শিরোনামহীন -১

১.
পকেটে থাকা শেষ সম্বল পাঁচ টাকার খুচরো নোট টা দিয়ে একটি কলম কিনলো কবি। আজকে সে কবিতা লিখবে না। সে ঠিক করেছে আজকে গল্প লিখবে, তাঁর জীবনের শেষ গল্প। ফুলার রোড ধরে এলোমেলোভাবে হাঁটছে আর মাথায় গল্পের প্লট আঁকার চেষ্টা করছে। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে রাস্তার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সোডিয়াম বাতির ল্যাম্পপোস্টগুলো। এলোমেলোভাবে হাটতে গিয়ে সে ডাস্টবিনের পাশে খাবার খুঁজতে থাকা এক কুকুরের গায়ে ভুলবশত পাড়া দিয়েছে। কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাককে পাশ কাটিয়ে সে আবার হাঁটতে শুরু করলো। আজকে ডেক্সপোটা বোধ হয় একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছিলো।হঠাৎ হঠাৎ সে আঁতকে উঠে চারপাশে এক ভয়ের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে।



১.
পকেটে থাকা শেষ সম্বল পাঁচ টাকার খুচরো নোট টা দিয়ে একটি কলম কিনলো কবি। আজকে সে কবিতা লিখবে না। সে ঠিক করেছে আজকে গল্প লিখবে, তাঁর জীবনের শেষ গল্প। ফুলার রোড ধরে এলোমেলোভাবে হাঁটছে আর মাথায় গল্পের প্লট আঁকার চেষ্টা করছে। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে রাস্তার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সোডিয়াম বাতির ল্যাম্পপোস্টগুলো। এলোমেলোভাবে হাটতে গিয়ে সে ডাস্টবিনের পাশে খাবার খুঁজতে থাকা এক কুকুরের গায়ে ভুলবশত পাড়া দিয়েছে। কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাককে পাশ কাটিয়ে সে আবার হাঁটতে শুরু করলো। আজকে ডেক্সপোটা বোধ হয় একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছিলো।হঠাৎ হঠাৎ সে আঁতকে উঠে চারপাশে এক ভয়ের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। তাঁর মনে হচ্ছে কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে।কোনভাবে হলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে সে। চিরপরিচিত অগোছালো রুমটাই তার কাছে স্বর্গ। পাঁচ বছর আগে তার জন্মদিনে মিথিলার দেয়া ডায়রিটা সে খুঁজে বের করলো। মিথিলা তার ক্লাসমেট ছিলো। এখন দেশের বাইরে থাকে। বিছানায় শুয়ে সে লিখার আয়োজন করলো। কিন্তু নেশাটা আজ ভীষন ধরেছে তাকে। দু লাইন লিখতেই সে ঘুমিয়ে গেল। সাথে সাথে হারিয়ে গেল কল্পনার রাজ্যে ।

সেলফোনটাতে রিং বেজেই চলেছে-আয়রন মেইডেনের “ড্যান্স অফ ডেথ”। তিনবার বাজার পর কলটা রিসিভ করলো দীপ। অনন্যা ফোন করেছে।
“হ্যালো” ঘুমচোখে বললো দীপ।
“তাড়াতাড়ি টিএসসি আসো”
“কেন?”
“জরুরি কথা আছে”
“এখনই আসতে হবে??”
“হুম এখনই!! আমি অপেক্ষা করছি”
“আচ্ছা আসছি” বলে ফোন রেখে দিলো।

রাতে যে পোশাক পরে ঘুমিয়েছিলো সে পোশাকেই বেরিয়ে পড়লো দীপ। রাস্তার পাশের দোকান থেকে একটা বেনসন কিনে ধরালো।২০ মিনিট পরে ছবির হাটে পৌছালো সে। যে জায়গাটাতে অনন্যা দাঁড়িয়ে আছে, সেই জায়গাটাতেই আজ থেকে ৩ বছর আগে অনন্যার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো তার। কিন্তু আজ অনন্যাকে কেমন জানি একটু বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। একটা কোলন ডি হাসি দিয়ে অনন্যার সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলো সে।
তারপর কাছে গিয়ে বললো,”কি হলো!! তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন??”
“খুব একটা ভালো নেই। আমার সময় খুব কম। আসল কথায় আসি।”
“বলে ফেলো তাহলে!!’
“আমাদের সম্পর্ক বোধ হয় এখানেই শেষ!! আমরা কখনোই এক হতে পারবো না। বাবা, আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি আমার মা-বাবাকে কোনভাবেই কষ্ট দিতে পারবো না। তুমি অন্য কাউকে খুঁজে নিও। আমাকে ক্ষমা করে দিও, দীপ!!” এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলে দীপের হাত ধরে কান্না করলো অনন্যা।

দীপ একটু হাসলো। তারপর নিঃশব্দে নিজের হাত দুটো ছাড়িয়ে নিলো অনন্যার কাছ থেকে। যে পথে এসেছিলো সে পথেই হাটা শুরু করলো-কোন দিকে না তাকিয়ে!!
দীপের এ ব্যবহারের সাথে অনন্যা পরিচিত। যখন কোন কিছুতে সে ডিস্টার্ব ফিল করে তখন সে আপন মনে হাঁটতে শুরু করে। অনন্যাও কিছু না বলে চলে গেলো।

২.
সাইন্সল্যাব ওভারব্রিজ না কমলাপুর রেলস্টেশন!!! দীপ বুঝতে পারছিলো না কোথায় যাবে! দুটোই তার খুব প্রিয় জায়গা! তার সুখ-দুঃখের নীরব সাক্ষী এ জায়গা দুটি। কড়া রোদের নিচে বেশিক্ষণ দাঁড়ানোও যাচ্ছে না। শহীদ মিনারের কাছাকাছি এসে একটা রিক্সা ভাড়া করলো সে।
এদিকে সেলফোনে অবিরাম রিং বেজেই চলেছে। কিন্তু ওদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তার। “ড্যান্স অফ ডেথ” গানটা ওর এত প্রিয় যে কেউ ফোন করলে সে গানটা শোনার জন্য একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে কল রিসিভ করে। কিন্তু আজ সে কারো ফোন ধরবে না। দশ-বারো বার বাজার পর সে সেলফোনটা সুইচ অফ করার সিদ্ধান্ত নিল। অনন্যা ফোন করেছিলো। ভালোই হয়েছে ফোন ধরেনি। ফোন ধরলে অনন্যা কি বলবে তা সে আগেই অনুমান করে নিয়েছিলো। পথের মাঝে রিক্সাটা দাঁড় করিয়ে আরেকটা বেনসন কিনে ধরালো দীপ। সেদিন কি ছিলো কে জানে!! রাস্তা ফাঁকা থাকায় পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই গন্তব্যে পৌছালো সে।

৩.
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। রেলস্টেশন নিয়ে দীপের একটা নিজস্ব অভিমত আছে। ওর ভাষায় “গতিময় নাগরিক জীবনের এক চমৎকার এক্সিভিশন ও কম্পিটিশন” । সবার মাঝেই এক ধরণের তাড়া। যাত্রীদের যেমন তাড়া আছে তেমনি আছে রেলস্টেশনে থাকা কুলিদেরও। একজন যাত্রী দেখামাত্রই ছুটে যাচ্ছে তার কাছে থাকা মালপত্র বহন করার জন্য। প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে তার সাথে থাকা অন্যান্য কুলিদের সাথেও। মানুষের ভিড় ঠেলে ১০টাকা দিয়ে একটা প্ল্যাটফর্ম টিকেট কিনে স্টেশনে ঢুকে পড়লো দীপ।
১নং প্ল্যাটফর্মের একদম মাঝখানে একা বসে আছে সে। বসে বসে মানুষ দেখছে। আর ভাবছে এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্ল্যাটফর্ম হল সে সব মানুষদের শহর ছাড়ার শেষ মুহূর্তের অনুভূতি ধরে রাখার স্থির ক্যানভাস।

দীপ খেয়াল করলো অনেকক্ষণ ধরে একটা ছোট মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

….(চলবে)

৩ thoughts on “শিরোনামহীন -১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *