ছোট্ট ছোট্ট আনন্দ – ২

অর্থহীনভাবে যত্রতত্র ঘুরছি । উদাস উদাস লাগছে নিজেকে । চেহারার কি হাল বলতে পারছি না । কিন্তু আজগুবি দেখাবে বলেই
মনে হচ্ছে , আশেপাশের মানুষের
চাহনি দেখে ধারণা করছি । কি অদ্ভুত!!

গরম গরম আবহাওয়া । শার্টের উপরের বোতামটা খুলেই হাটছি । অদ্ভুত লাগার আরো কারণ হচ্ছে, আমি একা নই । স্ত্রী সিগমা আর আমার ছোট্ট চাচাতো ভাইয়ের ছেলে , অনয় । বাবা মা হারিয়েছে চার বছরের মত হলো, তখন নিজের কাছেই নিয়ে এসেছি ওকে … দায়দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি।

সিগমাকে বলতেই রাজি হয়ে যায় .. ভাবি, আমি ভাগ্যবান মেয়েটাকে পেয়ে!!


অর্থহীনভাবে যত্রতত্র ঘুরছি । উদাস উদাস লাগছে নিজেকে । চেহারার কি হাল বলতে পারছি না । কিন্তু আজগুবি দেখাবে বলেই
মনে হচ্ছে , আশেপাশের মানুষের
চাহনি দেখে ধারণা করছি । কি অদ্ভুত!!

গরম গরম আবহাওয়া । শার্টের উপরের বোতামটা খুলেই হাটছি । অদ্ভুত লাগার আরো কারণ হচ্ছে, আমি একা নই । স্ত্রী সিগমা আর আমার ছোট্ট চাচাতো ভাইয়ের ছেলে , অনয় । বাবা মা হারিয়েছে চার বছরের মত হলো, তখন নিজের কাছেই নিয়ে এসেছি ওকে … দায়দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি।

সিগমাকে বলতেই রাজি হয়ে যায় .. ভাবি, আমি ভাগ্যবান মেয়েটাকে পেয়ে!!

সিগমার কথা ভালোমত বলাই হলো না!! সেই সুদূর কলেজ জীবন থেকে পরিচয় .. ছিল পাশের বাসার সুন্দরী মেয়েটি!! কিন্তু অবাক করা ব্যাপার বিয়ের আগ পর্যন্ত ভালোমতো চিনতামই না ওকে!!!

কলেজ যেতাম, আসতাম … মাঝে মাঝে রাস্তায় দেখা হতো … তখনো বাক্য বিনিময় হয় নি কখনোই!! কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটি, ভার্সিটি শেষ করে চাকুরিতে ডুকলাম। .. ভালোই যাচ্ছিল দিন …!!

কিন্তু আর কি শান্তিতে থাকলাম!!!
সেদিন ছিল অফিস বন্ধ .. ঘরে বসে পত্রিকা উল্টে পাল্টে দেখছিলাম ….
হঠাৎ ওনার আগমন!!! … গটগট করে সামনে এসে বললো, ” আমার সাথে আসুন ”
চোখ কপালে তুলে ফেললাম, ” কই?? ”
: আরে আসেন তো!!

সামনে এসে সরাসরি হাত ধরে টানল..!! উঠে গেলাম সাথে .. বাড়ির ছাদে নিয়ে যাচ্ছিল টেনে!!
একবার ভাবলাম, হাইজ্যাক করবে নাকি!! এত বড় ছেলে হয়ে হাইজ্যাক হলে তো লজ্জায় পড়ববো!!

সোজা ছাদের এক কিনারে নিয়ে এল আমাকে …
– এইখানে আনলেন কেন??
মেয়ে ক্রুদ্ধ চোখে তাকাল, ” কারণ আছে ”
চুপ মেরে গেলাম!! কি না কি কারণ কে জানে!! তখনো বুঝি নাই মেয়েটা মাত্র আমার পৃথিবীতে ডুকছে, একগাদা বিস্ময় নিয়ে!!!

: আমি তোমাকে ভালোবাসি।

চিনি না মেয়েটাকে একথা বলতে দেখে দ্বিতীয় বার টাসকি খাইলাম, ” কে আপনি?? ”
মূহুর্তে মেয়েটার চাহনি দেখে মনে হলো পৃথিবীর নবম আশ্চর্য দেখছে সে… ” আ.. আপ..আপনি আমাকে চেনেন না??!!!! ”
বিমূঢ় ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম … ” না ”
: আমি সিগমা
– হুম
: আপনাদের পাশের বাড়িতেই থাকি
– হুম
: এই পোলা!!! হুম হুম কি??? তুমি এত্ত ভালা আগে তো জানতাম না!!!
– এখন কি করতে পারি বলেন?
: আমার সাথে আপনার পালায় যাইতে হবে।

আল্লাহর কাছে এখন হাজার বার হাত তুলি যে তখন হার্ট হ্যাটাক হয় নাই!!! ভীষণ চমকে চমকিত হইয়া মুখ দিয়া সহসা কিছু বের হয় নাই!!
আর তখনই খেয়াল করিলাম, সুন্দর একটা মেয়ে … মানে কি!!!!

– কেন??
: বাসা থেকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখছে। আজ আমাকে দেখতে আসছে।
– তো?
: তো কি?? ওই মদনা , আমি তোরে কি বলছি??

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলাম, ” কি!!!!!!! ”

: আমি বলছি না আমি তোমাকে ভালোবাসি!! তো অন্য কারো সাথে ঘর করা সম্ভব নয় আমার!!! তোমার সাথে পালাবো ….

সুপ্রিয় পাঠক, পরবর্তীতে আমার আর কিছু মনে নাই .. যখন চোখ খুললাম, হাসপাতালের বেডে শোয়া … অদূরেই মা বসা… আবার জ্ঞান হারাই ..

সন্ধ্যার দিকে বোধহয় জ্ঞান ফিরে আসে। কিছুক্ষণ মিটমিট করার পর বুঝতে পারলাম, পাশে মা বসে আছে।
প্রথম কথাই ছিল আমার, ” মা , ওই মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে তো?? ”
মা কি বুঝেছিলেন কে জানে!! , ” হ্যা, বাবা। বিয়ে হয়েছে। তুই চুপচাপ শুয়ে থাক। ”

হাসপাতালে শুয়েই শুনেছিলাম, মা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন। মার পছন্দের .. ছবি দেখাতে চাইলেন। দেখলাম না। মার ইচ্ছায় আমার ইচ্ছা। আমি ছাড়া মার কেউ নেই। সম্মতি দিয়ে দিলাম।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার দু মাস পরেই বিয়ে হয়ে গেল। আশ্চর্য ব্যাপার কন্যাকে ভালোমতো দেখলুম ই না!!!

বাসর রাত। ঘরে ডুকবো, তার আগে বাইরে দাঁড়ায় থাকা বিবাহিত বন্ধুগুলোর কাছে সাহস চাইলাম, কারণ আমার অভিজ্ঞতা এইখানে শূন্য!! …. ইয়ে মানে বিয়ে তো প্রথম বারই!! কিন্তু চাপা হাসি দেখে মনে হলো ষড়যন্ত্র করছে ওরা, , ভয়ানক কিছু!!

ঘরে ডুকে গেলাম। দরজা টা বন্ধ করে বিছানায় বসলাম!! আর জীবনের ভয়ানক ব্যাপার শুরু হলো … কন্যা হঠাৎ হালুম করে উঠলো!!! ভীষণ চমকে যখন তাকাই, দেখি সেই সিগমা!!!!! তখন মনে হচ্ছিল উঠে ম্যারাথন দৌড় লাগাই… ঠিক বলতে পারবো না, তখন বোধহয় কল্পনায় দেখছিলাম, আমি দৌড়াচ্ছি , দৌড়াচ্ছি …

পরদিন সকালে চোখ খুললাম , মেয়েটা মাথার কাছেই বসে আছে … অবিশ্বাস্য ব্যাপার,, হাসছে!!!!

এভাবেই শুরু। দিন দিন যাওয়ার সাথে সাথে অস্তিত্বকে কিভাবে দখল করে নিল ও ,, বুঝলামই না!!! এখন অনেক অনেক ভালোবাসি ওকে!!!!!

একদিন রাতে সিগমাকে কাছে টেনে জিজ্ঞেস করেছিলাম , ” তুমি এভাবে শুরু করলে কেন?? ”
: চেয়েছিলাম তাই!!

নাকটা টেনে দিলাম, ” তাহলে সেদিন মা গিয়েছিল তোমাদের বাসায়!!! ”
বুকে মুখ ঘসল সিগমা, ” হুম ”
দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম, হায়!!

এর কিছুদিন পরেই অনয়কে নিয়ে আসি … ভালোবাসার ভাগিদার হলো আরো একজন!!

সিগমা আর অনয়ের গলায় গলায় ভাব আবার দা কুমড়ো সম্পর্ক। এরকম ব্যাপার হতে পারে কখনোই ভাবি নাই!! অদ্ভুত!!

যখন দেখা যাবে গলায় গলায় ভাব, তখনই বুঝতে হবে দুই দুষ্ট মিলে আমাকে জ্বালানোর উপকরণ খুঁজছে। আর যদি মিল না থাকে দ্রুত এসে আমার কোলে উঠবে, বুঝতে হবে ছোট মিষ্টি ঝগড়ার একটা অংশ হতে হবে আমাকে ….
অনয় জন্মেছেই আমার জন্য আর সিগমা আমাকে বিয়ে করেছে আমাকে জ্বালানোর জন্য!!

মাঝে মাঝেই আমার দখল নিয়ে ওদের বাঁধে। যেমন এখন!! আমার ডান হাতটা ধরে আছে অনয় আর বা হাতের দখলে সিগমা । কিন্তু আর্শ্চযের ব্যাপার দুজনই অবাক করা আচরণ করছে । খুনসুটি তো লেগেই.আছে , সেই সাথে কে কোন হাতের দখল নিবে সে নিয়ে দুষ্টুমী ।

ফেসবুক নামক ভার্চুয়াল জগতটি অনেক ভালো লাগে। তাই অবসর সময়ে ঢুঁ মারি এখানে ….
অধিকাংশ সময় যখন ফেসবুক চালাই , অনয় পাশে থাকবেই । পাশে বসে ঘাড় উকি দিয়ে দেখে মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে আমি কি দেখছি । কিছু পড়ে হাসলে সাথে সাথে বলবে ,
‘ ভাইয়া , কি পললা ? ও ভাইয়া বলো না , কি পলে হাসলা ? ‘.
ছোট মুখে আধো আধো কথা শুনে আরো হাসি বাড়ে আমার।
প্রায় বেশিরভাগ সময়টাতেই কোলে বসে থাকে আমার ,, সিগমা যখন এসে আমার চেয়ারের হাতলে বসে , ছোট ছোট হাত দুটি ভাঁজ করে গম্ভীর মুখে বলে , ‘ ভাবি , ভাইয়া একন অলেক ব্যস্ত । তুমি যাও । ডিসঠাব কলো না ‘
তখন দুজন লেগে যায় আর আমি দেখে মুচকি হাসি ।

যতক্ষণ ভাইটা না ঘুমায় ততক্ষণ আমার কাছে শুয়ে থাকবে… ঘুম ধরলে, তুমি পঁচা বলে চলে যায় সিগমার কাছে .. তখন সিগমা হয় ওর দুনিয়ার সবচেয়ে কাছের মানুষ … এই ছোট্টটুকে প্রচন্ড ভালোবাসে সিগমা,, ওর আচরণ থেকেই বুঝতে পারি ..

হঠাৎ একদিন অনয়ের প্রচন্ড জ্বর আসায় সিগমা কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরে বলছিল,, অনয়ের কিছু হলে ও বাঁচবে না।

কিছু বলার ছিলো না আমার, শুধু সিগমাকে জড়িয়ে ধরে চোখের কোণ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ছিল…

¤ যাই হোক , বর্তমানে বসে আছি এক সবুজ মাঠে । মৃদুমন্দ বাতাস, সুন্দর একটা আবহাওয়া … দুরে নানা বয়সী মানুষ বসে আছে, উপভোগ করছে। হাটতে হাটতে এখানে এসে পড়েছি।

আর আমি সুন্দরভাবে বসে আছি কারণ ছবি তোলা হবে । এক শখের ফটোগ্রাফার এসে বলল ছবি তুলতে চায়, সিগমা অনয় বলছে ছবি তুলবেই … অগত্যা বসতে হলো।

অনয় কোলে বসে ছোট ছোট দাঁত গুলো বের করে দেখাচ্ছে, ছোটদের হাসি । আর পাশে সিগমা কাঁধে মাথা রেখে হাত আঁকড়ে ধরে হাসছে তার সেই ভুবনভুলানো হাসি ।

হঠাত মনটা ভরে গেল । চোখ বন্ধ করে নিজের দন্তগুলোকে বিকশিত করে সামনে তাকালাম , ইইইইইইইইই 😀

ক্লিক…. !!

৪ thoughts on “ছোট্ট ছোট্ট আনন্দ – ২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *