অনুগল্পঃ জীবন থেকে নেয়া

সময় দুপুর ১২টা ছুইছুই। নীলুফা নুরপুর প্রাইমারী স্কুলের সামনে দাড়িয়ে। নীলুফার ছেলে ফাহিম।এবার ক্লাস থ্রী’তে উঠেছে। বয়স খুব কম। রাস্তাঘাটে একা চলাচল করতে পারে না। তাই প্রতিদিন
ফাহিমকে স্কুলে আনা নেওয়া করতে
হয়। সকালের ফাহিমের বাবা স্কুলে নিয়ে যান। তিনি ছোটখাট ব্যবসা করেন।
বাজারে একটি মুদি দোকান আছে।
দুপুরে দোকান ছেড়ে আসা যায়
না তাই নীলুফা কেই নিতে আসতে হয়।



সময় দুপুর ১২টা ছুইছুই। নীলুফা নুরপুর প্রাইমারী স্কুলের সামনে দাড়িয়ে। নীলুফার ছেলে ফাহিম।এবার ক্লাস থ্রী’তে উঠেছে। বয়স খুব কম। রাস্তাঘাটে একা চলাচল করতে পারে না। তাই প্রতিদিন
ফাহিমকে স্কুলে আনা নেওয়া করতে
হয়। সকালের ফাহিমের বাবা স্কুলে নিয়ে যান। তিনি ছোটখাট ব্যবসা করেন।
বাজারে একটি মুদি দোকান আছে।
দুপুরে দোকান ছেড়ে আসা যায়
না তাই নীলুফা কেই নিতে আসতে হয়।

স্কুল ছুটে হয়ে গেছে। প্রতিদিন
স্কুলের ছুটির পরই ফাহিমের নানা আবদারের জন্ম হয়। “চিপস থাব”,”আইসক্রিম খাব”,”ঝালমুড়ি খাব” ইত্যাদি। নীলুফাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। মধ্যবিত্ত পরিবার। কোনরকম দিন চলে। মাস
শেষে সামান্য কিছু টাকা সষ্ণয় হয়,
এটাই ফাহিমের ভবিষ্যত।
ফাহিমকে এতো কিছু বোঝে না,
তাছাড়া ছোট মানুষ কিছু আবদার
করলে না-ও করা যায় না। হাজার
হোক মায়ের মন। আজকে তার
আবদার আইসক্রিম। ফাহিমকে নীলুফা বহুবার বুঝিয়েছে এসব বাহিরের খাবার
ভালো না। পেট খারাপ করবে। ফাহিম
এসব মানতে নারাজ। তার মতে সবাই
খায়। তাই তারও খেতে হবে। নীলুফা ছেলের সাথে তর্কে পারে না। আইসক্রিম কিনে দিয়েই রেহায় পায়।

দুপুরে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। নীলুফাদের রিকসা জ্যামে আটকা। বাসায় অনেক কাজ পড়ে আছে। নীলুফার মুখে অস্বস্তির ছাপ। তিনি ছেলের দিকে তাকালেন, জ্যাম নিয়ে আজ তার মাথা ব্যথা নেই। এখন সে আইসক্রিম খেতে ব্যস্ত।
অন্যদিন হলে কেন জ্যাম, কখন
ছাড়বো, বাসায় যাবো ইত্যাদি করে অস্থির হয়ে পড়তো। নীলুফা রাস্তার
অপাশে তাকালেন।খুব ভালো করে সাজানো একটি শাড়ির দোকান আছে। দোকানের সামনে কাচ
লাগানো। ভেতরে শাড়ি পড়িয়ে পুতুলকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। জামদানি শাড়ি। লাল, নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙের।
একটি মেয়েকে দেখা যাচ্ছে, লাল
শাড়িটা খুব ভালোভাবে দেখছে।
সুন্দরী তরুনী বিয়ের কেনাকাটাই হয়তো করছে। আশেপাশে বান্ধবী আর হাতে ব্যাগের পরিমান দেখেই আন্দাজ করা যায়। তাছাড়া বিয়ের কনে’দের এরকম শাড়ির প্রতি আকর্ষণ একটু বেশিই থাকে।

হঠাত্‍ করে নীলুফা তার পুরনো স্মৃতিতে হারিয়ে গেল। ঘটনাটা তার বিয়ের সময়ের। নীলুফার পরিবার গ্রামে থাকতো। তার বাবা তরিকুল হোসেন
আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন না, ঢাকায় ছোটখাটো আমলাগিরির কাজ
করতেন। বিয়ের সময় নীলুফার বয়স
বেশি ছিল না।মনে তখনও কিশোরী ভাবটা ছিল। আর দশটা সাধারণ গ্রামের মেয়ের মতন তারও শখ ছিল বিয়ের সময় নতুন শাড়ি পড়বে, গহনা পড়বে,
হাতে মেহেদি দিবে আরও কত কি।
নীলুফার বাবা তরিকুল হোসেন নিজের
সামর্থ্যমত বিয়ের কেনাকাটা করে মেছ বাড়িতে সব রেখেছিলেন। কাজের
কারনে বাহিরে গেলেনে এবং
দূর্ভাগ্যক্রমে মেছবাড়িতে
শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লেগে যায়।
গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র, টাকা-পয়সা,
আসবাবপত্র সবকিছুই আগুনের
লেলিহান শিখায় পুড়ে যায়। তরিকুল
হোসেন মাথ নিচু করে মেয়ের
কাছে গেলেন। তার বলার কিছুই ছিল
না। আরেকবার কেনাকাটা করার
টাকা টাও যে তার কাছে নেই। এমনিতেই অনেক ধারকার্য করা হয়ে গেছে। যে বাবা তার মেয়ের
বিয়েতে একটি শাড়ি দিতে পারে না,
তার বেশি কিছু বলার থাকেও না।
নীলুফা মন সেদিন ভেঙ্গে গিয়েছিল
তবে ভাগ্যকে সে মেনে নেয়। মায়ের
পুরনো বিয়ের শাড়ি পড়েই বিয়ে করে।
মনের সব স্বপ্ন-ইচ্ছে’কে সেদিনই সে চাপা দিয়ে দেয়। বাস্তবতার সাথে এক অসম যুদ্ধে নেমে পড়ে। তবে আজ সে অনেক ভালো আছে। অনেক
সুখেই আছে, এখন আর অভাবে দিন
কাটাতে হয় না। নিজের সামর্থ্যের মাঝে খুব ভালো দিন কাটাচ্ছে। আর ছোটবেলায় নিজে যে সুযোগ-সুবিধা থেকে বষ্ণিত হয়েছিল। ছেলের জন্য তা হতে দিতে চান না। সাধ ও সাধ্যের মাঝে ইচ্ছেগুলো পূরন করার চেষ্টা করেন। যাতে অতৃপ্ত ইচ্ছে তাকে ঘিরে না রাখে।

আজ বহুদিন পর পুরনো কথা নীলুফাকে আবেগী করে তোলে। জ্যাম ছেড়ে দিয়েছে। সে তাড়াতাড়ি চোখ মোছে।
ফাহিমের আইসক্রিম খাওয়া শেষ,
মায়ের চোঁখ মোছার কারণ সে জানে না।

[গত শনিবার দেখা একটি বাস্তব ঘটনাকে সামনে রেখে লেখা]

২ thoughts on “অনুগল্পঃ জীবন থেকে নেয়া

  1. বাস্তব কাহিনীকে সামনে রেখেই
    বাস্তব কাহিনীকে সামনে রেখেই লেখা। হুম মানুষগুলো বাস্তব, তবে কাহিনী কল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *