যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে রেখে গণতন্ত্রের চর্চা হয়না

দেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে বিশেষ আদালতে। অথচ যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত ইসলামের বিচার হবে না, বিষয় দুটো সম্পূর্ন স্ববিরোধী এবং হঠকারী। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, একজন ব্যক্তির বিচার হতে পারে, তার ফাঁসি বা কারাদন্ডও হতে পারে; কিন্তু একটা দলের ক্ষেত্রে তা কিভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাব দেয়া ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানেই। সেই আদি-সংবিধানে জামায়াত ইসলামিকে বাংলাদেশে শুধু নিষিদ্ধই করা হয়নি, সেই সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়ার।


দেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে বিশেষ আদালতে। অথচ যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত ইসলামের বিচার হবে না, বিষয় দুটো সম্পূর্ন স্ববিরোধী এবং হঠকারী। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, একজন ব্যক্তির বিচার হতে পারে, তার ফাঁসি বা কারাদন্ডও হতে পারে; কিন্তু একটা দলের ক্ষেত্রে তা কিভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাব দেয়া ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানেই। সেই আদি-সংবিধানে জামায়াত ইসলামিকে বাংলাদেশে শুধু নিষিদ্ধই করা হয়নি, সেই সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়ার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সেই জামায়াত ইসলামী শুধু বাংলাদেশে রাজনীতির অধিকারই ফিরে পায়নি, সেই সাথে বাংলাদেশকে একটি আফগানিস্তানে পরিনত করার উর্বর ভূমিতে পরিনত করেছে। বিএনপি ‘অগ্রজ জামাতের’ একটি অগ্রবর্তি দল হিসেবেই এই দেশে চক্রান্তের জাল বিস্তার করেছে এবং এখনও করছে। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতায় থেকেও স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলগুলো কি করছে, সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ১৯৯২ সাল থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সহ জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের বিচারের বিষয়টিও যে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটা যে অসম্পূর্ন থেকে যায়, সেটা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে বুঝলেও, স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার যে বুঝতে পারছে না, অবস্থাদৃষ্টে তা আর বলার অবকাশ রাখে না।

দাবির স্বপক্ষে সারাদেশে জনমত তৈরি করতে নির্মূল কমিটি কাজ করেছে বছরের পর বছর এবং যার সুস্পষ্ট ফলাফল আমরা দেখেছি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। সরকার একাত্তরের অপরাধীদের বিচার করার ওয়াদা করেই জনগনের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। সরকার যদি একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের অপরাধের বিচার করে, তাহলে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত ইসলামীর বিচারও করতে হবে। বিষয় দু’টি একে অপরের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। অর্থাৎ একটাকে অস্বীকার করা মানে অন্যটাকেও অস্বীকার করার নামান্তর মাত্র। কোন ব্যক্তিকে যদি একাত্তরের অপরাধের জন্য দন্ড হিসেবে ফাঁসির রায় দেয়া হয়, সেই ব্যক্তির আদর্শের সূতিকাগার যেই দলটি-এবং যেই দলের আদর্শে এবং আদেশে উজ্জীবিত হয়ে গনহত্যার মত জঘন্য অপরাধ সংঘটিত সে করেছে – সেই আদর্শের এবং দলের বিচার কেন হবে না?

ইতিমধ্যে আদালত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। অর্থাৎ জাতীয় বা স্থানীয় কোন নির্বাচনে দলগত ভাবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যেসব কারনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে তাহলো- ১. জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস বলে মনে করে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না। ২. গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সাম্প্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। অথচ কাজে কর্মে ও বিশ্বাসে জামায়াত একটি সাম্প্রদায়িক দল। ৩. নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না। ৪. কোনো দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে- তাদের জন্ম ভারতে, বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে।
শুধুমাত্র এই চারটি কারনকে পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়, জামায়াত সাংবিধানিকভাবে শুধু বাংলাদেশের ভৌগলিক তথা স্বাধীন সার্বভৌমত্বের বিরোধীতাকারীই নয়, স্পষ্টতঃই দেশের বিরুদ্ধে হুমকীস্বরূপ একটি দল। ঐতিহাসিকভাবেও একাত্তরে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে মানবতার বিরুদ্ধে সীমাহীন অপরাধ করেছিল।

বিশ্বের কোন স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এই ধরনের হুমকির সম্মুখিন হতে পারে শুধুমাত্র বর্হিঃশত্রুর দ্বারা। অথচ জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে সম্পূর্ন বাধাহীনভাবে এবং সাংবিধানিক গনতন্ত্রের শতভাগ সুবিধাভোগ করে এই দেশের বিরুদ্ধেই ক্রিয়াশীল একটি দল হিসেবে বহাল তবিয়তে আছে। এই দলটি গত জোট সরকারের অংশীদার হয়ে মন্ত্রীত্বের আসনে বসে বাংলাদেশের পতাকাবাহী গাড়ী দাবড়িয়ে বেরিয়েছে। এই অযৌক্তিকতা কারো নজরে না পড়ার কোন কারন নেই। অথচ সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের বাংলাদেশী শাখা। জামায়াতে ইসলামীর সূচনা হয় উপমহাদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় রাজনীতিক আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ অগাস্ট। তখন এর নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। বর্তমানে এই জামায়াতে ইসলামী শুধু বাংলাদেশে নয়, মিশর ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবান ও আলকায়দার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গী মৌলবাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে। জামায়াত ইসলামী এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের এক ও অভিন্ন দর্শন হচ্ছে, “ধর্মের নামে ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার জন্য যে কোনও ধরনের হত্যা, নির্যাতন ও সন্ত্রাস ইসলামসম্মত।“ মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সন্ত্রাসী-জঙ্গী সংগঠন, যার বলয় মিসর পেরিয়ে সারাবিশ্বেই বিস্তৃত। নামে ভিন্নতা থাকলেও আদর্শগত মিলের কারনে বিশ্বের তাবৎ জঙ্গী-মৌলবাদী দলগুলোর সাথেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান।
কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকা এসেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদির পুত্র হায়দার ফারুক মওদুদি। সংবাদ পত্রে দেখেছি, জামায়াত ইসলামীর ব্যাপারে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছিল। সেই খোদ মওদুদিপুত্র তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, “যে দল বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে সে দলের এ দেশে রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই,সে দলকে রাজনীতি করতে দেয়া উচিত নয়। জারজ সন্তানের যেমন পৈত্রিক সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার থাকতে পারে না তেমনি বাংলাদেশেও জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার থাকতে পারে না। তাঁর জবানীতেই জানা যায় যে, জামায়াতকে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিয়মিত টাকা দেয়। তিনি আরো বলেন, ধর্মের নামে গুন্ডামি, বদমাইশি যেমন জায়েজ, আইএসআই-র কাছ থেকে টাকা নেয়াও জায়েজ বলে মনে করে জামায়াত। অবাক করে দিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলও (বিএনপি) নিয়মিত আইএসআইয়ের কাছ থেকে মাসহারা পেয়ে থাকে এবং বিএনপি বাংলাদেশে যত জঙ্গী-মৌলবাদী দল আছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে।

অবশ্য মওদুদীপুত্রের উল্লেখিত এই কথাগুলোর সত্যতা ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি গত জোট সরকারের আমলে। সেই সময়ে কোন রাখঢাক না রেখেই বিএনপি-জামায়াত সারাদেশ জুড়ে যে ভয়ঙ্কর তান্ডব চালিয়েছিল, এক কথায় তা নজীরবিহীন! বিএনপি এর আগেও ক্ষমতায় এসেছে। মৌলবাদীদের সাথে নিয়ে দেশের বারোটা তারা আগেও বাজিয়েছে। কিন্তু জামায়াতকে নিয়ে একসাথে যখন ক্ষমতার মসনদে বসেছে, তখন দেখেছি- এই দেশ এবং দেশের মানুষদের তারা কতটা ঘৃণা করে। এই দেশটাকে তারা কোনদিনই যে নিজের দেশ বলে ভাবেনি, তার সুস্পষ্ট নজির তারা রেখে গেছে তাদের প্রতিটা পদক্ষেপেই। একাত্তরে পরাজয়ের প্রতিশোধের সেই তো ছিল তাদের মোক্ষম সময়। নতুন প্রজন্ম একাত্তরে এই হায়েনাদের বর্বরতা দেখেনি। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে যে ভয়ংকর তান্ডব এরা চালিয়েছে, যে অত্যাচার, নিপীড়ন, খুন, ধর্ষন তাঁরা করেছে, সংখ্যালঘুদের উপর যে অমানবিক নিধনযজ্ঞ তারা চালিয়েছে, এক কথায় তা একাত্তরের পূনারাবৃত্তিরই শামিল এবং প্রজন্ম তা দেখেছে। পরবর্তিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রজন্মের ঘৃণার গভীরতা দেখেছি প্রজন্ম চত্বর শাহবাগে।

গত জোট সরকারের আমলে সরকারের প্রত্যক্ষ্য সহযোগীতায়, বিশেষ করে জামায়াতের প্রত্যক্ষ্য মদদে একশর অধিক জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠন এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক ইসলামিক এনজিওর আবির্ভাব ঘটেছিল এদেশে। এদের তৎপরতা ছিল মূলত কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে। পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের জবানবন্দিতে জানা যায় জামায়াতের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা। কিভাবে তারা জামায়াতের টাকায় এবং অস্ত্রে বলিয়ান হয়ে দেশব্যাপী জঙ্গী তৎপরতা চালিয়েছিল এবং বার্মার আরকানের সাথে কক্সবাজার সহ পার্বত্য চট্রগ্রামের একটা অংশকে নিয়ে তারা একটা আলাদা ইসলামী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ২০১০ সালে সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ নামক প্রামাণ্যচিত্রে জামায়াতের সাথে বার্মা-বাংলাদেশের সীমান্তে ‘আরএসও’সহ রোহিঙ্গাদের ১৭টি জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠনের জঙ্গী তৎপরতার বিস্তারিত বিবরন তথ্যসহ তিনি তুলে ধরেছিলেন। এই প্রামাণ্যচিত্রে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ্য মদদে জামায়াতের সহযোগীতায় একটি আলাদা মুসলিম রাজ্য গঠনের নীল নকশার গোপণ চিত্রটি তিনি প্রথম জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন।

জোট সরকারের আমলে আমরা দেখেছি বাংলা ভাইয়ের আবির্ভাব। কি বিভৎস ভাবে গাছের সাথে ঝুলিয়ে মানুষ মেরেছে, জীবন্ত মানুষের চোখ তুলে ফেলেছে তারা। কিভাবে চোরাগুপ্তা বোমা হামলায় বিচারপতি, সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ আর সাধারন মানুষ মেরেছে। একই দেশে যেন দুই ধরনের শাসন তখন চলছিল। আজ্ঞাবহে বাধ্য করা প্রশাসনকে তখন এইসব বাংলা ভাইদের সহযোগীতা করতে দেখা গেছে। দেশে যেন এক অঘোষিত নীরব নিধনযজ্ঞ চলছিল তখন। আমরা দেখেছি ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টে কিভাবে বর্বরচিত ভাবে আর্জেস গ্রেনেড ছুড়ে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছি। সেই হামলায় আওয়ামী লীগের প্রায় ৬০ জনের মত নেতা-কর্মী মারা গিয়েছিল। পরবর্তিতে বিভিন্ন তদন্তের বেরিয়ে এসেছিল সেই গনহত্যাকান্ডে বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা। শত শত হিন্দুর বাড়িঘর, মন্দিরে আগুন জ্বালিয়ে, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষন করেছিল তখন জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। ১০ ট্রাক বেআইনী অস্ত্র ধরা পড়েছিল তখন, যার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন তদানিন্তন জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী জামায়াত ইসলামির আমির মতিউর রহমান নিজামি। রমনার বটমূলে বোমা আক্রমনের কথাও কি কেউ ভুলেছে! একযোগে ৬৪টি জেলায় একই সময়ে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে জামায়াতপুষ্ট জঙ্গীরা তো রীতিমত বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছিল। এরকম হাজার হাজার ঘটনার উদাহারন দেয়া যাবে। লিখে শেষ করা যাবে না জামায়াত ইসলামের বাঙ্গালী নিধনের কথা। কোন সভ্য দেশে এগুলো কল্পনাও করা যাবে না।

১৯৭৫ পরবর্তি বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামি যা কিছু করেছে, তার একটিও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় করেনি। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল যে প্রত্যয় নিয়ে, জামায়াত ইসলামী হচ্ছে ঠিক তার বিপরীতমুখি একটি অশুভ শক্তি। এই অশুভ শক্তি পেট্রো-ডলার, আর আইএসআইয়ের মদদে পরিপূষ্ট হয়ে বাংলাদেশকে একাত্তরের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে তৎপর থেকেছে সর্বোক্ষন। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধী-মৌলবাদি-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বেষ্টিত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গী মৌলবাদের যে ভয়াবহ উত্থান ঘটেছিল, শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সেই জঙ্গীদমনে যথেষ্ঠ সফল হলেও জঙ্গীদের গডফাদার জামায়াত ইসলামী এবং তাদের অর্থযোগানদাতারা ধরাছোয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। জামায়াতকে রেখে বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গী মৌলবাদ উৎখাত অকল্পনীয় এবং হাস্যকর। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সহ সরকারের একটা অংশ জামাতের নিষিদ্ধের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও, সরকারী দলগুলোর ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াতের পেইড এজেন্টরা যেন তাদের চেয়েও শক্তিশালি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিটি রায়েই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দল হিসেবে জামায়াতের প্রত্যক্ষ্য সংশ্লিষ্টতার কথা ট্রাইব্যুনাল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। অথচ কোন এক অদৃশ্য কারনে সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে বরাবরের মতই চুপ থাকা হচ্ছে।

একাত্তরের গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার যদি শুধু কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে জামায়াত, রাজাকার, আলবদর এর বিচার করা না হয়, তাহলে এই বিচারও প্রহসনে পরিণত হবে। একাত্তরে গোলাম আজম-কাদের মোল্লারা যে অপরাধ করেছিলেন, তা নিশ্চয়ই শুধু ব্যক্তির ইচ্ছা বা অনিচ্ছার বিষয় ছিল না। এগুলো ছিল একটা দেশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট একটি দলের আদর্শিক এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা। গণহত্যা ছিল মূলত একটা ভয়াবহ ‘এথনিক ক্লিঞ্জিং’, যার উদ্দেশ্যই ছিল একটা জাতিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। ইসলামের নামে ফ্যাসিষ্ট মওদুদীবাদের প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জন্ম দিয়েছে জঙ্গী মৌলবাদের, হেফাজত আর খেলাফত আন্দোলনের মত সন্ত্রাসী সংগঠনের। জঙ্গীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে ধর্মের তকমায় এটে দেয়া হচ্ছে বৈধতা।

জামায়াতের বিচার হতে হবে একাত্তররের মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার জন্য। জঙ্গী সম্পৃক্ততা তথা সারাদেশ ব্যাপী ত্রাস-সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অপরাধে। জামায়াত ইসলামীকে বিচার করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য, মানুষ ভর্তি বাস-ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার জন্য, সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস করার জন্য।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা ছিল; জামায়াত নিষিদ্ধের কথা ছিল না। কারণ একই কথা দুইবার লেখা বা বলার দরকার হয় না বলে। মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির বিচার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অপরাধের প্ররোচককেও বিচার করতে হয়। সুষ্ট ও ন্যায়বিচারের খাতিরে খুনির সাথে খুনের হুকুমের আসামীর বিচারও করতে হয়। এটাই আইনের সিদ্ধান্ত। অন্যথায়, অপরিপূর্ন বিচারের সাথে আইনের শাসনেরও মারাত্নক বরখেলাপ হয়।

বাংলাদেশে আইনের শাসণ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে জামায়াত নিষিদ্ধ ছাড়া গত্যান্তর নাই। এর বরখেলাপ হলে শুধু স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকেই নয়, সারা বাংলাদেশের জণগণকেই এর মাসুল দিতে হবে। জামায়াতকে রেখে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। এর ব্যত্যয় ঘটলে আগামী নির্বাচনে এর সুস্পষ্ট নেতিবাচক ছাপ পড়তে বাধ্য।

৬ thoughts on “যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে রেখে গণতন্ত্রের চর্চা হয়না

  1. আপনার কষ্টসাধ্য লেখার জন্য
    আপনার কষ্টসাধ্য লেখার জন্য ধন্যবাদ !
    একটা কথা আমি প্রায়ই বলি, ” তোমারে যে বধিবে গো কুলে বাড়িছে সে … ” । নগর পুড়লে যেমন দেবালয় এড়ায় না তেমনি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে নার্সিং করলে সেটি একদিন মহা দৈত্য হয়ে সভ্যতা ও শুভ্রতাকে গ্রাস করে , ধংস করে ।
    অবিলম্বে জামাত – শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হোক । ধর্মীয় রাজনীতি বাতিল কর । মৌলবাদের অর্থনীতি বাজেয়াপ্ত কর ।

  2. ধন্যবাদ সাব্বির ভাই। অনেক
    ধন্যবাদ সাব্বির ভাই। অনেক দেরীতে লেখাটা চোখে পড়লো। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. জামাতে সোনার চর্চা হোক আর
    জামাতে সোনার চর্চা হোক আর বালের চর্চা হোক যদি গণতন্ত্রের চর্চাও হয় কী যায় আসে তাতে?? জামাত যুদ্ধাপরাধী দল that’s why it should be punished and banned on this very land of Bangladesh.END OF STORY. :ক্ষেপছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *