আমি জয় বাংলার লোক

আমাদের প্রজন্মের (যারা এবার প্রথম বারের মত ভোট দিবে) একটা বড় সমস্যা হল আমাদের সামনে তুলনা করার সুযোগ নেই।যারা বিএনপির ৫ বছর আর বর্তমান আওয়ামি লীগের ৫ বছর দেখেছেন তাদের পক্ষে দুটোর মধ্যে তুলনা করা সহজ হবে যেটা আমাদের জন্য কঠিন।আমি আমার বয়সি ভিন্নমতের যাদের সাথেই রাজনৈতিক আলাপ করতে গিয়েছি তারাই আওয়ামি লীগের নানা ‘অপকীর্তি’র কথা বলে আমাকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেছে।যখনই জিজ্ঞাসা করেছি এ ব্যাপারে বিএনপি সরকার কি করেছিল,তাদের উত্তর হয়-আমি ঠিক জানিনা।


আমাদের প্রজন্মের (যারা এবার প্রথম বারের মত ভোট দিবে) একটা বড় সমস্যা হল আমাদের সামনে তুলনা করার সুযোগ নেই।যারা বিএনপির ৫ বছর আর বর্তমান আওয়ামি লীগের ৫ বছর দেখেছেন তাদের পক্ষে দুটোর মধ্যে তুলনা করা সহজ হবে যেটা আমাদের জন্য কঠিন।আমি আমার বয়সি ভিন্নমতের যাদের সাথেই রাজনৈতিক আলাপ করতে গিয়েছি তারাই আওয়ামি লীগের নানা ‘অপকীর্তি’র কথা বলে আমাকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেছে।যখনই জিজ্ঞাসা করেছি এ ব্যাপারে বিএনপি সরকার কি করেছিল,তাদের উত্তর হয়-আমি ঠিক জানিনা।

আসলে অজ্ঞতাই সকল ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়।তাই আমাদের সত্য জানা ও বোঝা দরকার।তুলনাটাও হওয়া উচিত তথ্য ভিত্তিক এবং সেই সাথে ভাল ভাবে জানা উচিত বর্তমান উন্নয়ন মূলক কাজ গুলোও।আমি নিজ চেষ্টায় যতটুকু জেনেছি সেটাই সবার সাথে ভাগ করে নিতে এই লেখা।

লেখাটি শুরু করব আমারি একটি পুরানো ব্লগের লেখা দিয়ে।গত ১৯ আগস্ট,২০১৩ বিএনপি নেতৃ খালেদা জিয়া বেচ্ছাসেবক দলের এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতা,নির্বাচন নিয়ে তাঁর ভাবনা এবং সরকার গঠন করতে পারলে তিনি কি কি করবেন সেটা আলোচনা করেছেন।আমি ঐ দিনই ওনার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে একটা লেখা প্রকাশ করেছিলাম একটি ব্লগে।সেটার সাথে আরো কিছু নতুন তথ্য যোগ করে শুরু করছি আজকের এই অনুসন্ধান।আসুন তবে শুরু করা যাক।

১,আমি যখন শোনা শুরু করেছি তখন তিনি নারী অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন।তাঁর বক্তব্য ছিল অনেক টা এরকম যে তারাই প্রথম বলেছিলেন যে নারীরা হল মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।এবং নারী অধিকারে তারা বিশ্বাস করেন বলে প্রথম নারীকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন,শিক্ষার অধিকার দিয়েছেন। ভাল কথা।আমার দ্বিমত থাকার কোন কারণ নেই। কিন্তু বেগম জিয়ার কাছে আমার প্রশ্ন-তাহলে আপনি ও আপনার দল কেন তেঁতুল শফি কে সমর্থন করেছেন?কেন নারীদের নিয়ে তার অবমাননাকর বক্তব্যের কোন প্রতিবাদ করেননি?আপনার দলের সাংসদ কেন তার পক্ষে কথা বলেছে?

২,তিনি তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের কথা বলে গর্ব করলেন যে জিয়া এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছে।এর আগের একদলীয় বাকশালের সমালোচনা করলেন। এই বাকশালের নামে সবাইকে ধোকা দিয়েই যাওয়া হচ্ছে অথচ আওয়ামি লীগের নেতাদের এই ভুল ভাঙানোর কোন প্রচেষ্টা দেখছি না।যাই হোক,বাকশাল নিয়ে যাদের চুলকানি আছে তারা এই লেখাটি পড়তে পারেন। https://www.facebook.com/rafee.shams/posts/507698749300470 আর জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে রাজাকার দের রাজনীতিতে পুণর্বহাল করল।জামাত-শিবির কে রাজনীতিতে আনার জন্য তিনি গর্ব করতে পারেন কি?

৩,এরপরে বেগম জিয়া বললেন যে এই সরকারের আমলে কোন রাস্তাঘাট হয়নি,যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। খুব ভাল কথা।আসলেই কি তাই।একটু দেখে নেই-

হাতির ঝিল

কুড়িল ফ্লাইওভার


যাত্রাবাড়ি ফ্লাই ওভার


চট্টগ্রামের প্রথম ফ্লাইওভার

https://fbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn2/1375720_532744536795891_752876416_n.jpg
ছবি কথা বলে

৪,এরপর খালেদা জিয়া তুললেন বিদ্যুতের কথা।তিনি কুইক রেন্টাল পদ্ধতির সমালোচনা করলেন এবং এতে যে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে সেটা উল্লেখ করলেন। কথা সত্যি।কুইক রেন্টাল পদ্ধতিতে সরকার কে বেশি দামে বিদ্যুৎ উদপাদন করে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে যার ফলে সরকার কে অর্থাৎ জনগণ কে সেই বোঝা বহন করতে হচ্ছে। এই প্রশ্ন করা হয়েছিল ৭১ টেলিভিশনে সজিব ওয়েজেদ জয় কে।তিনি উত্তর দিয়েছিলেন,দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল তাতে তাৎক্ষনিক ভাবে বিদ্যুতের উদপাদন না বাড়লে কল-কারখানা বন্ধ হয়ে শিল্প ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হত। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কুইক রেন্টাল পদ্ধতির তীব্র বিরোধী।বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত অবিলম্বে।তবে আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে,যেমন-

তবে বেগম জিয়ার কাছে আমার প্রশ্ন-আপনারা এর আগে যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বিদ্যুৎ উদপাদন করেন নি কেন?এখন যে বিকল্পের কথা ভাবছেন তখন তা কই ছিল?এবং আপনার ছেলে বিদ্যুত না দিয়ে সারা দেশে শুধু খাম্বা বসিয়ে গেছে কেন?

আপনি জানেন কি? শেখ হাসিনার সরকার ৩৮৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৫৪ টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করেছে। আর ২৮ লক্ষ…

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Thursday, October 10, 2013

৫,তিনি বললেন যে এখন যুবকেরা চাকরি পায়না,ব্যবসা করতে পারেনা। সরকারি তথ্যে বর্তমানে বেকারত্বের হার ২ দশমিক ১ শতাংশ।লেবার ফোর্স সার্ভে থেকে তথ্য অনুযায়ী ২০০৬ সালে এই হার ৪ দশমিক ৩ ছিল। এ ব্যাপারে কোন দ্বি-মত নেই যে দিন দিন বেকার বাড়ছে।আমিও বেগম জিয়ার সাথে একমত(উপরের হার জানার পর ও)।

তবে উনি কিভাবে এই বেকারত্ব কমাবেন তা বক্তব্যে বললে ভাল হত।

আপনি জানেন কি? শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধা সরকারী কর্মচারীদের চাকুরীর বয়স ৩ বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়েছে। এবং অন্যন্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বয়স ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Thursday, October 10, 2013

আপনি জানেন কি? শেখ হাসিনার সরকার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬০ বছর বৃদ্ধি করেছে। শেখ হাসিনার সরকার শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরী ৩৮৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৬৯০ টাকা করেছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Thursday, October 10, 2013

৬,খালেদা জিয়ার দাবি বর্তমান সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যে দাবি করে তা মিথ্যা। আমি ব্যাপারটা ভাল ভাবে জানিনা তবে খোজ নিয়ে যতটুকু জেনেছি নিউইয়র্কে নেদারল্যান্ড এর একটি প্রতিনিধি দলের কাছে খাদ্যমন্ত্রী কে বিষয় টি প্রমান করতে হয়েছিল এবং সেখানে আমরা প্রশংসিত হয়েছিলাম।আর সরকার যখন এটা ঘোষনা দেয় তখন এটা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করেছিল বলে মনে পড়েনা।

আপনি জানেন কি? শেখ হাসিনার সরকার গত ৪ বছরে সার, বিদ্যুৎ ও ডিজেল খাতে ২২ হাজার ৯২০ কোটি টাকা কৃষককে ভর্তুকি প্রদান…

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Thursday, October 10, 2013

গত দুই বছর বিদেশ থেকে কোন চাল আমদানি করতে হয়নি। বরং এবছর সরকার ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল রপ্তানির লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে।

আপনি জানেন কি?গত দুই বছর বিদেশ থেকে কোন চাল আমদানি করতে হয়নি। বরং এবছর সরকার ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল রপ্তানির লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Thursday, October 10, 2013

৭,বেগম জিয়া বললেন ক্ষমতায় গেলে তিনি জনশক্তি রপ্তানি করবেন। ভাল কথা।আমরাও আশাবাদী। আরো বললেন এই সরকার এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ। এখানে আমার আপত্তি আছে।২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ছয় লাখেরও বেশি শ্রমিক রপ্তানি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১২ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রমিকদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু হয়েছে ছয় লাখ সাত হাজার ৭৯৮টি। বি,এন,পি ২০০৬ = ৯ লক্ষ ৮ হাজার

আওয়ামীলীগ ২০১৩ = ২০ লক্ষ ৪০ হাজার

৮,,প্রশাসন কে দলীয় করণ মুক্ত করা হবে-বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনে আমরা আনন্দিত কারণ আমরাও চাই প্রশাসন দলীয়করণ না হোক। বেগম জিয়ার কাছে আমার প্রশ্ন-তাহলে আপনার শাসনামলে দলীয়করণ রাজনিতি শুরু করেছিলেন কেন?

৯,বেগম জিয়া বলছেন দেশে কোন মানবাধিকার নাই।সিমান্ত হত্যা হচ্ছে। সিমান্ত হত্যার ব্যাপারে আমি একমত।কেউ ই এটা বন্ধ করতে পারছেন না।সম্প্রতি আমরা দেখলাম ফেলানি হত্যার রায় নিয়ে ভারত সরকার কিরকম প্রহসন করল।অর্থাৎ দুই সরকারই এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ।তাহলে একটু দেখি কার ব্যর্থতার পাল্লা ভারি?

১০,এরপর ই তিনি ‘অধিকার’ এর আদিলুর রহমানের কথা বলেন।তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। আদিলুর রহমান যদি প্রমান করতে পারেন যে তিনি সত্যি বলেছেন তাহলে অবশ্যই তার মুক্তি দাবি করি।কিন্তু প্রমান কই? খালেদা ম্যাডামের কাছে আমার প্রশ্ন-আপনার দলের নেতারা কোন তথ্যের ভিত্তিতে বলেছিল যে মতিঝিলে ২৫০০ লোক মারা গেছে?’অধিকার’ এর কথা যদি সত্য হয় ও তাহলে আপনার দলের নেতারা কি ক্ষমা চাইবেন?

আমার এই লেখাটা সেই আগস্টে লেখা।এখন আমরা সুস্পষ্ট ভাবেই জানি যে আদিলুর ও তার অধিকার মিথ্যা কথা বলেছে।৭১ টেলিভিশনের সেই অনুসন্ধানি রিপোর্ট টি প্রমাণ করেছে যে হেফাজতের সমাবেশ নিয়ে বিএনপি তথা অন্যান্য স্বার্থান্বেষি মহল মিথ্যাচার করে আসছে।যারা এখনো রিপোর্ট টি দেখেন নি তাদের কে দ্রুত দেখে নেয়ার অনুরোধ করছি।

হেফাজতের ৫ মে ঘটনার সকল মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন করলো ৭১ টিভি। দেখার ও শেয়ার করে সবাইকে জানানোর আহবান রইলো।

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Monday, September 23, 2013

১১,তিনি দাবি করেন ‘আমার দেশ’- যা যা লিখেছে সব সত্য। ম্যাডাম এই কথা আপনার নিজের দলের লোকেরাও বিশ্বাস করেন না।

যারা এ পর্যন্ত পড়ে আসছেন তাদের মধ্যে কেউ যদি বিশ্বাস করেন যে আমার দেশ সত্য কথা লেখে তাকে অনুরোধ করব আর না পড়তে,অযথা আপনার সময় নষ্ট।কারণ আপনাকে আমি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও আপনি চোখ বন্ধ রেখে বলবেন-চক্ষে আন্ধার দেখি!

১২,,তিনি সাভারের রানা প্লাজার কথা উল্লেখ করেন।এবং রানার ও সাভারের এমপি মুরাদ জং এর শাস্তি দাবি করেন। আমি পুরোপুরি সমর্থন করছি।রানার তো মৃত্যুদন্ড ছাড়া আর কোন রায় হতেই পারেনা,আর রানাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য মুরাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। বেগম জিয়া প্রশ্ন করেন রানা এত টাকার মালিক হল কিভাবে? একই প্রশ্ন আমারো।রানা একজন সন্ত্রাসি।এই টাকা কোথা থেকে এল সেটাও খুঁজে বের করে জনগণ কে জানাতে হবে। তবে এই ছবিটি দেখে আমার আরো একটি প্রশ্ন জাগে-

আমার প্রশ্ন-মামুনের কথা বাদ,যেখানে আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর আপনি ভাঙা সুটকেস নিয়ে বের হলেন সেখানে তারেক এর এই ‘ডলার’ আসলো কোথা থেকে?

১৩,ব্লগাররা মহানবি(স) এর বিরূদ্ধে কটূক্তি করেছে বলেই হেফাজতের সৃষ্টি-বললেন বেগম জিয়া। মেনে নিলাম।তবে একটা প্রশ্ন-কোন একজন লেখক যদি অশ্লীল গল্প লেখে তার জন্য কি দুনিয়ার সব লেখক দের ই ‘চটি লেখক’ বলা হবে? ব্লগার মানে যারা অনলাইনে লেখালেখি করে।তাহলে কেউ যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে সব ব্লগারদের দোষারোপ করছেন কেন?

১৪,এরপর বেগম জিয়া ৫ মের প্রসংগ তোলেন।বলেন,তাদের উপর রাতের অন্ধকারে হামলা হয়,শফিকে আটকে রাখা হয় আর হেফাজত কর্মীরা ছিল নিরস্ত্র।তারা শান্তিকামি।

ভাল কথা,আসুন তাদের শান্তির নমুনা দেখি-

১৫,দ্রব্যমূল্যের চাপে মানুষ না খেয়ে থাকে,ডাস্টবিনের খাবার খায়-দাবি খালেদা জিয়ার। মন্তব্য করার আগে একটা প্রশ্ন-উত্তরবঙ্গে মঙ্গা হত কোন সরকারের আমলে?কেন হত?আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?বর্তমান সরকারের আমলে কোন মঙ্গা হয়েছে কি??? বর্তমানে মঙ্গা যাদুঘরে চলে গেছে।গিয়ে দেখে আসুন। এটা ঠিক যে বিশ্ববাজারের সাথে তাল রেখে দেশেও দ্রব্য-মূল্যের দাম বেড়ে চলেছে।সেই সাথে অসাধু ব্যবসায়ি দের তৎপরতা তো আছেই।তবে সেই সাথে আয় ও বেড়েছে।এখন বাংলাদেশে কেউ না খেতে পেয়ে মারা যায়না,অপুষ্টি এখনো আমাদের পিছু ছাড়েনি কিন্তু খাবারের অভাবে কেউ মারা যায়না এখন।এটা যে সরকারের উন্নতি শুধু তাই নয়,এটা বাংলাদেশের মানুষের চেষ্টার ফসল।

১৬,পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। বিজ্ঞানি মাকসুদুল হক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কাজ করতে পারছিলেন না।মতিয়া চৌধুরি এটা জানতে পেরে তাঁকে দেশে ডেকে পাঠান এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ টি সম্পন্ন হয়।প্রধানমন্ত্রি তাঁকে সাথে নিয়ে সম্প্রতি আরো একটি সফলতার খবর দেন। সূত্রঃপ্রথম-আলো

১৭,বেগম জিয়া বক্তব্যের শেষে বলেছিলেন,একটা সরকার “যত কাজ ই করুক না কেন” পরপর এক দল সরকারে থাকেনা। কথাটি আমার বোধগম্য হয়নি। এর মানে কি উনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে এই সরকার অনেক ভাল কাজ করেছে? যদি করে থাকেন তাহলে আগের বক্তব্য গুলো মিথ্যা? এর মানে কি উনি বলতে চাচ্ছেন এই সরকার যত ভাল কাজ করুক পরের বার তারাই ক্ষমতায় আসবেন? উনি কি বলতে চাচ্ছেন যে-ভাল কাজের কোন মূল্য নেই?তাই ভাল কাজ করার ও দরকার নাই। ভাল কাজ করুক আর নাই করুক এক দলের পর অন্য দল ক্ষমতায় আসবে।তাহলে কাজ করার দরকার কি?৫ বছর এক দল লুটপাট করুক,পরের বছর আরেক দল। নির্বাচনের দরকার কি?৫ বছর পরপর পালাবদল করলেই হয়!

এটা ছিল ঐ দিনের বক্তব্যের পোস্ট মর্টেম।এর বাইরে কি কিছু আছে যেটার তুলনা হতে পারে?একটু ভেবে দেখি।ও হ্যাঁ মনে পড়েছে-

৫ বারের চ্যাম্পিয়ন!

আওয়ামি সরকার খুব খারাপ।তারা একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না?যেখানে কিনা বিএনপি ৫ বার চ্যাম্পিয়ন!হোক সেটা দুর্নীতিতে,কিন্তু চ্যাম্পিয়ন তো!

চ্যাম্পিয়ন কেন চ্যাম্পিয়ন হল সেটার কি বিস্তারিত বিবরণ দেয়ার প্রয়োজন আছে??

দেশে বহুদিন কোন জঙ্গি হামলা হয়না,এটা কোন কথা?হামলা না হলে ইসলামি রাষ্ট্র হবে কোথা থেকে?নিচের ভিডিও টি দেখুন-আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে উত্থান হয়েছিল জঙ্গিবাদের। রমনায় আসা শিশু থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী! সকল…

Posted by নৌকায় ভোট দিন on Sunday, September 22, 2013

যতটুকু আলোচনা করেছি সেটা যথেষ্ট নয়।তুলনা করার আরো অনেক কিছু আছে।তবে মোটামুটি চিত্র টি বোঝার জন্য এতটুকু যথেষ্ট বলে মনে করি।

এখন আসি তাদের কাছে যারা কমেন্ট বক্সে বিশ্বজিৎ হত্যা,হলমার্ক,ডেসটিনি,পদ্মাসেতু ইত্যাদি নিয়ে কমেন্ট করতে কিবোর্ডের উপর ঝাপিয়ে পড়েছেন তাদের কাছে।

বিশ্বজিৎ হত্যা এ যাবৎ কালের সব থেকে নৃশংস তম ঘটনা।এটা আমাদের মর্মে আঘাত করেছে কারণ পুরো দৃশ্যটা ক্যামেরা বন্দি হয়েছে।এখন বলুন তো হত্যাকারীরা কি অবস্থায় আছে?এদের প্রত্যেকের বিচার হচ্ছে এবং প্রত্যককেই শাস্তি পেতে হবে।এরা ছাত্রলীগ নামধারি সন্ত্রাসি,এদের দল থেকে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

বিশ্বাস করুন জামাত শিবির যখন কাউকে কুপিয়ে হত্যা করে সেটাও একই রকম নৃশংস,কেবল সেগুলো ক্যামেরা বন্দী হয়না বলে আমাদের মর্মে পৌছায়না।

অতি সম্প্রতি ২৫ তারিখের সমাবেশে তিনি বলেন ২৭ তারিখের পর এই সরকার অবৈধ তাই তাদের নির্দেশ যেন পুলিশ না মানে।এরপর তিনি সবথেকে মজার কথাটি বলেন,”আপনারা পুলিশরা নিজেরা গাড়ি ভাংচুর করে,আগুন লাগিয়ে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর দোষ চাপান।”(!!!!)আমি জানিনা এই কথায় ওখানকার পুলিশদের কী অনুভূতি হয়েছিল।

হলমার্ক – ডেসটিনি।আমি বোকাসোকা বলে একটা জিনিস বুঝিনা।যারা কিনা হলমার্কের,ডেসটিনির দুর্নীতির রহস্য উদঘাটন করে সেটাকে বন্ধ করে,দোষীদের বিচারের আওতায় আনলো তাদের কেই সেই দুর্নীতির জন্য দোষারোপ করা হচ্ছে কেন?আমার মোটা মাথা এ ব্যাপারটা বুঝতে অক্ষম।আপনারা যারা জ্ঞানি গুনী আছেন আশা করি বুঝিয়ে দিবেন।

আর পদ্মাসেতু!তার আগে বলে নেই আমার দেখা বড় দেশপ্রেমিক দের মধ্যে একজন আবুল হোসেন!কেন?এই লোক দুর্নীতির দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করল।অথচ কানাডার আদালতে প্রমাণীত হল তিনি নির্দোষ।ঐ সময় যারা চিল্লাফাল্লা করেছিল তারা এখন ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে।কি বললেন?কানাডার আদালত নাস্তিক?তাতো বটেই তাতো বটেই!

আমি বলছিনা যে আওয়ামি লীগ ফেরেশতাদের দল।হ্যা আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতৃত্বই কোন না কোন ভাবে দুর্নীতি,স্বজন প্রীতি দ্বারা আক্রান্ত।মানছি দু দল ই খারাপ।আমাদের গণতন্ত্র এখনো শিশু পর্যায়ে রয়েছে।আস্তে আস্তে এটা পুর্ণাঙ্গ হবে।যেহেতু দুটো দলই খারাপ আর এই দুটো দল ছাড়া আর কোন দল নেই তাই আমাদের বেছে নিতে হবে “অপেক্ষাকৃত কম খারাপ” টিকে।জানতে হবে তাদের অতিত কর্মকান্ড,বুঝতে হবে বর্তমান ভূমিকা।

এই তুলনাকে আমলে নাও নিতে পারি কারণ বিএনপি এমন ওয়াদা করতেই পারে যে অতীতে তারা যে ভুল করে এসেছে সেগুলো আর পুণরাবৃত্তি করবেনা।তাহলেও আমরা বিএনপি কে সুযোগ দিতে পারি যদি …

যদি তারা জামাতের সঙ্গ ছাড়ে।একথা সত্য যে বর্তমান বিএনপি জামাতের বাইরের খোলস ছাড়া কিছু নয়।জামাত হল বিষাক্ত সাপ।তাদের কে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই।

এক ছাত্রদলের মাঠ পর্যায়ের কর্মী আমাকে বলেছিল যে সেও চায়না যে জামাত তাদের সাথে থাকুক কিন্তু জামার শিবির সাথে না থাকলে তাদের হয়ে মাঠে নামবে কে?

অর্থাৎ জামাত বিএনপি কে এমন ভাবে আত্মস্থ করে নিয়েছে যে এখন বিএনপি কে জোটের প্রধান দল না বলে জামাত কে বলাই ভাল।চিন্তা ও দুর্ভাবনাটা সেকারণেই।এত লেখালেখিও সেজন্যই।

আমি আওয়ামি লীগের কোন নেতা নই যে আগামি নির্বাচনে ভোটে দাড়াবো।কিংবা আওয়ামি লীগ থেকে আমাকে এই লেখালেখির জন্য কেউ কোন পয়সাও দিবেনা।

দেশ কে ভালবাসি বলে,অন্ধকারে যেতে চাইনা বলে আর একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে নিজের তাগিদে এসব লেখা।

কারণ এর পরের নির্বাচন টি শুধু একটি দলের হারজিতের ব্যাপার নয়,এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে এটা বাংলাদেশ থাকবে নাকি বাংলাস্তান হবে?এই নির্বাচন ঠিক করবে এই দেশ প্রগতিশীল দের স্থান হবে নাকি ধর্মান্ধ মৌলবাদিদের স্থান হবে।এই নির্বাচন টি অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন।দেশ রক্ষার নির্বাচন।সত্য আর মিথ্যার মধ্যে নির্বাচন।

দেশ টা আপনার,সিদ্ধান্তও আপনার।

সব শেষে এই ভিডিও টি দেখার অনুরোধ থাকল

অসাধারন! অসাধারন! রক্ত আপনার শিহরিত হবেই !!—————————————–আবারো জেগে উঠো,এখনি সময়।আমার…

Posted by Safayet Abedin Ratin on Thursday, October 10, 2013

(বিদ্রঃএই লেখার জন্য আমি কাহারো থেকে কোন রূপ উপঢৌকন পাইনি এবং আমি রাফী শামস আগামি নির্বাচন পর্যন্ত নিজেকে আওয়ামি লীগের ‘নন-পেইড’ দালাল হিসেবে ঘোষনা করলাম)

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু…

২ thoughts on “আমি জয় বাংলার লোক

  1. এরপরও কি সুশীল শিল্পীরা নিজ
    এরপরও কি সুশীল শিল্পীরা নিজ স্বকীয়তায় গাছের গোরা কেটে আগায় পানি ঢালবে?

    অসাধারণ আর চমৎকার সব তথ্যে ভরপুর… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    প্রশংসনীয় একটি কাজ করেছেন, অফুরন্ত ধন্যবাদ রাফী ভাই!!

    আমি নিঃসংকোচে বলি কেননা আমি জয় বাঙলার লোক…
    জয় বাঙলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *