পৃথিবীর শেষ থেকে পৃথিবীর শুরু

প্রথম অধ্যায়:

১. শাহরিয়ার ও শামা দুজন স্কুল জীবন থেকে বন্ধু। দুজন দুজনকে ভীষন ভালবাসে। দুটি দেহে এক প্রাণ। ভার্সিটির শেষ প্রান্তে এখন দুজনেই। একদিন তাদের ভার্সিটিতে একদল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এলেন। উদ্দেশ্য, অত্যন্ত জটিল এবং একইসাথে অত্যন্ত গোপনীয় একটি রিসার্চ প্রজেক্টের জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করা। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই প্রজেক্টটি স্পন্সর এবং মনিটর করবে সরকারী সংস্থা “বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষনা অধিদপ্তর”। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সর্বমোট ৩ জোড়া ছেলে-মেয়েকে নির্বাচন করা হলো। তাদের ভেতর শাহরিয়ার-শামাও ছিলো। শেষপর্যন্ত এর ভেতর থেকে আরো যাচাই বাছাই করে এক জোড়া ছেলে-মেয়েকে নিবার্চন করা হবে।



প্রথম অধ্যায়:

১. শাহরিয়ার ও শামা দুজন স্কুল জীবন থেকে বন্ধু। দুজন দুজনকে ভীষন ভালবাসে। দুটি দেহে এক প্রাণ। ভার্সিটির শেষ প্রান্তে এখন দুজনেই। একদিন তাদের ভার্সিটিতে একদল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এলেন। উদ্দেশ্য, অত্যন্ত জটিল এবং একইসাথে অত্যন্ত গোপনীয় একটি রিসার্চ প্রজেক্টের জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করা। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই প্রজেক্টটি স্পন্সর এবং মনিটর করবে সরকারী সংস্থা “বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষনা অধিদপ্তর”। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সর্বমোট ৩ জোড়া ছেলে-মেয়েকে নির্বাচন করা হলো। তাদের ভেতর শাহরিয়ার-শামাও ছিলো। শেষপর্যন্ত এর ভেতর থেকে আরো যাচাই বাছাই করে এক জোড়া ছেলে-মেয়েকে নিবার্চন করা হবে। সেই এক জোড়া ছেলে মেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষানায় স্বেচ্ছাসেবী হবার কারনে সরকারী কোষাগার থেকে তাদেরকে প্রনোদণা সরূপ একটা বেশ মোটা অংকের টাকা দেয়া হবে।

২. প্রজেক্টের ২য় ধাপে ডিএনএ ও স্ক্রিন টেষ্ট, জেনারেল ও স্পেশাল মেডিকেল টেষ্ট এবং অন্যান্য আনুষাংগিক প্রক্রিয়ার ছাকঁনিতে বাকী দু জোড়াও ঝড়ে পড়লো। রইলো শুধু শামা আর শাহরিয়ার। চূড়ান্তভাবে নির্বাচনেরর পর সরকারী কিছু প্রসিডিউর সেরেই রিসার্চের কাজ শুরু করা হবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার পরও শামা বা শাহরিয়ারকে প্রজেক্টের ব্যাপারে তেমন কিছুই জানানো হলো না। কারন গবেষনার বিষয়টি অত্যন্ত নাজুক এবং বিতর্কিত এবং অস্বাভাবিক। গবেষনার বিষয়টি হলো: মানব সভ্যতা ধ্বংস হবার পরও, অসম্ভব রকমের বৈরী পরিবেশেও কোনভাবে মানুষের লাইভ স্পার্ম এবং হিউম্যান ওভাম পুরোপুরি কর্মক্ষম অবস্থায় সংরক্ষন করে রাখা যায় কিনা, তার একটা ডেমো রিসার্চ করা। মূলত: শাহরিয়া ও শামাকে এই গবেষনার গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করা হবে। আগামী এক বছর ধরে তাদের উভয়ের শরীর ও মনের উপর ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষনা চালানো হবে। বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন, গবেষনার ফলাফল প্রকাশিত হলে সারাবিশ্বে তুমুল হৈ চৈ পড়ে যাবে। বাংলাদেশের নাম বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

৩. গবেষনার প্রায় শেষ পর্যায়ে শামা আর শাহরিয়ারকে হিমালয়ের বরফে ঢাকা তুষার অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হলো। গত এক মাস ধরে দুজনকেই অচেতন করে রাখা হয়েছে। শাহরিয়ারের শরীর থেকে বিপুল পরিমান স্পার্ম সংগ্রহ করা হয়েছে। সে সব স্পার্ম শামার ওভামে প্রায় শ খানেক বার স্থাপন ও প্রতিস্থাপন করে জাইগোট কমপ্যাটিবিলিটি যাচাই করা হয়েছে। এখন চূড়ান্তভাবে যাচাই করার জন্য প্রাকৃতিক বৈরী প্রতিবেশ প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে হিমালয়ে যাওয়া হচ্ছে, এরপর এখানকার পরীক্ষা সফল হলে যাওয়া হবে এন্টার্কটিকা ও সাইবেরিয়ায়। তারপর ঐ দুজাগাতেও একই পরীক্ষা চালানো হবে।

৪. গবেষনা শেষ হবার কিছুদিন আগের ঘটনা। গবেষনা পুরোপুরি সফল হয়েছে। সব রকম বৈরী পরিবেশেও শামা-শাহরিয়ারের ফার্টেলিটি মারাত্নক রকমের এ্যাকটিভ ছিলো। এখন শুধু এন্টার্কটিকা পর্বটা শেষ হলেই গবেষনা দল বাংলাদেশে ফিরে যাবে। কিন্তু এক ভোরবেলা Bangladesh Space Research Bureau এর অতিকায় হেলিকপ্টার শামা-শাহরিয়ারের অচেতন দেহদ্বয় নিয়ে এন্টার্কটিকার বরফের মাটিতে ল্যান্ড করার ঠিক আগ মূহুর্তে প্রচন্ড এক তুষার ঝড়ে কপ্টারটি ক্রাশ ল্যান্ড করে। সেখানকার ল্যান্ডিং জোন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হেলিকপ্টারটি একটা শক্ত বরফের চাইঁয়ের উপর তুমুল বেগে আছড়ে পড়ে। এরপর পুরো হেলিকপ্টারটি কাগজের মতো দুমড়ে মুচড়ে যায়। ভেতরে থাকা সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। শুধু শামা আর শাহরিয়ারের বডি দুটো রক্ষা পায় কারন তাদের বডিদুটো একটা মেটাল কফিনের সিন্দুকের ভেতর অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিলো। দিনটি ছিলো ২১. ১২. ২০১২। পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত ও আধুনিক সভ্যতা ‘মায়া সভ্যতা’র অভিজ্ঞ গণকরা নিজেদের জন্য যে ক্যালেন্ডারটি প্রণয়ন করেছিলো, সেই ক্যালেন্ডারে হাজার হাজার বছরের হিসাব রয়েছে কিন্তু ২১ শে ডিসেম্বর ২০১২ এর পর আর কোন দিন তারিখ রাখা হয়নি। শামা-শাহরিয়ার অজ্ঞান থাকার ফলে জানতেও পারলো না, মাত্র কয়েক মিনিটের ভেতর পুরো পৃথিবী তছনছ হয়ে গেছে!!

দ্বিতীয় অধ্যায়:

এক. ৩০১৭ সাল। একটা কিম্ভুতকার এলিয়েন মার্স স্পেসশিপ পৃথিবীর বুকে ল্যান্ড করলো। তারা তিন হাজার আলোকবর্ষ দূরের একটি ছোট গ্রহ থেকে এসেছে। মংগল গ্রহে ২০১১ সালে নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি যখন চূড়ান্ত সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে ছিলো, ঠিক তখনি পৃথিবীতে ডুমস ডে সংঘটিত হয়। যার ফলে কিউরিওসিটি মংগলের বুকেই গত এক হাজারেরো বেশী সময় ধরে নিস্প্রান পড়ে ছিলো। এই এলিয়েন স্পেস শিপ নাসার পাঠানো সেই কিউরিওসিটি নামের রোবটটাকে ট্র্যাক করতে পেরেছে। সেখান থেকে তারা কিওরিওসিটিকে সাথে করে নিয়েই পৃথিবীতে এসেছে। পৃথিবীর ঠিকানা তারা পেয়েছে কিওরিওসিটির ডাটাবেজ থেকে।

২. এলিয়েনরা পৃথিবীতে নেমে দেখে, চারিদিকে প্রবল ধ্বংস যজ্ঞ। যেন একটা প্রকান্ড রাক্ষস সবকিছু খুবলে খুবলে খেয়েছে। এলিয়েনরা তাদের উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্র দিয়ে খুব অল্প সময়ের ভেতর সারা পৃথিবী সার্চ করে ফেল্ল। কোন কোন হার্টবিট ট্র্যাক করতে পারলো না। কোন জন্তু বা প্রাণী বেচেঁ থাকলে তার শরীরের সূক্ষতম তাপমাত্রা থাকে, সেই তাপমাত্রা নির্নায়ক যন্ত্র দিয়েও কিছু পাওয়া গেলো না। এলিয়েনরা নিশ্চিত হলো, পৃথিবীতে আর কোন প্রাণ অবশিষ্ট নেই। এ পৃতিবীর প্রাণীরা দেখতে কেমন ছিলো, তা তারা কোনদিনও আর জানতে পারবে না – এটা বুঝতে পেরে তারা প্রগাঢ় হতাশায় ডুবে গেলো। এরপর তারা ফেরার প্রস্তুতি নিলো।

৩. স্সেপশিপটা যখন টেক অফ করছিলো, হঠাৎ তাদের শক্তিশালী রাডার একটা অদ্ভুত জিনিসকে ট্রেইস করলো। জিনিসটা সিগনিফিকেন্ট কিছু মনে হচ্ছে না, কিন্ত এলিয়েন ক্যাপ্টেন কোন সম্ভাবনাই ছেড়ে দিতে চাইলো না। রাডার তাদেরকে এন্টার্কটিকায় নিয়ে গেলো। প্রায় ৭০০ ফুট গভীর বরফের স্তর ড্রেজিং করে শামা আর শাহরিয়ারের কফিনটা সূর্যের আলোর নীচে নিয়ে আসা হলো। এক হাজারেরো বেশী সময় ধরে যেটা ছিলো বরফের কবরে নিমজ্জিত। কফিনের ডালা খুলে ক্যাপ্টেন হতভম্ব হয়ে গেলো! প্রায় একই রকম চেহারার দুটো প্রাণীকে দেখা যাচ্ছে! রক্ত জমে পুরো শরীর সাদা হয়ে আছে। ক্যাপ্টেন তৎক্ষনাৎ কফিনটাকে তার স্পেসশিপের ভেতরে নিয়ে গেলেন। নির্দেশ দিলেন কিওরিওসিটির ডাটাবেজ থেকে এ প্রাণী দুটোর ব্যাপারে কোন তথ্য জোড়ার করা যায় কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে। তার স্টাফ জানালো প্রানীদুটোর বৈজ্ঞানিক নাম হোমো সেপিয়েনস। কিওরিএসিটি হোমো সেপিয়েনসের একটা থ্রি ডি মডেলও দেখালো।

৪. একদিন পর। শামা-শাহরিয়ারকে আবারো বাচিঁয়ে তোলা সম্ভবপর হয়েছে। এলিয়েনরা তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তাদের বন্ধ হওয়া হৃৎপিন্ড পুনরায় চালু করতে পেরেছে। তাদের ব্লাড সার্কুলেশন আবারো সচল করতে পেরেছে। স্পেসশিপের মেডিকেল ইউনিট ক্যাপ্টেনকে হঠাৎ একটা অবিশ্বাস্য রিপোর্ট দিলো! শামা তিনমাসের গর্ভবতী। তার গর্ভস্থ ভ্রুনও এই এক হাজার বছরে একটুও নষ্ট হয়নি, বরং সেটা ছিলো পরিপূর্ণ সুস্থ-সবল একটি ভ্রুন এবং তার চেয়েও বড় কথা হলো, তাদের মেডিকেল টিম ভ্রুনটিকে আবারো জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এবং আরো অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, তারা এত অপরিনত ভ্রুনের লিংগও ধরে ফেলতে পেরেছে। ভ্রুনটি আর মাস ছয়েকের ভেতরই একটি কণ্যা শিশুরূপে ভূমিষ্ঠ হবে।

লিংগ নিয়ে ক্যাপ্টেনের আপাতত: কোন মাথা ব্যথা নেই। বরং এই অবিশ্বাস্য ব্যাপারটি কি করে ঘটলো, সেটা কিছুতেই ক্যাপ্টেনের মাথায় আসছে না। তার নিজের গ্রহে এই বিষয়টা নিয়ে এখনো গবেষনা চলছে, কিন্তু এত দীর্ঘ সময়ে এত বৈরী পরিবেশে কোন ভ্রনকেই বাচাঁনো সম্ভব হয়নি। কিন্তু এক হাজার বছর আগে এই অসম্ভব কাজটি কি করে হোমো সেপিয়েনসরা সম্ভব করে গেলো, এটা তার কাছে রীতিমতো এক বিস্ময়!

সে একই সাথে প্রচন্ড খুশীও হলো। খুশী হবার কারন দুটি। ক. এই কাজটি কি করে সম্ভব হলো, সেটা বের করতে পারলে তাদের গ্রহের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা তাদের ভ্রনগুলোকেও অনন্ত কালের জন্য সংরক্ষন করার পদ্ধতি জানতে পারবে।
খ. পৃথিবীতে আবারো মানব অস্তিত্ব পুনবার্সনের কাজ শুরু করা যাবে।

৫. এরপরের টানা এক মাসের সেবা শ্রুশষায় তারা দুজন আবার আগের মতো হয়ে গেলো, ঠিক এক হাজার পাচঁ বছর আগে যেমন ছিলো। কিন্তু ছোট্ট একটা ঝামেলা হয়ে গেলো, মেডিকেল টিম জানালো যে শাহরিয়ার ইমপোটেন্ট হয়ে গেছে। তার টেসটিক্যাল দুটি আর কোনদিন কোন স্পার্ম তৈরী করতে পারবে না। দীর্ঘ দিন ধরে প্রচন্ড ঠান্ডায় থেকে থেকে সে দুটো কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। এই কথা জানার পর ক্যাপ্টেনের মাথায় হাত। কারন হোমে সেপিয়েনদের এক্সিটেন্সএর জন্য তার একটা ছেলে শিশু প্রয়োজন। শাহরিয়ার ইমপোটেন্ট হবার কারনে যেটা আর করা সম্ভব হবে না। ঘটনাক্রমে একদিন ক্যাপ্টেন সেই কফিনটা নেড়ে চেড়ে দেখতে গিয়ে সেখানে একটা গোপন প্রকষ্ঠের ভেতর বেশ কয়েকটা টেষ্ট টিউব পায়। যেখানে শাহরিয়ারের স্পার্মগুলো একদম ইনটেক অবস্থায় ছিলো।

৬. অনেক বছর পর। এলিয়েনরা শাহরিয়ার আর শামার বসবাসের জন্য শূন্যের উপর একটি বিলাসবহুল আবাসস্থল বানিয়ে দিয়ে চলে গেছে কারন পৃথিবীর মাটি এতই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে সেখানে আর কোন মানুষের থাকা সম্ভব না। গ্রাভিটিকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে এই প্রাসাদটা হাজার হাজার বছর ধরে শূন্যে ভেসে থাকতে পারে।
বিকেলে শামা আর শাহরিয়ার বারান্ধায় এসে বসে। নীচ দিয়ে মেঘমালা উড়ে উড়ে যায়। চাইলেই তারা হাত বাড়িয়ে মেঘ গুলোকে ছুতেঁ পারে। তাদের চারপাশে তাদের তিনটা মেয়ে আর দুটো ছেলে হৈ চৈ করে ঘুরে বেড়াতে থাকে।

১০ thoughts on “পৃথিবীর শেষ থেকে পৃথিবীর শুরু

  1. “সায়েন্স ফিকশন” ধাঁচের লেখা
    “সায়েন্স ফিকশন” ধাঁচের লেখা হলেও সায়েন্স আছে কতটুকু সেটা একটা প্রশ্ন! অনেকগুলো বিষয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যেতে পারতো… সেগুলো নাহয় বাদই দিলাম। কারণ ফিকশনটা একটু বেশি রকমেই ফিকশন আর নাটকীয়তাটাও সর্বোচ্চ মাত্রায় হয়ে গেছে!
    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেটা সেটা হচ্ছে রচনা শৈলী। আমার জানা মতে গদ্য সাহিত্যের সকল শাখার মধ্যে একমাত্র প্রবন্ধতেই চরিত্রগুলোর কোন ডায়ালগ থাকে না। এই লেখাটাতেও কোন ডায়ালগ নেই! এটা কি প্রবন্ধ?

    সর্বোপরি এতোটা তাড়াহুড়ো না করে আরেকটু সময় ও যত্ন নিয়ে লিখলে লেখাটা সমৃদ্ধ না হলেও অন্তত কিছুটা সুস্বাদু হতে পারতো…!

    আগামীতে ভালো লিখবেন এই শুভ কামনা রইল… :গোলাপ:

    1. হা হা। সায়েন্স ফিকশন প্রবন্ধ
      হা হা। সায়েন্স ফিকশন প্রবন্ধ বলতে পারেন। আপনার কোথায় কোথায় প্রশ্ন রয়েছে, আমাকে বলুন। ফেসবুকে যখন লেখাটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিলো, সেখানেও আমি অনেক পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেছি। মনেহয় আপনারগুলোও পারবো। 🙂

      1. প্রায় সবগুলো পয়েন্টেই ধরা
        প্রায় সবগুলো পয়েন্টেই ধরা যায়…
        যেমনঃ ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া, হাজার বছর পরেও বেঁচে থাকা (এমন কী স্পার্ম গুলো পর্যন্ত!), ৩মাসের ভ্রূণের লিংগ বের করা… ইত্যাদি অনেক ব্যাপারেই অতি নাটকীয়তা আছে। এতো বেশি মিরাকল ঘটে যেতে দেখা গেছে যেটা আর যুক্তি সম্পন্ন সায়েন্সের মধ্যে নেই বরং পুরো পুরিই ফিকশন হয়ে গেছে!
        সেগুলো নাহয় বাদই দিলাম। শূন্যের ওপর “গ্রাভিটিকে বুড়ো আংগুল দেয়া” অতি মাত্রায় কাল্পনিক ‘প্রাসাদটা’র কথাও নাহয় মেনে নিলাম যেটাতে ওরা বসবাস করছে। কিন্তু তারা এখন খাচ্ছেটা কী? নাকি এলিয়নরা তাদের শরীরে এমন কিছু করে দিয়ে গেছে যে ওরা এখন সূর্যের আলো খেয়েই বেঁচে থাকতে পারছে?!

        সেটা যদি বলেন তাহলে আর কিছু বলার নেই… এজন্যই বলেছিলাম “ফিকশনটা একটু বেশি রকমেই ফিকশন আর নাটকীয়তাটাও সর্বোচ্চ মাত্রায় হয়ে গেছে!”

        1. ১. বরফের চাইয়ের ভেতর হাজার
          ১. বরফের চাইয়ের ভেতর হাজার বছর পরে স্পার্ম নষ্ট হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারন কি? টেরানাইসোরাস যুগের ডাইনোসরদের ফসিলে তাদের স্পার্ম পাওয়া গেছে, আলাস্কার বরফের পাহাড়ের গুহায়, অনেকটা ইনটেক অবস্থাতেই। এটা ২০০৪ সালের খবর। এরপর পৃথিবীতে বহুবার উল্কাপাত হয়েছে, সে উলকাপাতে ডাইনোসররা বিলুপ্তও হয়েছে কিন্তু তাদের সেই ফসিল বা স্পার্ম নষ্ট হয়নি। বিশ্বাস না করলে গুগল করে দেখতে পারেন।

          ২. ফিউচারে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং দিয়ে ৩ মাসের ভ্রুনের লিংক নির্ধারন করা সম্ভব হবে না, আপনি শিউর? লিংগ নির্ধারন করতে ভ্রুনের লিংগ গজাতে হবে এমন কোন কথা নাই।

          ৩. পৃথিবী ধ্বংসের একটি কারন গ্রাভিটি কেন হবে বুঝলাম না!! তাছাড়া ১ হাজার বছর পর পৃথিবীর গ্রাভিটি রিকভার করা কি খুব অসম্ভব কিছু? স্টিফেন হকিং তার দ্য ব্রিফ হিস্টরি অব টাইমে এইরকম একটা সূত্রের কথা বলেছিলেন যে, একমাত্র ব্ল্যাক হোল পুরো গ্রহকে গিলে না ফেল্লে যে কোন দৈব দুর্বাপাকই হোক না কেন, কোন গ্রহের গ্রাভিটি পরিবর্তনশীল হতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে গ্রাভিটি রিকভারেবল হবে না কেন? কোরআনে বর্ণিত যে কেয়ামতের কথা উল্লেখ আছে, সেরকমটা হলে পৃথিবীর গ্রাভিটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু 2012 মুভিতে যেমন দেখিছিলো যে, Internal Disaster এর কারনে, যেমন: পৃথিবী জুড়ে প্লাবন, নূহ (আ:) এর সময় যেমনটা হয়েছিলো, তেমনটা হলে পৃথিবীর গ্রাভিটির খুব একটা ব্যতয় ঘটবে না। আর গ্রাভিটি ব্যাপারটা পুরোটাই একটা হাই ম্যাগনেটিক ফোর্স। এই ম্যাগনেটিক ফোর্স এক একটা গ্রহের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কোন গ্রহের স্বাতন্ত্র ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য কোন হাইলি সিগনিফিক্টে কোন ঘটনা না ঘটলে [যেমন: কৃষ্ণ গহ্বরে আস্ত গ্রহনটাই হারিয়ে যাওয়া বা ঐ গ্রহটার উপর সূর্যের আছড়ে পড়া ইত্যাদি] পরিবর্তন হয় না। আর যদি হয়ও, সেটা প্রাকৃতিক নিয়মে এক সময় না এক সময় সেটা আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে।

          1. বাহ! তাই নাকি!!!
            দারুন সব

            বাহ! তাই নাকি!!!
            দারুন সব যুক্তি… তা এগুলো একটু আধটু নাহয় মূল গল্পে শেয়ার করতেন।
            সবাই তো আর আমার মত আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে না…

          2. ভাই আমি তো ফিজিক্সের থিউরি
            ভাই আমি তো ফিজিক্সের থিউরি লিখতে বসি নাই। বসছি সাই ফাই গল্প লিখতে। ফিজিক্সের থিউরি লিখতে বসলে সবকিছু গল্পে শেয়ার করতাম।

  2. পাঠকদের ধরে ধরে পলিমার জেল
    পাঠকদের ধরে ধরে পলিমার জেল খাওয়ানো হোক।এতে পাঠকদের মাথা খুলবে। তবে পলি নামের পাঠকদের না খাওয়ানোই উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *