একজন কৌতুহুলি হ্যাকার

ছেলেটা সারাদিন বাসায় বসে থাকে। পড়ালেখা নিয়ে তার কোন চিন্তাই নেই। পাস করলো না ফেল করলো এ নিয়ে কোন মাথাব্যথ্যাও নেই তার। শুধু বাবা মায়ের বকুনিতে সময় মত কলেজে গিয়ে পরীহ্মাটা দিয়ে আসে।
ছেলেটার নাম রাফি। কম্পিউটার যেনো তার জীবন। দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৪ঘন্টার বেশী সময় সে ইন্টারনেটে পরে থাকে। বাকি সময় ঘুম, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি করে। তার ইন্টারনেট প্রীতি এতোটাই যে, সে ঘুমের মধ্যে যেসকল স্বপ্ন দেখে তার বিষয়বস্তুও হলো কম্পিউটার বা ইন্টারনেট।
সারাদিন কম্পিউটার চালানোর ফলে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার চোখে -৪.০০ পাওয়ারের চশমা।
বাবা মা তাকে অকর্মা বলে নিত্যদিন বকা দিয়ে থাকে।

ছেলেটা সারাদিন বাসায় বসে থাকে। পড়ালেখা নিয়ে তার কোন চিন্তাই নেই। পাস করলো না ফেল করলো এ নিয়ে কোন মাথাব্যথ্যাও নেই তার। শুধু বাবা মায়ের বকুনিতে সময় মত কলেজে গিয়ে পরীহ্মাটা দিয়ে আসে।
ছেলেটার নাম রাফি। কম্পিউটার যেনো তার জীবন। দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৪ঘন্টার বেশী সময় সে ইন্টারনেটে পরে থাকে। বাকি সময় ঘুম, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি করে। তার ইন্টারনেট প্রীতি এতোটাই যে, সে ঘুমের মধ্যে যেসকল স্বপ্ন দেখে তার বিষয়বস্তুও হলো কম্পিউটার বা ইন্টারনেট।
সারাদিন কম্পিউটার চালানোর ফলে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার চোখে -৪.০০ পাওয়ারের চশমা।
বাবা মা তাকে অকর্মা বলে নিত্যদিন বকা দিয়ে থাকে।
তাদের ভাষ্য, উঠতি বয়সের ছেলে সারাদিন ঘুরবে, আড্ডা দিবে, খেলাধুলা করবে তা না দিনরাত কম্পিউটার।
এটা শুনে রাফি মনে মনে বলে, আমি সারাদিন ঘুরি ইন্টারনেটের জগতে, আমি আড্ডা দেই ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল সাইটে, আমি খেলাধুলা করি অনলাইনে।
কথাগুলো রাফি মনে মনে বলে। কেননা তার বাবা মা যদি এই কথা শুনে তাকে কানমলা দেবে।

যদিও রাফির বাবা মা তাকে অকর্মা বলে থাকে কিন্তু রাফি মোটেও অকর্মা নয়। সে একাধারে হ্যাকার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার,প্রোগ্রামার। তবে হ্যাকিং তার নেশা।
প্রোগামিং শিখেছে সে শুধুমাত্র হ্যাকিঙের সুবিধার জন্য।
তবে সে হ্মতিকারক হ্যাকার নয়। রাফি হ্যাকিং শিখেছে শুধুমাত্র কৌতুহলের জন্য। কিন্তু এই কৌতুহলই এখন তার কাছে নেশা,স্বপ্ন,সাধনা সব।
রাফি মাঝে মাঝে এই হ্যাকিং দিয়ে মানুষের উপকার করে থাকে। তবে কেও জানেনা যে সে হ্যাকার। রাফি নিজেকে আড়াল করে রাখে ছদ্মনাম দিয়ে।
রাফির ছদ্মনাম হচ্ছে PCM । PCM এর ফুল মিনিং হচ্ছে Prodosh Chandra Mitra ।
এই নামটি হচ্ছে জগৎবিখ্যাত চরিত্র ফেলুদার আসল নাম। ফেলুদা হচ্ছে একজন শখের গোয়েন্দা। গোয়েন্দা তার কাছ নেশা,পেশা, ধ্যানজ্ঞান সব। ঠিক রাফির নেশার মতই। ফেলুদা তার খুব প্রিয় তাই তার ছদ্মনাম প্রিয় চরিত্রটির নামেই।

এবার আসি রাফির প্রিয় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনে।
রাফি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান তাই তার কম্পিউটারের কনফিগারেশন যে খুব হাই কোয়ালিটির হবে তা ভাবা বোকামি। রাফির কম্পিউটারের কনফিগারেশন খুব কম।
সাধারনত ইন্টারনেট ইউজাররা মজিলা,অপেরা,ক্রোম,এক্সপ্লোরার ইত্যাদি ব্রাউজার ব্যাবহার করে থাকেন। কিন্তু রাফি ব্যাবহার করে Mantra নামের এক ব্রাউজার। এই ব্রাউজার হ্যাকারদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি। এই ব্রাউজার দিয়ে XSS,Source Code Analysis,LFI,RFI ইত্যাদি হ্যাকিঙয়ের কাজ সমাধা করা যায়।
এমন কী রাফির কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমও হচ্ছে BackTrack যা কিনা হ্যাকারদের জন্য বিশেষ ভাবে প্রস্তুতকৃত। রাফি মুলত Grey Hat Hackers । ও ইচ্ছে হলে মানুষের ভালোও করতে পারে আবার ইচ্ছে হলে মানুষের খারাপও করতে পারে। রাফি ভালো করে সাধারন নিরীহ মানুষদের, রাফি অপকার করে খারাপ হ্যাকারদের।

এবার আসি মূল ঘটনায়।

একদিন রাফি রাতে বিভিন্ন ওয়েব সাইট ঘুরে দেখতেছিলো। তার ইচ্ছে ছিলো যে কোন একটি আন্তর্জাতিক সাইট হ্যাক করবে । তাহলে সে তার নিজের দহ্মতা কতটুকু তা বুঝতে পারবে। রাফি ঘুরতে ঘুরতে চলে গেলো U.S এর এয়ার ফোর্স এর অফিসিয়াল সাইটে। সাইটটি ঘুরে সে বুঝতে পারলো এটি খুব করা সিকিউরিটির মাঝে আছে। এই সাইট হ্যাক করা অসম্ভবের পর্যায়ে পরে। তাছারা এটি হ্যাক করার চেস্টা করাও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ , যেকোন সময় তার নিজের আইপি ট্র্যাক হয়ে যেতে পারে। একবার তাকে ধরে ফেললে যুক্তরাষ্ট্র কি তাকে এতো সহজে ছেরে দিবে???
এতোসব ভাবতে ভাবতে জয় হলো কৌতুহলের। সে সিদ্ধান্ত নিলো এই সাইট সে হ্যাক করবেই।
কাজ শুরু করে দিলো রাফি।
প্রথমেই নিজের লোকেশন লুকানোর ব্যাবস্থা করলো। Ip Changer নামের একটি সফটওয়্যার আছে যা দিয়ে নিজের আইপি চেঞ্জ করা যায়। এই সফটওয়্যারকে রাফি নিজের ইচ্ছেমত একটু এডিট করে নিয়েছিলো। যার ফলে রাফির আইপি প্রতি তিন সেকেন্ড পরপর অটোমেটিক চেঞ্জ হবে। আর সারা পৃথিবীর মধ্যে ১৮০টি দেশের লাখো আইপি সেটা করা আছে এই সফটওয়্যারে। তারপর রাফি গেলো U.S এর এয়ার ফোর্স এর সাইট কোথায় ডোমেইন করা তা দেখতে। কারন যেকোন সাইট হ্যাক করার প্রাথমিক কাজ হচ্ছে এটি।
যে সার্ভারে ওয়েবসাইটটি হোস্টিং করা আছে তার আইপি এড্রেসটি খুঁজে বের করে ফেললো রাফি। এবার টার্গেট আইপির সার্ভারে প্রবেশ করা। কিন্তু এটি এতো সহজ নয়। তার সামনে বাধা হয়ে দাড়ালো ফায়ারওয়াল এবং সার্ভারের নিক এবং তার পাসওয়ার্ড । ফারাওয়াল পার হয়ে এবার আসলো নিক এবং পাসওয়ার্ড পর্ব। এটাও অতি সহজেই পার হয়ে গেলো তার তৈরি একটি পাসওয়ার্ড ডিকশনারি সফটওয়্যার PrutForce দিয়ে। যা তার নিজেরই আবিষ্কৃত। যদিও এর আইডিয়া অনেক আগে থেকেই প্রচলিত হ্যাকিং জগতে। কিন্তু এটাই সে ভুল করে ফেললো। হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড চুরি করে কিংবা পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে সার্ভারে প্রবেশ করে না। তারা এমন সব কমান্ড প্রয়োগ করে যার জন্য পাসওয়ার্ড না দিয়েই সে সেই সার্ভারে প্রবেশ করতে পারে। রাফি অনুপ্রবেশ করার উত্তেজনায় এটা ভুলে যায়। । তারপর ওই আইপির সার্ভারে সংযুক্ত হয়ে গেলো সে।
একটু পরেই পুরো সাইটটিকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো সে। শিডিওল দেখতে লাগলো বিভিন্ন মারণাস্ত্রের । কোন মারণাস্ত্র কখন কোন দেশে হামলা চালাবে তার শিডিওল দেখতে লাগলো একেক করে আর রাগে গা জ্বলতে লাগলো রাফির। আমেরিকার প্রতি ঘৃণায় সে কাপতে লাগলো। ভাবতে লাগলো এরাই নাকি পৃথিবীর সব চেয়ে সভ্য দেশের মানুষ। যারা কিনা বিনা কারনে নিরীহ মানুষ হত্যা করে এরা কখনই সভ্য হতে পারে না।
রাফি ভাবতে লাগলো কি করা যায়। আকাশ পথের যত মারণাস্ত্র আঘাত হানার কথা ছিলো সকল মারণাস্ত্রের কন্ট্রোল সে নিয়ে নিলো এবং এক ধরনের কমান্ড দিয়ে দিলো যার ফলে মারনাস্ত্রগুলো কোন দেশে না গিয়ে সোজা মহাশুন্যের দিকে যেতে থাকে এবং এক সময় অটোমেটিক ধ্বংস হয়ে যায়। কমান্ড দিয়ে সে তার কাজ শেষ করে তৃপ্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। রাফির মনে ভয় যে সে শিওর যে কোন সময় রাফি ধরা পরবে এই অনুপ্রবেশের কারনে। কিন্তু রাফি ভয় পেলেও খুশি যে সে অনেক মানুষ বাচাতে পেরেছে এই অত্যাচারী আমেরিকার হাত থেকে।

পরদিন সকাল। আমেরিকার পেন্টাগন সিটি। U.s এর হেডকোয়ার্টার । মাথার চুল ছিড়তে বাকি এয়ার ফোরসের প্রধান Mark.A.Welsh এর। গতকাল রাতে কে বা কারা তাদের সাইটে ঢুকে পুরো সাইটের নিয়ন্ত্রন নিয়ে সকল আকাশ পথের মারণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে।
তারা ভাবতে লাগলো এ সম্ভবত তাদের বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কোন একদল হ্যাকারের কাজ।
মার্কিন হ্যাকার গোষ্ঠী কাজ শুরু করে দিলো আততায়ীকে খুঁজতে । তারা হ্যাকারের ভুল খুঁজতে লাগলো কিন্তু পেলো না। এতোটাই নিখুত কে সেই হ্যাকার???

রাফির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম থেকে উঠেই সে টিভি দেখতে লাগলো। হঠাত করেই তার চোখ গেলো চ্যানেলের নিচের স্ক্রলে। দেখলো ব্রেকিং নিউজ এয়া, “কে বা কারা আমেরিকার এয়ার সাইটে ঢুকে তাদের অস্ত্রে অটোমেটিক কমান্ড দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে । যার আর্থিক হ্মতির মুল্য প্রায় পঞ্চাশ লহ্ম ডলার। আমেরিকা হ্যাকার এক্সপার্টরা সেই হ্যাকারকে খুঁজছে”।

মুখ থেকে রক্ত সরে গেলো রাফির। প্রচন্ড ভয়ে সময় কাটাতে লাগলো।

আমেরিকার হ্যাকার এক্সপার্টদের প্রধান পল স্টিভেন্স নাম না জানা হ্যাকারকে খুঁজতে গলদকর্ম হয়ে গেলো কিন্তু তার টিকিটিও খুজে পাচ্ছে না। অবশেষে সে সার্ভার সার্চ করতে গিয়ে দেখলো বলিভিয়ার প্রক্সি দিয়ে কে যেনো নতুন নিক নেইম এবং ফেইক পাসওয়ার্ড দিয়ে তাদের সার্ভারে লগ-ইন করেছিলো। আইপি ট্র্যাক করা হলো। বলাই বাহুল্য আইপিটি ছিলো ভুয়া। তারা হ্যাকারকে পেলো না কিন্তু ধারনা করলো যে এই কাজ করেছে সে নিশ্চয়ই আবার ওয়েব সাইট ভিজিট করবে। হ্যাকাররা ফাদ পাতলো অজ্ঞাত হ্যাকারকে ধরতে।
সারা দিন কিছুই হলো না দেখে রাফি সাহস পেয়ে গেলো। ভাবল তার কিছুই হবে না আর। সে আবারও এয়ার ফোরসের সাইট ভিজিট করতে গেলো। কিন্তু আজ সে আইপি চেঞ্জার এক্টিভ করেনি। সাইট ঘুরতে ঘুরতে আবারও সে চলে গেলো ডোমেইনের সার্ভারে। সে যখন গতকাল রাতে দেয়া নিক এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করতে গেলো তখনই সে নিজের অজান্তেই ট্র্যাক হয়ে গেলো আমেরিকার হ্যাকারদের কাছে।
আরও কিছু কাজ করে রাফি বের হয়ে আসলো।
আমেরিকার বাহিনী FBI রওনা হয়ে গেলো দহ্মিন এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশে। যেখানে রয়েছে তাদের পঞ্চাশ লহ্ম মার্কিন ডলার নস্ট করা হ্যাকার।
এতোহ্মনে চাওর হয়ে গেলো সারা বাংলাদেশে কে মার্কিনদের এয়ার ফোরসে ঢুকে হ্মতি করেছে। রাফি অপেহ্মা করতে লাগলো এক ভয়াবহ অবস্থার জন্য।

বিঃদ্রঃ এই টাইপের গল্প জীবনে প্রথম লিখলাম। এর আগে লিখেছি শুধু লুতুপুত টাইপের গল্প। এটাকে সাইন্স ফিকশন গল্প বলা যায় কি না তা আমি জানি না। তবুও লিখলাম। গল্পটি পরে কি কি ভুল ত্রুটি হয়েছে তা যদি আপনারা ধরিয়ে দেন তাহলে হয়তবা ভবিষ্যতে আরও সুন্দর গল্প উপহার দিতে পারবো। আপনাদের উপদেশ খুব সুন্দরভাবেই দেখবো। গল্পটি লিখতে ইন্টারনেটের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছে। নানা তথ্য জানতে হয়েছে গল্পটির জন্য। আপনাদের মুল্যবান মন্তব্যই আমার এই কস্টের সার্থকতা।

২ thoughts on “একজন কৌতুহুলি হ্যাকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *