে পারে। তাই সাবধানে এগিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত আমি সমর্থন করি।

    2. সহমত আনিস রায়হান। আমি একটু
      সহমত আনিস রায়হান। আমি একটু হতাশ ছিলাম কেন থাবা বাবার খুনের পর হরতাল, অবরোধ বা আল্টিমেটাম দেয়া হয়নি । সে সামর্থ্য কিন্তু ছিল । নৈতিকতার প্রশ্ন এটা।

    1. ভবঘুরে @ আজম ভাই এর ভূমিকা
      ভবঘুরে @ আজম ভাই এর ভূমিকা সম্পর্কে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই । মতামতের জন্য ধন্যবাদ । নিয়মিত হবার
      চেস্টা থাকবে । 🙂

  3. সত্য বিষয়গুলো সুন্দর করে
    সত্য বিষয়গুলো সুন্দর করে উপস্থাপন করবার জন্য ধন্যবাদ।
    আমিও ব্যক্তিগতভাবে চরমবিরোধী এইসব ব্যক্তি ক্রেডিট নিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে।
    তবে কিছু বিষয়ে আপত্তি আছে,যাদের নাম উল্লেখ করে কিছু কথা বলেছেন সেইসব ব্যাপারেই বলছি…আজ যদি সত্যিই ইমরান ভাই,পিয়াল ভাই,জেবতিক ভাই ইনারা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থাকেন তাহলে জেনে নিবেন আগামীতে ক্ষমতার হাত বদল হলে এরাই কিন্তু প্রথম ঐ প্রসাশনের রোষানলেই পড়বে অন্য যে কারোর আগে।
    তবে আমি যতদুর দেখেছি এবং জানি এরা কেউই প্রশাসনের নিরাপত্তায় নেই,এরা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখেই জীবন-যাপন করছেন। আবার অনেকেই মনে করছেন এই লোকগুলো এখন শাহবাগে কিনবা চ্যানেলে বক্তব্য দিয়ে রাতে গিয়ে তারকা মানের হোটেলে থাকছেন, তাদেরকে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিতে চাই এরা দারুন করুন অবস্থায় বসবাস করছেন এই মুহুর্তগুলোতে।
    টক-শো এর ব্যাপারে যদি বলি আজকের দিনে পিয়াল ভাইয়ের পরিবর্তে যদি অন্যকাউকে পাঠানো হয় ঐ টক-শো গুলোতে সেক্ষেত্রে আপনি কতটা নিশ্চিত যে তারা পিয়াল ভাইয়ের মত কিনবা তার চাইতেও ভালো করে জবাব দিতে পারবেন?
    পিয়াল ভাই কিন্তু বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানেই বলেছেন তিনি শাহবাগের আয়োজক কিনবা নীতি নির্ধারকদের কেউ নন।

    প্রথম যেই ছবিটা দিয়েছেন সেখানে যেই ব্যানারটি দেখতে পাচ্ছেন ঐটি কিন্তু ইমরান ভাইয়ের উদ্যোগে গঠিত ব্লগারস এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের এবং আমি যতদূর জানি প্রথম এই আন্দোলনের ডাক অনলাইনে বাধন স্বপ্নকথক দিয়েছেন ইমরান ভাইয়ের বাসায় বসে এবং ঐ শাহবাগে যে প্রথম চারজন হিসেবে জানি তারা হলেন বাধন ভাই,ইমরান ভাই,ডাঃ সেলিনা মাওলা,আনিস রায়হান।

    এবার আসি জামাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে যাওয়ার ব্যাপারে,যদিও আমি অনেকসময় জ্বলে উঠি কঠোর পদক্ষেপের জন্যই তবে ভেবে দেখলে অনেক কিছু কৌশলগত কারণেই থেমে যেতে হয়।
    অনেকেই এমনকি আমিও এখন অনলাইনে বলেছিলাম “রাজীব মারা গেছে আসেন মোম জ্বালাই/বেলুন উড়াই”
    কিন্তু ভেবে দেখলেই দেখি এছাড়া কিইবা করার আছে?
    এখন যদি সবাই মিলে হামলে পড়লাম তাদের উপর তার প্রতিদানে তারা কি করবে?
    আমাদের যে অনলাইন জনবল আছে তার থেকেও তারা অনেক বেশি সুসংগঠিত,আমাদের যে আর্থিক জোর তার চাইতেও তারা অনেক বেশিই শক্তিশালী এই ভিত্তিতে কি হতে পারে তাদের প্রতিদান একবার ভেবে দেখবেন?
    তারা সশস্ত্র সেই হিসেবে আমরা কতটা?
    এই দেশটার প্রতি আমাদের যতটা ভালোবাসা,মমত্ব আছে ঠিক কতটা তাদের আছে?
    তারা কতবার ভাববে এই দেশটা ক্ষতিগ্রস্থ হলো কিনা আর আমরা কতবার ভাবব?
    আমরা যদি তাদের মতই সহিংসতায় যাই তাহলে সাধারন মানুষের সমর্থন কতটা থাকবে?

    কঠোর আন্দোলন দেয়াই যায় কিন্তু এর ফলাফল কি দাঁড়াতে পারে?
    সময় কি বেঁধে দেয়া হয় নাই এরই মধ্যে একবার, সেটিই কি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে?
    আর বাস্তবায়িত হলে কি হতো ভেবে দেখেছেন?

    সময় এখন সকলকে নিজ উদ্যোগে ডেকে নিজের প্রয়োজনেই একতাবদ্ধ হয়ে আগামী দিনগুলোতে এই আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    free mp3 converter

  4. কে আন্দোলন করেছে,কে প্রথমে
    কে আন্দোলন করেছে,কে প্রথমে হেটেছে, কে হাত উচু করেছে আগে, কে আগে নাক ঝেড়েছে। এইসব নিয়ে আমরা মনে হয় বেশিই মাথা ঘামাচ্ছি। হুদা কাম বেশিই ফারল পাড়তাছি আমরা।
    হায়রে বাঙ্গাল :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান:
    আমরাই মনে হয় সবচেয়ে কুলাংগার জেনারেশন। একাত্বরের পর, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হইলো, সব পাব্লিকই ছিল। রাজাকারের ফাসির দাবিতে জাহানারা ইমামের সংগ্রামেও অনেকে ছিল। তয় ইতিহাসের এমুন কামড়া কামড়ি জাতি আর দেখেনি। যা স্বাধীনতার ঘোষক নিয়া আমাদের দুই বড় দলের কামড়াকামড়িকেউ হার মানাবে একদিন

  5. দুর্দান্ত!!!
    আমাদের

    দুর্দান্ত!!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    আমাদের মধ্যে বিষয় ভেদে যতই মত পার্থক্য থাকুক আশা করবো অন্তত এই রাজাকার গুলোর ফাঁসির রায় পর্যন্ত আমরা এক থাকবো!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *