সততা ভুল নাকি বোকামী

বাংলাদেশে রাজনীতিতে অতি ভালো কাজ না করে অতি ভালো কিছু টাকা খাওয়া দালাল টিভি টকশো , চ্যানেল আর প্রত্রিকাতে নিযোগ দেয়াটাই বুদ্ধিমান এবং ভালো দলের উচিৎ । স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করেও আওয়ামীলীগ সুশীল এবং কিছু অন্ধ জনগনের কাছ থেকে শুধু বদনামই পেয়ে এসেছে ।


বাংলাদেশে রাজনীতিতে অতি ভালো কাজ না করে অতি ভালো কিছু টাকা খাওয়া দালাল টিভি টকশো , চ্যানেল আর প্রত্রিকাতে নিযোগ দেয়াটাই বুদ্ধিমান এবং ভালো দলের উচিৎ । স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করেও আওয়ামীলীগ সুশীল এবং কিছু অন্ধ জনগনের কাছ থেকে শুধু বদনামই পেয়ে এসেছে ।

হলমার্ক নিয়ে মানুষের মাঝে একটি ভুল ধারোনা কাজ করে । অনেকেই মনে করেন হলমার্ককে দিয়ে সরকার দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । অথচ বাস্তবতা হল হলমার্কের লোন শুরু হয়েছিল বিএনপির সময়ে, এই সরকার ক্ষমতায় এসে হলমার্কের দুর্নীতি ধরেছে । জনগনের সামনে সত্যটা প্রকাশ করেছে । আর সেটাই ছিল আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় ভুল । আওয়ামীলীগের উচিৎ ছিল হলমার্কের দুর্নীতি টের পাওয়ার পরে তাদের আইনের আওতায় না এনে তাদের সাথে চুক্তিতে গিয়ে হাজার কোটি টাকা কামানো । জনগনের সামনে হলমার্কের দুর্নীতি প্রকাশ করে আওয়ামীলীগ হলমার্কের কাছে খারাফ হয়েছে , খারাফ হয়েছে জনগনের কাছেও । অথচ তারা যদি হলমার্কের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সবকিছু গোপন রাখত তাহলে হলমার্ক এবং জনগন উভয়ের কাছেই ভালো থাকতো ।

টকশোতে কিছু আবালকে প্রায়ই বলতে শুনি আওয়ামীলীগ পদ্মা সেতু খেয়ে ফেলেছে । সেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তদন্ত করল , দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করল , সরকার বিরোধীরা দিন রাত না ঘুমিয়ে তদন্ত করল । অথচ কোন দুর্নীতিই খুঁজে পেলনা কেহই !!! । কোন কারন ছাড়াই ফেরৎ গেল বিশ্ব ব্যাংক । সরকার তারপরেও পদ্মা সেতুর স্বপ্ন ত্যাগ করেনি । দেশের টাকা দিয়েই গড়ার উদ্যেগ গ্রহন করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু । অথচ তার পরেও মিডিয়া গুলো জনগনের সামনে প্রচার করছে আওয়ামীলীগ পদ্মা সেতু খেয়ে ফেলেছে ।

শেয়ার মার্কেটে মানুষ শেয়ার কেনে কেন ? যদি আপনার উত্তর হয় লাভের জন্যে , তাহলে আমি বলব শেয়ার মার্কেটে কোন দুর্নীতিই হয়নাই । যে বছর শেয়ার মার্কেটে ধস নামে সেই বছর দেখলাম আমার অনেক বন্ধুকে খুব ভাব নিয়া শেয়ার মার্কেট থেকে শেয়ার কিনছে । আশেপাশের অনেককেই দেখলাম সারাদিন শুধু শেয়ার নিয়েই বকবক করছে । অথচ এরা খুবই কম লেখাপড়া জানা পাবলিক । শেয়ার মার্কেটে লোভে পড়ে পা রেখেছে দুদিন হল । শেয়ারের নাম শুনেই কেউ যদি বাবার পেনশন কিংবা জমি বিক্রয়ের টাকা এনে শেয়ার কেনে ধরা খেয়ে গলায় দড়ি দেয় তাহলে তার দায় কি সরকারের । ট্রাকের ড্রইভার যদি বিমান চালায় তাহলে বিমান তো পাশের খালে পড়াটাই উচিৎ হবে বলে মনে হয় ।

আমি যদি বলি আমাকে ১০ টা টাকা দেন । আমি সেই ১০ টাকা দিয়ে একটি মুরগীর ডিম কিনব , সেখান থেকে বাচ্ছা হবে , আবার সেই বাচ্ছার বাচ্ছা হবে , এভাবে হতে হতে হতে হতে একদিন বিশাল একটা মুরগীর ফার্ম হবে । আর সেই ফার্মের মুরগীর পাড়া ডিম বিক্রয় করে ১২ বছর পরে আপনাকে ১০ টাকার বদলে ১০ হাজার টাকা দিব । আপনি কি আমাকে ১০ টাকা দিবেন ? নাকি পাগল বলবেন ? নাকি বলবেন আমার গাঁঞ্জা খাওয়ার টাকা নাই তাই আপনার থেকে ধান্ধা করছি ?
তাহলে ডেসটিনিকে বিশ্বাস করেন কেমনে ? সরকার ডেসটিনির উপরের লেভেলের মালিক (যেহেতু নিচু পক্ষও মনে করে তারা মালিক) পক্ষ হঠাৎ করে ডেসটিনির মূল একাউন্ট গুলো থেকে মোটা অংকের টাকা ট্রন্সফার করে নিজেদের শালা শালী বোইনের জামাদের একাউন্টে । যার ফলে সরকারের সন্ধেহের চোখে পড়ে তারা । তার পরের ইতিহাস আপনাদের সবার জানা । ডেসটিনির লাখ লাখ গ্রাহক(দালাল)রা আওয়ামীলীগ কে ভোট না দেবার সম্ভাবনাই বেশি । অথচ আওয়ামীলীগ যদি গোপনে ডেসটিনি থেকে বস্তা বস্তা টাকা খেয়ে চুপ থাকতো তাহলে ধান্ধা হতো আওয়ামীলীগের , ধান্ধা হতো ডেসটিনি উপর লেভেলের মালিকদের,ধাঁন্ধা হত ডেসটিনির নিচু মালিক(দালাল)দের । সবাই খুশি থাকতো , সেই সাথে খুশি থাকতো জনগন ।

দেশে শুধু তিনটা খুন হইছে ,বিশ্বজীৎ এবং সাগর রুনি । আমি অবশ্যই এর খুনিদের ফাঁসি রাজপথে জনতার সামনে চাই । কিন্তু শিবিরের হাতে গত পাঁচ বছরে কোনো ছাত্র খুন হয়নাই ? হরতালের নামে নাশকতায় গত পাঁচ বছরে কোন খুন হয়নাই ? বিগত পাঁচ বছর যারা বিএনপি জামাত শিবিরের হাতে খুন হইছে তারাকি মানুষ ছিল না ? তাদের কি সংসার ছিল না ? তাদের কি ছোট্ট শিশু সন্তান ছিলনা ? তাদের মা কি এখনও বাবা বাবা বলে কাঁদেনা ? তাহলে তাদেরকে কেন মিডিয়ায় দেখানো হয়না ? বারবার সেই সাগর রুনি আর বিশ্বজীৎ কেন আসে ? আমি বলছিনা সাগর রুনি এবং বিশ্বজীতের নিউজ মিডিয়ায় আসা উচিৎ নয় । আমি বলছি থুনতো আরো হয়েছে সেগুলোর খবর কি রাখা দরকার ছিলনা ?

আওয়ামীলীগ যদি হেফাজতের দাবী মেনে নিয়ে দেশের সকল ব্লগার আর লেখকদের থানায় নিয়ে ডিম থেরাপি দিত তাহলে আপনার কাছে ভালো থাকতো । আপনার কন্যা সন্তানকে স্কুলে পড়ার সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে “এক একে এক” “দুই একে দুই” শিখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতো তাহলে আপনার কাছে ভালো থাকতো । বোরখা ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই পাছার মধ্যে যখন হেফাজতের শফীরা বেতের বারি মারত তখন আওয়ামীলীগ আপনার কাছে ভালো হতো । শফীরা যখন রাস্তায় মোড়ে বসে বসে আপনার মেয়েকে দেখে দেথে লালা ঝরায় তখন আপনার কাছে অবশ্যই ভালো লাগে । নাহলে আপনি বিশ্বাস করতেন না সরকার মতিঝিলে হাজার হাজার হত্যা করেছে । বিএনপি অবশ্য তখন হাজার হাজার বললেও এখন সেটা নেমে এসেছে নিষ্ঠুর হামলায় । অধিকারের দেয়া ৬১ জন মৃতের মধ্যে অনেকে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিয়েছে মরার পরে । অনেকে কবর থেকে উঠে এসে বলছে আমিতো মতিঝিলে যাইনি !!! । আবার উদ্ধার হওয়া অনেক গুলো লাশ নাকি হেফাজতের লাশ ছিল । পরে অবশ্য সেখানে নারীর লাশ পাওয়া গেলে হেফাজত মুখ বন্ধ করে ফেলে ।

আওয়ামীলীগ একটা বোকা সরকার । কিছু খাইতেও জানেনা , মিথ্যা কথাও বলতে জানেনা । যারা খাইতে জানেনা এবং মিথ্যা কথা বলতে জানেনা তাদের রাজনীতিতে আসা উচিৎ না । রাজনীতি করতে হলে আগে তারেক কোকোর কাছ থেকে শিখে নিতে হয কি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে হয় । আওয়ামীলীগ তা না শিখে শিখেছে উল্টোটা , কি করে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরৎ আনতে হয় । আরে বোকা তারেক কোকোর পাচার হওয়া টাকা ফেরৎ এনে এটা আবার জনগনের সামনে মিডিয়ার সামনে বলে তারেক কোকোকে আপমান করার দরকারটা ছিল কি ? এটা গোপনে গোপনে ভাগাভাগি করে নিলেইতো সবাই খুশি থাকতো ।

এখনও সময় আছে সত্যটা দেখেন চোখ খুলে । গোলাফীর ঐ রঙিন চসমায় অনেক সাদা কেই কালো দেখা যাবে , আবার অনেক কালোকেই রঙিন মনে হবে । একবার সেই চসমা ছেড়ে নিজের চোখে দেখুন নিজের আপন দেশটিকে । যেই দেশটিকে আপনাদের ভাই,বাপ,দাদারা জীবন দিয়ে স্বাধীন করেছে ।

৪ thoughts on “সততা ভুল নাকি বোকামী

  1. অনেক পয়েন্ট আছে, কিন্তু
    অনেক পয়েন্ট আছে, কিন্তু একপেশে লেখা !!

    শেয়ার মার্কেট প্রসঙ্গে আপনার কথাগুলোর সাথে আমি একমত ! কিন্তু, সফেদ দাঁড়ীওয়ালা লোকটা কিভাবে হঠাৎ করেই শ’ শ’ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ শোধ করে রাতারাতি একজন মিডিয়া ব্যবসায়ী বনে গেলেন, আপনাদেরই চোখের সামনে ? আপনাদেরই সাংসদই কেন বিনা কারণে তার পেছনে লাগলেন ?

    হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে আওয়ামীলীগ পন্থি ব্যাংকারও জড়িত ছিল !

    পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নাই তা অনেক ভাল-ভাবেই প্রমাণ করা যেতো মন্ত্রী আবুলকে মামলায় নিয়ে এসে নির্দোষ প্রমাণের মাধ্যমে ! দেশপ্রেমিক উপাধি দিয়ে হাসির খোরাক আওয়ামীলীগ নিজেই নিজেকে বানিয়েছে, নিজেই নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে !!

    আপনার লেখার মূল স্পিরিটের সাথেও আমি একমত, আওয়ামীলীগ বি,এন,পি আর জামাতের তুলনায় দালাল নির্বাচন আর প্রোপাগান্ডায় মুর্খতার পরিচয় দিয়েছে ।

    তাই বলে আপনি মানুষ হয়ে কুকুরকে কামড়াবেন ??

    —আওয়ামীলীগ যদি দেশের স্বাধীনতা নিয়ে আসার সময়কার নীতি,দেশপ্রেম, আদর্শের লড়াই ইত্যাদি বিসর্জন না দিতো তাহলে বি, এন, পির মতো দল দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসবার কথা ছিল না। —

    1. অনেকাংশে সহমত।
      তবে আমার কাছে

      অনেকাংশে সহমত।
      তবে আমার কাছে মনে হয় আওয়ামী লীগ আগের বারের তুলনায় এবার বেটার (Predecessor BNP এর তুলনায়) সরকার পরিচালনা করেছে। ক্ষমতায় থাকলে মনে হয় “হুদাই” টাইপের কিছু বদনামের ভাগ নিতেই হয়।

  2. সাংসদ গোলাম মাওলা রনি এবং আমি
    সাংসদ গোলাম মাওলা রনি এবং আমি একই বাড়ির বাসিন্দা। তাই তিনি কাদের সাথে বন্ধুত্ব করেন তার কিছুটা হলেও আমি জানি। পরিচয়ের পর থেকে, মানে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার পরথেকে উনার বাসায় কখনও দেশের স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী কোনো নেতা বা কর্মীকে আসতে আমি দেখিনি। অথচ, প্রায়ই উনার মেহমান হিসেবে বাসায় আসতেন বিএনপির পাপিয়া থেকে শুরু করে এমন অনেকেই যারা কিনা রাজাকারদের পক্ষনিয়ে সবসময় টিভি টকশো মাতায়।

    আর সালমান এফ রহমান ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা লাভ করার সুযোগ দেখলেই সেটা ধরে নিবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীরা্ লাভ করার সময় এটা ভাবেনা যে কার ক্ষতি হইলো। সালমান রহমান নিশ্চই কোনো ফেরেস্তা নন। @যাযবর হীরা

Leave a Reply to রাজু রণরাজ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *