হেমন্তের আকাশ

(মুভি রিভিউ ক্যামনে লিখতে হয় আমি জানিনা, জাস্ট আমার অনুভূতিটা লিখছি)

ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে মুভি দেখে সময় কাটাচ্ছি। টানা তিনদিনের হরতালে বেশ জমিয়ে মুভিগুলো দেখছি। ক’দিন আগে আমার বন্ধু বাপ্পির কাছে কিছু মুভি নিলাম। প্রায় দশটার মত। এর মধ্যে একটা ছিল October Sky


(মুভি রিভিউ ক্যামনে লিখতে হয় আমি জানিনা, জাস্ট আমার অনুভূতিটা লিখছি)

ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে মুভি দেখে সময় কাটাচ্ছি। টানা তিনদিনের হরতালে বেশ জমিয়ে মুভিগুলো দেখছি। ক’দিন আগে আমার বন্ধু বাপ্পির কাছে কিছু মুভি নিলাম। প্রায় দশটার মত। এর মধ্যে একটা ছিল October Sky

সেদিন সজল ভাইয়াকে বললাম মুভিটার কথা, ভাইয়া বললেন,”নামাইতেসি…”… দশ মিনিটের মাথায় মুভি নামানো শেষ। ভাইয়া দেখতে শুরু করলেন ঐ রাতেই। মুভি দেখে ভাইয়া এটার নাম দিলেন “হেমন্তের আকাশ”… কি সুন্দর কি সুন্দর…

সকালে উঠে ক্ষুদে বার্তা পেলাম ভাইয়ার কাছ থেকে-
“দেখলাম । ভালো লেগেছে । মুভিটা ১৯৫৭ এর অক্টোবরের স্পুটনিক-১ এর ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে বিজ্ঞান মনোভাব প্রবল ৪ জন যুবকের কাহিনী । ভালো লাগবে তোমার ।”

আজ সকালে উঠে মনে হল ফ্রেশ মুডে মুভিটা দেখব। যেই কথা সেই কাজ। দেখা শুরু করলাম(একটা পোস্টে জানিয়েছিলাম যে মুভিটা দেখতে বসেছি…)। মুভিটা দেখা শেষ করলাম, এটা নিয়ে লেখার লোভ সামলাতে পারছি না।

ভাইয়াই বলেছেন, ১৯৫৭ এর অক্টোবরের স্পুটনিক-১ এর উৎক্ষেপণ এর ঘটনাকে ঘিরে নির্মিত এই মুভিটি। আইএমডিবি রেটিং-এ এটি ৭.৭ পেয়েছে। পরিচালক তার নৈপুণ্যের সবটুকুই ঢেলে দিয়ে পরিচালনা করেছেন নিঃসন্দেহ। এটি নাসার ইঞ্জিনিয়ার ‘হোমার হিকাম’ সাহেবের আত্মজীবনী ‘Rocket Boys’-এর অবলম্বনে নির্মিত। মুভিটি ১৯৯৯ সালে নির্মাণ করা হয়।

প্রতিটি চরিত্রই যে এতো চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। Jake Gyllenhaal এখানে ‘হোমার হিকাম’ নামের এক কিশোরের রকেট বানানোর স্বপ্নে বিভোর একটি চরিত্রকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন দৃশ্যে হোমারের কথোপকথন তার দৃঢ় সংকল্পকে স্পষ্ট করে তোলে। বাইকভস্কির কাছে সে যখন ওয়েল্ডিং শিখতে চাইল, উনি বললেন, “you don’t give up… do you?”
হোমার জবাব দিল, “I can’t”…

মিস র‍্যালির মত একজন শিক্ষিকার খুব প্রয়োজন অনুভব করি প্রতিটি স্কুলে স্কুলে… রকেট বানানোর কাজগুলোতে উৎসাহ দিলে মিস র‍্যালিকে স্কুলের হেডমাস্টার জন টার্নার এটাকে ‘false hope’ বলেন। এবং বেশ ভালমত এটাকে প্রত্যাখ্যান করেন মিস র‍্যালি।

চার যুবকের একজন কোয়েন্টেনের জরাজীর্ণ বাসা হোমার দেখে ফেললে, লজ্জায় কোয়েন্টেন তাকে অনুরোধ করে কাউকে না জানানোর জন্য… হোমার তাকে বলে,”Quentin, I wouldn’t care if you lived in the Governor’s mansion…”

বাবার প্রচ্ছন্ন ভালোবাসার চমৎকার এক চমৎকার উদাহরণ জন হিকাম(হোমারের বাবা)… শেষ দৃশ্যে হোমারের কাঁধে হাত রেখে তিনি মুভি জুড়ে সমস্ত সময়টার দর্শকের অব্যক্ত ক্রোধের অবসান ঘটান। বাবারা তো এমনই হন…

এই মুভিটিকে দেখার মত একটি ইন্সপিরেশনাল মুভি বলা যেতে পারে… বারবার হেরে গিয়েও জেতার আকাঙ্খা যে কি জিনিস তা এই মুভি কানে কানে বলে দিবে। মুভিটির মিউজিক অতি চমৎকার, মার্ক ইশাম সাহেবের করা শ্রুতিমধুর ধ্বনিগুলো অজানা আশা জাগায় দর্শকের মনে…

আমার সেজো মামা বলতেন, “স্বপ্ন দেখা আর লালন করা ভিন্ন জিনিস”… এই মুভিতে আমি হোমারকে স্বপ্ন দেখতে দেখিনি, স্বপ্ন লালন করতে দেখেছি… আশা করি, এই মুভি বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের তাদের স্বপ্ন লালন করতে সাহায্য করবে… যারা দেখেননি দেখতে পারেন…

#উৎসর্গঃ আমার বিজ্ঞানীবন্ধু বাপ্পি-কে উৎসর্গ করলাম… দোস্ত, তুই একটা ‘হোমার’…

৪ thoughts on “হেমন্তের আকাশ

  1. “স্বপ্ন দেখা আর লালন করা
    “স্বপ্ন দেখা আর লালন করা ভিন্ন জিনিস”.
    — চমৎকার কথা !!! ফিলমটি দেখা হয়নি । দেখার ইচ্ছে রাখি । আপনার অনুভূতির কথা ভালো করেই প্রকাশ করতে পেরেছেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *